18 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 23 March 2015 মুক্তিযুদ্ধ  (পঠিত : 971) 

রক্তঝরা উত্তাল মার্চ পালিত হয় উত্তাল বাংলায়

রক্তঝরা উত্তাল মার্চ পালিত হয় উত্তাল বাংলায়
     

ভানুজ কান্তি ভট্টাচার্য : আজ ২৩ মার্চ সোমবার। একাত্তরের এই দিনে সরকার ঘোষিত ‘পাকিস্তান দিবস’-এর পরিবর্তে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ দিবস ও প্রতিবাদ দিবস’ পালিত হয় উত্তাল বাংলায়। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব দিবস উপলক্ষেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ ও অভিবাদন গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন, লাঠি-বর্শা-বন্দুক হাতে বিক্ষোভ মিছিলসহ রাজপথের কর্মসূচিতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে এই ভূখ-। আজকের দিনে সচিবালয় ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রেসিডেন্ট ভবন ও সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ছাড়া কোথাও পাকিস্তানের পতাকা ওড়েনি। হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেখানে সেনাবাহিনীর বাধার মুখে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং কায়েদ-এ আজম মো. আলী জিন্নাহর ছবি, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পিপিপি নেতা ভুট্টোর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও প্রাক্তন সেনা সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত জয় বাংলা বাহিনী ঢাকার আউটার স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন দেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করে। সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ ও অভিবাদন প্রদান করে এবং জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের রেকর্ড বাজানো হয়। পরে সেখান থেকে জয় বাংলা বাহিনীর পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী প্যারেড করে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যায়। বাহিনীর পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিলে তিনি তা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন এবং সামরিক স্টাইলে প্রদত্ত অভিবাদন গ্রহণ করেন। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখে মুহুর্মুহু করতালি এবং ঝাঁঝালো স্লোগানের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করেন। এসময় জনতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলার মানুষ কারও করুণার পাত্র নয়। আপন শক্তির দুর্জয় ক্ষমতাবলে আপনারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবেন। বাংলার জয় অনিবার্য। বিকেলে বঙ্গবন্ধুর তিন উপদেষ্টার সাথে ইয়াহিয়া খানের বৈঠক হয়। অপরদিকে, বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর বাসভবনে পাকিস্তান থেকে আগত ক’জন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলে বঙ্গবন্ধু বলেন, আপনারা ভাল কামনা করুন, কিন্তু খারাপের জন্যও প্রস্তুত থাকুন। একই দিনে রংপুরের সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর সাথে জনতার সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে সেখানে সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারি করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া হোটেল শেরাটন থেকে বের হয়ে সেনানিবাসে গিয়ে সেনা সদস্যদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। মূলত আজকের দিনটি অতিক্রান্ত হয় লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতার অন্তরালে পাক প্রেসিডেন্টের বাঙালি নিধন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ-পরামর্শের হীন চক্রান্ত এবং তা প্রতিহত করতে বাঙালির জীবনদানের শপথ যুদ্ধ মহড়ার প্রদর্শনীতে।


   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ