29 Jun 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 7 January 2015 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 994) 

কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত এবং একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত ৪

কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত 
এবং 
একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত
৪
     

সৈয়দ মবনু:
কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত এবং একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত তৃতীয় পর্ব ফেইসবুক দেয়ালে প্রকাশ করলে যাবেদ হোসেন নামক জনৈক বন্ধু আমার লেখার নীচে এসে মন্তব্য করেন

It is nothing new Jonab Mobnu. Some Facist try to take control of any name with Islam, Muslim, and derail the vision of organisation

আমি চতুর্থ পর্ব শুরু করতে চাই বন্ধু যাবেদ হোসেনের বক্তব্যের সূত্র দিয়ে। প্রথমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই দ্বীন ইসলামের জন্য তাঁর মনে মহব্বত আছে বলে। আমি জনাব জাবেদ হোসেন সহ আমার পাঠকদেরকে আমার মূল বক্তব্য বুঝার সুবিধার্থে আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বলা গৌতম বুদ্ধের সেই উপদেশ যেখানে তিনি বলেছেন‘কোনো কিছু বিশ্বাস করো না শুধুই এই কারণে যে, তুমি এটি শুনেছো। কোনো কিছু বিশ্বাস করো না শুধুই এই কারণে যে, অনেক লোকেই এটি আলাপে-গুজবে বলেছে। কোনো কিছু বিশ্বাস করো না শুধুই এই কারণে যে, এটি তোমার ধর্মগ্রন্থসমূহে লেখা আছে। কোনো কিছু বিশ্বাস করো না শুধুই তোমার শিক্ষক ও বয়স্কদের কর্তৃত্বের কারণে। প্রথাসমূহে বিশ্বাস করো না এই কারণে যে, এগুলো চলে আসছে অনেক প্রজন্ম ধরে। বরং পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর যে-কোনো কিছু যখন তোমার যুক্তির সাথে মেলে এবং একের ও সকলের সুবিধা ও মঙ্গলের পরিপূরক হয়, তাই তুমি তা গ্রহণ করো এবং তদানুসারে বাঁচো।’

কোন বিষয়কে শুধু আবেগের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক সময় বাস্তবতাশূন্য আবেগি সিদ্ধান্ত মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা ঘটেছে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে কেমুসাসের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কি ঘটেছে? কেন ঘটেছে? কে ঘটিয়েছে? ইত্যাদির সঠিক উত্তর পেতে হলে এই বিষয়ের থিসিস, এ্যান্টিথিসিস এবং সিনথিসিসের প্রয়োজন। মানুষ হতাশা, বিষন্নতা এবং সন্দেহমূলক অনিশ্চয়তায় থাকতে পারে না। তাই প্রত্যেক ঘটনার পৃথক ব্যাখ্যা প্রত্যেকে নিজের মতো করে তৈরি করে। মানুষ যখন বৃহৎ স্থানে দাঁড়িয়ে নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে পারে না তখন সে ক্ষুদ্রতম পরিসরে হাটতে শুরু করে। বিচারকের দায়িত্ব হলো মানুষের বোধ, প্রেষণা, আবেগ এবং আচরণের পর্যবেক্ষন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
কেমুসাসের সংঘাতকে যারা দ্বীনি সংঘাত যাবেদ সাহেব বলেছেন ঝড়সব ঋধপরংঃ ঃৎু ঃড় ঃধশব পড়হঃৎড়ষ ড়ভ ধহু হধসব রিঃয ওংষধস, গঁংষরস, ধহফ ফবৎধরষ ঃযব ারংরড়হ ড়ভ ড়ৎমধহরুধঃরড়হ.

এখানেই আমি যাবেদ সাহেবের সাথে দ্বি-মত প্রকাশ করে বলছি, এটা হলো কর্তৃত্বের সংঘাত। এই কর্তৃত্বের সংঘাতকে দ্বীনি আন্দোলনের সাথে একাকার করে দিলে একাত্তরের মতো আপনারা আবারও ভুল করবেন। সত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলে কমিউনিস্ট পিপলস পাটির জুলফিকার আলী ভূট্টো মেনে নিতে পারেননি। এ থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে মার্চ রাতে নির্মম আক্রমণ। তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খান। ক্ষমতালোভী পাক শাসক ও তাদের সহযোগিরা অত্যন্ত কৌশলে কর্তৃত্বের এই সংঘাতকে দ্বীনের সংঘাতরূপে প্রতিষ্ঠা করে দিলেন। অল-পকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মুফতি মাহমুদ চিৎকার দিয়ে বললেন, ইনসাফ হলো শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে জন-রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, কিন্তু শাসকদের প্রচারে মুফতি মাহমুদের ফতোয়া জনগণ পর্যন্ত এসে পৌঁছতে পারলো না। ধর্মপ্রাণ অনেক সাধারণ মানুষ শাসকশ্রেণীর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হলো। ফলে এদেশের সরলÑসহজ কিছু মানুষ এয়াহিয়াÑভূট্টোর মতো মদ্যপ ও নাস্তিকদেরকে ইসলাম আর মুসলমানের নেতা মনে করে এদেশের মজলুম মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ছিলো শুধু মাত্র ইসলামের নামে। স্বার্থপর ক্ষমতা লোভী যারা ইসলামের নামে ইয়াহিয়াÑভূট্টোর পক্ষে ছিল তারা সেদিন পেশওয়ারে মুফতি মাহমুদের অফিসে আক্রমন করেছিল শুধু তিনি বাঙালীদের পক্ষে কথা বলায়। তারা সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করেছে মুফতি মাহমুদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ট। মুফতি মাহমুদের শক্তিশালী কোন প্রচার মাধ্যম না থাকায় তাঁর কথা সেদিন জনগণ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। আজকের ইসলামী ছাত্র শিবির, যা একাত্তরপূর্ব সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ ছিল। সেই সময়ে ছাত্র সংঘের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ছিলেন সৈয়দ শাহ জামাল। যখন পাক হানাদারেরা নির্মমভাবে অত্যাচার শুরু করল তখন সৈয়দ শাহ জামাল তাঁর নিজ দলের সম্মেলনে প্রতিবাদ করে বলেছিলেনÑএখন আর সময় নেই পাকিস্তান রক্ষার নামে জালেমদের পক্ষে থাকার। আমাদের উচিৎ মজলুম দেশবাসীর পক্ষাবলম্ভন। সেদিনের পর সৈয়দ শাহ জামালকে আর কোনদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেদিন যদি মুফতি মাহমুদ বা সৈয়দ শাহ জামালের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো তবে আজ ইসলাম বিরোধী শক্তি এদেশে এত শেকড় নিয়ে অবস্থান নিতে পারতো না।

২৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যে দুটি প্যানেল ছিল, কিংবা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তাদের সবার মধ্যেই বিভিন্ন চিন্তার মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষ যে প্যানেলকে জামায়াতি প্যানেল বলে মনে করছে সেখানেও কিছু ছিলেন নন-জামায়াতী বিভিন্ন চিন্তাÑচেতনার লোকও। একজন হিন্দুও ছিলেন। আবার যে প্যানেলকে আওয়ামীলীগের মনে করা হচ্ছে সেখানেও বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের সদস্য প্রার্থী ছিলেন এবং একজন মাওলানা সাহেবও ছিলেন। জামায়াতি প্যানেলের লোকেরা এই মাওলানা সাহেবকে বলছেন আওয়ামী উলামালীগের সদস্য আর আওয়ামীলীগের লোকেরা ঐ হিন্দু ভদ্রলোককে বলছেন জামায়াতের হিন্দু রোকন। প্রকৃত অর্থে কোনটাই সত্য নয়, আমি যেমন জানি এই মাওলানা সাহেবকে, তেমনি জানি সেই হিন্দু পণ্ডিতকেও। ওদের দুজনের প্রতিই আমার অন্তরে শ্রদ্ধা আছে।

২৭ ডিসেম্বরের নির্বাচন কেন্দ্রীক যে সংঘাত হয়েছে তার বোধ, প্রেষণা, আবেগ এবং আচরণ বিচার করে বলা যায় তা মূলত কোন আদর্শিক সংঘাত ছিল না। আদর্শ কিছু কারও কারও মধ্যে থাকলেও তা খুবই গৌণ ছিল। মূল বিষয় হলো নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের যারা সদস্য হয়েছেন তারা গঠনতন্ত্রের সকল ধারার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেই হয়েছেন। গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা, উপÑধারার সাথে কারো ব্যক্তিগত দ্বি-মত থাকতে পারে। দ্বিÑমতের নাম কিন্তু বিরোধীতা নয়। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ইতিহাসে আমরা এমন সব সভাপতিÑ সেক্রেটারীকে দেখতে পাই যারা রাজনৈতিক ময়দানে সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা ধর্মীয় আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। আবার একই সাথে সভাপতি ধর্মনিরপেক্ষ আর সেক্রেটারী ধর্মীয় রাজনীতির বিশ্বাসী থাকার নজিরও এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ হলো সিলেট তথা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যে সম্পদ, এই সম্পদকে আর কোন বিশেষ দল, গ্র“প বা ব্যক্তির বিবেচনা করা অনুচিৎ। এই প্রতিষ্ঠানকে এখন বিবেচনা করতে হবে সব মানুষের কিংবা মানব সভ্যতার। এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা ধর্ম বর্ণজাতি গোষ্ঠি দল নির্বিশেষে সকলে মিলে রক্ষার চেষ্টা করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানকে কেউ তার নিজের দলীয় বা গোষ্ঠিয় চিন্তা থেকে বিবেচনা করলে মারাত্মক ভুল করবেন এবং তা সভ্যতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে যাবে।
(চলবে)

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ