17 Dec 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 17 November 2014 বিবিধ  (পঠিত : 6215) 

ইভটিজিং এর কারণ ও প্রতিকার

ইভটিজিং এর কারণ ও প্রতিকার
     

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান :

মহান আলøাহ এক মানব আদম আ. থেকে তার স্ত্রী, অতঃপর এতদুভয় হতে সমগ্র মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। সৃৃষ্টজীব হিসেবে যেমন রয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা; তেমরি আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, অধিকার, দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি দিক থেকেও রয়েছে নারী-পুরুষের সাম্য। মায়ের জাতি নারী সমাজ আজ সমাজের নানা প্রান্থে নানা প্রকার অত্যাচার-নির্যাতনে জর্জরিত। নারীজাতি তথাকথিত আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিধান বাদ দিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চায় উদগ্রীব; যার ফলশ্রæতিতে আইয়ামে জাহেলিয়্যাতের ন্যায় এ দেশের নারী সমাজ আজও পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে। ইভটিজিং হলো নারী নির্যাতনের একটি আধুনিক সংস্করণ। ইভটিজিং কী? এর উৎপত্তি এবং এ বিষয়ে দেশীয় ও ইসলামী আইনের তুলনামূলক পর্যালোচনাপূর্বক ইসলামী আইনের উপযোগিতা তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেÿাপটে ইভটিজিং একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। যা অন্য সকল অপরাধকে হার মানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা সংস্কৃতি, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে চরিত্রহনন, বিভিন্ন দিবস পালনের নামে তরুণ-তরুণীদের অবাধ উন্মাদনা, আধুনিক পোষাকের নামে উলঙ্গপনা, ফেইসবুকে তরুণ-তরুণীদের অবাধ হৃদয় বন্ধন ইত্যাদি নানাবিধ অনৈতিক কাজের ফলাফল স্বরূপই আজকের সমাজে নেমে এসেছে ভয়াল ইভটিজিং। ইভটিজিং আইন, সমাজ, রাষ্ট্র কারো দ্বারাই প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। মুসলিম সমাজে নৈতিক মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে ইভটিজিং ঠেকানোও সম্ভব নয়। তাই আজকের সমাজে ইভটিজিং থেকে বাঁচতে হলে ইসলামী অনুশাসন ও এর আইনী ব্যবস্থা মেনে চলা অপরিহার্য। কেননা একমাত্র ইসলামী অনুশাসনই হতে পারে ইভটিজিং প্রতিরোধের সর্বোত্তম পন্থা। ইভটিজিং এর পরিচিতি, এর সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যয়সমূহ, ইভটিজিং প্রতিরোধে দেশীয় ও ইসলামী আইন সমূহ, সর্বোপরি ইভটিজিং প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা পেশ করাই এ প্রবন্ধের লÿ্য ও উদ্দেশ্য।
ইভটিজিং বলতে কী বুঝায়? ইভটিজিং শব্দটি যৌন হয়রানির একটি অমার্জিত (slang) ভাষা। ইভ Eve দ্বার বাইবেলে বর্ণিত প্রথম নারী হাওয়াকে বুঝানো হয়েছে। Adam named his wife Eve, because she would become the mother of all the living. (The Holy Bidle, Genesis, 3:20)আর ইভটিজিং (Teasing)) বলতে ঠাট্রা করা, বিরক্ত করা, বিব্রত করা ইত্যাদি বুঝায়। “Editoril Board, Britannica, USA, Encyclopaedia Britannica, Inc, 1768,Vol.5,p.119 সুতরাং ইভটিজিং (Sexual Harassment) বলতে নারীর প্রতি বিব্রতকর, লজ্জাকর, নিপীড়নমূলক যে কোনো আচরণ বুঝায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ শব্দটি (Sexual Harassment) এর পতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত। ১৯৯৯ সালে সাংবাদিক সুসান ব্রাউন মিলার সর্বপ্রথম (Susan Brown miller, in our time; memoir of a Revolution, New york, Dial priss, 1999 উক্ত গ্রন্থেও ভূমিকায় উলেøখ আছে, There once was a time when the concept of equal pay for equal work did not exist, when women of all ages were Ògirls,Ó when abortion was a back-alley procedure, when there was no such thing as a rape crisis center or a shelter for battered women, Òsexual harassmentÓ had not yet been named and defined.
পরিভাষায় ইভটিজিং একটি ব্যাপকার্থক পরিভাষা, যা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুসারে ইভটিজিং (যৌন হয়রারি ও নিপীড়ন) বলতে বুঝায়: শারীরিক ম্পর্শের মত অপ্রত্যাশিত যৌনকাঙ্খামূলক ব্যবহার। প্রশাসনিক, কর্তৃত্বমূূলক অথবা পেশাগত ÿমতার অপব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্বেগ বা চেষ্টা, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষাগত আচরণ, যৌন সম্পর্কের দাবি বা অনুরোধ, পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি। অশালীন অঙ্গভঙ্গি, অশালীন ভাষায় প্রয়োগসহ যৌন কামনা থেকে হয়রানি। চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, এসএমএস, পোষ্টার, নোটিশ, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, নোটিশ বোর্ড, দেয়ালে লিখনের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা। বø্যাকমেইলিং এবং চরিত্র হনন-এর উদ্দেশ্য স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ। লিঙ্গীয় ধারণা থেকে বা যৌন হয়রারিন উদ্দেশ্যে শিক্ষা, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতায় বাধা প্রদান। প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি প্রদান। মিথ্যা আশ্বাস, প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। “২০০৮ সালে যৌন হয়রানি রোধে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ই মে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নরোধের লক্ষ্যে দিক নির্দেশনা প্রদানপূর্বক নির্দেশনাবলী জারি করেন।
এ. এফ. সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে আরেক ব্যক্তি সভ্যতা, ভদ্রতা ও নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি বা বাক্য প্রয়োগ করার একটি মারাত্মক রূপ ইভটিজিং। “উপ-সম্পাদকীয় কলাম, ইভটিজিং আপন বেঁধে রাখি, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০১০।
সর্বোপরি ইভটিজিং হলো ব্যক্তি চরিত্রের নগ্ন রূপের এক চরম বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ আচরণ, যা শারীরিক নির্যাতন, “পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরÿা) আইন, ২০১০ (২০১০ সালের ৫৮নং আইন) এর ‘৩’ নং ধারার ‘ক’ নং উপধারা: “শারীরিক নির্যাতন” অর্থে এমন কোন কাজ বা আচরণ করা, যাহা দ্বারা সংÿুব্ধ ব্যক্তির জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা শারীরের কোন অঙ্গ ÿতিগ্র¯Í হইবার সম্ভাবনা থাক এবং সংÿুব্ধ ব্যক্তিকে অপরাধমূলক অপরাধমূলক কাজ করিতে বাধ্য করা বা প্ররোচনা প্রদান করা বা বলপ্রয়োগও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে”, মানসিক নির্যাতন “প্রগুক্ত, ‘৩’ নং ধারার ‘খ’ নং উপধারাা: “মানসিক নির্যাতন” অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহও অন্তর্ভূক্ত হইবে, যথাঃ (অ) মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন বা এমন কোন উক্তি করা, যাহা দ্বারা সংÿুব্ধ ব্যক্তি-মানসিকভাবে ÿতিগ্রস্থ হয়; (আ) হয়রানি; অথবা (ই) ব্যক্তি স্বাধীনতায় হ¯Íÿেপ অর্থাৎ স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশের উপর হ¯Íÿেপ, যৌন নির্যাতন “প্রগুক্ত, ‘৩’ নং ধারার ‘গ’ নং উপধারা: “যৌন নির্যাতন” অর্থে যৌন প্রকৃতির এমন আচরণও অন্তর্ভূক্ত হইবে, যাহা দ্বারা সংÿুব্ধ ব্যক্তির সম্ভ্রাম, সম্মান বা সুনামের ÿতি হয়’’, নারী নির্যাতন “জাতিসংঘ কতৃক ঘোষিত (১৯৯৩-এর ডিসেম্বও) নারী নির্যাতন বিষয়ক ঘোষণার (উবপষধৎধঃরড়হ ড়হ ঠঅড) এর ধারা (১) : এই ঘোষণা মতে নারী নির্যাতন বলতে বুঝাবে সেই ধারনের জেন্ডারভিত্তিক সহিংস আচরণ যাতে নারীর শারীরিক মন¯Íাত্তি¡ক ÿতি ও দুঃখ কষ্টের কারন হবে এবং যাতে কোনো নারীর ব্যক্তিগত ও বাইরের জীবনে নিষ্টুরভাবে কোনো স্বাধীনতায় আঘাত ও বাধা সৃষ্টি করে”, মানহানি “বাংলাদেশ দÐবিধির ৪৯৯ ধারা “মানহানি (উবভভধসধঃরড়হ) : যদি কোন ব্যক্তি জেনে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তির নিন্দাবাদ প্রণয়ন করে কিংবা সুনাম নষ্ট করার জন্য কোন কার্য করে, তবে সেই ব্যক্তি উক্ত অপর ব্যক্তির মানাহানি করেছে বলে গণ্য হবে।’’ ইসলামী আইনে মানহানি বলতে : মিথ্যা রটনা, ভুল ধারণা, বিদ্রæপ করা, হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। মানহানি সম্পর্কে মনাহানি সম্পর্কে মাহগ্রন্থ আল-কুরআনের কতিপয় আয়াত, ৪৯ (আল-হুজরাত) : ৬,১১-১২. ২৪ (আন-নূর) : ০৪, ১৭ (আল-ইসরা) : ৩৬, ১০৪ (আল-হুমাযাহ) : ০১। (তারেক মোহাম্মদ জায়েদ ও শহীদুল ইসলাম, প্রচলিত ও ইসলামী আইনে মানহানি : এক তুলনমূলক বিশেøষণ, ইসলামী আইন ও বিচার, বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ এন্ড লিগেল এইড সেন্টার, বর্ষ: সংখ্যা: ২৩, জুলাই-সেপ্টেম্বর: ২০১০, পৃ. ১২৯-১৪৭” ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে যা ফৌজদারী কার্যবিধি “ফৌজদারী কার্যাবলী’’ ঈড়ফব ড়ভ পৎরসরহধষ ঢ়ৎড়পবফঁৎব, ১৮৯৮ (অপঃ ৫ ড়ভ ১৮৯৮)” অর্থ, মোতাবেক অপরাধ বলে গণ্য, যা শিশু, “শিশু’’ আঠারো বৎসর পূর্ণ হয় নাই এমন কোন ব্যক্তি। (পরিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরÿা) আইন, ২০১০ (২০১০ সালের ৫৮ নং আইন) এর ‘২’ নং ধারার ‘১৮’নং উপধারা)। ইসলামী দৃষ্পিকোণে “শিশু” হলো, ১৪/১৫ বৎসরের পূর্ব পর্যন্ত। (মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ইসলামের দৃষ্টিতে শিশুর বয়স-সীমা: সমস্যা ও সমাধান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বর্ষ: ৪৮, সংখ্যা: ৪র্থ, এপ্রিল-জুন: ২০০৯, পৃ. ১৯৫)” সাবালক, “বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অন্য সব ব্যক্তি (১ম অনুচ্ছেদেও অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ ব্যতীত) আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার পর সাবালকত্ব লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে এবং তদ্পূর্বে নয়। (সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫ (১৮৭৫ সালের ৯নং আইন) এর ‘৩’ নং ধারার ২য় অনুচ্ছে)”, সকল শ্রেণীর নারীর প্রতি হতে পারে।
উত্যক্ত করা ও মানহানি করা অর্থে পবিত্র কুরআনে ইভটিজিং শব্দের ব্যবহার হয়েছে। মহান আলøাহর বাণী: হে নবী! আপনি আপনার পতœীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদেও স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদেও চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে (পর্দানশীন হিসেবে) চিনতে পারা য়ায় ও এর ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আলøাহ ÿমাশীল পরম দয়ালু। “আল-কুরআন, ৩৩ : ৫৯”। এছাড়া কুরআনে একে অপবাদ নামের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে- ঐরা সতী-সধ্বী, সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। “আল-কুরআন, ২৪ : ২৩”
সুতরাং বুঝা যায় যে, ইভটিজিং মূলত মানুষের একটি বিকৃত আচরণ ও অনৈতিক কর্ম। যার সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দেয়া হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও আল-হাদীসে।
ইভটিজিং-এর ধরণ ও এর অর্ন্তভুক্ত কাজ ঃ ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি, সমাজ নানাভাবে-নানারূপে ইভটিজিং লÿণীয়।
ক. বাচনিক কার্যাবলী: অশালীন মন্তব্য, শিস বাজানো, যৌন আবেদনময়ী গান, হুমকি প্রদান, যৌন সম্পর্কের আবেদন, প্র¯Íাব, অনভিপ্রেত বিয়ের প্র¯Íাব। খ. অবাচনিক কার্যাবলী : লোলপ চাহনি, উস্কানিমূলক তালি, কুরুচিপূর্ণ ছবি প্রদর্শন, কমোদ্দীপক গানবাজনা, অশুভ ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টি, পিছু নেয়া, মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ দেয়া, মিসকল দেয়া, ভষরসম শরংং (উড়ন্ত চুমু), চলার পথে বাধা দান, ই-মেইল কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ দেয়া ইত্যাদি। গ. শারীরিক কার্যাবলী : ঘাড় ও কাঁদে হাত দেয়া, গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া, শরীরে ধাক্কা দেওয়া, বøাকমেইল করার অভিপ্রায়ে চিত্র ধারণ।
বাংলাদেশের প্রেÿাপটে ইভটিজিং ঃ ইভটিজিং বর্তমান সময়ে একটি মারাত্মক সমস্যা। যার ÿতিকর প্রভাব আমাদের পারিবারিক, সামাজিক সহ সকল ÿেত্রকে আক্রান্ত করছে। বাংলাদেশে সংঘটিত ‘ইভটিজিং’ এর একটি সমীÿা নিম্নে প্রদান করা হলো:
১. পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, গত এক বছরে ইভটিজিং এর অপরাধে মামলা হয়েছে ১০৫টি, জিডি ৩৩৭টি, থানায় অভিযোগ ১২৯৬ জনের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৫২০ জন। ‘‘দৈনিক প্রথম আলো, ২৮ অক্টোবর ২০১০, পৃ. ০৯”
২. জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষণা অনুযায়ী ২০০৯ সালে ৭ মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে আত্মহাত্যা করে। আর ২০১০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫তে এবং মোট ইভটিজিং এর প্রত্যÿ শিকার হয় ৫২ জন। “প্রগুক্ত”
৩. বিভাগভিত্তিক কয়েক মাসের ইভটিজিং এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়; রাজশাহীতে ১৩টি মামলা, সিলেটে ১৮টি মামলা, বরিশালে ২৭টি মামলা, ৪টি জিডি, রংপুরে ৫টি মামলা, চট্রগ্রামে ২৩৭টি ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটে। “প্রাগুক্ত”
ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে এখন আক্রমণের শিকার হচ্ছে অভিভাবক। যেমন: নাটোরের মিজনুর রহমান, ফরিদপুরের চাঁপা রাণী ভৌমিক। এমতাবস্থায় দেশব্যাপী ইভটিজিং এর প্রতিরোধ সভা, সেমিনার, প্রবন্ধ রচনা, আইন প্রণায়ন, মিছিল, মানব বন্ধনসহ নানা আয়োজন চলছে।
ইভটিজিং এর কারণ ঃ ইভটিজিং একটি অপরাধ, এ অপরাধের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। অপরাধ সংগঠনের পেছনে স্থান-কাল, অবস্থান, ব্যক্তির মূল্যবোধ ইত্যাদি জড়িত। ইবটিজিং সংগটনের কারণগুলোর অন্যতম কয়েকটি হলো- ১. স্বভাবজাত ঝোঁক, ২. ইসলামী শিÿার অভাব, ৩. ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদাসীনতা, ৪. অশালীন পোশাক , ৫. মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি, ৬. পারিবারিক শিÿার অভাব, ৭. রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ৮. অপসংস্কৃতির প্রভাব, ৯. আইন ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা, ১০. নেশা ও মাদকতা, ১১. বেকারত্ব, ১২ . সামাজিক দায়বদ্ধতা না থাকা, “মুহাম্মদ আমিনুল হক, ইভটিজিং ১৩. তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার, ১৪. পারিবারিক শৃংখলার অভাব, ১৫. হতাশাব্যঞ্জক জীবন, ১৬. সুস্থ বিনোদনের অভাব , ১৭, প্রশাসনিক অবহেলা, ১৮. অর্থ-সামাজিক কর্মকাÐ, ১৯. একে অপরের প্রতি মর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধের অভাব। “নাজনীন আখতার, ইভটিজিং-১, দৈনিক জনকণ্ঠ, ঢাক, ২৯মে ২০১০, পৃ. ১” ২১. মিডিয়ায় অশøীলতা, ২২. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ২৩. মাতা-পিতার অবাধ্যতা, ২৪. নৈতিক অবÿয়, ২৫. যথাযত আইনের অভাব, ২৬. আইনের প্রয়োগ না থাকা, ২৭. নারীর প্রতি সমাজের (পুরুষদের) নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ২৮. রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ÿেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক সম্পর্ক, ২৯. পর্ণোগ্রাফির ব্যাপক ছড়াছড়ি এবং ৩০. মূল্যবোধের অবÿয় ইত্যাদি।
ইভটিজিং সম্পর্কিত বাংলাদেশের আইন
বাংলাদেশে ইবটিজিং সম্পর্কিত অনেক আইন রয়েছে। নিম্নে প্রচলিত কয়েকটি আইনের ধারা উলেøখ করা হলো,
১. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০, ধারা: ১০।
“যৌন পীড়ন, ইত্যাদি দÐ। যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শøীলতাহানি করেন তাহা হইলে এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন তিন বৎসর সশ্রম কারাদÐে দÐনী হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদÐেও দÐনীয় হইবেন।” “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশেধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ধারা ৫ বলে নতুন ধারা ১০ প্রতিস্থাপিত”
২. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩, ধারা: ১০।
“নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ইত্যাদিও শা¯িÍ। কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত (ডরষৎঁষ) কোন কার্য দ্বারা সম্ভামহানি হইবার প্রত্যÿ কারণে কোন নারী আতœহত্যা করিলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আতœহত্যা করিতে প্ররোচিত করিবার অপরাধে অপরাধী হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারদÐে দÐনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদÐেও দÐনীয় হইবেন।” “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০নং আইন) এর ধারা ৪ বলে নতুন ধারা ৯ক প্রতিস্থাপিত। উলেøখ্য ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০(২) ধারায় যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে (অশøীল অঙ্গভঙ্গি’ শব্দটি ২০০৩ সালের সংশোধনীতে বাদ দেয়া হয়েছে।
৩. বাংলাদেশে দÐবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত) ২০০৪ এর ২৯০, ২৯৪, ৩৫৪, ৫০৯ ধারা।
৪. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুুলিশ অধ্যাদেশ, ০৯৭৬ ধারা: ৭৬।
৫. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদেও ২নং ধারা।
“রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্ব¯Íরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। “এছড়াও সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১০, ১৯-১,২, ২৭ ২৮-১,২,৩, ২৯-১,২-ধারাগুলো দ্বারা নারী পুরুষের সমতা বিধানের কথা ঘোষণার দ্বারা ইভটিজিং এর প্রতি আইনগত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে” এদেরশের অধিকাংশ মানুষ ইভটিজিং প্রতিরোধে এসব আইন সম্পর্কে জানেন না। “সারনি-১ দেখুন” সুতরাং তাদরকে এসব আইন সম্পর্কে জানাতে এবং আইনের সুফল ভোগ করতে সংশিøষ্ট মহলের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী।
ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন ঃ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও বা¯Íবধর্মী যুগোপযোগী জীবন ব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি দিকের সমাধান এ ধর্মে ব্যবস্থা থেকে পাওয়া যায়। মহান আলøাহ বলেন, আমি এ কুরআনকে সকল কিছুর সমাধান স্বরূপ নাযিল করেছি। “আল-কুরআন, ১৬: ৮৯”। এমতাবস্থায় ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী ইভটিজিং প্রতিরোধের কারণসমূহের সাথে ইসলামী আইনের কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে তা আলোচনা করা যায়-
দৃষ্টিশক্তির হেফাজত ঃ ইভটিজিং এর পেছনে সবচেয়ে ÿতিকর যে কারণ তা হল: অবাধ দৃষ্টি প্রয়োগ। ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলাম বর্ণিত দৃষ্টি সম্পর্কিত ফৌজদারী আইনের অনুশীলন জরুরী। মহান আলøাহ বলেন, (হে রাসূল) ঈমানদার পুরুষদেরকে বলুন, তার যেন তাদেও দৃষ্টিকে নত রাখে। “আল-কুরআন, ২৪: ৩০”
আব্দুলøাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলøাহ স. বলেন, (অসংযত) দৃষ্টি হচ্ছে ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলো থেকে একটি তীর। যে ব্যক্তি আমাকে ভয় কওে তা ত্যাগ করবে, আমি তার বদলে তাকে এমন ঈমান দান করবো, যার স্বাদ সে নিজের হৃদয়ে অনুভব করবে। “সুলায়মান বিন আহমদ বিন আয়ুব তাবরানী, আল-মুজামুল ওয়াসীত, কায়রো: দারুল হারামাইন, তাবি, হাদীস নং: ১০৩৬২”। পূর্বেই আমরা উলেøখ করেছি, দৃষ্টিশক্তির অবাধ নিয়ন্ত্রণহীনতার ফলেই ইভটিজিং ঘটছে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলাম প্রদর্শিত পন্থায় দৃৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
সতর ঢেকে রা¯Íায় চলাচল ঃ সতর না ঢেকে উগ্র, অর্ধ উলঙ্গ চলাচলের প্রভাবে সমাজের যুবকদেও সুপ্ত যৌন আকাঙ্খা উস্কে দেয়া হয়। যার প্রভাবে ইভটিজিং এর মতো অনৈতিক কর্মকাÐের উদ্ভব হয়। সুতরাং ইভটিজিং প্রতিরোধে শালীন পোশাক পরিচ্ছদেও অনুশীলন জরুরী। মহান আলøাহ বলেন, যে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য এমন পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জস্থানকে আবৃত কওে রাখবে এবং যা হবে ভূষণ। আর পরহেযগারীর, পোশাকম এটি সর্বোত্তম। “আল-কুরআন,৭: ২৬”। সতরের সীমারেখা সম্পর্কে হাদীসের বাণী, আম্র বিন শুআইব রা . সূত্রে বর্ণিত, তিনি রাসূলূলøাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন , নিশ্চয় পুরুষের সতর হলো নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী স্থান। “সুলায়মান বিন আহমদ বিন আয়ুব তাবরানী, আল-মুজামুল সাগীর, বৈরূত: কুতুবুল ইসলামিয়্যা, ১৪০৫ হি., হাদীস নং: ৩২২”। আলøহ তাআলার বাণী, “তারা যেন তাদেও সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তবে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায়। “আল-কুরআন, ২৪: ৩১” আয়তে ‘যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায়’ দ্বারা অধিকাংশ ইমামের মতে- মুখমÐল, হতের তালু ও বহিরাবরণকে বোঝানো হয়েছে। “ইবনু আব্বাস রা. মুজাহিদ ও ‘আতা রা. ঊলেন, “এর অর্থ হচ্ছে চেহারা ও হাতের তুলুতে ব্যবহৃত রং ও সুরমা। ইবনু উমর ও আনস রা. প্রমুখ থেকেও বর্ণিত রয়েছে। ইবনু আব্বাস রা.-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এর অর্থ হলো- হাতের তালু, চেহারা ও আংটি। আবু বকর আল- জাস্সাস, আহকামুল করআন বৈরুত: দারু ইহয়িয়া আত তুরাসিল আরাবী, ১৪০৫ হি., খ. ৫, পৃ. ১৭২”
সর্বোপরি নারীর সতর সম্পর্কে কতিপয় আলিমের মতভেদ থাকা সত্তে¡ও পরপরুষের সামনে বিনা প্রয়োজনে চেহারা খোলা রাখা নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং প্রতিটি নারীর জন্য উচিত হবে, রা¯Íায় চলাচল অথবা মাহরাম ব্যতীত অন্য কারো সামনে যেতে হলে অবশ্যই দেহ আবৃত রাখা। পর্দা সংক্রান্ত সূরা আহযাব ও সূরা নূরের সবগুলো আয়াত অধ্যয়ন করলে এবং সাহাবায়ে কিরামের আমল পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, পরপুরুষের ÿেত্রে মহিলাদের মুখমÐলও সতরের অন্তর্ভূক্ত হবে। মহিলাদের মূখমন্ডলের গুরুত্ব সম্পর্কে মুহাম্মদ আলী আস সাবুনী বলেন, “মুখমÐল হচ্ছে সুন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিপর্যয়ের উৎস ও বিপদের ঘাঁটি। “মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী,রাওয়ায়িউল বায়ান ফী তাফসীরি আয়াতিল আহকামি মিনাল কুরআন, দামেস্ক: মাকতাবাতুল গাজালী, ১৯৮০ খ্রি., খি. ২, পৃ. ১৫৬”, “ইমাম কুরতুবী বলেন, “মুখমÐল হচ্ছে রূপ সৌন্দর্যেও কেন্দুস্থল, সৃষ্টিগত সৌন্দর্য এবং নারী জীবনের মাহাতœ-মাধুর্য এখানেই।” “আবু আব্দুলøাহ মুহাম্মদ উবনু আহমদ আল-কুরতুবী, আল-জমিউ লি আহকামিল কুরআন, কায়রো: দারু কুতুবিল মিসরিয়াহ, ১৯৮৪ হি., খ. ১২, পৃ.২২৯” উপযুক্ত আলোচনার সারমর্ম হিসেবে আলøামা মুহাম্মদ আলী আস সাবুনী রাহ.-এর মতামত প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, “মহিলাদের দিকে থাকানো জায়িয নয় শুধু ফিতনার আশঙ্কায়। আর চেহারা খোলা তাকলে যে ফিতনার সৃষ্টি হয় তা পা, নলা এবং চুল খোলা রাখার চেয়েও মারাতœক। যেখানে পায়ের নলা এবং চুলের দিকে তাকানো সর্বসম্মতভাবে হারাম, সেখানে চেহারার দিকে তাকানো আরো বেশি হারাম হওয়া উচিত। কারণ তা হচ্ছে সৌন্দর্যেও কেন্দ্রবিন্দু ও ফিতনার উৎস। “মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬৫”। সুতরাং বোঝা গেলো যে, ইভটিজিং বন্ধে মহিলাদেরকে সতর হিসেবে তাদের মুখমÐলসহ সম¯Í শরীরই ঢেকে রাখতে হবে। সাধারণত কিশোরী, তরুণী ও যুবতীরাই ইভটিজিং এর শিকার হয়ে হয়ে থাকে। কারণ এ সময় তারা নিজেদেরকে আবেদনময়ী সাজসজ্জা করে পরপুরুষের কাছে উপস্থাপন করা। “সারণি-২ দেখুন।”
রা¯Íায় আড্ডা না দেয়া ঃ আজকের সমাজে যে সব স্থানে ইভটিজিং হয় তা হল রা¯Íা, ঘাট, বাজার, বিপনী বিতান, শিÿা-প্রতিষ্টান, অতচ এসব ব্যাপাওে ইসলামের বিধান যদি মানা হত তাহলে মনে হয় ইভটিজিং নামক শব্দটির উদ্ভব হত না। এ প্রসংঙ্গে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী বলেছেন, তোমরা রা¯Íায় বসা থেকে বিরত থাকো। সাহাবীগণ বলেন, আমাদের তো রা¯Íার উপরে বসা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। আমরা তো সেখানে বসেই আলাপ করে থাকি। রাসূলূলøাহ সা. বললেন- যদি তোমরা একান্তই রা¯Íায় বসতে চাও, তাহলে তোমরা রা¯Íার হক আদায় করবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আলøাহর রাসূল। রা¯Íার হক কী? রাসূলূলøাহ সা. বললেন, “রা¯Íার হক হল- চÿু অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজে বাধাদান করা। “ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-মাজালিম ওল গাদাব, অনুচ্ছেদ: আফনিয়াতি আদদাউরি ওলজুলুসি ফীহা ওলজুলুুসি আলাস সাউদাত, দামেশক: দারু ত’কুন নাজাত, ১৪২২ হি. ঘাদীস নং- ২৪৬৫; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-লিবাস ওয যীনা,, অনুচ্ছেদ: আন-নাহি আন জুলুসি ফী তুরুকাত ও ইতাইত তারিকি হাক্কাহু, বৈরুত: দারে ইহইয়া আত তুরাস আল-আরাবী, তা.বি., হাদীস নং-২১২১/১১৪”। আলোচ্য হাদীসের নির্দেশনা যদি সমাজে বা¯Íবায়িত হতো, তাহলে রা¯Íার মোড়ে মোড়ে এত আড্ডার আসর হত না এবং ইভটিজিংও হত না। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে রা¯Íার হকসমূহের যথাযথ অনুশীলন জরুরী। বাংলাদেশে সংঘটিত ইভটিজিং এর অধিকাংশ ঘটে রা¯Íা ঘাটে, স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন গার্মেন্টস-এর সামনে অবস্থানকারী বখাটে উগ্র যুবকদেও দ্বারা। “সারণি-৩ দেখুন”।
নারীদের রা¯Íায় নম্রভাবে চলাচল ঃ ইসলামী অনুশাসন হল নারীরা সাবধানতার সাথে রা¯Íার একপাশ দিয়ে চলাচল করবে নম্র ও শালীন ভাবে। কিন্তু তারা যদি অহংকারের সাথে রা¯Íার মাঝখান দিয়ে চলাচল কওে, তবে তাদেও ইভটিজিং এর সম্মুখিন হওয়া অতি সাধারণ। তাই ইসলামী অনুশাসন মান্য করা জরুরী। মহান আলøাহ বলেন, তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদাচারণা না করে। “আল-কুরআন,২৪: ৩১”
পোশাকের ব্যাপারে ইসলামী বিধানমালা অনুসরণ ঃ নারীর পোশাকের ব্যাপারে ইসলামী বিধ-বিধানের কয়েকটি হলো-
১. সতর পরিমাণ ঢেকে থাকে এমন ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করা;
২. প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক না পরা; আলøাহ তাআলা ঘোষণা করেন: “তারা তাদেও সৌন্দর্যকে যেন প্রকাশ না করে। (আল-কুরআন, ২৪: ৩১)
৩. জাহিলিয়াতের ন্যায় নগ্নপোষাক না পরা; “মাহন আলøাহ বলেন: “জাহিলী যুগের ন্যায় তোমরা সৌন্দর্যকে প্রদর্শন করো না।” (আল-কুরআন, ৩৩: ৩৩)
৪. পোষাক স্বচ্ছ পাতলা না হওয়া; “পর্দার উদ্দেশ্য আবৃত করা এবং তাদনুযায়ী সাফল্যেও জন্য পাতলা স্বচ্ছ কাপড় দ্বারা পর্দা তৈরী করা ঠিক হবে না। নামে মাত্র পর্দা আর বা¯Íবতায় অনাবৃত এ হতে পার না। মহানবী সা. বলেন, “আমার শেষ জামানার উম্মতের নারীরা পোষাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করলেও প্রকৃতপÿে তাদেরকে উলঙ্গ মনে হবে, তাদের চুলের খোপাকে মনে হবে যেন বুখ্ত উটের কুঁজোর মতো সুউচ্চ। তাদের অভিশাপ দাও, কেননা তারা অভিশপ্ত।” (আত-তাবারানী, মুজামুস সাগীর, অধ্যায়: বাবুল হা’, অনুচ্ছেদ: মান ইসমুহু হারুন, বৈরুত: মাকতাবাতুল ইসলামী, ১৪০৫ হি., হাদীস নং-১১২৫)”
৫. পোষাক আঁটসাঁট না হওয়া; “পর্দা ফেৎনা হতে বাঁচার রÿাকবচ। এটা আঁটসাঁট হলে নারী-পুরুষের দেহ গঠন প্রণালী প্রকাশিত হবে এবং তাতে পর্দার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। এ প্রসঙ্গে উসামা ইবনু যায়দ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলূলøাহ সা. আমাকে একটি কুবতী মোটা আঁটসাঁট কাপড় পরার জন্য দিলেন, যা তাঁকে দাহ্ইয়া আল-কালবী রা. উপঢৌকন দিয়েছিলেন। আমি কাপড়টি নিয়ে আমার স্ত্রীকে পরার জন্য দিয়েছিলাম। রাসূলূলøাহ সা. তা জানতে পেরে বললেন: কী? ব্যাপার, তুমি কুবতী কাপড়টি পরলে না? আমি জবাব দিলাম, ইয়া রাসূলালøাহ সা., আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে পরার জন্য দিয়েছি। তখন রাসূল সা. বললেন: তোমার স্ত্রীকে এ নির্দেশ দেবে, যেন সে এর নিচে একটি অর্ন্তবাস পরে নেয়। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, এতে তার হাড়গুলোর আকৃতি বাহির থেকে ফুটে ওঠতে পারে।” (ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, অধ্যায়: মুসনাদে আনসার, অনুচ্ছেদ: হাদীসে উসামা বিন যায়েদ হুব্বে রাসূল সা., দামেশক: মআস্্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪২১ হি., হাদীস নং- ২১৭৮৬)
৬. নারী-পুরুষের পোষাকে সাদৃশ্য না হওয়া; “এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. ইরশাদ করেন: “যে নারী পুরুষের বেশ ধারণ কওে আর যে পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করে, তারা আমাদের দলের নয় অর্থাৎ তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়।” (ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, অধ্যায়: মুসনাদে মুকসিরীনা মিনাস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: মুসনাদে আব্দুলøাহ বিন আমর বিন আস রা. প্রগুক্ত, হাদীস নং-৬৮৭৫)
৭. মুসলিমের পোশাক বিজাতীয় পোষকের ন্যায় না হওয়া; “এ প্রসঙ্গে আব্দুলøাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্য (পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সংস্কৃতিতে) রাখে, সে তাদের অন্তর্ভূক্ত।” ( ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-লিবাস, অনুচ্ছেদ: বাবু ফি লুবসিস শুহরাতি, বৈরুত: মাকতাবাতুল আসরীয়া, তা.বি, হাদীস নং-৪০৩১)
৮. যশ-খ্যাতির উদ্দেশ্যে পোশাক না পরা; “এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ার খ্যাতিজনক পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান কওে, কিয়ামতের দিন মহান আলøাহ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরিধান করাবেন, অতঃপর জাহান্নামে নিÿেপ করে আগুনে জ্বালাবেন।” (ইমাম ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-লিবাস, অনচ্ছেদ: বাবু মান লাবিসা শুহরাতান মিনা লিবাসি, বৈরুত: দাওে ইহইয়া কিতাবুল আরাবীয়্যাহ, তা. ডব., হাদীস নং-৩৬০৭)
সর্বোপরি ইসলাম নির্দেশিত পোশাকের বিধান অনুসাওে হিজাব অনুশীলনের মাঝেই নারীর সঠিক মর্যাদা ও কল্যাণ নিহিত। বেপর্দার কারণেই নারী নির্যাতন, ইভটিজিং সমাজে আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কুরআনের এ সুন্দও বিধানকে উপেÿা কওে আজকের সমাজে যে শিÿা প্রতিষ্টান, চাকুরীজীবীদের কর্মস্থল ইত্যাদিকে শালীনতা বিবর্জিত ও ইসলাম বিরোধী পোশাকের প্রচলন করা হয়েছে। যা ইভটিজিং এর মতো অনভিপ্রেত অপরাধ বি¯Íারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলামী পোশাক প্রচলন জরুরী। বাংলাদেশে সংঘটিত ইভটিজিং এর অধিকাংশই নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শন ও অশøীল পোশাক পরিধানে কারণেই হয়ে থাকে। “সারণি-৪ দেখুন।”
নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার ঃ যেহেতু সুগন্ধি ইন্দ্রিয়গুলোকে উত্তেজিত কওে, তাই মহানবী সা. মহিলাদেরকে খোশবু লাগিয়ে বাইরে বের না হবার হুকুম দিয়েছেন। আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলøাহ সা. বলেন, কোন মহিলা যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর মানুষের পাশ দিয়ে হাঁটে, যাতে তারা তার সুঘ্রাণ পায়, তবে সেই মহিলা ব্যভিচারিণী। ‘‘আবু আব্দুর রাহমান আহমদ বিন শুআইন আন-নাসায়ী, আস-সুনান, হালব: মাকাতাবাতু মাতবাআতু আল-ইসলামীয়্যাহ, ১৪০৬ হিজরী, হাদীস নং = ৫১২৬”। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলামী অনুশাসন মেনে নারীর উচিত হবে সুগন্ধি ব্যবহার কওে বাইরে বের না হওয়া।
পরপুরুষের সঙ্গে আবেদনময়ী স্বরে কথা না বলা ঃ পরপুরুষের সঙ্গে নারীর কথা বলার ভঙ্গি ও ধরন এমন হতে হতে, যাতে আলাপকারী পর পুরুষের মনে অশুভ চিন্তার উদয় না হয়। পরপুরুষের ÿেত্রে সর্বদা ইসলামের এই অনুশাসনটির কথা স্মরণ রাখতে হবে, যাতে করে কেউ নারীর কথার দ্বারা তার প্রতি আকর্ষিত না হয়। যার কুপ্রভাব হতে পারে ইভটিজিং এর মত জঘন্য কাজ। মহান আলøাহ বলেন, যদি তোমরা আলøাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্শণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা কওে, যার অন্তরে ব্যধি রয়েছে। তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। “আল-কুরআন, ৩৩: ৩২”
ইসলামী শিÿা ব্যবস্থার বাস্থবায়ন ঃ ইভটিজিং একটি সামাজিক সমস্যা। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদেও মাঝে এর প্রভাব লÿ্য করা যায়। তারা বা¯Íবতার তুলনায় আবেগ তাড়িত হয়েই মূলত এ সকল ঘৃণ্য কাজ করে। তাই তাদের সামনে যদি ইসলামী অনুশাসন শিÿা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপস্থাপিন করা যায়, তাহলে ইভটিজিং বন্ধে তা হবে একটি যুগান্তকারী পদÿেপ। উদাহরণ স্বরূপ ঘঈঞই অনুমোদিত ২০১৩-১৪ শিÿাবর্ষ থেকে কার্যকর সিলেবাসে উচ্চ মাধ্যমিক ¯Íরের ইসলামী শিÿা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর প্রথম পত্র বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে ‘ইভটিজিং প্রতিরোধের ধর্মীয় অনুশাসন’ অন্তর্ভুক্তি।
ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা ঃ বর্তমান সমাজে প্রচলিত অপসংস্কৃতি মূলত ইভটিজিং এর প্রত্যÿ প্রশিÿকের ভূমিকা পালন করে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধ করতে হলে পশ্চিমা ও ভারতীয় অপসংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী সংস্কৃতির উপর জো দেয়া জরুরী। বাংলাদেশ ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা জোরদারকরণে‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ যথার্থ প্রতিষ্টান। ইসলামী সংস্কৃতি বা¯Íবায়নে এ প্রতিষ্টনের আরো বলিষ্ঠ প্রদÿেপ প্রয়োজন। এÿেত্রে আমাদের কয়েকটি প্র¯Íাবনা হলো-
* সরকারী উদ্যোগে ইসলামী টেলিভিশিন ও বেতার চ্যানেল প্রতিষ্ঠা;
* সরকারী ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু করা;
* দেশের চলমান টেলিভিশন ও বেতারগুলোকে ইসলামাইজেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ;
* এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী গঠন।
পরিবার প্রথা ওপারিবারিক বন্ধন সদৃঢ়করণ ঃ আধুনিক সমাজ যান্ত্রিক উনতিকে আতœ¯Í করতে গিয়ে নৈতিকতাকে সম্পর্ণ উপেÿা করছে। পশ্চাত্যেও অধিকাংশ মানুষ ‘খরারহম ঃড়মবঃযবৎ’ পন্থাকে ‘গধৎৎরধমব’ এর বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে। যা দেখে আমাদের কোমলমতী তরুণ-তরুণীরা ইভটিজিং-এ উদ্বুদ্ধ হচ্চে। অথচ ইসলাম অভিভাবকদের নির্দেশ দিয়েছে পরিণত বয়সে ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ের ব্যবস্থা করতে। মহান আলøাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। “আল-কুরআন, ২৪: ৩২”
আলক্বামাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলøাহ সা. বলেছেন: হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করতে সÿম, তারা যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি বিবাহ করতে অÿম, সে যেন রোযা রাখে। কেননা, রোযা তার যৌন ÿুধাকে অবদমিত রাখে। ইমাম বুখারী, প্রগুক্ত, হাদীস নং-৫০৬৫”
চারিত্রিক উন্নতি সাধন ঃ মূলত চারিত্রিক অবÿয়ের করণেই সমাজে ইভটিজিং এর ন্যায় ভয়াল সামাজিক অপরাধ নেমে এসেছে। তাই ইভটিজিং প্রতিরোধে যে কাজটি সবার আগে করতে হবে তা হলো- ব্যক্তি চারিত্রের উন্নতি সাধন। ইসলামী জীবনাদর্শে চারিত্রিক উন্নতি সাধন একটি মহৎ গুণ। নবী মুহাম্মদ সা. চারিত্রিক উন্নতির পূর্ণতা সাধন করতেই এ পৃথিবীতে আগমন করেন। রাসূলুলøাহ সা. বলেন, মহান নৈতিক গুণাবলী পবিপূর্ণ করার জন্যই আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। “আবু মুহাম্মদ আব্দলøাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম, আল জামে, মিশর: দাওে মাকতাবা হাসান হুসাইন, ১৪৬১., হাদসি নং-৪৮৩”
নৈতিক শিÿায় শিÿিত জাতি গঠন ঃ মানুষ নৈতিক জীব। নৈতিক জীবনবোধ মানুষকে ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, নীতি-দুর্নীতি, পাপ-পুণ্য সম্পর্কে সচেতন করে, পেরণা যোগায়, ভালো হতে সাহয্য করে। ধর্মই নৈতিকতার “নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ গড়ৎধষরঃু, যা এসেছে গড়ৎধষং থেকে। এর অর্থ হলো: আচর-ব্যবহার, রীতি-নীতি বা ঈঁংঃড়সং প্রথা। আরবী প্রতিশব্দ হচ্চে খুলুক বহুবচন (কযঁষয়) বহুবচন (অশযষধয়) আখলাক।” আসল ও প্রকৃত উৎস। ধর্মেও বাঁধন শিথিল হয়ে গেলে কিংবা ধর্মেও শিÿা ও নির্দেশনা ভুলে গেলেও মানুষ তার সামাজিক পরিমÐলের উচিত-অনুচিত বোধ থেকে নৈতিক অবস্থান তৈরীি করে নেয়; যা সর্বাতœক ও পরিপূর্ণ নয়। কেননা, আলøাহ প্রদত্ত তথা স্রষ্টার পÿ থেকে প্রেরিত নীতিমালা ও বিশ্বাসই মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণের চালিকাশক্তি। ধর্মেও সঙ্গে সম্পর্কহীন মানব জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ উন্নয়ন ও পরিত্রাণ সম্ভব নয়। এজন্যই সত্য ধর্মাশ্রিত নৈতিক শিÿা মানব জীবনের জন্য অপরিহায্য। ইসলাম ধর্মই নৈতিকতা শিÿার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে নৈতিকতার শিÿায় শিÿিত হতে হবে।
রাসূলুলøাহ সা. বলেন, নৈতিকতার বিচাওে যে ব্যক্তি উত্তম, মু’মিনদের মধ্যে সে ব্যক্তিই পূর্ণতম ঈমানের অধিকারী। “ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আবওয়বুল রিদা, অনুচ্ছেদ: বাবু মা জাআ ফি হাক্কুল মিরআতি আলা জাওজিহা, মিশর: শিরকাতু মাকতাবাতু মাতবাআত মুসতফাি আল বালী আল হালী, ১৩৯৫ হি., হাদীস নং- ১১৬২”
ইতঃপূর্বে উলেøখ করা হয়েছে, নৈতিক অবÿয়ের কারণেই মূলত সমাজে ইভটিজিং-এর ন্যায় ভয়াল সামাজিক অপরাধ নেমে এসেছে। তাই জাতিকে এ নৈতিক অবÿয় থেকে বাঁচাতে হলে যে কাজটি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে করতে হবে, তা হলো- জাতিকে নৈতিক শিÿায় শিÿিত করে গড়ে তোলতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. জাতিকে নৈতিক শিÿায় সুন্দররূপে গড়ে তোলতেই এ পৃথিবীতে মহান শিÿকরূপে আগমন করেছিলেন।
মাদকাসক্তি দূরীকরণ ঃ মাদকাসক্তি মানব বিবেক-বুদ্ধি ও ম¯িÍষ্কেও ওপর মারাতœক ও ÿতিকর প্রভাব বি¯Íার করে। ম¯িÍষ্কেও করটেক্স বা উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তির ¯Íওে নি¯েÍজ হয়ে যায় ফলে মদপানকারী মাতাল হয়ে পড়ে। লজ্জা-সংকোচ কমে যায়, কথাবার্তা বেশি বলে, এমনকি অনেক গোপন তথ্যও বের হয়ে পড়ে। কথাবার্তা জড়িয়ে যায়, এক পর্যায়ে চেতনা হারায়। মাদকাসক্তি মানুষকে শুধু মানবাত ও নৈতিকতাবিরোধী কার্যকলাপের দিকেই উদ্বুদ্ধ কওে না, এটা মানুষকে যাবতীয় মন্দ ও ঘণ্যতর পাপ কাজের দিকেও ধাবিত করে। এটা মানুষকে চিত্তবিভ্রাম, অস্থিও ও উচ্ছৃঙ্খল করে তোলে। ব্যভিচার, নরহত্যা ছিনতাই, রাহাজানি, সড়ক দুর্ঘটনা ও নির্যাতনের মত জঘন্যতম অপরাধের অধিকাংশই মাদকাসক্তিরই পরিণাম। রাসূলুলøাহ সা. বলেন, “মদ সকল অপকর্মেও জনীন।” “ইমাম দারাকুতনী, আল-সুনান, অধ্যায়: আল-আসরিবাতি ওগাইরিহা, বৈরুত: মুআস্সাসাতুর রিসালাহ,১৪২৪ হি.,হাদীস নং- ৪৬১৩”
সুতরাং ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে হবে।
ফলাফলমূলক পর্যালোচনা ঃ ধর্ম বাংলাদেশের সমাজের চালিকাশক্তি, তাই ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এদেশ থেকে ইভটিজিং এর প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, ইসলামী অনুশাসনের মাধ্যমেই ইভটিজিং প্রতিরোধ সম্ভব। এছাড়া ইদানীং কালে পত্রপতিকায়ও এ ব্যাপাওে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। “ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রয়োজন ইসলামী অনুশাসন” এমন আলেঅচ্য ধারার আলোচিত কয়েকটি পত্রিকার নিবন্ধ হলো-দৈনিক প্রথম আলো, ২৮/১০/২০১০ শা¯িÍ হয় না উত্তক্তকারীদেও; দৈনিক নয়া দিগন্ত, ইভটিজিং বন্ধে আমাদের দায়িত্ব; দৈনিক নায় দিগন্ত, ইভটিজিং নৈতিক অধঃপতনই মূল কারণ; দৈনিক নয়া দিগন্ত ইভটিজিং; আপন পাগল বেঁধে রাখি; দৈনিক ইত্তেফক, ২৯/১০/২০১০, গুরুতর সামাজিক সমস্যা ইভটিজিং প্রতিরোধে ধর্মীয় শিÿা; দৈনিক নয়া দিগন্ত, হঠাৎ নারী নির্যাতন মহামারীর কারণ; ইত্যাদি।” ইভটিজিং এর শিকার অধিকাংশ নারীর মতামত হলো, ইভটিজিং প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন-প্রয়োগের পাশাপাশি ইসলামী অনুশাসন বা¯Íবায়ন জরুরী। “সারণি- ৫ দেখুন।”
সুপারিশসমূহ ঃ ইভটিজিং প্রতিরোধে আইনী ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি সুপারিশ হলো-
১. আইন মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন; অথবা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০)’ এর সংশোধন করে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামের অনুশাসন’ বিষয়ক ধারা সংযোজন;
২. তথ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ ধারণাটি ব্যাপকভাবে প্রচারকরণ;
৩. শিক্ষঅ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষার সর্ব¯Íওে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ;
৪. জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, পরিবারের প্রধান ব্যক্তিরা নিজ নিজ স্থান থেকে ‘ ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন’ বাস্তবায়নের প্রদক্ষেপ গ্রহণ;
৫. অবাধ নারী স্বাধীনতায় গা ভাসিয়ে না দিয়ে নারী স্বাধীনতার মূল প্রত্যয় উপলব্ধি করে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা;
৬. ইসলামী ভাবধারা অÿুণœ রেখে শিক্ষাব্যবস্থা ও নারীর কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ;
৭. ইসলামে প্রদর্শিত ‘মানহানি প্রতিরোধ’ আইন মেনে চলা;
৮. পারিবারিক শৃংখলা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় আইনের বাধ্যবাধকতা ও ইসলামী অনুশাসন গ্রহণে যতœশীল হওয়া;
৯. নারীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মানসিকতা সৃষ্টি;
১০. চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে তৎপরতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।
উপসংহার ঃ আলøাহ তাআলা নারীকে মা, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মান দিয়েছেন। অতচ আজ তারা আলøাহর পদত্ত গৌরব ও মর্যাদা ভুলে গিয়ে মেকি ভোগ বিলাস, কামনা-বাসনা, অনৈসলামিক উম্মাদনায় আক্রান্ত। তারা আজ আদর্শ মা ও স্ত্রী হবার পরিবর্তে উচ্ছৃঙ্খল প্রেমিকা, রক্ষিতা, নায়িকা, মডেল ও খ্যাতি আর্জনে উদ্গ্রীব। উচ্ছৃঙ্খল, আঁটসাঁট পোশাক আর বেপরোয়া চলন-বলন অব্যহত রেখে আইন প্রণয়ন অনর্থক। তাই আজকের সমাজ থেকে ইভটিজিং নামক কালো অধ্যায় দূও করতে হলে ইসলামী অনুশাসনের যথাযথ বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। লেখক ঃ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট



মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান
পাঠানপাড়া (খান বাড়ি), কদমতলী
সদর, সিলেট-৩১১১।
মোবাঃ ০১৯৬৩-৬৭১৯১৭


Free Online Accounts Software