Sylhet Express : সিলেট এক্সপ্রেস - সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক
   21 Oct 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 16 March 2013 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 5093) 

আসে বসন্ত ফুল বনে

আসে বসন্ত ফুল বনে
     

সালেহা আফরীন বেবী;--
ফাগুনের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্ত দিয়েছে দোলা। তাই উজ্জীবনের নতুন আবেশ চারদিকে। অবশ্য ইতোমধ্যে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশে। ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। ফলে ফুলে পাতায় পাতায় ডালে ডালে ও কুঞ্জ বিলিকায় এখন নব যৌবনের রঙিন মুরতি হাওয়া। জলে স্থলে নবতলে আশ্চর্য শিহরণ, দুঃখের বিদায়ক্ষণ ঘটিয়ে আনন্দ সুধারসে সিক্ত এখন প্রকৃতি।
শীতে প্রকৃতি যে বার্ধক্যের রূপ ধারণ করে এবং সর্বত্রই তার যে যবু-থবু যে দৃশ্যমান ছিল তা যেন এক লহমার যৌবনের উত্তাল উদ্দাম গতি ফিরে পেয়ে দিবসে-নিশিথে এক অনুপম ঝংকার তুলেছে আজ। জরাগ্রস্ত প্রকৃতির বিবর্ণ রূপ ভেদ করে বসন্ত এনেছে নব জীবনের ঢেউ। দক্ষিণ সমীরণের শিহরণ জাগানোর দিন এখন। জারুল, পারুল, মাধবী, মালতি, পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া আজ ফুটেছে থরে থরে। বসন্ত দিনের সবুজ শ্যামলীমা পরশে আমের মুকুল আজ মঞ্জুরিত। নবপুষ্প ও পত্র পল্লবে প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। মানব মানবী গাছ লতাপাতা মৌমাছি পাখি সহ প্রাণীকুলের সকলের মাঝে যেন কি এক উন্মাদনা, কি এক চাঞ্চল্য। বসন্ত আনন্দের ঋতু উৎসবের ঋতু এই বসন্তে প্রকৃতি সাজে নতুন সৌন্দর্যে। নবপল্লবে সেজে উঠে বৃক্ষরাজি। বসন্তে দখিনা হাওয়া দোলা দেয় মানুষের মনে।
কোকিলের কূহুতান বসন্তের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয় বাংলার ঘরে ঘরে। তবে নগর জীবনে যান্ত্রিকতার ভীড়ে হাজারো শব্দ আর কাজের ভীড়ে কোকিলের কুহুতান খুব কমই শোনা যায়। প্রকৃতির ধূলি মলিন রূপকে ছাপাইয়া সর্বত্রই। উঁকি দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের বর্ণাঢ্য আভা। বদলে গেছে বাংলাদেশের গতি প্রকৃতি। শুধু প্রকৃতিতে নয় জীবনেও বসন্তের প্রভা অপরিসীম। ফাগুন আর বসন্ত অভূতপূর্ব এক আবেগ ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠে মন। বস্ত্তত এই কারণেই বসন্তকে ঘিরে শিল্পী সাহিত্যিকদের উচ্ছ্বাস যেমন অন্তহীন তেমনি আমাদের ষড়ঋতুর মধ্যেও বসন্তের আসন রয়েছে শীর্ষস্থানে।
সর্বোপরি বসন্তের আগমন বিশ্বজনীন। কত নামে না ডাকা হয় বসন্তকে আর যুগ যুগ ধরে কত ভাবেই না তুলে ধরা হয়েছে বসন্তের রূপ। দেশ কাল নির্বিশেষে চলে আসছে বসন্ত বন্দনা। কিন্তু তাতেও শিল্পী সাহিত্যিকদের আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়ে নি। শুধু আমাদের দেশে নয়, প্রাচীন গ্রিসেও বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায় গ্রীক সাহিত্যে। বাংলা ভাষার দুই কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের এক উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়েই রয়েছে।
বসন্তের সৌন্দর্য। তাদের রচনায় বসন্ত হয়ে উঠেছে যুগপৎ প্রেম, বিরহ ও যৌবনের প্রতীক। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসন্তের গানগুলো স্থায়ী আসন করে নিয়েছে বাঙালির চিত্তে। এই গানগুলো ছাড়া বসন্ত বরণের কথা ভাবাই যায় না। আর তারুণ্য আর বিদ্রোহের কবি নজরুল নিজেই যেন এক অনন্ত বসন্তের প্রতীক। বস্ত্তত এই বিদ্রোহ আর আহবানই হল বসন্তের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। অতএব বসন্তকে উপলক্ষ করে যুগ যুগ দেশে দেশে যে উৎসব চলে আসছে। তার তাৎপর্যকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। জরা ও হতাশার বিপরীতে ইহা মূলত অদম্য জীবনেরই জয় গান।
আমরা বসন্তকে বরণ করি স্বাগত জানাই। কামনা করি বসন্তের আগমনে প্রকৃতির মতোই মানুষের হৃদয়ও সর্বপ্রকার কলুষমুক্ত হোক। বসন্তের আবাহনে আবাহনে অবসান হোক হিংসা, হানাহানি এবং কুপমন্ডকতার।


Free Online Accounts Software