23 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :

সিলেট 9 December 2012 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  (পঠিত : 2246) 

যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবংমালয়েশিয়ার নির্মাণ শ্রমিক পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিল

 যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবংমালয়েশিয়ার  নির্মাণ শ্রমিক পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিল
     



শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ দুর্গম পাহাড়ি গ্রামের নাম ডলুছড়া। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৮০টি পরিবারের বসবাস এখানে। বসবাসের ঘরগুলো মাটির তৈরি। গ্রামের সবাই দিনমজুর। আনারস আর লেবু বাগানে কাজ করে দিন কাটে তাদের। এই গ্রামের বাসিন্দারা কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি তাদের পাকা ঘর হবে। অথচ এটিই হয়ে গেলো।
বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য আবাসনের (হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি) উদ্যোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুছড়া গ্রামের ২১টি পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আর এতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবী।
এই গ্রামের বাসিন্দা বিপিন দেববর্মা। পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে একটি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন। তিনি আনারস ও লেবু বাগানের শ্রমিক। পাকা ঘর তৈরির সামর্থ্য তাঁর নেই। নতুন পাকা ঘর পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'আমি কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যে বিদেশিরা আমাদের গ্রামে এসে নিজ হাতে ঘর তৈরি করে দেবেন। আমরা ভীষণ আনন্দিত তাতে।' তাঁর বাড়িটি নির্মাণ করেছেন ছয়জন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী।
উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে ডলুছড়া গ্রাম। সরেজমিন ঘুরে গ্রামটিতে দেখা গেল, বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীদের কেউ কেউ বালু বহন করেছেন। কেউ বা লোহার ফ্রেম বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এদিকে থেকে ওদিক। আবার কেউ কেউ অর্ধনির্মিত ঘরের চালে উঠে টিন লাগাচ্ছেন। কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক সহায়তা করছেন তাঁদের।
কথা হলো যুক্তরাষ্ট্রের দুই নারী স্বেচ্ছাসেবী মিস মার্জ ও মিস এনার সঙ্গে। মার্জ বলেন, 'আমি এই প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছি। দরিদ্র মানুষের জন্য নিজ হাতে কিছু করতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে।' এনা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'এ কাজ আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে, কারণ আমি মানুষের জন্য অন্তত কিছু করতে পেরেছি।'
এ প্রসঙ্গে মানুষের জন্য আবাসনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডেনিস গ্রিন বলেন, যেসব স্বেচ্ছাসেবী গৃহ নির্মাণের কাজ করছেন তাঁরা সবাই গভীর আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করে যাচ্ছেন। এ ঘরগুলোর নির্মাণকাজ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। আমি প্রতিটি বাড়ির নির্মাণকাজ ঘুরে ঘুরে দেখছি।'
নিউজিল্যান্ডের একটি বেসরকারি আবাসন সংস্থার প্রশিক মার্ক। তিনি ডলুছড়ায় নির্মাণাধীন ১৯ নম্বর অনন্ত দেববর্মার গৃহ নির্মাণদলের নেতা। অনন্ত দেববর্মার এই ঘরটি তৈরিতে নিউজিল্যান্ডের আটজন নাগরিক সহায়তা করেছেন। মার্ক বলেন, দরিদ্র মানুষদের সুন্দর একটি গৃহের ব্যবস্থা করে দিতে আমরা এখানে কাজ করেছি। বাংলাদেশে এসে এখানকার হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে মিশে অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। এ জন্য সত্যিই আমি গর্বিত।
ঘর পেয়ে খুশি অনন্ত দেববর্মা বলেন, 'আমি আনারস ও লেবু বাগানে কাজ করি। পাকা ঘর তৈরির মতো সামর্থ্য আমার নেই। দিন আনি দিন খাই। পরিবার নিয়ে এখন তীব্র শীত আর বর্ষার হাত থেকে বাঁচতে পারব।'
মানুষের জন্য আবাসন সূত্রে জানা যায়, আদিবাসীপাড়া ডলুছড়ায় ২১টি দরিদ্র পরিবারকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এ আয়োজনে ৭৬ জন বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী নিজের হাতে ১০টি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া সমাজ উন্নয়ন ছ্রকল্পের আওতায় এতে নির্মিত বাড়িগুলোর নলকূপ, রাস্তাঘাট এবং নর্দমা পুননিরমাণ করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, গতকাল শ্রীমঙ্গলের টি রিসোর্টে সমাপনি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহ মালিকদের চাবি হস্তান্তর করে এই কর্মসূচির সমাপ্তি করা হয়। সংস্থাটির বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জন আমস্ট্রনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশফাকুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সংস্থাটির ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মার্টিন মুকুল রয় বলেন, হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫০০০ বেশী পরিবারকে নিরাপদ আবাসন ব্যাবস্থায় সহযোগীতা করেছে। গতকাল ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁরা শ্রীমঙ্গল ডলুছড়ায় ২১টি পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ সংস্থা এদেশে আরো ৪০০০ পরিবারের বিনামূল্যে গৃহ সহায়তা প্রদান করার লে কাজ করছে। সংস্থাটি এদেশে বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা সহ নিজেরা মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছে।


Free Online Accounts Software