26 Feb 2017 : Sylhet, Bangladesh :


Warning: mysql_result() [function.mysql-result]: Unable to jump to row 0 on MySQL result index 7 in /home/content/22/12438422/html/news/details.php on line 65

Warning: mysql_result() [function.mysql-result]: Unable to jump to row 0 on MySQL result index 7 in /home/content/22/12438422/html/news/details.php on line 66

Warning: mysql_result() [function.mysql-result]: Unable to jump to row 0 on MySQL result index 7 in /home/content/22/12438422/html/news/details.php on line 67

8 December 2012 সাহিত্য-সংস্কৃতি  (পঠিত : 27687) 

প্রথম স্পর্শ

প্রথম স্পর্শ
     

তাসলিমা খানম বীথি::--
মুর্শেদ ঢাকা যাচ্ছে। অফিসের একটা মিটিং এটেন্ড করতে। সবসময় বাসেই ঢাকা যাতায়াত করে সে। আজ সে ইচ্ছে করেই ট্রেনে যাচ্ছে। রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকে। তাছাড়া ইদানিং যে হারে বাস দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে তাতে সে অনেক সঙ্কিত।
ট্রেন ছাড়ার এখনও কিছুটা বাকি। জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে। তার পাশের সিটটাতে একটি মেয়ে বসেছে। এক সময় পাশের সিটে কোন অপরিচিত সুন্দরী মেয়ে আশা করত। কেননা এতে জার্নিটা অনেক মজার হয়। গল্প করে পুরো পথ পার করে দেয়া যায়। ট্রেন জার্নি খুব কম করলেও এমন অনেক স্মৃতিই আছে তার।
আজ কল্পনার আয়নায় সুস্পষ্ট ভাসছে সব স্মৃতিগুলো। আজ কেন জানি নিজ থেকে পাশের সিটে বসা সুন্দরী মেয়েটির সাথে খেজুরের আলাপ করতে তার মন চাচ্ছেনা। পাশের সিটের মেয়েটার দিকেও তাকাচ্ছেনা। কেন চাচ্ছেনা তাও মুর্শেদ বুঝতে পারছেনা।
সে জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে একাই নিজ মনে নিজের সাথে গল্প করে যাচ্ছে। ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে। হটাৎ করে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি দিব্বি ঘুমাচ্ছে । মেয়েটির মাথা তার কাঁধে। কিছুক্ষন পরই ট্রেনের হটাৎ ঝাকুনিতে মেয়েটির ঘুম ভেঙ্গে যায়। একজন অপরিচিত ছেলের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়াতে সে কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলল - সরি, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মুর্শেদ তাকে স্বাভাবিক করার জন্য বলে - ইটস্ ওকে। আমি কিছু মনে করিনি। আপনি ঘুমান। মেয়েটি হাই তুলতে তুলতে জবাব দিল- না, ঘুম চলে গেছে। খুব টায়ার্ড লাগছে। তাই কিভাবে ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি।
মেয়েটি নিজ থেকে কথা বলায় মুর্শেদ স্বাভাবিক ভাবে মেয়েটির সাথে কথা বলতে শুরু করলো। পরিচয় পর্ব শেষে কেনো, কোন উদ্দেশে ঢাকা যাচ্ছে। শম্পা মুর্শেদের কাছে বর্ণনা দিতে শুরু করেছে। মুর্শেদ এতক্ষন নিজ মনে গল্প করতে থাকলেও এখন সে তার অনেক পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়তে লাগলো।
শম্পার কথা শেষ হতেই মুর্শেদ বলে ওঠলো তার জীবনের মধু স্মৃতির কথা। শম্পাও মহা আগ্রহ নিয়ে মুর্শেদের জীবনের ঘটে যাওয়া মধুর স্মৃতি শুনছে।
ঘটনাটি ছয় বছর আগের। মুর্শেদ আগে যে জব করত সেই অফিসের নিচ তলায় একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানী ছিল। মুর্শেদ কম্পিউটারে কাজ এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন সমস্যাবলীর সমাধান করতে পারতো বলে সেই অফিসের লোকজন কম্পিউটার সংক্রান্ত কোন সমস্যায় পড়লেই তাকে ডাকতেন। মুর্শেদ তাদের সমস্যার সমাধান করে দিতো। সেই অফিসে তমা নামে একটি মেয়ে কাজ করত।
তমা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। পার্টটাইম জব করত সেই ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে। সে যে কম্পিউটারে কাজ করত সেই কম্পিউটারের একটি সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তার সাথে মুর্শেদের পরিচয়। তমাও কম্পিউটারে কোন সমস্যায় পড়লেই মুর্শেদকে ফোন দিত। মুর্শেদও যথাসাধ্য সমাধান করে দিতো।
একদিন তমা মুর্শেদকে ফোন করে বলল
-ভাইয়া, আমাকে আপনি একটা হেল্প করতে হবে। আপনি কি ফ্রি আছেন? আমি একটু আসব আপনার অফিসে।
-ঠিক আছে এসো।
কিছুক্ষন পরে তমা আসল মুর্শেদের অফিসে। সেদিন তমা মুর্শেদকে কম্পিউটারের কোন সমস্যার কথা বলল না। বলল সে একটি চাকুরীর ইন্টারভীউ দিতে ঢাকা যাবে। তমা আরও বলল এই চাকুরীর জন্য ভাল কম্পিউটার জানা দরকার। সে যেটুকু জানে তাতে হয়ত তার না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সে চাচ্ছে তাকে যেন মুর্শেদ কম্পিউটার, নেটওয়ারর্কিং এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে ভাল ধারনা দেয়। যাতে সে ইন্টারভিউ দিতে কোন অসুবিধা না হয়।
মুর্শেদ তাকে বলল। কোন অসুবিধা নাই। আমি শেখাব। তমাকে নেটওয়ার্কিং এর একটি বই কিনতে বলল। আর তাকে জিজ্ঞেস করল কখন কিভাবে সে শিখতে চায়। সে বলল তার অফিসের কেউ বিষয়টা যাতে না জানে। তমা ভার্সিটির হোস্টেলে থাকে। ৩টা পর্যন্ত সে অফিস করে হোস্টেলে চলে যায়। তমার ইচ্ছে মুর্শেদ তাকে ভার্সিটিতে গিয়ে শিখাবে। তাহলে কোন সমস্যা হবে না। মুর্শেদ রজি হল। মুর্শেদ সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অফিস করে ভার্সিটি চলে যেতো।
ভাসির্টি লাইব্রেরী বিল্ডিং এর সামনে সবুজ ঘাসের উপর বসে তাকে পড়াত। মুর্শেদ আরো দুটি বই তাকে দিয়েছিল। বই গুলো পড়ে তাকে বুঝিয়ে দিতো ইন্টারভিউতে কি জিজ্ঞেস করলে কি উত্তর তমা দিবে। যতটুকু গাইড লাইন দেওয়ার তার চেয়ে বেশি দেওয়ার চেষ্টা করবে। কারন মুর্শেদ সবসময় চেষ্টা করতো মানুষের উপকার করতে। তাই মুর্শেদের ইচ্ছে তমা যাতে চাকুরী পায়।
সন্ধার পরও লাইব্রেরী বিল্ডিং এর বারান্দায় চলত তাদের ক্লাস। কাস শেষে সাড়ে সাতটা আটটার দিকে চলে আসতো বাসায়। এভাবে কয়েকদিনে তমার সাথে মুর্শেদের অনেক ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তাদের গল্প হত, বাদাম চানাচুর খাওয়া হতো। মুর্শেদের কাছে এই ক্লাস করানো বেশ ভালই লাগত।
তমা খুব ভালো মেয়ে। খুব সহজেই মিশে যেতো সবার সাথে। এভাবে ৭/৮ দিনে তমাকে মোটামুটি প্রস্তুত করল ইন্টারভিউ এর জন্য। তমা মুর্শেদকে বলল তাকে এত কষ্ট করে সময় দিচ্ছে বলে তার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।
তমা মুর্শেদকে অনুরোধ করল যেদিন সে ঢাকা যাবে সেদিন যেনো মুর্শেদ অফিস থেকে ছুটি নেয়। আর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাকে পড়াতে বলে। দুপুরের ট্রেনে সে ঢাকা যাবে। মুর্শেদ তার কথায় রাজি হল। ঐদিন ছুটি নিয়ে এগারোটার দিকে ভার্সিটি গেলো মুর্শেদ। ক্যাম্পাসে একটি গাছের নিচে বসে তমাকে পড়ালো। এই কয়দিনের পড়া রিভিশন দিল তমা। দুপুর দুইটায় তমাকে ট্রেন ধরতে হবে। দুইটি টিকিট কেটেছে তমা।
তার বাড়ি জকিগঞ্জ। বাড়ি থেকে তমার বড় ভাই আসবে ট্রেন ষ্টেশনে। তারপর ভাই এর সাথে ঢাকা যাবে সে। তমা মুর্শেদকে বলল একসাথে দুপুরের লাঞ্চ করতে। লাঞ্চ করে মুর্শেদ যেনো স্টেশন পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসে। মুর্শেদকে ক্যাম্পাসে বসিয়ে রেখে সে হোষ্টেলে রেডী হতে গেল। বেগ গুছিয়ে রেডী হয়ে এলো। তারপর তারা দুজনে একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের লাঞ্চ করলো। লাঞ্চের পর তাকে পৌঁছে দিতে স্টেশন পর্যন্ত গেলো মুর্শেদ। স্টেশনে গিয়ে তমা ও মুর্শেদ অপো করছে তমার ভাইয়ের জন্য। ট্রেন ছাড়তে আর বেশি দেরী নেই। কিন্তু তার ভাই আসতে এত লেট করছে যে, ট্রেন মিস করার উপক্রম। তমা অনবরত তার ভাই এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করছে। তমার ভাই এখন ও রাস্তায়। কখন এসে পৌছবে তার কোন ঠিক নেই। কারন তমার ভাইয়ের গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে মাঝ পথে।
এখন কি উপায়। তমা পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে গেছে। কাল সকালে ইন্টারভিউ। খুব ভাল একটি চাকুরীর স্বপ্ন। তার উপর সে অনেক ভাল প্রিপারেশন নিয়েছে। তার ভাই কোন উপায় না দেখে ট্রেন মিস না করে তাকে একাই চলে যেতে বলছে। কিন্তু তমা একা একা ঢাকায় গিয়ে পরিক্ষা দেয়া অসম্ভব।
তাই মুর্শেদকে রিকোয়েস্ট করল
-প্লিজ ভাইয়া, আমার সাথে চলেন। নইলে আমি কিভাবে গুলশানে গিয়ে একা একা অফিস খুঁজে বের করব।
কিন্ত মুর্শেদ তো তখন একেবারেই অপ্রস্তুত।
মুর্শেদ বলল
- আমি কিভাবে যাব। আজ ছুটি কাটাচ্ছি। কাল তো অফিস করতে হবে।
ট্রেন ছেড়ে দিবে কয়েক মিনিট বাকি। তমার রিকোয়েস্ট রক্ষা করতে সম্পুর্ণ অপ্রস্তুত ভাবেই রওয়ানা হল ঢাকার পথে মুর্শেদ। ট্রেনে উঠে বগী খুজে সিট খুজে বের করল। সীটে বসার পর ট্রেন যখন চলতে শুরু করেছে তখন দেখলো এত কান্ত লাগছে নিজেকে। মুর্শেদ এখনো বাসায় কিছু বলেনি। অফিসে জানানো হয়নি। স্থীর হয়ে বাসায় ফোন দিয়ে বলল অফিসের জরুরী একটা কাজে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। কাল ফিরবে। আর অফিসে ফোন করে বলল বাসার একটা জরুরী কাজে ঢাকা যেতে হচ্ছে। কাল ফিরবে।
ট্রেন চলছে। তাদের এখন অনেক টেনশন ফ্রি লাগছে নিজেদেরকে।
তমাকে জিজ্ঞেস করলো মুর্শেদ
- একজন অচেনা মানুষের সাথে ঢাকায় যাচ্ছ। তোমার ভয় লাগছে না।
- ভয় লাগবে কেন ? আপনি আমার জন্য এত কষ্ট করছেন। এত ঝামেলা পোহাচ্ছেন। আমি তো আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। এখন আপনি আমার গারজিয়ান। আমার এই উপকারটুকু করুন প্লিজ।
মুর্শেদ তার কথায় মুগ্ধ হল।
তাদের যাত্রা গল্প করতে করতে আরো মজাদার হয়ে উঠল। মুর্শেদ ও তমা এই কয়দিনে একে অপরের ভাল বন্ধু হয়ে গেছে।
জীবনে কত বাস জার্নি করেছে। ট্রেন জার্নী করেছে। মাঝে মাঝে ট্রেনে উঠার আগে মনে হত। ইশ পাশের সিটে যদি একটা মেয়ে বসা থাকত। তাহলে সিনেমা নাটকের মত গল্প করতে করতে যাওয়া যেত। কিন্তু কখনই ট্রেনে বা বাসে উঠে পাশের সিটে কোন মেয়েকে পেতো না মুর্শেদ। পেতো কোন আংকেল বয়সী কিটকিটের মেজাজের লোক অথবা কোন গ্রামের বেশি বাচাল টাইপের লোক। আর তাকিয়ে দেখতো কয়েক সিট সামনে বা কয়েক সিট পিছনে একটি দুটি মেয়ে কোন যুবকের সাথে দিব্যি গল্প করে যাচ্ছে।
আজ তার পাশের সিটে একটি মেয়ে। তার সাথে গল্প করছে সে। কখনও ট্রেনের হকারদের কাছ থেকে চিপস বাদাম কিনে দুজনে খাচ্ছে। জীবনের অন্যরকম একটি জার্নি। স্বরনীয় একটি দিন।

শম্পা মুর্শেদের কাছে ঘটনা শুনছে। কোন কথা নাই। কোন প্রশ্ন নাই। শুধু তার শুনার আগ্রহ প্রকাশ করছে ”হু হু ” অথবা ”তারপর?” এই বলে। তাই মুর্শেদ ও অবলিলায় বলেই চলছে শম্পাকে তার মধুর স্মৃতি গাঁথা কথা।
মুর্শেদ ও তমা গল্প করতে করতে ঢাকা এসে পৌছে রাত সাড়ে দশটায়। ঢাকা পৌছার পর মাথায় চিন্তা এল এখন তারা থাকবে কোথায়। ঢাকা শহরে হুটকরে একটি অপরিচিত মেয়েকে নিয়ে চলে এল। তাকেও যথেষ্ট চিন্তিত মনে হচ্ছে। যাক ষ্টেশন থেকে বেরিয়ে একটি রিকশা করে চলে গেলো ফকিরাপুল। সেখানে অনেক সিলেটী হোটেল আছে। আর মুর্শেদ অনেক আগে থেকে ঢাকা শহরে যাওয়া আসা থাকায় তেমন ভয় লাগার কথা না। কিন্তু সেদিন নিজেকে একটু ভিতু মনে হচ্ছিল, সাথে একটি মেয়ে থাকার কারনে। কি করবে? কোন হোটেলে উঠবে, এসব নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে করতে একটি হোটেলে গিয়ে উঠল তারা। যাই হোক তেমন সমস্যা হলনা।
ভাই বোন পরিচয় দিয়ে একটি রুম নিল। তারাও তেমন সন্দেহ করল না। স্বাভাবিক ভাবেই নিল। কিন্তু সমস্যা হল তাদেরকে তারা সেপারেট বিছানা দিতে পারল না। সব রুম বোকড্ হয়ে গেছে। বড় বেডের একটি রুম দিল। রুমে এসে দেখলো রুমটাও অনেক বড়সড়, টিভি আছে। দু’জনেই তখন অনেক কান্ত আর ক্ষুধার্ত। বাথরুমে ফ্রেস হতে গেল তমা। আর মুর্শেদ খাবারের ওর্ডার দিলো। তমা ফ্রেস হওয়ার পর মুর্শেদও ফ্রেস হয়ে এল। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে মুর্শেদ টিভি দেখছে। আর তমা বিছানায় শুয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন এই এক বেডে কিভাবে একসাথে দুজন অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে ঘুমাবে এ নিয়ে মুর্শেদ চিন্তায় পড়ে গেছে। কিন্তু তমার মাঝে কোন চিন্তাই দেখছেনা। সে বিছানার একপাশে একটি বালিশে শুয়ে পড়েছে। মুর্শেদ তাকে জিজ্ঞেস করল।
- তুমি কি ঘুমিয়ে যাচ্ছ?।
- হ্যা। কাল সকালে পরীক্ষা। সকাল সকাল উঠতে হবে তো।
- আমাকে যে হুট করে তোমার সাথে নিয়ে এসেছো। আমি তো সাথে কোন কাপড় আনিনি। আমি ঘুমাবো কিভাবে ?
- আপনার আবার কাপড় চেঞ্জ করতে হবে নাকি। এভাবেই ঘুমিয়ে পড়েন।
- জিন্সের পেন্ট পরে কোন ভাবেই আমার ঘুম আসবেনা। কি করি।
- আমি আপনাকে হটাৎ নিয়ে এসে বিপদে ফেলেছি। এক কাজ করেন আমি তো আপনাকে লুঙ্গি মেনেজ করে দিতে পারবনা। আমার একটা পাজামা দিই। পরে শুয়ে পড়ু–ন। ভাল ঘুম হবে।
তমার কথা রসিকতার হলেও মুর্শেদ জিন্স পরে ঘুমাতে পারবে না নিশ্চিত। তাই কোন উপায় না দেখে তমাকে পায়জামা দিতে বলল। তমা ব্যাগ থেকে তার একটা সুতি পাজামা বের করে দিল মুর্শেদকে।
- এটা আরাম হবে, পরে ফেলুন।

মুর্শেদ বাতি নিভিয়ে এবং টিভি বন্ধ করে দিয়ে পাজামা পরে এসে ঘুমাতে এলো। মেয়েদের পাজামা পরে ঘুমাতে আসা জীবনে এই প্রথম। সবকিছুই কেমন এডভেঞ্চারস লাগছে। মনে মনে হাসছে মুর্শেদ। মুর্শেদ বিছানায় আসতে আসতে তমা গভীর ঘুমে। সারাদিনের জার্নিতে তমা ক্লান্ত হয়ে কখন ঘুমিয়ে গেছে। টের ই পায়নি।
একটি অবিবাহিত মেয়ে মুর্শেদের পাশে ঘুমাচ্ছে। এরকম একটি সিচুয়েশন জীবনে আসবে চিন্তা তো দূরের কথা কল্পনাই করিনি। মুর্শেদ মনে মনে বলছে জীবনে কত মেয়েকে নিয়ে কত কিছু ভাবতো। আজ একটি যুবতী মেয়ে তার পাশে একই রুমে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছে।
কি অদ্ভুত ব্যাপার। মুর্শেদ কিছুতেই কোন হিসাব মিলাতে পারছে না। তমার মত মুর্শেদ অনেক ক্লান্ত হওয়া সত্বেও তখনও তেমন ঘুম পাচ্ছে না। মুর্শেদ জেগে আছে তার পাশের বালিশে মাথা রেখে। তমাকে দেখছে অবাক দৃষ্টিতে।
একটি যুবতি মেয়েকে কাছে পেয়ে হিংস্র পুরুষের মত তার উপর ঝাপিয়ে পড়ছে না। তমার শ্লিলতাহানী করছে না। নিজেকে খুব কষ্টে সংযত রাখার চেষ্টা করছে এবং শেষ পর্যন্ত সংযত রাখতে পেরেছিল এটাই আসল কথা। সেক্স জাগ্রত হলে হয়ত সেদিন নিজেকে শত চেষ্টা করেও সামলে রাখতে পারত না। হয়তবা পশু হয়ে যেতো মুর্শেদ।
যাই হোক সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তমার কোন ক্ষতি হল না। শুধু আলতো করে তমার তুলতুলে গালে স্পর্শ করলো মুর্শেদ। তমার পরিশ্রান্ত শরীর টের ও পাচ্ছেনা। বাতি নিভানো হলেও ডিম লাইট জ্বালানো। ডিম লাইটের নীলাভ আলোতে তমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। মুর্শেদের ইচ্ছে করছে সারা রাত তমার পাশে বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে। তমার নরম গাল থেকে হাত সরাতে ইচ্ছেই করছে না। কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের নরম গালে এটাই মুর্শেদের প্রথম স্পর্ষ। মেয়েদের গালে এভাবে স্পর্ষ করার প্রতি মুর্শেদের অনেক কৌতুহল ছিল। আরো আট দশটি ছেলের মত তারও দেখতে ভাল লাগত। স্পর্শ করতে কেমন লাগে খুব আন্দোলিত করত তাকে।
আজ একটি যুবতি মেয়ে তার পাশে। মুর্শেদের ছুঁয়ে দেখতে প্রবল ইচ্ছে হল বলে স্পর্শ করে ফেলল। মেয়েদের গালে স্পর্শ করার অনুভুতিটুকু এই প্রথম বুঝতে পারলো। কোন মেয়ের গালে এটাই প্রথম স্পর্শ। যাই হোক এর চেয়ে বড় অন্যায় সে ঐ রাতে করেনি। আরো বড় অন্যায় হয়তো করতে পারতো। কিন্তু এটুকুর জন্যও নিজেকে অপরাধী ভেবে শুয়ে পড়ে। তমার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে টের ও পায়নি।
সকালে তমা ঘুম থেকে উঠে মুর্শেদকে জাগিয়ে তোলে। মুর্শেদও তাড়াহুড়া করে জেগে উঠে তৈরি হয়। তমাও ইতিমধ্যে রেডি হয়ে গেছে। তমাকে আজ খুব সুন্দর আর সতেজ লাগছে।
হটাৎ করে তমা মুর্শেদের পা ছুয়ে সালাম করল। মুর্শেদ তো অবাক।
তমাকে জিজ্ঞেস করল।
- তুমি আমাকে সালাম করছ কেন?
তমা জবাব দিল - এর দুটো কারন। একটি আজ সে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। বড়ভাই তথা গুরুকে সালাম করে যাওয়াই উচিত। আর দ্বিতীয়ত তমা মুর্শেদের কাছে এতই কৃতজ্ঞ যে, বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছে।

- আমি কাল এত কান্ত ছিলাম যে, রাতে কিভাবে ঘুমিয়ে পড়েছি, টের ই পাই নি। আমার মত এই বয়েসি একটি মেয়েকে একই রুমে একই বিছানায় পেয়েও আপনি যে আমার কোন ক্ষতি করেননি, আপনাকে আমার শ্রদ্ধা জানাবার কোন ভাষা নেই।
ওর কান্না দেখে মুর্শেদ নিজেকে অনেক মহান মানুষ মনে করল। মুর্শেদ ও তমা একটি টেক্সি ক্যাবে করে চলে গেলো ইন্টারভিউ দিতে। মুর্শেদ তমাকে তার অফিসে ঢুকিয়ে দিয়ে সারাদিনই গুলশান এলাকায় ঘুরে ঘুরে সময় কাটালো। আর মাঝে মধ্যে তার সাথে যোগাযোগ হচ্ছিল মোবাইলে। তমা পুরো দিনই কাটালো পরিক্ষা দিয়ে। প্রথমে তাকে বসিয়ে রাখল অনেক্ষণ, তারপর বাছাই হল। লিখিত পরীক্ষা তারপর ভাইবা। সবশেষ হতে হতে বিকেল চারটা। চারটার সময় তমা মুর্শেদকে ফোন দিয়ে জানালো
- আমি, ইন্টারভিউতে টিকে গেছি।
মহা আনন্দিত সে।
আজ ও তাদের থাকতে হবে ঢাকা শহরে। কাল সকালে এসে এপোয়েন্টমেন্ট লেটার নিতে হবে। তমা আর মুর্শেদ বেরিয়ে শপিং করল, ঘুরাঘুরি করে রাতে বাইরে খেয়ে রাত দশটার দিকে তারা আবার রুমে ফিরল । মুর্শেদ বিছানায় বসে টিভি ছেড়ে দিলো। আর তমা সারাদিনের কান্তি শেষে গোসল করতে বাথরুমে ঢুকল। গোসল সেরে বেরিয়ে এসে মুর্শেদকে যথারীতি পাজামা বের করে দিল পরার জন্য। মুর্শেদ বাথরুমে ঢুকে গোসল সেরে তমার পাজামা পরে বেরিয়ে এলো। গতকালও তমা মুর্শেদকে পাজামা পরা অবস্থায় দেখেছে। মোটেও হাসাহাসি করেনি। কিন্তু আজ হাসছে। আজ হাসার কারনটা হয়তবা চাকুরী পেয়ে সে অনেক খুশিতে আছে এবং গতকালের মত আজ তার এত ক্লান্তি নেই।
যাই হোক মুর্শেদ তমাকে জিজ্ঞেস করল।
-তুমি আমাকে দেখে এভাবে হাসছ কেন?
-তমা বলল তেমন কোন কারন নাই। এমনি হাসি পাচ্ছে। আপনাকে দেখে মজা পাচ্ছি। শুধু সেলোওয়ার পরেছেন, জামা দেই। জামাও পরে ফেলেন। তমার ঠাট্টা মুর্শেদের সহ্য হচ্ছে না। তাই একটু রাগী রাগী ভাব নিয়ে বসে টিভি দেখতে লাগল। তমা মুর্শেদকে বলল
‘সরি’। আমি জাস্ট ফান করছিলাম। আপনি মাইন্ড করবেন না, প্লিজ।
তখন মুর্শেদের আর মন খারাপ থাকল না। তমাকে অনুরোধ করল তার জামাটাও দেওয়ার জন্য। জীবনে কখন মেয়েদের জামা পরেনি। আজ পরে দেখবে কেমন লাগে। সে তার জামাটা বের করে দিল না। বলল,
- সেলওয়ার হয়ে গেছে বলে জামাও কি হবে নাকি। আপনার মাথা দিয়েই ঢুকবে না।
- আচ্ছা দাও ই না। চেষ্টা করে দেখি। না হলে তো নাই।

মুর্শেদের অনুরোধে সে বের করে দিল। মুর্শেদ পরতে গিয়ে দেখল সত্যিই পরার চেষ্টা করলে জামা ছিড়ে যাবে। তাই আর জামা পরে নিজেকে কেমন লাগে দেখা হল না। সেদিন তমার চোখে ঘুম নেই বলে মুর্শেদকে ঘুমাতে দিচ্ছেনা। বাতি নিভাচ্ছেনা। টিভি ও বন্ধ করতে দিচ্ছেনা।
- আমরা আজ সারা রাত গল্প করে কাটাবো। ঘুমাবো না।
- কেন? ঘুম আসছেনা তোমার?
- তা না। কিন্তু আমি চাচ্ছি সজাগ থাকার চেষ্টা করতে। আজ আপনি আমাকে কোন সুযোগে প্রেগনেন্ট করে ফেলবেন।
- আমার প্রতি এখনও বিশ্বাস নেই তোমার?
- আছে, অবশ্যই আছে। আমি আমার জীবনে এত নি:সর্ত উপকারী মানুষ খুবই কম দেখেছি। এত্তক্ষন মজা করলাম আপনার সাথে।
মুর্শেদ নিজেকে এতই মহান মানুষ হিসাবে মনে করল যে, যদি তমার সাথে সারা জীবন প্রতিদিন রাত কাটায়, তবু তার কোন ক্ষতি করবে না। সেই রাতে প্রায় তিনটা পর্যন্ত গল্প করে মুর্শেদ ও তমা ঘুমিয়ে গেল। পরদিন তমাকে নিয়ে আবার তার অফিসে গেলো। সে এপয়েন্টমেন্ট লেটার হাতে নিয়ে বেরিয়ে এল। তারপর তারা দুজনেই বাসটেন্ডে এসে বাসের টিকিট কেটে সিলেটের দিকে রওয়ানা হল।
আরেকটি যাত্রা শুরু হল। যেখানে মুর্শেদের পাশের সিটে একটি মেয়ে।
মুর্শেদ শম্পাকে বলল। আমার এই ভ্রমন গুলোর স্মৃতি মনে হলে আমার হৃদয়ে যে দোলা দেয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। আমি এই সুন্দর স্মৃতি গুলোকে আগলে ধরে রাখি।
শম্পা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিল মুর্শেদের স্মৃতি কথাগুলো। এত সুন্দর ভাবে মুর্শেদ বলছিল যে, শম্পা যেন পুরো ঘটনা স্পষ্ট তার চোখের সামনে দেখছিল। সে এতই মুগ্ধ হয়েছে এমন একটি কাহিনি শুনে তা কোন ভাবেই মুর্শেদকে বুঝাতে পারছেনা। শুধু তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করল এই বলে।
- স্ল্যাউট জানাই আপনাকে, আপনি যে হিংস্র আচরন করেননি, অনৈতিক কাজ না করে নিজেকে সংযত রাখতে পেরেছিলেন।
শম্পা আর মুর্শেদের সেদিনের ট্রেন ভ্রমন চা. চিপস. বিস্কিট, বাদাম খেতে খেতে আর স্মৃতির পাতা উল্টাতে উল্টাতে অনেক আনন্দময় হয়ে গিয়েছিল। এত পথ, আর এত সময় কোনদিকে পার হয়ে গেছে তারা টেরই পায়নি। ঢাকা বিমানবন্দর ষ্টেশনে এসে ট্রেন থামার পর মুর্শেদ শম্পার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে গেল। শম্পা কমলাপুর ষ্টেশনে নামবে বলে ট্রেনে বসে রইল।
কাউকে ভুলে যাওয়া কোন কঠিন বিষয় নয়। কঠিন হচ্ছে তাদের সাথে কাটানো সময় অনুভূতিগুলোকে ভুলে যাওয়া।মুর্শেদ ষ্টেশনে ঢুকতে ঢুকতে পিছন ফিরে শম্পাকে হাত নেড়ে বাই দিতে দিতে একসময় শত মানুষের ভীড়ে হারিয়ে গেল। মুর্শেদের স্মৃতিচারন স্থান নিল শম্পার স্মৃতির পাতায়।

|

   অন্য পত্রিকার সংবাদ  অভিজ্ঞতা  আইন-অপরাধ  আত্মজীবনি  আলোকিত মুখ  ইসলাম ও জীবন  ঈদ কেনাকাটা  উপন্যাস  এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল  কবিতা  খেলাধুলা  গল্প  ছড়া  দিবস  দূর্ঘটনা  নির্বাচন  প্রকৃতি পরিবেশ  প্রবাস  প্রশাসন  বিবিধ  বিশ্ববিদ্যালয়  ব্যক্তিত্ব  ব্যবসা-বাণিজ্য  মনের জানালা  মিডিয়া ওয়াচ  মুক্তিযুদ্ধ  যে কথা হয়নি বলা  রাজনীতি  শিক্ষা  সমসাময়ীক বিষয়  সমসাময়ীক লেখা  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ  সাইক্লিং  সাক্ষাৎকার  সাফল্য  সার্ভিস ক্লাব  সাহিত্য-সংস্কৃতি  সিটি কর্পোরেশন  স্বাস্থ্য  স্মৃতি  হ য ব র ল  হরতাল-অবরোধ