User Login | | নীতিমালা | 26 Sep 2017 : Sylhet, Bangladesh :
    সংবাদ : মুক্তিযোদ্ধার শয্যাপাশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান 
কমান্ড সিলেট মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ  সংবাদ :  মহিউদ্দিন শিরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  সংবাদ : সিলেট মহানগর বিএনপি ১৯নম্বর ওয়ার্ডে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন
  সংবাদ : রাজারগাঁও মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস
মাওলানা তবারক আলী আর নেই  সংবাদ : অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দূর্গাপূজা উপলক্ষে 
সদর উপজেলায় বস্ত্র ও অর্থ বিতরণ  সংবাদ : আখালিয়াতে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক রেজাসহ ৪জন আহত   সংবাদ : মানুষরূপী রাক্ষসী সুচি মানবতার কলংক
রোহিঙ্গাদের সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নিতে হবে
  সংবাদ : শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল  সংবাদ : অরুণ আলোর অঞ্জলি’র প্রকাশনা সম্পন্ন
  সংবাদ : অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক এর উদ্যোগে শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

  সংবাদ : বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর
৯৯তম জন্মবাষির্কী পালন
  সংবাদ : অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শারদীয় দূর্গাপূজায়
নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ  সংবাদ : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই
  সংবাদ : সরকার হতদরিদ্র মানুষদের সাবলম্বী করে 
তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে
  সংবাদ : দুগাপূজা উপলক্ষে মেয়র আরিফ এর শুভেচ্ছা  সংবাদ : জার্সি উম্মোচনের  মধ্য দিয়ে ‘টিম শুভ প্রতিদিন’র যাত্রা
sylhetexpress.com এর picture scroll bar এর code. এই কোড যেকোন website এ use করা যাবে।
| সিলেট | মৌলভীবাজার | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | বিশ্ব | লেখালেখি | নারী অঙ্গন | ছবি গ্যালারী | রঙের বাড়ই ব্লগ |

রিমা বেগম পপি
রিমা বেগম পপি সিলেট লেখিকা সংঘের সদস্য, নন্দনি সাহিত্য ও পাঠচক্রের সদস্য সিলেট ছাত্র ও যুব ফেডারেশনের সাহিত্য সম্পাদিকা। এবং সিলেটের ডাক পত্রিকার নিয়মিত লিখেন।

Web Address : http://www.remabegumpopy.com
রিমা বেগম পপি এর লিখা
.: 17 September 2014 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :.

আধুনিক মন, অতঃপর... -রিমা বেগম পপি


SylhetExpress.com

ছোটবেলা থেকেই শোনে আসছি, ‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে’ একথাটি ধ্রুব সত্য। আবার সংসার দুঃখের হয় রমণীর গুণে- এই কথাটিও মাঝে মধ্যে সত্য হয়। একজন সজলের মাধ্যমের সেটাই দেখা যায়। সজল মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মধ্যবিত্ত হলেও সজলের চাহিদার কোনো কমতি রাখেননি মা-বাবা। বাবা একটা বেসরকারী অফিসে চাকুরি করতেন। মা লেখাপড়া জানতেন। তাই বাসায় টিউশনি করাতেন। মোটামুটি সজলকে ভালোভাবেই মানুষ করেছেন। অনার্স পরীক্ষা শেষ। সজলও বাবার মতো একটা বেসরকারি অফিসে চাকুরি নিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি চাকুরির সন্ধানও করছে। হঠাৎ করেই সজলের বাবার শরীরটা খারাপ হয়ে যায়। সজলের বাবার খুব ইচ্ছে একমাত্র ছেলের বিয়ে দেখে মরতে। তাই সজলকে বিয়ে দেবার চিন্তা করলেন।তাছাড়া সজলের মায়েরও বয়স হয়েছে। সংসারের সব কাজ একা সামলাতে কষ্ট হয় তাই তিনি সজলকে বললেন- সজল; আমি তোমাকে বিয়ে দিতে চাই। তোমার বাবারও তাই ইচ্ছে। আজকালকার যুগ, যদি তোমার কোনো পছন্দ থাকে তাহলে আমাদের বলতে পারো, আমরা ভেবে দেখব। সজল মায়ের কাছ থেকে এরকম কথা শোনে লজ্জা পায়। মাকে বলল, মা এতো তাড়াতাড়ি বিয়ের কি দরকার, আরো কয়েকটা বছর যাক না। সজলের মা বললেন, দেখ বাবা সজল, আমার বয়স হয়েছে, তোমার বাবাও অসুস্থ। কখন যে আমাদের ওপারে যাবার ডাক চলে আসে বলাতো যায় না। তাই তোমাকে সংসারী দেখে মরতে চাই। সজল মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, মা গো এরকম কথা আর মুখেও আনবে না। আমাকে একা রেখে কোথাও যেতে পারবে না তোমরা। তাছাড়া আমি যেতে দিলেতো যাবে। সজলের মা, সজলকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বললেন, পাগল ছেলে আমার। বাবা-মা কি কারো চিরদিন বেঁচে থাকে। তারপর সজলের পছন্দের কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে সজল মাকে বলে, না-মা, তোমাদের খুশিই আমার খুশি। তোমাদের পছন্দই আমার পছন্দ। তোমরাই সব ঠিক করো। সজলের মুখ থেকে এরকম উত্তর শোনে মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। আর মনে মনে ভাবলেন ছেলেকে সত্যিই মানুষ করতে পেরেছি। এ যুগের সন্তান হয়েও মা-বাবার পছন্দে বিয়ে করবে বলায় সজলের মা-বাবা বসে ঠিক করলেন-সজলের মামাতো বোনের সাথে সজলের বিয়ে দেবেন। সজলের মামাতো বোনের নাম রুবি। গ্রামের খুব সাধারণ মেয়ে সে। লেখাপড়া করেছে এইচএসসি পর্যন্ত। গায়ের রং ফর্সা। খুব লম্বা মাথার চুলগুলো। যেন বাতাসের সাথে দোলে তার মেঘ বরণ কেশ। সংসারের সব কাজই করতে পারে। সজলের সাথে রুবির বিয়ে ঠিক হলো। বিয়ের সব আয়োজন শুরু হয়ে যায়। মোটামুটি ধুম ধাম করেই বিয়ে হলো সজলের। রুবির সাথে খুব ভালোই কাটছিল তাদের সুখের সংসার। রুবি স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে সুখের দিন যাপন করছে। জীবনে যা পেয়েছে তা নিয়েই সুখী থাকতে চায় তারা। দেখতে দেখতে দুই বছর কেটে যায়। এর মধ্যে সজলের বাবাও মারা যান। পরিবারের প্রধান কর্তার মৃত্যুতে সবাই একটু ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে সজলও একটা সরকারি চাকুরি পেল। সজল প্রতিদিন রিকশায় করে অফিসে আসে। আর যাবার বেলা অনেকটা পথ হেঁটে যায়। কারণ তাদের অফিসটা অনেক ভেতরে। রিকশা পাওয়া বড় কষ্টের। সজল অফিসে খুবই পরিপাটি হয়ে আসে। প্রতিদিন অফিস থেকে যাবার সময় একটা মেয়েকে দেখতে পায় সজল। মেয়েটি একই সময় প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে। দেখতে খুবই সুন্দর। মাথার চুলগুলো ব্রাউন। পরনে চুড়িদার সেলোয়ার কামিজ, কখনও বা জিন্স, টপস, মোট কথায় আধুনিক মেয়েরা এখন যেমন থাকে। সব গুণই তার মাঝে আছে। আর ওড়নাটা কাঁধের একপাশে ফেলে দেওয়া। সজলের সাথে প্রতিদিনই দেখা হয় মেয়েটার। মেয়েটি সজলকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। সজল প্রথমে বিষয়টি তেমন খেয়াল করেনি। একদিন হঠাৎ মেয়েটি সজলকে ইচ্ছে করেই একটু ধাক্কা দেয়। সজল চমকে ওঠে। মেয়েটি তখন একটি হাত সজলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে- স্যরি, আমি খেয়াল করতে পারিনি। সজল মেয়েটার হাত সরিয়ে নিজে নিজেই ওঠে দাঁড়ায়। তারপর মেয়েটি নানা ভঙ্গিমায় সজলের সাথে কথা বলতে থাকে। প্রথমে সজলের নাম জানতে চায় মেয়েটি। সজল বলে- আমার নাম সজল আহমদ। আমি এখানে একটা সরকারি চাকুরি করছি। আর আপনার নাম? মেয়েটি মৃদু হেসে জবাব দেয়- আমার নাম হাসি। সজল বলে- খুব সুন্দর নাম। আপনাকে প্রায়ই দেখি এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন? বাসা কি এখানে? হাসি বলল- হ্যাঁ, বাসা এখানে। আর যদি সত্য কথা বলি তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ হচ্ছেন আপনি। আমি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই। যদি আপনি কিছু মনে না করেন। সজল হেসে বলে- আমাদের কি আর সেই বয়স আছে বন্ধুত্ব করার। বিয়ে শাদী করে সংসারী হয়ে গেছি। চাকুরি করছি। এখন আর সময় কই বলেন? হাসি বলে- আপনি বিবাহিত? সজল বলে- হ্যাঁ। হাসি বলে- ঠিক আছে সমস্যা কি। অফিস থেকে যাবার বেলা আমাদের কথা হবে প্রতিদিন। মাঝে মধ্যে ফোনে আলাপ করবো। আপনার যদি কখনও ফোনে কথা বলতে সমস্যা হয় তাহলে ফোন কেটে দেবেন। তারপর কিছু কথাবার্তা বলে ওরা চলে যায় দুজন দুজনের ফোন নাম্বার নিয়ে। এভাবে প্রায়ই অফিস শেষে দেখা করে দুজন। সজলের স্ত্রী রুবি বিষয়টি লক্ষ্য করে। ইদানিং সজল খুবই দেরি করে বাসায় আসে। রুবির সাথে আগের মত কথা বলে না। ঘরে এসেই কম্পিউটার অথবা মোবাইল নিয়ে বসে থাকে। হয়তোবা ফেইসবুকে, আবার কখনওবা কথা বলে ফোনে। বেশ কিছুদিন এভাবে কেটে যাবার পর রুবি সজলের কাছে জানতে চাইলো কেন এমন করছে সজল। ঘরের প্রতি ওর কোনো খেয়াল নেই। ঠিকমত কথাবার্তাও হয় না। প্রায়ই ঝগড়া হয় তাদের মাঝে। সজল রুবির কথায় প্রথমে কোনো উত্তর দেয়নি। পরে যখন বার বার সজলের কাছে রুবি জানতে চাইলো তার পরিবর্তন এর কথা তখন সজল ধমকের স্বরে রুবিকে বলে, ওহ....হ...হ রুবি। এতো প্রশ্ন করছো কেন? তোমার তো সব কিছু ঠিকই চলছে। তুমি তোমার মত থাকো না। আমাকে আমার মত থাকতে দাও। রুবি কাছে আসে সজলের; বলে সজল কি হয়েছে? অফিসে কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি? আমার সাথে যদি তুমি তোমার কষ্টের কথা শেয়ার না করো তাহলে কাকে বলবে? সজল রুবিকে বলে, তুমি তোমার কাজ করে যাও। রুবি আর কোনো কথা বলল না। মনে মনে আল্লাহকে বলল, হে আল্লাহ, জানি না আমার স্বামীর কি হয়েছে। ওর যদি কোনো রকম বিপদ হয়ে থাকে তাহলে আমার স্বামীকে দয়া কর আল্লাহ। ওর সব বিপদ তুমি আমাকে দিয়ে দাও। তবুও আমার স্বামীকে আগের মত আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। সজল বিবাহিত জেনেও হাসি সজলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। সজলও যেন হাসির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন একবার করে দেখা না করলে তাদের দুজনের যেন সুখই হতো না। একদিন সজল বাথরুমে গেলে তার মোবাইলে ফোন আসে। রুবি ফোনটি রিসিভ করে। রুবি হ্যালো বলার আগেই হাসি বলে, কি গো সজল আজ একবারও ফোন দিলে না, ম্যাসেজ দিলে না। আজ আসছো দেখা করতে, আজ না আমাদের বিয়ের বিষয়ে আলাপ করবে তুমি। কি হলো কথা বলো না কেন? রুবির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। রুবি ফোনটা কেটে দেয়। ফোনের কথাটা সজলকে বলল না। রুবি ফোনে যা শুনেছে তা সত্য কিনা যাচাই করার জন্য মনে মনে ভাবে আজ সজলের পেছন পেছন সেও যাবে। সজল কোথায় যায় সে দেখবে। সজল নাস্তা খেয়ে চলে যায়। রুবিও পেছন পেছন যায়। আজ শুক্রবার। সজলের অফিস বন্ধ। আগে শুক্রবার এলেই সজল রুবির সাথে ঘুরে বেড়িয়েছে। আর এখন সজলের পিছু পিছু গিয়ে রুবি দেখে একটি মেয়ের সাথে সজল বসে আছে খুবই আন্তরিকভাবে। সজলকে এভাবে একটি মেয়ের সাথে দেখে রুবির আর বুঝতে বাকি রইল না যে সজল পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়েছে। রুবির মনে প্রশ্ন জাগে সজল কি ওই মেয়েটির কাছে বিয়ের কথাটা গোপন রেখেছে নাকি? হয়তো বিয়ে করেছে সে কথা বলেনি মেয়েটিকে। রুবির বিশ্বাস ছিল যে, একটা মেয়ে হয়ে কি অন্য কোনো মেয়ের সংসার ভাঙবে কেউ জেনে শোনে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাসায় ফিরে এলো। সজল বিকেলে বাসায় আসল। খুবই ক্লান্ত লাগল সজলকে। রুবি সজলের সামনে ১ গ্লাস পানি নিয়ে আসে। সজল পানি খাবার পর রুবি জিজ্ঞেস করে, সজল- মেয়েটি কে, যার জন্য তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ। আমার মাঝে কিসের অভাববোধ করলে তুমি। যার জন্য আমাকে ছেড়ে তোমার অন্য নারীর প্রতি লোভ জাগল। সজল কোনো কথা বলল না। অনেকবার বলার পর সজল চিৎকার করে উঠল। বলল, এখন আধুনিক যুগ। এ যুগে এসেও তুমি আগের যুগের বউদের মত আমার কাছে কৈফিয়ত চাইছো? তুমি কি ভেবেছ, বারো হাত শাড়ি পরে ঘরে বসে থাকবে আর দুবেলা খাবার বেড়ে দিলেই বউয়ের কাজ শেষ। তুমি হাসিকে দেখ। কত মডার্ণ মেয়ে। তুমি ওর মত হতে পারো না। কত সুন্দর ওর ফিগার। কত সুন্দর ওর কথা বলার ভঙ্গি। যখন সে চুড়িদার পায়জামা পড়ে আমার সামনে হাঁটে মনে হয় যেন আমার স্বপ্নের রাজকন্যা আমার সামনে আসছে। ওর ইউকাট করা ব্রাউন চুলগুলো যখন বাতাসে দোলে মন ছুঁয়ে যায় আমার। ওকে সঙ্গে নিয়ে যখন আমি হাঁটি, তখন কত ছেলে অবাক হয়ে হাসির দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমিতো ওর সাথে কখনই পাল্লা দিতে পারবে না। যত সব পুরনো আমলে বসে আছো। সময় বদলে গেছে। অথচ তুমি বদলাওনি। সজলের মুখে এসব কথা শোনে রুবির দুচোখ জলে ভরে গেল। মনে হচ্ছে রুবির পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। যার সাথে দুই বছর সংসার করল আজ সে কি বলে? রুবি কান্না জড়িত কন্ঠে বলল, আমি যখন তোমাদের এ যুগের মডার্ণ মেয়ে হতে পারবো না, তাহলে কেন বিয়ে করলে। কেন আমার সাথে এখন এমন আচরণ করছ। তুমি তো আগে এমন ছিলে না। আমি গ্রামের সাধারণ মেয়ে। ছোট বেলা থেকেই মা-বাবা আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাই আমি পালন করছি। হ্যাঁ তোমার কথা ঠিক, আমি বারো হাত শাড়ি পরে ঘরের কোনো পড়ে থাকতে পারবো। কিন্তু আধুনিকা মেয়েদের মত জিন্স আর ফতুয়া পরে সবার সামনে বের হতে পারবো না। আমাকে সঙ্গে নিলে তোমার দিকে হয়তো কেউ ফিরেও তাকাবে না। কিন্তু এতে করে কি তোমার কোনো ক্ষতি হবে। বরং আল্লাহর কাছে তোমার গুনাহ কম হবে। আর তুমি ঐ মেয়েটার সাথে বের হলে তোমারই গুনাহ হবে। ঘরে স্ত্রী রেখে অন্য মেয়েদের প্রতি নজর দেওয়া যে কত গুনাহ তুমি জান না? সজল চিৎকার করে বলে উহ: চুপ করো। তোমার হাদিস শুনতে আমি চাই না। যা তুমি হতে পারবে না পরিষ্কার করে বলে ফেললেই তো হয়। এতো বনিতা করার কি দরকার। তুমি মানো আর নাই মানো আমি কখনই হাসিকে ছাড়া থাকতে পারবো না। রুবি বুঝতে পারলো যে, হাসির প্রতি সজল একদম আসক্ত হয়ে গেছে। রুবি কেঁদে কেঁদে সজলের মায়ের কাছে যায়। অসুস্থ মা, কি করবেন। ছেলে যে ওনার কথা শোনবে না তা তিনি ভালো করেই জানেন। তবুও তিনি ছেলের সাথে কথা বললেন। ছেলে এখন মায়ের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। বুঝতে শিখেছে। বৃদ্ধ মা এখন পরিবারের আবর্জনার মত কোণায় পড়ে আছেন। নির্বাক চোখে যেন সব শুধু দেখেই যাচ্ছেন। এদিকে রুবিও সজলকে রেখে ওর বাবার বাড়িতে চলে যায়। একটা সুখের সংসারের ভাঙন শুরু হলো। হাসিকে বিয়ে করল সজল। রুবি পারতো আইনের আশ্রয় নিতে। কিন্তু কি লাভ হবে তাতে। তাছাড়া লোক জানাজানি করলে কিইবা হবে। সজলের মন থেকেই সে উঠে গেছে। ভাঙ্গা মন কি নতুন করে জোড়া লাগবে। রুবি অনেকবার চেয়েছে লোক লজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করতে। গ্রামের মানুষেরা রুবিকে নিয়ে নানা কথা বলে। সবার মুখতো বন্ধ রাখা যায় না। তারপরেও সব কিছু সহ্য করলো। কারণ গ্রামের মেয়ে হলেও রুবি আল্লাহকে ভয় পায়। আত্মহত্যা যে মহাপাপ। সেই পাপের বুঝা সে নিতে পারবে না। নিরবে সবার গুঞ্জনা শোনে গেল। আর মনে মনে ভাবতে লাগলো, এক নারী হয়ে অন্য নারীর সংসার হাসি কিভাবে ধ্বংস করল। ভালোইতো ছিল সজল আর রুবির সংসার। মধ্যখানে হাসির নতুনত্ব ভেঙ্গে গেল একটি সুখের সংসার। রুবির দুঃখ আর হাসির আনন্দ এখন বিপরীত মেরু হয়ে.....।


.: 25 November 2014 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (5034 বার পঠিত)
মাগো আমি চোর নই - রিমা বেগম পপি


SylhetExpress.com

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন ঘটে। আবার কিছু মানুষ এখনো আগের যুগের মনোভাব নিয়ে বেঁচে থাকেন। আধুনিকতার যুগে এরকম মনোভাব আসলেই ভাবিয়ে তুলে কিছু কিছু মানুষকে। এরকমই এক বিষয় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল নিশিতাকে। নিশিতা গ্রামের খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিল। আর এটাই তা ...Details...




রিমা বেগম পপি এর সর্বাধিক পঠিত লিখা

.: : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (8023 বার পঠিত)
আধুনিক মন, অতঃপর... -রিমা বেগম পপি


SylhetExpress.com

ছোটবেলা থেকেই শোনে আসছি, ‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে’ একথাটি ধ্রুব সত্য। আবার সংসার দুঃখের হয় রমণীর গুণে- এই কথাটিও মাঝে মধ্যে সত্য হয়। একজন সজলের মাধ্যমের সেটাই দেখা যায়। সজল মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মধ্যবিত্ত হলেও সজলের চাহিদার কোনো কমতি রাখেননি মা-বাবা। ব ...Details...


.: 17 September 2014 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (5034 বার পঠিত)
মাগো আমি চোর নই - রিমা বেগম পপি


SylhetExpress.com

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন ঘটে। আবার কিছু মানুষ এখনো আগের যুগের মনোভাব নিয়ে বেঁচে থাকেন। আধুনিকতার যুগে এরকম মনোভাব আসলেই ভাবিয়ে তুলে কিছু কিছু মানুষকে। এরকমই এক বিষয় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল নিশিতাকে। নিশিতা গ্রামের খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিল। আর এটাই তা ...Details...


পাঠকের মতামত

Other Pages :

 
 অন্য পত্রিকার সংবাদ
 অভিজ্ঞতা
 আইন-অপরাধ
 আত্মজীবনি
 আলোকিত মুখ
 ইসলাম ও জীবন
 ঈদ কেনাকাটা
 উপন্যাস
 এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল
 কবিতা
 খেলাধুলা
 গল্প
 ছড়া
 দিবস
 দূর্ঘটনা
 নির্বাচন
 প্রকৃতি পরিবেশ
 প্রবাস
 প্রশাসন
 বিবিধ
 বিশ্ববিদ্যালয়
 ব্যক্তিত্ব
 ব্যবসা-বাণিজ্য
 মনের জানালা
 মিডিয়া ওয়াচ
 মুক্তিযুদ্ধ
 যে কথা হয়নি বলা
 রাজনীতি
 শিক্ষা
 সমসাময়ীক বিষয়
 সমসাময়ীক লেখা
 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
 সাইক্লিং
 সাক্ষাৎকার
 সাফল্য
 সার্ভিস ক্লাব
 সাহিত্য-সংস্কৃতি
 সিটি কর্পোরেশন
 স্বাস্থ্য
 স্মৃতি
 হ য ব র ল
 হরতাল-অবরোধ

লেখালেখি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)
আব্দুল হামিদ মানিক
শফিকুল ইসলাম
প্রা. মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট
ইকবাল বাহার সুহেল
হারান কান্তি সেন
সেলিম আউয়াল
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
এ.এইচ.এস ইমরানুল ইসলাম
জসীম আল ফাহিম
সৌমেন রায় নীল
সাকিব আহমদ মিঠু
রাহিকুল ইসলাম চৌধুরী
সালাহ্‌ আদ-দীন
ছাদিকুর রহমান
সাঈদ নোমান
জালাল আহমেদ জয়
পহিল হাওড়ী (মোঃ আবু হেনা পহিল)
শাহ মিজান
তাবেদার রসুল বকুল
কাউসার চৌধুরী
নারী অঙ্গন
নূরুন্নেছা চৌধুরী রুনী
ইছমত হানিফা চৌধুরী
আমেনা আফতাব
মাহবুবা সামসুদ
সুফিয়া জমির ডেইজী
নীলিমা আক্তার
মাছুমা আক্তার চৌধুরী রেহানা
সালমা বখ্ত্ চৌধুরী
রিমা বেগম পপি
রওশন আরা চৌধুরী
অয়েকপম অঞ্জু
আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না
জান্নাতুল শুভ্রা মনি
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী
আলেয়া রহমান
মাজেদা বেগম মাজু
নাঈমা চৌধুরী
শামসাদ হুসাম
তাসলিমা খানম বীথি
রায়হানা বারী রেখা

সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আলোচিত লিখা
.: 4 weeks ago : :.
কুরবানী : মালিকের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের শিক্ষা দেয় (495 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

শাহ নজরুল ইসলাম: কুরবানির ইতিহাস কুরবানির বিধান হযরত আদম আ.এর চলে আসছে। সকল উম্মতের ইবাদতে এ কুরবানির আবশ্যিক বিধান ছিল। মহান আলøাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির এক রীতিপদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আলøাহর নাম নিতে পারে, যেসব আলøাহ তাদের দান করেছেন Details...


.: 2 weeks ago : :.
দেশের প্রথম তেলক্ষেত্র সিলেটে (460 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের ভেতর দিয়ে উদ্ভব হওয়ায় সিলেট অঞ্চল বিভিন্ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এরমধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পিট, চুনাপাথর, কাঁচবালি, বেলেপাথর, নুড়ি ্এবং বড়ো পাথর ইত্যাদি। এই প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে Details...


.: 4 weeks ago : :.
প্রবন্ধ সাহিত্য জ্ঞানের পরিধি বাড়ায় (437 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক: বিশ্বসাহিত্যে প্রবন্ধের গুরুত্ব ব্যাপক এবং প্রবহমান। বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্য অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যেও প্রবন্ধ ঠাঁই পেয়েছে সেই উনবিংশ শতাব্দীতে সাহিত্যিক খ্যাতিলাভ করেছেন যাঁরা তাঁদের লেখায়। বাংলা বর্ণমালায় সাহিত্য রচনা করে সমগ্র বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ কর Details...


.: 2 weeks ago : :.
শরতে হলো দেখা (397 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

কামরান চৌধুরী:
সাদা সাদা মেঘগুলো নীল আকাশে চলছে ভেসে অজানায়
প্রজাপতি যুগলের মন ছুঁয়ে ছুটছি তোমার ঠিকানায়।
এই শরতেই তার সাথে হয়েছে মিতালী, কাশ বনে একা;
নীল শাড়ি পড়ে, পরিপাটি বেশে এসেছিল, নিবিড় সে দেখা।
চোখদুটি মুগ্ধ, বাকরুদ্ধ, পরখ করি নির্মল হাসি, চুল,
গুইচিচাঁপা খোপাতে Details...


.: 4 weeks ago : :.
চাপাবাজ (364 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

ইমরান ইমন: কয়েকদিন আগে ওসমানী মেডিকেলে গিয়েছিলাম ছোটবোন দেখতে। চারতলার ছয় নাম্বার ওয়ার্ডে। আমার সাথে ছিলো এক বন্ধু। দুজনই রোগীকে দেখতে গিয়েছিলাম। নিচতলায় সিঁড়িপথে ওপরে উঠবো তখন গার্ড বলল যাওয়া যাবেনা। আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না যে, গার্ডকে কিছু দিতে হবে। নূন্যতম বিশত্রিশ টাকা। Details...


.: 4 weeks ago : :.
নজরুল সাহিত্যের দার্শনিক রূপরেখা ! (332 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

রাজু আহমেদ: আমাদের নজরুল নোবেল পাননি । নোবেল প্রাপ্ত হননি ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ ও ‘আন্না কারেনিনা’র মত জগৎ বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম সৃষ্টিকারী লিও তলস্তয়ও । তাই বলে কি সাহিত্যের ভূবনে নোবেল প্রাপ্তদের থেকে এদের অবদান কম ? মোটেই না । বরং অনেক নোবেল প্রাপ্ত কবি-সাহিত্যিকের চেয়ে নজরুল ইসলা Details...


.: 2 weeks ago : :.
শব্দ চয়নে পটু সত্যচয়ন (315 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক:
আমার বন্ধু বই পড়ে
কবিতা ভালোবাসে
ভালোবাসে প্রিয়তমা স্ত্রী
পরিবার ভালোবাসে
জন্মভূমি যেন তার স্পন্দিত হৃদয়।
ঠিক জায়গায়
বাচনভঙ্গিমায়
সঠিক শব্দচয়নে পটু
বন্ধু আমার সত্যচয়ন।
সে চাকরি করে
ভালো বেতনের চাকরি
বড় অফিসে চেয়ার টেবিল টেলিফোন
মোবা Details...


.: 4 weeks ago : :.
নোমান মাহফুজের গুচ্ছ "আরাকান ছড়া" (297 বার পঠিত)

নোমান মাহফুজ:
(১)
রুখো!
রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ
চলছেই দেখো,
মুসলিম শত মারে
রুখো সবে রুখো।
জাতিসংঘ চুপ কেন
জবাবটা চাই,
সুচি কেন বেপরোয়া
শান্তি কেন নাই।
আর কতো মুসলিম
মরে হবে লাশ,
বাড়িঘর ছেড়ে সবে
করছে হাসফাস।
মুসলিম নামধারী
শাসকেরা শুনো,
মুখ এঁটো বসা নয়
পদক্ Details...


.: 2 weeks ago : :.
নির্লজ্জ মানবতা (279 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মজিবুল হক হিরণ:
ধিকধিক শত ধিক নির্লজ্জ যে জন
সাম্প্রদায়িক চেতনায় কে করে আলাদা
হিন্দু-বৌদ্ধ, মুসলিম-খৃষ্টান,
ধর্ম-বর্ণ হোক আলাদা তবুতো সবাই মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ক্ষমতার লোভ সবাইকে করছে বেহুশ।
আজ কোথায় "হিউম্যান রাইট ওয়াচ"
কোথায় হাড়াল জাতিসংঘ
তাদের চোখে কি পরেনা বা Details...


.: 1 week ago : :.
আরাকান (279 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

ইসতাইন আহমেদ:
হবে না হত্যা আর কোনো মুসলিম
হাতে হাত ধর হে মুজাহিদ রক্ষা করি দ্বীন
মোরা গর্বিত মুসলিম।
আর যেন কোনো শিশু না মরুক
আর যেন কোনো পিতা না জ্বলুক
আর যেন কোনো মা না বলুক
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম।
বাধ ভাঙা স্রোতের মত নির্ Details...



www.SylhetExpress.com - First Online NEWS Paper in Sylhet, Bangladesh.

Editor: Abdul Baten Foisal Cell : 01711-334641 e-mail : news@SylhetExpress.com
Editorial Manager : Abdul Muhit Didar Cell : 01730-122051 e-mail : syfdianews@gmail.com
Photographer : Abdul Mumin Imran Cell : 01733083999 e-mail : news@sylhetexpress.com
Reporter : Mahmud Parvez Staff Reporter : Taslima Khanom Bithee

Designed and Developed by : A.S.H. Imranul Islam. e-mail : imranul.zyl@gmail.com

Best View on Internet Explore, Mozilla Firefox, Google Chrome
This site is owned by Sylhet Sifdia www.sylhetexpress.com
copyright © 2006-2013 SylhetExpress.com, All Rights Reserved