User Login | | নীতিমালা | 20 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :
    সংবাদ :   জননেতা নরেশ চন্দ্র চৌধুরীর স্মরণে শাল্লায় শোক সভা  সংবাদ : তারেক রহমানের ৫৩তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন করলো মহানগর ছাত্রদল  সংবাদ : বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে -- এড. মিসবাহ সিরাজ যা বললেন  সংবাদ : জন্মদিনে তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা
করে সিলেট ছাত্রদলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল  সংবাদ : এমসি কলেজে সুফিয়া কামাল স্মরণ ও গুণীজন সম্মাননা   সংবাদ : ফরিদ গাজী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্থ সহচর: মোজাফফর পল্টু   সংবাদ : বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচী  সংবাদ : আকবেট-এর উদ্যোগে বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে র‌্যালি  সংবাদ : কথাশিল্পী আকাদ্দস সিরাজ সমাজের প্রতি সত্যিকারভাবে দায়বদ্ধ ছিলেন  সংবাদ : সত্যিকার মানুষ হওয়াই জীবনের সার্থকতা
---শফিকুর রহমান চৌধুরী  সংবাদ : রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র বাংলাদেশের
সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে  সংবাদ : সিলেট গ্রীন ডেন্টা সিকিউরিটি পরিদর্শন
করলেন ড. এ.কে.আব্দুল মোমেন  সংবাদ :  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র‍্য সংরক্ষণ ও প্রাণি অধিকার নিয়ে কর্মশালা  সংবাদ : ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশাল শোডাউন  সংবাদ : তারেক রহমানের ৫৩তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন করলো মহানগর ছাত্রদল  সংবাদ : পূর্বগৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিন  সংবাদ : শাহজালাল (র.) এর মাজারে ‘জমজম কুপের’ পানির নামে প্রতারণা, তদন্তের নির্দেশ   সংবাদ : বিয়ানীবাজার খলাগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
সমাপনী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা  সংবাদ : ছাতক থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্টিত
sylhetexpress.com এর picture scroll bar এর code. এই কোড যেকোন website এ use করা যাবে।
| সিলেট | মৌলভীবাজার | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | বিশ্ব | লেখালেখি | নারী অঙ্গন | ছবি গ্যালারী | রঙের বাড়ই ব্লগ |

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
Phone/ Mobile No.: 01712-868329
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:-বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ১ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোহাম্মদ আবদুন নূর ও মাতা ফরিজা খাতুন। জন্মস্থান সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বরের নালিউরি গ্রামে। বর্তমানে ৬৩/ডি, হাউজিং এস্টেট, আম্বরখানা, সিলেটে বসবাস করছেন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে তার অবস্থান চতুর্থ। এক সময় সার্বক্ষণিকভাবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে অনলাইন দৈনিক বাংলা সমাচার-এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া সিলেটের প্রিন্ট-অনলাইন দৈনিক ও সাময়িকীতে তার প্রকাশিত বিচিত্রধর্মী প্রবন্ধ-নিবন্ধ বিদগ্ধ পাঠকদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। তার একটি মৌলিক গ্রন্থ মানুষের মরণের পূর্বাপর করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহের আলোকে ‘মানুষের অনন্ত জীবন’ ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশ পায়। তার আরেকটি সৃজনকর্ম হলো সম্পাদনা। কয়েকটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ সম্পাদনা করে তিনি ইতোমধ্যে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর মধ্যে আর্জুমন্দ আলী রচিত বাংলাসাহিত্যের প্রাচীন উপন্যাস ‘প্রেম-দর্পণ’ (২০০৮), আবদুল মালিক চৌধুরী রচিত উপন্যাসদ্বয় ‘পরদেশী’ (২০০৮) ও ‘নূতন ইমাম’ (২০১৩) উল্লেখনীয়। এছাড়া অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন : ‘প্রত্যেক মুসলিমের যেসব বিষয় জানা ওয়াজিব’ (২০১১), ‘আপনার ঈমান কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য? (সংশয় নিরসন)’ (২০১১), ‘হাদীস বর্ণনাকারী একশত সাহাবী এবং বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থসমূহ’ (২০১১), ‘কুরআন সুন্নাহর আলোকে আন্তরিক তওবা’ (২০১৩) প্রভৃতি। সাহিত্যের ছোটকাগজ পাণ্ডুলিপি সম্পাদনাও তার প্রশংসনীয় কাজ। ধর্মপরায়ণ বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন। মোবাইল:- 01712-868329

Web Address : www.sylhetexpress.com/lekhalekhiNew.php?writerID=46
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল এর লিখা
.: 26 October 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :.

নবজাগরণের কবি ফররুখ আহমদ


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:
ফররুখ আহমদ বাংলাসাহিত্যের নবজাগরণের কবি। তিনি অসাধারণ কাব্যপ্রতিভা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে ছন্দের কবি, সংগীত ঝংকারের কবি বলতে ফররুখ আহমদকেই বুঝায়। সৌন্দর্য, জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, রোমান্টিকতা, প্রেম, ভালোবাসা, অনুরাগ, উদাস জীবনের বাসনা, স্বদেশ সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রভৃতি ফুটে ওঠেছে তাঁর কবিতা ও গানে। কবিতায় ও লেখায় কবির অন্তর্মুখীনতা লক্ষ্যণীয়, যা আজ অনেক কবির রচনায় দু®প্রাপ্য। গানের ভুবনে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল তারকা, নিঃশব্দ পদচারী। ফররুখ কখনও আত্মপ্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর গানে ও কবিতায় অসাধারণ মৌলিকত্ব ছিল। শিশু সাহিত্য, প্রবন্ধ, নাটক ও অনুবাদ সাহিত্যেও তাঁর অবাধ পদচারণা ছিল। ফররুখ আহমদ ৪০-এর দশকে বাংলা সাহিত্যে একজন শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেই আভির্ভূত হন, তাঁকে বলা চলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে হাজার বছরের অন্যতম কবি। তাঁর মতো দীপ্ত প্রতিভা বিরল। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি ইসলামের নিগূঢ় তত্ত¡কে তার কাব্য সম্ভারে একীভূত করেছেন, নিজস্ব জীবনাচারেও আদর্শিক চেতনাকে নিবিড়ভাবে ধারণ করেছিলেন। সাত সাগরের মাঝি কাব্য তাঁর শিল্প নৈপূণ্যের এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর। ফররুখের কাছে সবসময় সুবিধাবাদী রাস্তা রুদ্ধ ছিল। তিনি বরাবরই ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ছিলেন আপোষহীন।
কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাঝআইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খাঁন বাহাদুর সৈয়দ হাতেম আলী এবং মা বেগম রওশন আখতার। তিনি শৈশবেই মাতৃহারা হন। দুবছর বয়সে ফররুখের মাতৃহারা জীবন শুরু। তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মাকে হারিয়ে ছোট দুই ভাইবোন দাদির কাছে লালিত পালিত হন। দাদি শৈশবেই কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকেরাতুল আওলিয়াহসহ অনেক ইসলামী বই-পুস্তকের কাহিনি পড়ে শোনাতেন। আর সে সময় থেকেই কবির মধ্যে ফুটে ওঠে ইসলামী ভাবধারা। ছাত্রজীবনে ফররুখ আহমদ গ্রামের পাঠশালায় অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে মডেল এমই স্কুলে ভর্তি হন। তিনি তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবনে যে সকল গুণী শিক্ষকদের সাহচর্য পান তাঁদের অন্যতম ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা, কথা-সাহিত্যিক আবুল ফজল, কবি আবুল হাশিম, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, প্রমথনাথ বিশী প্রমুখ। সাহিত্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় কবি আহসান হাবীব, কথাশিল্পী আবু রুশ্দ, কবি আবুল হোসেন, কবি সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখের সঙ্গে, সেই সাথে বন্ধু হিসেবে পেলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ফতেহ লোহানীকে। এ সময়ই বুদ্ধদেব বসু-সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবির গুচ্ছ-কবিতা ১৯২৭। খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর কালীগঞ্জ হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১ম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন। এরপর তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না-দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে আপন খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন (লিলি)-এর সঙ্গে ফররুখ আহমদের বিয়ে হয়। তাঁর নিজের বিয়ে উপলক্ষে ফররুখ ‘উপহার’ নামে একটি কবিতা লেখেন যা ‘সওগাত’ পত্রিকায় অগ্রহায়ণ ১৩৪৯ সংখ্যায় ছাপা হয়। ফররুখ আহমদের ছেলেমেয়ে এগারো জন। তাঁরা হলেন : সৈয়দা শামারুখ বানু, সৈয়দা লালারুখ বানু, সৈয়দ আবদুল্লাহল মাহমুদ, সৈয়দ আবদুল্লাহেল মাসুদ, সৈয়দ মনজুরে এলাহি, সৈয়দা ইয়াসমিন বানু, সৈয়দ মুহম্মদ আখতারুজ্জামান, আহমদ আখতার, সৈয়দ মুহম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, সৈয়দ মুখলিসুর রহমান, সৈয়দ খলিলুর রহমান ও সৈয়দ মুহম্মদ আবদুহু। ফররুখ আহমদের কর্মজীবন শুরু হয় কোলকাতায়। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে আই.জি.প্রিজন অফিসে, ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সিভিল সাপ্লাইতে এবং ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চাকরি করেন ঢাকা বেতারে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফররুখ আহমদ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। এখানেই প্রথমে অনিয়মিত হিসেবে পরে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

কবি ফররুখ আহমদ কবিতা-ছড়া, গান, হামদ, নাত ইত্যাদি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর প্রধান পরিচয় ‘কবি’। ফররুখ আহমদ সনেট রচনাও করেছেন। তাঁর রচনায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব দেখা যায়। এছাড়া আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতি ছিল তার অগাধ আস্থা। তার লেখাগুলো চল্লিশের দশকে এক জরগরণ সৃষ্টি করে। বর্তমানেও সাহিত্যাঙ্গানে তিনি বহুল পঠিত কবি। তার গ্রন্থগুলো পাঠকসমাজে এখনও ব্যাপক সমাদৃত। কবির রচনা নিয়ে বর্তমান সময়ের গবেষকরা আলোচনা-সমালোচনা লিখছেন। এজন্য তার রচিত গ্রন্থসমূহ সমগ্র বাংলা সাহিত্যের সম্পদ হয়ে উঠেছে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর, ১৯৪৪), সিরাজাম মুনীরা (সেপ্টেম্বর, ১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (জুন, ১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩), ধোলাই কাব্য (জানুয়ারি, ১৯৬৩), হাতেম তায়ী (মে, ১৯৬৬), নতুন লেখা (১৯৬৯), কাফেলা (অগাস্ট, ১৯৮০), হাবিদা মরুর কাহিনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৮১), সিন্দাবাদ (অক্টোবর, ১৯৮৩), দিলরুবা (ফেব্র“য়ারি, ১৯৯৪), শিশুতোষ গ্রন্থ: পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), চাঁদের আসর (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০), ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ইত্যাদি।
ফররুখ আহমদ তার কবিতায় রূপক ব্যবহার করে সার্থকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্ব সাহিত্যে রূপক কবিতার স্রষ্টা হলেন ফার্সি সাহিত্যের বিখ্যাত কবি হাফিজ, ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, শেখ সাদী প্রমুখ খ্যাতিমান কবিগণ। এ ছাড়া উর্দু ও ফার্সি ভাষায় এ জাতীয় কবিতা লিখেছেন কবি আল্লামা ইকবাল। উল্লেখিত কবিগণ বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে পরিচিত ও খ্যাতির শিখরে উপনীত হয়েছেন এ জাতীয় কবিতার ভেতর দিয়ে। তাদের কবিতা পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। রূপক কবিতা বলতে এমন এক ধরনের কবিতা বুঝায় সেখানে কবি তাঁর কোনো বক্তব্য বা তত্ত¡কে সরাসরি প্রকাশ না-করে অন্য কোনো বাহ্যিক ঘটনা, চিত্র ইত্যাদির আড়ালে রেখে সমান্তরালভাবে এর গূঢ় অর্থ প্রকাশ করে থাকেন। বাংলা সাহিত্যে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও ফররুখ আহমদ এ জাতীয় কবিতা লিখেছেন। তবে প্রাচীন যুগের বাংলা কবিতায় কাহ্নপাদের কবিতাগুলোতে রূপকের ভাবধারা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। প্রাচীন আরবি সাহিত্যেও এই রূপকের ব্যবহার ছিল। তখনকার কবিরা বেশি বেশি রূপক ব্যবহার করতেন। আরবের প্রখ্যাত কবি ইমরুল কায়েস তার কবিতায় অসাধারণ দক্ষতায় রূপকের ব্যবহার ঘটিয়েছেন। এছাড়াও সে সময়ের আরবি কবি তুরফা, জোহায়ের, মুতানব্বী, তরীফ, লাবীব সহ অনেক কবির কবিতায় রূপক বিশাল আকারে ব্যবহৃত। কবি ফররুখ আহমদের সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাটি তার লেখা শ্রেষ্ঠ কবিতা। কবিতাটিতে কিছু সাধারণ প্রতীকী শব্দ ব্যবহার করে কবি তাতে অসাধারণ বক্তব্য ফুটিয়ে তুলেছেন।‘পাঞ্জেরী’ ফারসি ভাষার শব্দ। এ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে জাহাজের অগ্রভাগে রক্ষিত পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা কিংবা আলোকবর্তিকাধারী ব্যক্তি। যার মাধ্যমে নাবিকগণ সমুদ্রের দুর্গম পথ অতিক্রম করে, আলো দেখে পথ চলে। তবে কবি এখানে একজন সাধারণ চালক নয় প্রতীকী হিসেবে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী কোটি কোটি মানুষের সুযোগ্য নেতাকে বুঝিয়েছেন। সাধারণ যে ব্যাখ্যা, তাহলো বন্দরে অপেক্ষমান জাহাজের হাজার হাজার যাত্রী সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সমুদ্র বন্দরে অপেক্ষা করছে। সকল মানব সন্তানদের নানা বিড়ম্বনার মধ্যে সময় কাটছে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ব্যাধি-বিপদ তাদের প্রতি মুহূর্তে গ্রাস করছে। কবি এর অর্থ প্রকাশ করেছেন রূপকভাবে : এভাবে ভারতের পরাধীন কোটি কোটি মানুষ অবৈধ ইংরেজ শাসনের যাঁতাকলে নিষ্পেষণ সহ্য করে অপেক্ষা করছে স্বাধীনতা লাভের আশায়। কিন্তু তাদের সে স্বপ্নের স্বাধীনতা সূর্য কবে উদিত হবে? সচেতন কবির মনে এমন প্রশ্নের উদয় হতেই পারে। রোমান্টিক কবি ফররুখ আহমদ স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন দেশের স্বাধীনতার, মানুষের স্বাধীনতার। পাঞ্জেরীকে, নেতৃত্ব দানকারী নেতাকে তাই বার বার তাগিদ দিচ্ছেন সচেতনতার দিকে। জিজ্ঞেস করছেন :
‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে’
ইসলামী আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য এ জাতি আজ বিপদাপন্ন। কবির বিশ্বাস, মুসলমানগণের নেতৃত্ব সচেতন হলে ইসলামের নতুন চাঁদ আর কাক্সিক্ষত পতাকা সগৌরবে উড্ডীন হবে। দেশ থেকে দূর করতে হবে বিদেশি হায়েনাদের। জাতি পাবে পুনর্বার স্বাধীনতার সুখ। কবি ফররুখ স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংগ্রামী নেতাকে সচেতন করার উদ্দেশে বলছেন :
‘আমাদেরই ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়েছে তাদের সেতারা শমী।’
কবি নেতার ভুল ভ্রান্তির সমালোচনা করেছেন। পুনরায় নেতার ভুল নেতৃত্বের কারণে দুর্ভাগ্যের রাত যেন নেমে না আসে জনগণের জীবনে। আজ জনগণের মধ্যে আর্তনাদ আর ক্ষুধার্ত মানুষের কান্না-হতাশা। আমরা জানি যে কোন বৃহৎ সংগ্রামে নেতৃবৃন্দ জাতিকে দেন নেতৃত্ব কিন্তু কর্মীবাহিনী থাকেন জনগণের পাশাপাশি, দুঃখ-কষ্টে বা মিছিলে। কবি ফররুখ আহমদ ছিলেন সেই মিছিলের সৈনিক। তার কবিতায় বারবার উচ্চারিত হয়েছে মজলুম মানুষের কথা। তিনি সচক্ষে দেখেছেন ১৩৫০ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্র যা ছিল ভারতবাসী জনগণের উপর ইংরেজদের চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভিক্ষ। লাশ কবিতায় বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন সে ভয়াবহ ছবি। ‘পাঞ্জেরী বা নেতার কাছে কৈফিয়ত চাচ্ছেন কবি। এ কৈফিয়ত ক্ষুধার্ত নিপীড়িত লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে দিতে হবে। নেতা কোনো ভুল-ভ্রান্তি করবেন বলে মেনে নেবেন না জনগণ ক্ষমা করবেন না তাকে। কবি চান পাঞ্জেরি বা নেতা কর্তৃক স্পষ্ট স্বাধীনতার আহবান।
পাঞ্জেরী!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রূকুটি হেরি
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি।
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ রোমান্টিক কবি হিসেবে পরিচিত। তাই বলে তিনি বাস্তবতার ধরাছোঁয়ার বাইরে আলাদা এক জগতে বাস করেননি। রোমান্টিকতার সাগরে অবগাহন করেও এক বাস্তব জগতের প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ গড়ার স্বপ্ন কোনো রোমান্টিক কল্পনা বিলাস নয়। প্রাবন্ধিক মোহম্মদ মাহফুজউল্লাহ লিখেছেন : ‘ফররুখ ইসলামী আদর্শ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ আর মুসলিম রেনেসাঁর রূপকার হলেও তার রচনার শোষিত বঞ্চিত ও ক্ষুধাতুর মানুষের বেদনা মূর্ত হয়েছে।’ কবির অধিকাংশ কবিতায় দুঃখ-দুর্দশার বাস্তবচিত্র থাকলেও তার মধ্যে আছে আশার বাণী। কবি ছিলেন স্বপ্নচারী, তার স্বপ্নচারিত রোমান্টিকতা থাকলেও তাতে স্বপ্নবিলাসিতা প্রকাশ পায়নি। কবি বিশ্বাস করতেন এমন একটি সুন্দর রাষ্ট্র কায়েম হবে যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকবে না। সুশৃঙ্খল ক্ষুধামুক্ত ভালোবাসাবাসির এক সুন্দর দেশের স্বপ্ন কবি দেখেছিলেন। তার ‘পাঞ্জেরী’ হলেন সেই সুন্দর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোগ্য নেতা। ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘পাঞ্জেরী’তে ক্লান্তি ও জিজ্ঞাসার সুর ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় ধুয়ার মতো বারবার ঘুরে আসা একটি চরণে-
‘রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী!’
এটা সম্ভবত গীতি কবিতাবলির মধ্যে ফররুখের শ্রেষ্ঠ রচনা। ফররুখ আহমদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তার লেখায় জাতীয় জাগরণের রূপ ফুটে উঠেছে। জাতীয় জীবনের অংশ আকাক্সক্ষা, মানবতার রূপ, আদর্শ সমাজের বাণী ফুটে উঠেছে। তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার নামাবলি পড়ে কবি ময়ূর পুচ্ছ পরে ময়ূর সাজতে চাননি। ঘৃণা করতেন পাশ্চাত্যের জড় মেকি সভ্যতাকে। কখনো বিচ্যুত হননি তার পথচলার আদর্শ থেকে।
ফররুখ আহমদ আপাদমস্তক একজন মানবতাবাদী কবি। তাঁর জীবনেও কালের বাতাস আঁচড়ে পড়েছে। বঞ্চিত মানবতার কল্যাণের জন্য তিনি মার্কসবাদ ও এম.এন. রায়ের মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রাথমিকভাবে কমিউনিজমের দিকে পা বাড়ান। কিন্তু তিনি যখন বুঝতে সক্ষম হলেন যে, কমিউনিজম যে সাম্যবাদের মন্ত্র শোনাচ্ছে ইসলামের সাম্যবাদ তার চেয়ে উন্নততর; ইসলামে আত্মার যে খাদ্য আছে তা কমিউনিজমে নেই। তাছাড়া সবদিক দিয়ে নির্যাতিত ও বঞ্চিত শ্রেণিই ছিলো মুসলমান। তাদের কল্যাণের জন্য রাসুল (সা.) প্রদর্শিত মানবতাবাদই শ্রেয়। তিনি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন যে, পরদেশি ব্রিটিশের শাসন ও শোষণ মুসলমানদেরকে পৃথক ও শত্র“জাতি বিবেচনা করে হিন্দুদের আত্মকেন্দ্রিক উচ্চাকাক্সক্ষায় জেগে ওঠা নীতির বঞ্চনা এবং হিন্দু মুসলিম উভয় স¤প্রদায়ের ধনিক ও স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর শোষণের কষাঘাতে মুসলিম সমাজের কণ্ঠবোধ করেছে। মুসলিম সমাজ সেই ভয়াবহ ছোবল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী মুজাহিদদের রক্তাক্ত ময়দান, হজরত শাহসুফী আবুবকর সিদ্দিকীর তাসাউফী অন্তর, মুনসী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ ও ইসমাইল হোসেন শিরাজীর প্রতিবাদীকণ্ঠ এবং মহাকবি ইকবাল ও কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী বিদ্রোহী চেতনাকে অবলম্বন করে সামনে অগ্রসর হন। আদর্শবাদীতা, রোমান্টিসিজম এবং মেধা ও মননের প্রখরতায় নির্মিত তীক্ষè কাব্যশক্তিকে তিনি মানবতার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। দীপ্ত উচ্চারণ :
‘জীবন আমার করে যেন / দুঃস্থ জনে সমর্থন
দুঃখি এবং বৃদ্ধ জয়ীফ / যেন আমার হয় আপন।’
মানুষকে খুব আপন করে দেখতেন ফররুখ। পোশাক পরিচ্ছদ খাওয়া দাওয়া চলাফেরা এমনকি চিন্তার দিক থেকেও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ম করে ফেলতেন। সকল মতাদর্শের কবি বন্ধুদের সঙ্গেই ছিল তার সখ্যতা। সকল মানুষকেই তিনি সম্মান করতেন, শ্রদ্ধা করতেন, এমনকি যথাসাধ্য সাহায্যও করতেন। কিন্তু নিজে যেমন সাহায্য নেওয়াটা পছন্দ করতেন না তেমনি নিজেকে সাহায্যকারী হিসেবে গর্বিতও মনে করতেন না। তিনি সমস্ত মানুষকে আত্মার আত্মীয় বলে মনে করতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন ‘মানুষকে জন্মাতে হয় বলেই ভিন্ন ভিন্ন মায়ের পেটে জন্মে।’ কেউ কাউকে পর ভাবা ঠিক নয়। যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক তারা রক্তীয়, আর যাদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্কÑআত্মার সম্পর্ক তারাই আত্মীয়, পরম আত্মীয়। তিনি সকল মানুষের সাথেই একাত্ম হয়েছিলেন বটে, কিন্তু আদর্শকে বিকিয়ে দিয়ে নয়। মাখানো ময়দার মধ্য থেকে চুলকে যেভাবে বের করা হয়, ঠিক সেভাবেই তিনি ওই সমাজ থেকে নিজের আদর্শকে পংকিলতা মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কবি নিজে ছিলেন নীতিগত দিক থেকে এক পায়ে খাড়া। বেশ বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন :
তোরা চাসনে কিছু কারো কাছে খোদার মদদ ছাড়া
তোরা পরের উপর ভসর ছেড়ে নিজের পায়ে দাঁড়া।
স্বার্থন্ধতা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। স্বভাবে, অভাবে, সুখে দুঃখে কোনো সময়ই তিনি চাটুকারিতার আশ্রয় নিতে যাননি। দুনিয়ার তথাকথিত বৈভব সাফল্য তার কাছে ছিল এক পাশবিক মত্ততা। পাকিস্তানের সমর্থক আখ্যা দিয়ে ফররুখ আহমদকে কেউ কেউ ভিন্ন চোখে দেখার চেষ্টা করেন। সত্যিকার অর্থে তিনি পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন না বরং একজন মানবতাবাদী হিসেবে তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত হবার জন্য তার স্বাধীনচেতা অন্তর সব সময় অস্থির ছিল। মুসলমানদের হাতে দেশের ক্ষমতা এলে মানবতা বিকশিত হবে এটা তাঁর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী জাতিকে হতাশ করেছে। এমনকি এ হতাশাব্যঞ্জক আচরণের কারণে তিনি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে কোন মোসাহেবী তো দূরের কথা সংস্কারমূলক সমালোচনা ছাড়া তাদের পছন্দসই কোন কথাই বলেননি। এমনকি পাকিস্তানী শাসকদের অনভিপ্রেত কার্যাবলির প্রেক্ষিতে তিনি ‘রাজ রাজরা’ নামক ব্যঙ্গ নাটকের মাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। এমনকি যারা স্বার্থ হাসিলের জন্য নীতি বিসর্জন দেয়, তাদের জন্য তিনি শিশুতোষ কাব্য নাটিকায় বাদুরের সাথে তুলনা করেন এবং শেষ পঙ্ক্তিতে প্রমাণ করেছেনÑ‘সুযোগ মতো যারা ও ভাই মতটা বদল করে / অতি চালাক বাদুরগুলোর মতই তারা মরে।’ নৈতিক অবস্থানকে মজবুত করতে শিশু-কিশোরদেরকেও নির্যাতিত অভাবী ও দুঃস্থজনের পার্শ্বে দাঁড়ানোর ছবক দিতেন কবি ফররুখ আহমদ।
মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়েই কবির ছিল কবির পথ চলা। মানুষের অধিকার যার হাতে ক্ষুন্ন হয় সে তাঁর বন্ধু হলেও তিনি তার বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। পাকিস্তান স্বাধীন হবার পরই যখন তিনি বাংলা ভাষার ক্রান্তিকালের আভাস পেলেন তখনই তিনি ভাষার পক্ষে প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধের ছত্রে ছত্রে ছিল রাষ্ট্রভাষার দাবি। প্রবন্ধের সূচনাই তিনি করেছিলেন এভাবে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে এ নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনা হয়েছে। জনগণ ও ছাত্র সমাজ অকুণ্ঠভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে।’ ভাষা আন্দোলন শুরু পূর্বেই তার এ প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। জালিমের নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, অমানবিকতা ও অসহায়দের চিত্রিত করতে কবি ফররুখ নির্মাণ করেছেন বিরান মড়কের গান, তুলে এনেছেন অসহায় মানুষের ‘আউলাদ’ পথে পথে খুঁজেছেন ‘লাশ’ আর মুক্তিকামী মানুষের জন্য খুঁজে ফিরেছেন ‘উমর দরাজ দিল’ সাত সাগরের মাঝি হয়ে সফর করেছেন ‘বার দরিয়ায়’ পরখ করেছেন ‘দরিয়ার শেষ রাত্রি’ সিন্দবাদকে ডেকে হাতেম তায়ীকে সঙ্গী করে ‘হেরার রাজ তোরণে’ পৌঁছতে চেয়েছেন সগৌরবে। এ পথের যাত্রী মজলুম মানবতাকে তাই আয়েশী জীবন ফেলে কন্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করার জন্য কবির উদাত্ত আহŸান :

‘ছিড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল অবসাদ
নতুন পানিতে হাল খুলে দাও হে মাঝি সিন্দবাদ।
ফররুখ আহমদ সম্পর্কে ফজল মাহমুদ বলেছেন : ‘আমরা আল্লাহর কাছে কায়োমনবাক্যে প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ কবি ফররুখ আহমদের জীবনের সকল ভাল কাজগুলোকে কবুল করে নেন এবং জান্নাতে যাওয়ার উছিলা হয় তার সে মহৎ কর্মগুলো। আর তাঁর জীবনের মানবীয় ভুলত্র“টি আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আজ জাতির এ মহাসংকটকালে ফররুখ আহমদের মতো নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী, কবি ও বিপ্লবীর বড় প্রয়োজন। আমরা যেন কবি ফররুখ আমাদের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতির এ দুর্দিনে নিজেকে শোধরাতে পারি ও মানবতার মুক্তির সংগ্রামে কাজে লাগাতে পারি।’
এই কবি তার সৃজনকর্মের উপর মৃত্যুর পরও পাঠক-সমালোচকের তুমুল আলোচনায় ছিলেন। তখন তার সাহিত্য আরো বড় পরিসরে মূল্যায়িত হতে থাকে। কবিকে মরণোত্তর অনেক পুরুস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে একুশে পদক। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা পুরস্কার। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার। ১৯৮০ খ্রিস্টারে জুন মাসে বাংলা একাডেমী কর্তৃক ফররুখ আহমদ রচনাবলি, ১ম খণ্ড প্রকাশিত। ১৯৮১ খ্রিস্টাদের জুন মাসে বাংলা একাডেমী কর্তৃক ফররুখ আহমদ রচনাবলি, ২য় খণ্ড প্রকাশিত। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় ফররুখ একাডেমী প্রতিষ্ঠিত। প্রাতিষ্ঠানিক ফররুখ চর্চার শুরু। ১৯৮৩ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদ্যাপন কমিটি কর্তৃক অন্য নয়জন বিশিষ্ট ভাষা-সৈনিকের সাথে ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা ও পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।
১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর, সন্ধেবেলা ঢাকায় ফররুখ আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। ফররুখ আহমদকে ইসলামী রেনেসাঁর কবি, গণজাগরণ ও ইসলামী ঐতিহ্যবাদী কবি, মন্বন্তরের কবি এবং চল্লিশের দশকের অন্যতম কবি। তিনি একজন পুরোপুরি মানবতাবাদী কবি। তার সময়ে মার্কস, ফ্রয়েড, ইয়েটস, এলিয়ট, বোদলেয়ার প্রমুখ ইউরোপীয় চিন্তাবিদ ও কবি সাহিত্যিকের বিভিন্নমুখী চিন্তা, ভাব বিষয় ও আঙ্গিক চেতনার ঢেউ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে বিদগ্ধ মানুষকে যেমন হতাশ ও ম্রিয়মান করে তুলেছিল। এই সংকটকালীন মুহূর্তে তিনি আশাপ্রদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দ্বারাও উন্মোচিত করেছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক জটিলতা, নৈরাশ্য ও সম্ভাবনার লুকোচুরি এবং ঘাত প্রতিঘাতের বিচিত্রময় বাতাস সাহিত্যের আকাশেও ব্যাপকভাবে প্রবাহিত হয়েছিল। এমন সন্ধিক্ষণে যারা বুদ্ধিবুদ্ধি ও সাহিত্যচর্চা করতে চেয়েছেন তাদেরকে এসব ধারার কোন একটাতে গা ভাসাতেই হয়েছে। বাংলা সাহিত্যেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এসব প্রভাব থেকে বেরিয়ে নবজগরণের কবিতা লিখেছিলেন তিনি। শুধু ক্ষুধা দারিদ্র্যই মানুষকে লাশে পরিণত করে না বরং নৈতিকতা বিধ্বংশী সংস্কৃতি ও চিন্তার বিকৃতি মানুষকে চিরদিনের জন্য লাশ বানিয়ে ফেলে। ফররুখ আহমদ তা সহজেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তিনি সমস্ত নীতি নৈতিকতাহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উচ্চারণ করেন :
‘দল বেঁধে চলিছে শিশুরা মড়কের পথে
কুৎসিত কুটিল কালো অন্ধকার সড়কে বিপথে
যেখানে প্রত্যেক প্রান্তে আজাজিল পাতিয়াছে ফাঁদ
তারি পানে দুনিয়ার টানে চলে আজ মানুষের
দুর্বল, বিশীর্ণ আউলাদ।’
মানবতা আজ বিলুপ্ত! দিনে দিনে মানুষ পৃথিবীতে মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। ক্ষুধা দারিদ্র্যের পীড়নে প্রতিনিয়ত আত্মার মৃত্যু ঘটছে আর শোষকশ্রেণি ক্ষুধার্থ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে। মানুষের হাড় নিয়ে খেলাঘর রচনা করছে। লোভ তাদের মনুষ্যত্বকে হরণ করে নিয়েছে এবং তাদের নৃশংসতা পৃথিবীকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কী করুণ অবস্থা! একদিকে মানুষের আর্তনাদ অন্যদিকে শোষকের অট্টহাসি। একদিকে মৃত্যু ফাঁদ অন্যদিকে পরিহাস, একদিকে গোলাপের পাপড়ি অন্যদিকে আবর্জনা, একদিকে আকাশে রঙিন খিলান অন্যদিকে বিষাক্ত কামনা। চারদিকে হাহাকার। এই গভীর হাহাকার থেকে তিনি রচনা করেছেন :
‘চলে দল বেঁধে শিশু ওষ্ঠে তুলি জীবনের
পানপাত্র সুতীব্র বিশ্বাদ
মানুষের বুভুক্ষ মুমূর্ষূ আউলাদ
এ কোন পরিক্ষা?
এখানে জ্বলিছে শুধু ক্ষুধাতুর দিবসের শিখা
বিষাক্ত ধোঁয়ার কুজ্ঝটিকা
মৃত্যুর বিকট বিভীধিকা।
মজলুম মনের বোঝা, ভারাক্রান্ত বেদনা আগাধ
তারি মাঝে লাথি খেয়ে চলে আজ আদমের মৃত আউলাদ।
বিবেকহীন শোষকের শক্তিকে তিনি ভয় পাননি । কবি মনে করেন এ শোষণ-নির্যাতন চিরদিনের নয়; ইতিহাস সাক্ষীÑসামুদ, ফেরাউন, নমরুদসহ পরাক্রান্ত ঔদ্ধত্যবাদীদের পতনের কাহিনিকে সামনে তুলে ধরেন তিনি।
‘অনেক সভ্যতা জানি মিশেছে ধূলির নীচে, অনেক সামুদ
কত ফেরাউন, কত জালিম পিশাচ নমরুদ
মিশে গেল ধুলি তলে
নতুন যাত্রীর দল দেখা দিল দুর্গম উপলে
উড়ায়ে নিশান
সাথে করে নিয়ে এল জীবনের অ-শান্ত তুফান’
তিনি আরও উল্লেখ করেন :
‘মজলুমানের রক্তে এখনো পৃথি লাল
কোথায় ওড়াবো শান্তি প্রতীক আল হেলাল?
ঘোরে বুভুক্ষু জনগণ পথে পাংশু মুখে
দ্বার থেকে দ্বারে ফেরে তার দাবি ক্লান্ত বুকে
চির পলাতক শিকার সে হোক দৃপ্ত আজ
মানবতা হোক নির্যাতনের মাথার তাজ।
বাংলার রেনেসাঁস বাঙালি মুসলমানদের যোগসূত্র রচনায় কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন ও ফররুখ আহমদের বিশাল ভূমিকা আছে। এদের মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা আছে ঠিকই, কিন্তু গভীর বৈযুজ্যও আছে। ইসলামি বোধ সত্তে¡ও নজরুল হিন্দু-মুসলমানের মিলনেরও পুরোধা পুরুষ। জসীম উদ্দীনও গ্রামীণ কাহিনীর ভেতরে হিন্দু-মুসলমান নায়ক-নায়িকার মিলন দৃশ্য রচনা করেছেন, কিন্তু ফররুখ ১৯৪৩ এর পরে তার জীবনে কেবল ইসলাম ও মুসলমান ছাড়া কিছু ছিল না। নজরুল ও জসীম উদ্দীনের মতোই ফররুখও মূলত মানবতাবাদী, মানবপ্রেমিক কিন্তু মানবতাকে সরাসরি স্পর্শ করেছেন ইসলামের মধ্য দিয়ে। আর এখানেই তার স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট। বাংলাসাহিত্যের এ মহান কবি তার অমর সৃষ্টি ও উত্তম আদর্শিক চেতনায় উজ্জ্বল আভায় উদ্ভাসিত। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মে আপন মহিমায় বেঁচে থাকবেন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক


.: 2 October 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (1218 বার পঠিত)
শাহাদাত আলিমের কবিতা : জীবনবৃত্তের প্রতীকী দৃশ্যায়ন


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, সংযোজন-বিয়োজন, রোদ-মেঘ, বৃষ্টি-কান্না, জোছনা-অন্ধকার, প্রেম-বিরহ অতঃপর আত্মদর্শন ও আত্মোলব্ধির ইট-সুড়কি-পলেস্তারার পরিপাটি রূপ কবিতা। এবং ব্যক্তি থেকে ব্যষ্টিক, তারপর বৈশ্বিক পদচারণায় অস্তিত্বের জানান দেওয়া; চেতনায়-বিশ্বাসে মুক্ত হাওয়ার ...Details...


.: 6 March 2016 : ব্যক্তিত্ব :. (2705 বার পঠিত)
ড. রেণু লুুৎফা : এক বিদগ্ধ লেখকের যশোগান


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: রেণু লুুৎফা এক বিদগ্ধ মহীয়সী লেখকের নাম। তিনি সাংবাদিক হিসেবেও সমান খ্যাত। মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে অসংখ্য জাতি-উপজাতির মিলনকেন্দ্র ব্রিটেনের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর অবস্থান সমহিমায় সমুজ্জ্বল। শিক্ষকতা পেশা হলেও সমাজসেবা ও লেখালেখি তাঁর ধ্যানজ্ঞান। ...Details...


.: 9 December 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (2338 বার পঠিত)
কবি লাভলী চৌধুরী : বাংলাসাহিত্যে সুবাস ছড়ানো এক পুষ্পের নাম


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: লাভলী চৌধুরী একজন নিভৃতচারী কথাশিল্পীর নাম। সত্য ইতিহাস, তীক্ষè পর্যবেক্ষণ আর প্রবল স্মৃতিকাতর তাঁর লেখাগুলো পাঠককে মোহিত করে; তাঁর লেখাগুলো নদীর স্রোতের মতো প্রবহমান। কিন্তু আড়াল প্রয়াসী চরিত্র তাঁর আরও সৃষ্টিসম্ভার পাঠ থেকে আমাদের বঞ্চিত করছে। তিনি সিলে ...Details...


.: 24 September 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (2804 বার পঠিত)
কাছাড়ের ইতিহাস ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা : ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের সুখাদ্য


SylhetExpress.com

বায়জীদ মাহমুদ ফয়সল: ‘বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে/বহু ব্যয় করে বহু দেশ ঘুরে দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ঘর থেকে শুধু দুু পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপর/একটি শিশির বিন্দু।’ ভ্রমণ শিক্ষার একটি অংশ। শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদেশ ভ্রমণের গুরুত্ব ...Details...


.: 22 August 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (4959 বার পঠিত)
শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক লে. কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর বহুমাত্রিক যোগ্যতার কারণে তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। তিনি সিলেট ও দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিমণ্ডলে অ ...Details...


.: 8 July 2015 : ইসলাম ও জীবন :. (2038 বার পঠিত)
মাহে রমজানে এতেকাফের তাৎপর্য ও বিধান


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: বিশেষ নিয়তে বিশেষ অবস্থায় আল্লাহ তাআ’লার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এতেকাফের ফজিলত : এতেকাফ একটি মহান ইবাদাত, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি বছরই এতেকাফ পালন করেছেন। দাওয়াত, তরবিয়ত, শ ...Details...


.: 19 May 2015 : মুক্তিযুদ্ধ :. (2120 বার পঠিত)
সিলেট ও শিলচরে বাংলা ভাষা আন্দোলন


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: ভাষা মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রধান বাহন। ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ মানব সভ্যতায় বড়ো ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছিলো। তাই সভ্যতার ক্রমবিকাশে ভাষাকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নাই। মানুষের জন্ম ও বিকাশের সঙ্গে তার মাতৃভাষার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। শিশু এই পৃথিবীতে ...Details...


.: 4 May 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (1218 বার পঠিত)
রাশি রাশি শুভ্র স্নিগ্ধতায়


SylhetExpress.com

বাছিত ইবনে হাবীব:
উৎসর্গ : বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সলকে
বহুজন এক হলে লগ্ন শুভ হয়
বহুমন এক হলে কেউ কেউ ধ্র“ব হয়।
বহুপথ ঘুরে এসে বহুখানা খন্দ
নিজস্ব নির্মাণে দেখো কত্তো আনন্দ।
শীতের পাখির মতো যাওনি তো উড়ে
তাই তো তোমায় খোঁজে এই অন্তঃপুরে!
কতো রোদ! কত ক্রোধ শোধ করে এসে
স্বনি ...Details...


.: 6 April 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (5153 বার পঠিত)
ঘুরে এলাম মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং আমাদের কাছে গল্পের মতো। এই শহরকে দেখার শখ আমার অনেক দিনের। ছোটোবেলা শিলংয়ের অনেক গল্প শুনেছি। আমাদের অনেক পূর্বপুরুষের কর্মস্থল ছিল এই শিলং। অনেকের আবার ছাত্রজীবন কেটেছে শিলংয়ের মাটিতে। এক সময়কার আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ, সরকারি চাকুরি এবং ব ...Details...


Next Page»: বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল এর আরো লিখা »

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল এর সর্বাধিক পঠিত লিখা

.: : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (5153 বার পঠিত)
ঘুরে এলাম মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: মেঘ পাহাড়ের দেশ শিলং আমাদের কাছে গল্পের মতো। এই শহরকে দেখার শখ আমার অনেক দিনের। ছোটোবেলা শিলংয়ের অনেক গল্প শুনেছি। আমাদের অনেক পূর্বপুরুষের কর্মস্থল ছিল এই শিলং। অনেকের আবার ছাত্রজীবন কেটেছে শিলংয়ের মাটিতে। এক সময়কার আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ, সরকারি চাকুরি এবং ব ...Details...


.: 6 April 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (4959 বার পঠিত)
শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক লে. কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর বহুমাত্রিক যোগ্যতার কারণে তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। তিনি সিলেট ও দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিমণ্ডলে অ ...Details...


.: 22 August 2015 : দিবস :. (3414 বার পঠিত)
ভালোবাসি এইদিন প্রতিদিন...


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: ভালোবাসি, ভালোবাসি এই কথাটি সবখানে সবাইকে জানিয়ে দিয়ে যাই আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। তবে ভালোবাসাতো আর একদিনের না চিরদিনের। তাই চিরদিন ভালোবাসতে হলে তো আর একদিন কার্ড দিলে হবে না। প্রতিদিন বিশ্বাস আর আস্থার পরীক্ষা দিতে হবে। ভ্যালেন্টাইন দিবসকে সামনে রেখে চার ...Details...


.: 12 February 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (3356 বার পঠিত)
হারূন আকবর : এক সত্যভাষী মানুষ ও নিষ্ঠাবান গবেষকের প্রতিকৃতি


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিবিড় অন্তর্লোকের উজ্জ্বল অনুসন্ধানে যাঁরা নিয়োজিত সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সিলেটের প্রেক্ষাপটে অগ্রণী ছিলেন হারূন আকবর। সর্ববিধ সংস্কারমুক্ত এই লেখক কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমাধারী মহাপণ্ডিত ছিলেন না। কিন্তু লোকসাহিত্যের ...Details...


.: 18 November 2014 : ব্যক্তিত্ব :. (2847 বার পঠিত)
আনোয়ার শাহাজাহান : এক কর্মকুশল সৃজনশীল মানুষের প্রতিচ্ছবি


SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: আনোয়ার শাহাজাহান তারুণ্যে উদ্দীপ্ত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সফল মানুষ। তিনি একাদিক্রমে শেকড়সন্ধানী লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হলেও একজন লেখক ও গবেষক পরিচয়ে তিনি উদ্ভাসিত। আঞ্চলিক ...Details...


পাঠকের মতামত

Other Pages :

 
 অন্য পত্রিকার সংবাদ
 অভিজ্ঞতা
 আইন-অপরাধ
 আত্মজীবনি
 আলোকিত মুখ
 ইসলাম ও জীবন
 ঈদ কেনাকাটা
 উপন্যাস
 এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল
 কবিতা
 খেলাধুলা
 গল্প
 ছড়া
 দিবস
 দূর্ঘটনা
 নির্বাচন
 প্রকৃতি পরিবেশ
 প্রবাস
 প্রশাসন
 বিবিধ
 বিশ্ববিদ্যালয়
 ব্যক্তিত্ব
 ব্যবসা-বাণিজ্য
 মনের জানালা
 মিডিয়া ওয়াচ
 মুক্তিযুদ্ধ
 যে কথা হয়নি বলা
 রাজনীতি
 শিক্ষা
 সমসাময়ীক বিষয়
 সমসাময়ীক লেখা
 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
 সাইক্লিং
 সাক্ষাৎকার
 সাফল্য
 সার্ভিস ক্লাব
 সাহিত্য-সংস্কৃতি
 সিটি কর্পোরেশন
 স্বাস্থ্য
 স্মৃতি
 হ য ব র ল
 হরতাল-অবরোধ

লেখালেখি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)
আব্দুল হামিদ মানিক
শফিকুল ইসলাম
প্রা. মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট
ইকবাল বাহার সুহেল
হারান কান্তি সেন
সেলিম আউয়াল
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
এ.এইচ.এস ইমরানুল ইসলাম
জসীম আল ফাহিম
সৌমেন রায় নীল
সাকিব আহমদ মিঠু
রাহিকুল ইসলাম চৌধুরী
সালাহ্‌ আদ-দীন
ছাদিকুর রহমান
সাঈদ নোমান
জালাল আহমেদ জয়
পহিল হাওড়ী (মোঃ আবু হেনা পহিল)
শাহ মিজান
তাবেদার রসুল বকুল
কাউসার চৌধুরী
নারী অঙ্গন
নূরুন্নেছা চৌধুরী রুনী
ইছমত হানিফা চৌধুরী
আমেনা আফতাব
মাহবুবা সামসুদ
সুফিয়া জমির ডেইজী
নীলিমা আক্তার
মাছুমা আক্তার চৌধুরী রেহানা
সালমা বখ্ত্ চৌধুরী
রিমা বেগম পপি
রওশন আরা চৌধুরী
অয়েকপম অঞ্জু
আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না
জান্নাতুল শুভ্রা মনি
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী
আলেয়া রহমান
মাজেদা বেগম মাজু
নাঈমা চৌধুরী
শামসাদ হুসাম
তাসলিমা খানম বীথি
রায়হানা বারী রেখা

সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আলোচিত লিখা
.: 3 weeks ago : নারী অঙ্গন :.
কিশোরী ভাবনা... (603 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

তাসলিমা খানম বীথি: ১. ছোটদের ‘শরৎ চন্দ্র’ বইটি হাতে নিতেই নিজেকে তখন কিশোরী মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো অন্য কোন বই হাতে তুলে দেবেন। যাই হোক গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর সাহিত্য আসর উপস্থাপনা শেষ করে লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম বইয়ের জন্য। বই পড়া অভ্যাস সেই ছোটব Details...


.: 4 weeks ago : :.
নবজাগরণের কবি ফররুখ আহমদ (564 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: ফররুখ আহমদ বাংলাসাহিত্যের নবজাগরণের কবি। তিনি অসাধারণ কাব্যপ্রতিভা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে ছন্দের কবি, সংগীত ঝংকারের কবি বলতে ফররুখ আহমদকেই বুঝায়। সৌন্দর্য, জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, রোমান্টিকতা, প্রেম, ভালোবাসা, অনুরাগ, উদাস জীবনের বাসনা, স্বদেশ Details...


.: 3 weeks ago : :.
বহু বিবাহ এবং ইসলাম (442 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক: একটি প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেতে ও মেয়েতে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের প্রচলন মানব সভ্যতার এক অতি সুন্দর ও পবিত্র প্রথা। সকল ধর্মে বিয়ের গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের পবিত্র মিলনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি লাভের পাশাপাশি বৈধভাবে সন্তান উৎপাদন Details...


.: 4 weeks ago : :.
ঘর পালানো মেয়ে (429 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সোহানুর রহমান অনন্ত: মগবাজারের জ্যামটা আজ আঠার মতো লেগে আছে। গত তিন দিন ধরে অফিসে লেট করে ঢুকছি। বসের আড়চোখে দেখার সিগন্যালটা আমাকে ভালই তাড়া করছে। বাস থেকে নেমে গেলাম, হেঁটে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। কিছুদূর যেতেই পকেটে ভ’মিকম্প তুলে বেজে উঠলো মোবাইলটা। জয়ার ফোন, -হ্যালো, -তোমার Details...


.: 3 weeks ago : :.
প্রেম ছিল সরল (368 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মিজানুর রহমান মিজান:
আমার প্রেম ছিল সরল
ছলনা করে বন্ধে বানাল গরল।।
শেষ বিকেলে নদীর তীরে
বন্ধের স্মৃতি জাগে অন্তরে
মান অভিমানের করুণ সুরে
আগুন নিভে না যত ঢালি জল।।
বাঁশে যেমন ধরলে ঘুণে
বাহির ভাল ভিতর শুন্যে
কায়াসম বুকের জমিনে
অঙ্গ মলিন হতাশায় অতল।।
তুই ব Details...


.: 3 weeks ago : :.
তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম (353 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: যখন প্রথম দিন কলেজের পথে পা বাড়িয়েছি তখন কে যেন বললো-কলেজ যাচ্ছ,স্কুলের সব কিছু ভুলে যাও।কলেজে চলাফেরা,ক্লাশ করা,উপস্হিতি দেয়া সবকিছু আলাদা এবং আমাদের আম্বরখানা কলোনীর পাশের বাড়ির ইলুভাই বললেন-এখানে আরেকটা সুবিধা হলো কলেজের স্যাররা স্কুলের মত বেত দিয়ে পিটান না! Details...


.: 4 weeks ago : :.
অংকে আমি কাঁচা (350 বার পঠিত)

বদরুজ্জামান জামান:
. মনে করো, রুজি
দুই হাজার প্রতিমাসে
খরচ করে এক হাজার
প্রতিমাসে দীর্ঘশ্বাসে।
. বছর শেষে জমবে তার
বার হাজার তাইনা ?
অংকে আমি খুব কাঁচা
হিসাব কষতে চাইনা।
. হঠাৎ নাকি চোর এসে
ঢুকলো তার বাসায়
তারপরের ঘটনাটা
আমাকে খুবই হাসায় ।
. সোনা গহনা Details...


.: 3 weeks ago : :.
নতুন স্বপ্ন বুনে হেমন্তের শিশির (314 বার পঠিত)

বদরুজ্জামান জামান :
কর্মক্লান্ত দিবসের সমাপ্তিতে জ্বলে সন্ধ্যাতারা
নৈস্বর্গ উদ্যান সাজায় শিশির সিক্ত জ্যোৎস্না
নিঃশব্দ ঘুমমগ্ন নক্ষত্ররাজি
মখমল ওম বিলায় ভোরের সূর্য ।
ঘাসফড়িং শিশির ভেজা সুখে ভাসে সানন্দ্যে
অবয়বের ক্লান্তি মুছে শীতের আগমনী বার্তা,
কর্দম পিচ্ছি Details...


.: 4 weeks ago : :.
পাখি (310 বার পঠিত)

মোহাম্মদ আব্দুল হক:
মন পাখি
বন পাখি
যারে যা
উড়ে যা।
সুখ পাখি
দুখ পাখি
গারে গা
সারে গা।।
Details...


.: 4 weeks ago : :.
আবর্জনার আবরণে ঢাকা (277 বার পঠিত)

মোহাম্মদ আব্দুল হক:
মসজিদ মন্দির গীর্জা প্যাগোডায়
সময়ের পবিত্র আহবান ধ্বনি উঠে
সকলে শোনেনা কেউ কেউ শুনতে পায়
আমিও ছুটি পরম পাওয়ার নেশায়।
আবর্জনা চারপাশে জমেছে অনেক
পঁচা গলিত আঁঠালো আবার শক্ত
নর্দমায় এখন আর বয়ে চলেনা কিছুই
জমাট স্যাঁতস্যাঁতে মাছিদের ভনভন।
হায়! তু Details...



www.SylhetExpress.com - First Online NEWS Paper in Sylhet, Bangladesh.

Editor: Abdul Baten Foisal Cell : 01711-334641 e-mail : news@SylhetExpress.com
Editorial Manager : Abdul Muhit Didar Cell : 01730-122051 e-mail : syfdianews@gmail.com
Photographer : Abdul Mumin Imran Cell : 01733083999 e-mail : news@sylhetexpress.com
Reporter : Mahmud Parvez Staff Reporter : Taslima Khanom Bithee

Designed and Developed by : A.S.H. Imranul Islam. e-mail : imranul.zyl@gmail.com

Best View on Internet Explore, Mozilla Firefox, Google Chrome
This site is owned by Sylhet Sifdia www.sylhetexpress.com
copyright © 2006-2013 SylhetExpress.com, All Rights Reserved