User Login | | নীতিমালা | 18 Aug 2017 : Sylhet, Bangladesh :
    সংবাদ : ভালো লেখক হতে হলে 
মননশীল মনের প্রয়োজন  সংবাদ : সিলেট প্রেসক্লাব-মহিবুন্নেছা স্মৃতি সম্মাননা  পাচ্ছেন  ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা  সংবাদ : যুবলীগ নেতা চপলের মুক্তির
দাবীতে দিরাই যুবলীগের বিক্ষোভ  সংবাদ : মহানগর মহিলা দলের সদস্য সংগ্রহ’র উদ্বোধন  সংবাদ : শাবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন   সংবাদ : সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের মানববন্ধন  সংবাদ : বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন
সিলেট মহানগর শাখার কমিটি অনুমোদিত  সংবাদ : জাফলংয়ে এমপি ইমরান আহমেদ’র হস্তক্ষেপে
বিদ্যালয়ের ভূমি জটিলতার নিরসন  সংবাদ : সিলেট জেলার ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা পুরস্কৃত
  সংবাদ : নগরীতে পাইপগানসহ ৯ মামলার দুর্ধর্ষ আসামী গ্রেফতার
  সংবাদ : বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকি উপলক্ষে ইফার পুরুষ্কার বিতরণ, আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত   সংবাদ : ইসকন প্রতিষ্ঠাতার ১২১তম  আবির্ভাব তিথিতে ১২১ পাউন্ড কেক কাটলেন বিভাগীয় কমিশনার
  সংবাদ : দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ২৫টি পাকা সড়ক সংস্কার করা হবে  সংবাদ : জাতীয় শোক দিবসে ২৬নং ওয়ার্ড  জাসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  সংবাদ : ৩য় দিনের মত সিলেটে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিক্ষোভ  সংবাদ : ২২নং ওয়ার্ড সিলেট মহানগর যুবলীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
  সংবাদ : কবি নাঈমা চৌধুরীর ‘জ্বলে ওঠে নক্ষত্র’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত  সংবাদ : সিসিকের ৪৯৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র আরিফ
  সংবাদ : সিসিকের ৪৯৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র আরিফ
sylhetexpress.com এর picture scroll bar এর code. এই কোড যেকোন website এ use করা যাবে।
| সিলেট | মৌলভীবাজার | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | বিশ্ব | লেখালেখি | নারী অঙ্গন | ছবি গ্যালারী | রঙের বাড়ই ব্লগ |

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
Phone/ Mobile No.: ০১৭১৬৪৬৮৮০০
লেখক: মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
সাংবাদিক-কলামিষ্ট

Web Address : www.sylhetexpress.com/lekhalekhiNew.php?writerID=33
মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী এর লিখা
.: 26 June 2016 : ব্যক্তিত্ব :.

চলে গেলেন জাতীয় অভিভাবক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী :

আমাদের জাতীয় অভিভাবক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান চলে গেলেন। দেশবরেণ্য লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান আর নেই। তিনি গতকাল শনিবার (১৯ রমজান, ২৫ জুন ২০১৬ ইসায়ী) সন্ধ্যা ৬-১০ মি: রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন । ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন। বাংলাদেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় আলেম ছিলেন। চিন্তাশীল একজন ইসলামী স্কলার হিসেবে দেশের বাইরেও তার খ্যাতি ছিল। বাংলাদেশে ইসলামী আর্দশ প্রচার ও প্রসারে তার অনন্য ভূমিকা দেশের তৌহিদী জনতা চিরদিন স্মরণ করবে। তিনি সকল দল,মতের নেতা-কর্মী, আলেম-ওলামাদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। এদেশের আলেম-ওলামা এবং ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। তার সম্পাদিত মাসিক মদীনা পত্রিকাটি দেশের সর্বাধিকপঠিত পত্রিকা হিসেবে ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা অর্জন করে। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পত্রিকাটি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশেষ করে মাসিক মদীনার প্রশ্নোত্তরগুলো পাঠকরা মনযোগ সহকারে পড়তেন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরে মা’য়ারেফুল কুরআন বাংলা অনুবাদ করেন। তিনি রাবেতায় আলম আল ইসলামীর সদস্য এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্নাঢ্যজীবনের অধিকারী মাওলানা মুহিউদ্দীন খান তাফসীরে মাআরিফুল কোরআনসহ শতাধিক গ্রন্থর লেখক ও অনুবাদক । মৃত্যকালে স্ত্রী,৩ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ আত্মীয় স্বজন,ভক্ত অনুরক্ত রেখেযান। মৃত্যকালে মাওলানা খানের বয়স হয়েছিলো প্রায় ৮১ বছর।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জন্ম ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ১৯৩৫ ঈসায়ীর ১৯শে এপ্রিল মুতাবিক ১৩৪২ বঙ্গাব্দের ৭ই বৈশাখ শুক্রবার জুমআর আজানের সময় কিশোরগঞ্জ জেলাধীন পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের ছয়চির গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রীক নিবাস ময়মনসিংহের গফরগাওঁ উপজেলার আনসার নগরে।
এতদঞ্চলে ও আসামের বিশাল এক অঞ্চলে সহীহ্ কুরআন তিলাওয়াতের প্রচলন এবং দ্বীনী পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে দরবেশ হাফিয আবদুল ফাত্তাহ্ মাক্কী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির অবদান স্মরণীয়। তাঁর কাছেই পিতা হাকীম মৌলবী আনসারুদ্দীন খান শুদ্ধ কুরআন পাঠ শিক্ষা করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি গফরগাঁও ইসলামিয়া হাই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে খুব কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তারপর বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আর অগ্রসর হতে পারেনি। তিনি খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দাদা তায়্যিবুদ্দীন খান ফিরিঙ্গিদের চাকুরী করাকে মোটেও ভাল চোখে দেখতেন না। তাই পিতা দক্ষিণ মোমেনশাহী অঞ্চলের সবচে বড় ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘পাঁচবাগ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা’য় শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে তিনি আরবী ভাষা শিখতেন এবং এমন বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন যে, মাদরাসার উপরের শ্রেণির আরবী সাহিত্য পড়াতেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর তিনি দক্ষতার সাথে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু মাদরাসা থেকে বেতন গ্রহণ করতেন না। তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশজ চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে দেশ বিখ্যাত চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগী। মাওলানা পাঁচবাগী ১৯৩৬ ঈসায়ীতে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রথম প্রাদেশিক আইন পরিষদ নির্বাচনে এর সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রিয়তায় তিনি তখন রূপকথার নায়ক। তিনি অধিকাংশ সময় রাজধানী কলিকাতায় থাকতেন বিধায় আনসারুদ্দীন খানকেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে হত। ১৯৩৮ ঈসায়ীতে অত্র অঞ্চলে ঋণ সালিশী বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।
মৌলবী আনসারুদ্দীন খান ছিলেন আমীরুল মুুমিনীন সায়্যিদ আহমাদ শহীদ রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির নিষ্ঠাবান অনুসারী। সায়্যিদ আহমাদ শহীদের উত্তরসূরী ফুরফুরার বিখ্যাত পীর মাওলানা আবূ বাক্র সিদ্দীকী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির নিকট বায়আত হয়ে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা অর্জন করেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের তৎকালীন সভাপতি শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির অত্যন্ত ভক্ত ছিলেন। জমিয়তের মোমেনশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দীর্ঘকাল পালন করেন। বিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশকের দিকে পাঁচবাগ থেকে প্রকাশিত ‘দ্বীন-দুনিয়া’ নামক বাংলা মাসিক পত্রিকায় ও ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ নামক আরবী সাময়িকীতে তিনি নিয়মিত লিখতেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের মাতা রাবিয়া খাতুন হলেন শাহ্ শামসুদ্দীন তুর্কী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির বংশধর। মাতা বিশুদ্ধ কুরআন পাঠ শিখেছিলেন। আর তাঁর তিলাওয়াতও ছিল সুমধুর। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন ছিল না, মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত। কিন্তু আজীবন নিয়মিত অধ্যয়ন করে তিনি উচ্চস্তরের ইল্ম অর্জন করেন। প্রতিদিন ফজর বাদ কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং রাতের কাজ শেষে অর্থসহ কুরআন পড়তেন। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানবী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির ‘বেহেশতী জেওর’, ‘রাহে নাজাত’, ‘মিফতাহুল জান্নাত’ নামক উর্দূ কিতাব, মাওলানা আবদুল হাকীম ও আলী হাসানের বাংলা তাফসীর, মাওলানা রুহুল আমীনের ‘মাসআলা ভা-ার’, ইমাাম গাযালীর ‘সৌভাগ্যের পরশমণি’ ইত্যাদি ছিল তাঁর নিত্যপাঠ্য। তৎকালীন যুগের বেশ কিছু পত্রিকা তিনি নিয়মিত পড়তেন। তন্মধ্যে ‘মাসিক নেয়ামত’ ছিল তাঁর সবচে প্রিয় পত্রিকা। মওলবী আবদুস সালাম রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির সম্পাদনায় ঢাকার আশরাফুল উলূম মাদরাসা থেকে এটা প্রকাশিত হত। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানবীর ওয়াজ-নসিহতের তরজমা ছিল এর প্রধান উপজীব্য। তাছাড়া প্রতিবেশী মেয়েরা দুপুরের পর তাঁর বাড়িতে পড়তে আসত। তিনি তাদেরকে কুরআন-কিতাব পড়াতেন, শিক্ষা দিতেন ইসলামী জীবন পদ্ধতি। মোটকথা সাংসারিক জীবনের সার্বিক পরিপাটিসহ জ্ঞানচর্চা ও ইবাদাত-বন্দেগীতে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ নারী।
শিক্ষা ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের মাতা একজন জ্ঞানী ও দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন। সন্তানদেরকে খুব ছোটবেলা থেকে ইসলামী আদব-আখলাক শিক্ষা দেয়ার প্রতি তাঁর খেয়াল ছিল অনেক বেশি। শুধু মৌখিক উপদেশ নয়, এসব বিষয়ের সযতœ অনুশীলনও তিনি করাতেন। যেকোন একটা বিষয় সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা ছিল তাঁর। কোন কাজ করার জন্য হুকুম দেয়ার অভ্যাস তাঁর ছিল না। চমৎকারভাবে আগ্রহ সৃষ্টি করে দেয়ার চেষ্টা করতেন তিনি। মাতার কাছেই মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের শিক্ষার হাতে খড়ি হয়। হাফিয নঈমুদ্দীনের নিকট তিনি কায়দা, সিপারা ও কুরআন পড়া শিখেন। পিতা তাঁকে ‘পাঁচবাগ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা’র প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। কিন্তু মাতার ইন্তিকালের পর তিনি নানীর তত্ত¡াবধানে থাকায় নানাবাড়ির নিকটবর্তী তারাকান্দি মাদরাসায় ১৯৪৭ ঈসায়ীতে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে মন বসাতে না পারায় তিনি দু’বছর পর আবার পাঁচবাগ মাদরাসায় ফিরে আসেন। তিনি পাঁচবাগ মাদরাসা থেকে ১৯৫১ ঈসায়ীতে আলিম ও ১৯৫৩ ঈসায়ীতে স্কলারশিপসহ ফাযিল পাশ করেন। পাঁচবাগের শিক্ষকগণের মধ্যে কলিকাতা ও দেওবন্দের ডিগ্রীধারী অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ আলিম মুফতী মুহাম্মাদ আলী খুরশীদমহলী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। ক্লাসের পড়ার বাইরে অনেক কিছুই তিনি তাঁর কাছে শিখেছিলেন। বহু গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের খোঁজ-খবর তিনি তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি পিতার নিকট বাংলা ও আরবী সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৩ ঈসায়ীতে উচ্চ শিক্ষার্থে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন এবং ১৯৫৫ ঈসায়ীতে হাদীস বিষয়ে কামিল ও ১৯৫৬ ঈসায়ীতে ফিক্হ্ বিষয়ে কামিল ডিগ্রী লাভ করেন। ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় যেসব শিক্ষকের নিকট অধ্যয়ন করেন তাঁদের মধ্যে আল্লামা যাফর আহমাদ উসমানী, মুফতী সায়্যিদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী, আল্লামা আবদুর রাহমান কাশগড়ী রাহিমাহুমুল্লাহ্ উল্লেখযোগ্য। আল্লামা যাফর আহমাদ উসমানী মাদরাসায় বুখারী শরীফ পড়াতেন। তাঁর কাছে তিনি বুখারীর প্রথমার্ধ দুবার পড়েন। একবার হাদীস পড়ার বছর, আরেকবার ফিক্হ্ পড়ার বছর। তাছাড়া মাঝে মাঝে ইমামগঞ্জ মাসজিদের দারসেও গিয়ে বসতেন। উল্লেখ্য যে, আল্লামা উসমানী উক্ত মাসজিদে বাদ ফজর আশরাফুল উলূম ও জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগের ছাত্রদেরকে বুখারী পড়াতেন। বুখারী শরীফের শেষাংশ পড়েছেন মুফতী সায়্যিদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদীর নিকট। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন গ্রন্থপ্রিয় মানুষ। কিতাবাদি ছাড়া তিনি কিছুই বুঝতেন না। খুব উঁচুস্তরের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ একটা কালজয়ী কিতাব। ‘কাওয়ায়িদুল ফিক্হ্’ ও ‘আদাবুল মুফতিয়্যীন’ তাঁর কাছেই অধ্যয়ন করেন। এই তিন খানা কিতাব আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, মাদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল উলূম দেওবন্দ ও পাকিস্তানের বড় বড় মাদরাসাগুলোতে পাঠ্য তালিকাভুক্ত। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা সম্পর্কে এ যুগের একজন শীর্ষস্থানীয় হাদীসতত্ত¡বিদ আল্লামা আবুল ফাত্তাহ্ শামী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “একবার আমি এই বুযুর্গ আলিমের সাক্ষাত পেয়েছিলাম মাসজিদুন নাবাবীতে। তাঁর কাছে আমি একখানা হাদীস পাঠ করেছিলাম যেন বলতে পারি যে, মুফতী আমীমুল ইহসানের ন্যায় একজন যুগশ্রেষ্ঠ হাদীসতত্ত¡বিদের নিকট থেকে আমি হাদীস শ্রবণ করেছি।” তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করার পর জাতীয় মাসজিদ বায়তুল মুকাররামের খতীবের পদ অলঙ্কৃত করেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ফিক্হ্ পড়েন আল্লামা শাফী হুজ্জাতুল্লাহ্ আনসারী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির নিকট। তিনি ছিলেন লক্ষেèৗর প্রখ্যাত আলিম ও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানী মাওলানা আবদুল বারী ফিরিঙ্গিমহল্লী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির জ্ঞাতি ভাই। তাঁর সম্পর্কে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান বলেন, “আল্লামা শাফী রাহ্. যখন আমাদেরকে পড়াতেন তখন তাঁর চোখ থেকে যেন প্রতিভার জ্যোতি ঠিকরে পড়তো। এমন শুদ্ধভাষী এবং অল্পকথায় জটিল বিষয় বুঝিয়ে দেয়ার মত কুশলী প-িত ব্যক্তি জীবনে আমি খুব কমই পেয়েছি।” তিনি মুসলিম শরীফ ও তিরমিযী শরীফের একাংশ অধ্যয়ন করেন মাওলানা মুমতাজ উদ্দীন রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির কাছে। তিনি মুসলিম শরীফের ভূমিকা অংশের একখানা বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন উর্দূ ভাষায় যা উপমহাদেশের সর্বত্র সমাদৃত হয়। তাঁর এক পুত্র ব্যারিস্টার মওদুদ আহমাদ বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধনমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করেন।

বাল্যকালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। পিতা ‘মাসিক মোহাম্মদী’, ‘সাপ্তাহিক মোহাম্মদী’, ‘আল-এছলাম’, ‘শরীয়তে এছলাম’, ‘মাসিক নেয়ামত’, ‘সাপ্তাহিক হানাফী’ প্রভৃতি পত্র-পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। পাঁচবাগ মাদরাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়াকালে তাঁকে পিতা বেঙ্গল গভর্নমেন্টের প্রচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘বাংলার কথা’ নামক সাপ্তাহিক পত্রিকার গ্রাহক করে দেন। বিজনৌর থেকে প্রকাশিত উর্দূ অর্ধসাপ্তহিক ‘মদীনা’ এবং দিল্লী থেকে প্রকাশিত উর্দূ মাসিক ‘মওলবী’ তাদের ঘরে নিয়মিত আসত। তাছাড়া তাঁর পিতার নিজস্ব একটা গ্রন্থাগার ছিল। তাতে সে যুগের অনেক মূল্যবান বই ছিল। পিতা তাঁকে বই-পুস্তক সংগ্রহ করার ব্যাপারে খুবই উৎসাহ দিতেন। তাই ছোটবেলা থেকেই বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকার প্রতি তাঁর মনে তীব্র আকর্ষণ গড়ে উঠে।

মাতার অন্তিম উপদেশ ও ইন্তিকাল ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান মাত্র বার বছর বয়সে তাঁর স্নেহময়ী মাকে হারান। মুমূর্ষু অবস্থায় মা তাঁকে ডেকে বলেন, “বাজান, আমি তো চললাম। আমি না থাকাকালে তুমি কি কর তা আমি দেখব। এমন কিছু কর না যা দেখে আমার আত্মা কষ্ট পায়।” তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে জিজ্ঞেস করেন, “মাগো, বড় হয়ে কি করলে তোমার আত্মা খুশি হবে?” মা তখন ধরা গলায় বলেন, “তোমাকে নিয়ে কত স্বপ্নই তো ছিল। সব কথার বড় কথা, তুমি হবে ইসলামের একজন সাহসী সৈনিক। যদি আল্লাহ্ পাক তওফীক দেন তবে বড় হয়ে ‘মাসিক নেয়ামত’-এর মতো একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে চেষ্টা করবে। আল্লাহ্র কথা, আল্লাহ্র রাসূলের কথা লিখে প্রচার করবে। আমি দুআ করে যাই, আল্লাহ্ তোমাকে সে শক্তি দিবেন।” ১৯৪৬ ঈসায়ীর ৮ই অক্টোবর মুতাবিক ১৩৫৩ বঙ্গাব্দের ২২শে আশ্বিন মঙ্গরবার মাগরিবের সময় স্নেহময়ী মাতা ইন্তিকাল করেন।
সাংবাদিকতা ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ছাত্রজীবন থেকেই সহিত্যচর্চা শুরু করেন। ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসায় অধ্যয়নকালে ‘সাপ্তাহিক তালীম’, ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’ ‘সাপ্তাহিক কাফেলা’, ‘সাপ্তাহিক নেজামে ইসলাম’, ‘দৈনিক ইনসাফ’, ‘দৈনিক আজাদ’, ‘দৈনিক মিল্লাত’ প্রভৃতি তখনকার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় লেখালেখি করেন। তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক নেজামে ইসলাম’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫৫ ঈসায়ীর শেষের দিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘পাসবান’ নামক বিখ্যাত উর্দূ দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক নিযুক্ত হন এবং ১৯৬০ ঈসায়ীতে তা বন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫৭ ঈসায়ীতে ‘আজ’ নামে ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৭ ঈসায়ীর ১৫ই আগস্ট ‘আজ’-এর প্রথম সংখ্যা তখনকার সময়ের সেরা লেখকদের রচনা নিয়ে প্রকাশিত হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ‘আজ’ বাজারের সকল সাময়িকীর সাথে প্রতিযোগিতায় প্রচার সংখ্যার শীর্ষে পৌঁছে। ১৯৬০ ঈসায়ীতে কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া পর্যন্ত তিনি তা সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৬০ ঈসায়ীতে ‘মাসিক দিশারী’, ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ ঈসায়ী পর্যন্ত ‘সাপ্তাহিক নয়া জামানা’ সম্পাদনা করেন এবং ১৯৬১ ঈসায়ী থেকে অদ্যবধি ‘মাসিক মদীনা’ সম্পাদনা করছেন।
বিবাহ ঃ ১৯৫৮ ঈসায়ীতে মোমেনশাহী জেলাধীন ত্রিশাল উপজেলার নওয়াপাড়া মুন্সিবাড়ি নিবাসী মাওলানা হাফিয তাফাজ্জুল হুসাইনের দ্বিতীয় সন্তান রহিমা খাতুনের সাথে তাঁর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। তিনি তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান লাভ করেন। ছেলেরা হলেন মোস্তফা মঈনুদ্দীন খান, মোর্তজা বশীরুদ্দীন খান ও আহমাদ বদরুদ্দীন খান। মেয়েরা হলেন রাবিয়া পারভীন ও আয়িশা সিদ্দীকা ইয়াসমিন।
‘মাসিক মদীনা’ প্রকাশ ঃ ১৯৬১ ঈসায়ীতে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সম্পাদনায় ‘মাসিক মদীনা’ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। ১লা মার্চ বিকাল পাঁচটায় ৫৫/৩ ইংলিশ রোড, ঢাকায় অবস্থিত মদীনা কার্যালয়ের সম্মুখস্থ খালি জায়গায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত হন ডক্টর মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁঁ, গোলাম মোস্তফা, মোশাররফ হোসেন, তালিম হোসেন, চৌধুরী শামসুর রহমান, খান বাহাদুর জসীমুদ্দীন, দেওয়ান আবদুল হামীদ প্রমুখ বিখ্যাত লেখক, কবি ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। ‘মাসিক মদীনা’র প্রথম কপি একশ টাকায় কিনে নেন খান বাহাদুর জসীমুদ্দীন (নারায়ণগঞ্জ) এবং দ্বিতীয় কপি কিনেন ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্। পরদিন ‘দৈনিক আজাদ’, ‘দৈনিক সংবাদ’, ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ প্রভৃতি বিখ্যাত বাংলা পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় মাসিক মদীনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের খবর ফলাও করে প্রকাশিত হয়। ‘মদীনা’র ক্ষুরধার লেখনী ও তেজস্বী ভাষায় ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা সম্পাদকের উপর একাধিক মামলা দায়ের করে। ১৯৯৫ ঈসায়ীতে শুনানী শেষে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবদুল হান্নান এক আদেশ বলে সম্পাদককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। কালক্রমে ‘মাসিক মদীনা’ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সর্বাধিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে পরিণত হয়।
আন্দোলন-সংগ্রাম ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের ছোটবেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর সাথে অনেক কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান লিখেন, “সুভাষ বসুর আজাদ হিন্দ ফওজের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল তাঁর। ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনেরই বিশেষ কোন গোপন বার্তা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে কলিকাতা যাওয়ার পথে এদিকটায় এসেছিলেন। মাওলানা শামসুল হুদার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আমার আব্বার সাথেও ছিল তাঁর আন্তরিক বন্ধুত্ব। পাঁচবাগের চারদিকে তখন ইংরেজের গুপ্তচরেরা সব সময় ঘুর ঘুর করতো। এ কারণে মাওলানা ইসলামাবাদী প্রায় ছদ্মবেশে কিশোরগঞ্জ হয়ে আমাদের এদিকটায় এসেছিলেন।”
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা এলাকায় ছোট একটা মাসজিদ ছিল। এ মাসজিদের পাশ দিয়ে নামাযের সময় বাজনাসহ হিন্দুদের মুর্তি নিয়ে যেতে বাধা দেয় মুসল্লীরা। মুসলমানদের এই বাধাদান রীতিমত দুঃসাহস, তাই যে কোন মূল্যে মাসজিদের সামনে দিয়েই বাদ্যসহ মুর্তি নিয়ে যেতে জেদ ধরে হিন্দুরা। ফলে ১৯৪২ ঈসায়ীর ২৪শে অক্টোবর পুলিশের নির্বিচার গুলি বর্ষণে মসজিদের মেহরাবের কাছেই তিন জন শহীদ হন এবং আরো অনেকে আহত হন। তখন থেকে এ মাসজিদ ‘শহীদী মাসজিদ’ নামে পরিচিত হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় কিশোরগঞ্জ ও মোমেনশাহী জেলায় দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে পরবর্তী জুমআর দিন দলে দলে লোক কিশোরগঞ্জের দিকে ছুটে যায়। কিন্তু সরকারের গুর্খা বাহিনীর সাম্ভাব্য অত্যাচারের আশংকায় মুরব্বীগণ মারমুখী জনতাকে ফিরিয়ে দেন। এ প্রতিবাদে প্রধানত নেতৃত্ব দেন মাওলানা আতাহার আলী সিলেটী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি পরবর্তীতে শহীদী মাসজিদকে স¤প্রসারিত করে দেশের একটা সেরা মাসজিদে রূপান্তরিত করেন। এ মাসজিদকে কেন্দ্র করেই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া ইমদাদিয়া’ গড়ে উঠে। শহীদী মাসজিদের মর্মান্তিক ঘটনা মুহিউদ্দীন খানের কচি মনে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ছাত্র জীবনে তিনি বহু বার এ মাসজিদে নামায পড়তে যান এবং মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। গ্রামে গ্রামে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় ১৯২৬ ঈসায়ীতে অনুষ্ঠিত বরিশাল জেলার কুলকাঠি গ্রামের ভয়াবহ ঘটনাও আলোচিত হত। সেখানেও মাসজিদের সামনে দিয়ে বাদ্যসহ মুর্তি নিয়ে যাওয়ার জিদ এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টার ফলে পুলিশের গুলিতে বহু মুসলমান নিহত হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে কুলকাঠির ঘটনাটিই ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার প্রথম সূত্রপাত। উল্লেখ্য যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত তুরস্ককে ধ্বংস করা এবং তেরো শতাধিক বছরের ইসলামী খিলাফাত উৎখাত করার জন্য সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশ তথা ইয়াহুদী-নাসারাদের নগ্ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আলিম সমাজের আহŸানে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের নাম ছিল খিলাফাত আন্দোলন। মাওলানা মুহাম্মাদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত খিলাফাত আন্দোলনের সাথে তৎকালীন হিন্দু নেতৃত্বও একাত্ব হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিতভাবে বৃটিশ শত্রুদেরকে এ দেশ ত্যাগে বাধ্য করতে আন্দোলন করতে থাকে। খিলাফাত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের যে কাংক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তা বানচাল করার জন্য বৃটিশ সরকার এক শ্রেণির উগ্র গোঁড়া হিন্দুকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়। শুরু হয় এ দেশের প্রধান দুই স¤প্রদায় হিন্দু ও মুসলমান পরস্পরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা। বলতে গেলে এখান থেকেই এ দেশবাসীর সুদূরপ্রসারী দুর্ভাগ্যের শুরু।
১৮৯৭ ঈসায়ীর ২৭শে আগস্ট একটা বিশ্ব ইয়াহুদীবাদী সংস্থা গড়ে উঠে। সংস্থার প্রথম সম্মেলনেই মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তন্মধ্যে এক নম্বর ছিল ইসলামী খিলাফাত উৎখাত। ইয়াহুদী-নাসারাদের যৌথ ষড়যন্ত্রের ফলে ১৯২৩ ঈসায়ীর ২৩শে অক্টোবর ইসলামী খিলাফাতের অবসান ঘটে। এতে মুসলিম জাতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বশূন্য হয়ে চিরকালের জন্য পরস্পর বিছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন খৃস্টানদের লেখায় ও বক্তব্যে এমন একটা ভাব প্রকাশ পেতে থাকে যে, মুসলিম জাতি মাঝি-মাল্লাহীন নৌকার ন্যায় একেবারেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে; এদের চূড়ান্ত উৎখাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এহেন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সঊদী বাদশাহ আবদুল আজীজ আল-সঊদের সহযোগিতায় তৎকালীন ফিলিস্তিনের প্রধান মুফতী ও বিশ্বখ্যাত মহাপুরুষ সায়্যিদ আমীন আল-হুসাইনী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি ১৯২৬ ঈসায়ীতে পবিত্র মক্কা নগরীতে উম্মাহ্র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রাজ্ঞ আলিমগণের এক মহাসম্মেলন আহŸান করেন। এতে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদবী, মাওলানা আব্দুর বারী ফিরিঙ্গিমহল্লী, ডক্টর ইকবাল প্রমুখ মনীষীগণ যোগদান করেন। উক্ত সম্মেলনে তিনদিন আলোচনা-পর্যালোচনার পর ‘মুতামারে আলমে ইসলামী’ নামে একটা বিশ্বমুসলিম সংস্থা গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে, খিলাফাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ সংস্থাটি মুসলিম উম্মাহ্র প্রধান সংযোগসেতু ও পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে যাবে। তাছাড়া বিভিন্ন শত্রুশক্তির মুকাবিলাও এ সংস্থা করবে। উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংস্থাটি নিষ্ঠার সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ও.আই.সি., বিশ্ব মুসলিম সংবাদ সংস্থা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠাসহ ইয়াহুদী-নাসারাদের বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিম জাতিকে সতর্ক করে আসছে। মক্কা শরীফে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি সমগ্র বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মাওলানা আকরাম খাঁ, মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজমী, মাওলানা উবায়দুল হক রাহিমাহুমুল্লাহ্ প্রমুখ বাংলার সেরা ব্যক্তিত্ব ১৯২৬ ঈসায়ীতে প্রাদেশিক রাজধানী কলিকাতায় মাদরাসা ছাত্রদের সংগঠন ‘জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’ গঠন করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই এ সংগঠনের আহŸানে ঢাকার ‘ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হল’-এ দুই দিন ব্যাপী এক ছাত্র প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মত এ সম্মেলনে যোগদান করেন এবং প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ভাষণ দেন। পরদিন বাংলা দৈনিক ‘আজাদ’ ও উর্দূ দৈনিক ‘পাসবান’ পত্রিকায় তাঁর নামসহ বক্তৃতার সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হয়। অতঃপর তিনি এ সংগঠনের কাউন্সিল সদস্য হন এবং নিষ্ঠার সাথে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যান। তাঁর প্রচেষ্টায় ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিক তৎপরতা বহু দূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়। তারপর ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর ঢাকার ‘ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হল’-এ সংগঠনের বার্ষিক সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হয়। তিনি দক্ষতার সাথে তা আনজাম দেন। তিনি দু’মেয়াদ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫১ ঈসায়ীর নভেম্বর মাসে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার দাবীতে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে তিন দিন ব্যাপী এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মাওলানা আতাহার আলী সিলেটী ও মাওলানা সায়্যিদ মুসলিহ্ উদ্দীন যিনি তরপের মহান বিজেতা সায়্যিদ নাসিরুদ্দীন সিপাহসালার রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির বংশধর। তাঁদের প্রধান সহযোগী ছিলেন বিশিষ্ট বাগ্মী মাওলানা আশরাফ আলী ধরম-লী ও সুলেখক মাওলানা আবদুল মাজীদ খান রাহিমাহুমুল্লাহ্। দুজনই সদ্য দেওবন্দ পাশ করা তেজস্বী আলিম ছিলেন। এ সম্মেলনের জন্য মাওলানা মুহিউদ্দীন খান একাধারে পনেরো দিন সাধারণ কর্মীর দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন উপমহাদেশের গৌরব আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী, আল্লামা যাফর আহমাদ উসমানী, আল্লামা ইহতিশামুল হক থানবী, মুফতী শাফী উসমানী রাহিমাহুমুল্লাহ্সহ বহু বিদেশী বুযুর্গ। তাছাড়া দেশীয় সেরা আলিমগণের মধ্যে ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম, কুমিল্লার মাওলানা ইয়াসীন, নোয়াখালীর মাওলানা নূরুল্লাহ্, চট্টগ্রামের মাওলানা আবদুল ওয়াহ্হাব, মাওলানা সিদ্দীক আহমাদ, মুফতী ইঊসুফ, মাওলানা উবায়দুল আকবর, সিলেটের মাওলানা সাখাওয়াতুল আম্বিয়া, মৌলভীবাজারের মাওলানা আবদুর রাহমান সিংকাপনী, ঢাকার মুফতী দীন মুহাম্মাদ খান, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, ফরিদপুরের পীর আবা খালিদ রশীদুদ্দীন, শর্ষিনার পীর মাওলানা নিসারুদ্দীন, চরমোনাইর পীর মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মাদ ইসহাক রাহিমাহুমুল্লাহ্সহ অনেকেই যোগদান করেন। শোলাকিয়া ময়দান লক্ষাধিক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মহাসম্মেলন থেকে দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করা হয় যে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ্র নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটা ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। জনগণ উচ্চসিত কন্ঠে এ প্রস্তাব সমর্থন করে শ্লোগানে ফেটে পড়ে। তখনকার শাসকদল ‘মুসলিম লীগ’ উলামা-মাশায়েখের এ আন্দোলনকে ভাল চোখে দেখেনি। মাওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের সরকার বিরোধী আন্দোলন তখনো পর্যন্ত হাঁটি হাঁটি পা পা অবস্থা। এমন সময়ে কিশোরগঞ্জের মহাসম্মেলন সর্বমহলেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।
১৯৪৮ ঈসায়ীতে ডক্টর ইনামুল্লাহ্ খান ‘মুতামারে আলমে ইসলামী’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি সংস্থার দাওয়াত নিয়ে সারা বিশ্ব সফর করেন। ১৯৫৬ ঈসায়ীতে ঢাকায় আসেন। তিনি মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সাথে ঘরোয়া আলোচনার এক পর্যায়ে তাঁকে সংস্থায় যোগ দেয়ার আহŸান জানান। তখন থেকেই মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ‘মুতামারে আলমে ইসলামী’র সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যান। ১৯৬২ ঈসায়ীতে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও বিশ্ব প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে তখনকার ফিলিস্তিনের প্রধান মুফতী ও বিশ্ববিখ্যাত বুযুর্গ সায়্যিদ আমীন আল-হুসাইনী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির সাথে তাঁর সাক্ষাত হয় এবং অবশিষ্ট জীবন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ্র সেবায় নিয়োজিত থাকার শপথ (বায়আত) গ্রহণ করেন। উক্ত কাউন্সিলে তিনি সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০ ঈসায়ীতে তিনি ‘মুতামারে আলমে ইসলামী’ বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মনোনীত হন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ১৯৮৮ ঈসায়ীতে সাঊদী ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রাবিতায়ে আলমে ইসলামী’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেন। এ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল আশরাফুল উলূম মাদরাসা ও মাদরাসার নিকটবর্তী একটা দু’তলা বাড়ির উপর তলায় অবস্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কার্যালয়। মাঝে মাঝে জমিয়তে উলামার সভা হত। সভায় মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আযমী আমন্ত্রিত হতেন। মাওলানা আযমীর স্নেহধন্য হিসেবে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানও এসব সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন। এভাবেই কিছুদিনের মধ্যে তিনি জমিয়তের একজন কর্মী হয়ে যান। সাধারণত সভার কার্যবিবরণী লিখা, সংবাদপত্রে দেয়ার জন্য খবর প্রস্তুত করা, নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা-বিবৃতি লিখে দেয়া প্রভৃতি কাজে শরীক হতেন। জমিয়তে উলামার তখনকার সভাগুলোতে উপস্থিত থাকতেন ফরিদপুরের পীর আবা খালিদ রশীদুদ্দীন, শর্ষিনার পীর মাওলানা নিসারুদ্দীন, চরমোনাইর পীর মাওলানা সায়্যিদ ইসহাক, মাওলানা সাখাওয়াতুল আম্বিয়া সিলেটী, মাওলানা আবদুর রাহমান সিংকাপনী, মাওলানা আবদুল্লাহিল কাফী, মাওলানা আতাহার আলী সিলেটী, মাওলানা সায়্যিদ মুসলেহুদ্দীন, মুফতী দীন মুহাম্মাদ খান রাহিমাহুমুল্লাহ্ প্রমুখ যুগশ্রেষ্ঠ উলামা-মাশায়িখ। পরবর্তীতে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান আমলের শেষ ৬/৭ বছর তিনি মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহির সাথে দেশের উভয় অংশের সর্বত্র জমিয়তের দাওয়াত নিয়ে ঘুরে বেড়ান। ১৯৭০ ঈসায়ীতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও নিার্বচনী এলাকায় জমিয়তের প্রার্থী হিসেবে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ ঈসায়ীর ২৫ ও ২৬শে ডিসেম্বর ঢাকার পটুয়াটুলি জামে মাসজিদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পুনর্গঠিত হয় এবং তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ ঈসায়ীর ২৮শে মার্চ জামিয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদে অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে তিনি সহ সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ ঈসায়ীর ৩০শে নভেম্বর ও ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে তিনি নির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০৩ ঈসায়ীর ১০ই জুলাই তিনি পুনরায় সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি নিযুক্ত হন। ২০০৫ ঈসায়ীর ২০শে মে তৎকালীন সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথী ইন্তিকাল করলে তিনি কয়েক মাস ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পলন করেন। ২০০৮ ঈসায়ীর ২৬শে জুন মাহবুব আলী ইন্সটিটিউট মিলনায়তন মতিঝিল, ঢাকায় অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে তিনি আবার নির্বাহী সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৫ ঈসায়ীর ৭ই নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জমিয়তের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইসলামী একাডেমি প্রতিষ্ঠা ঃ বিংশ শতাব্দীর ষষ্ঠ দশকের মাঝামাঝিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য ও ডেপুটি স্পীকার জনাব এ.টি.এম. আবদুল মতীনের সহযোগিতায় বায়তুল মুকাররাম কমপ্লেক্সের ভেতরেই একটা দালানের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে ‘দারুল উলূম ইসলামী একাডেমি’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এ প্রতিষ্ঠান মাত্র এক বছরের মধ্যে অনূন্য দশটা কিতাব অনুবাদ করে প্রকাশ করে। এখান থেকে ১৯৬০ ঈসায়ীতে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সম্পাদনায় ‘মাসিক দিশারী’ নামে একটা গবেষণা পত্রিকাও প্রকাশিত হয়। কয়েক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটা ভাল অবস্থানে পৌঁছলে দেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক আয়্যূব খানের আমলে একে সরকারিকরণ করা হয়। মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে, তিনি ইচ্ছা করলে এখানে ভাল বেতনে সম্মানজনক চাকরী করতে পারেন। কিন্তু এ প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি এ কারণে যে, ইসলামের সহীহ্ ব্যাখ্যা দেয়ার উদ্দেশ্যে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তা সরকারি ইসলামের নানা অপকর্মে ব্যবহৃত হবে। কিছুদিনের মধ্যেই মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগপত্র নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক পদে যোগদান করেন। উল্লেখ্য যে. বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ রাখা হয়।

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা ঃ ১৯৫৯ ঈসায়ীতে ময়মনসিংহ শহরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল সাময়িক পত্র-পত্রিকার সম্পাদক-মালিকদের একটা সম্মেলন আহŸান করা হয়। এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক জনমত’ সম্পাদক কিতাব আলী তালুকদার এবং তাঁর প্রধান সহযোগী ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। সম্মেলনের অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্য ‘সাপ্তাহিক জনমত’ কার্যালয় সংলগ্ন একটা খালি বাড়ি প্রশাসনের নিকট থেকে বরাদ্দ নেয়া হয়। দেশের সকল সাময়িক পত্র-পত্রিকার সাথে যোগাযোগ ও সম্মেলনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এ বাড়িতে বিশ/একুশ দিন অবস্থান করেন। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জাকির হুসাইন। সভাপতিত্ব করেন ‘সাপ্তাহিক আরাফাত’ সম্পাদক মাওলানা আবদুল্লাহিল কাফী। এতে ময়মনসিংহ শহরের সর্বস্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শরীক হন। সম্মেলনে উক্ত বাড়িকে প্রেসক্লাবের জন্য স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করান মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কিছু আসবাবপত্র সংগ্রহ করে তা চালু করেন। এ সম্মেলন থেকেই গঠিত হয় ইস্ট পাকিস্তান পিরিওডিক্যাল এসোসিয়েশন। এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হল অবহেলিত সাময়িক পত্র-পত্রিকাগুলোর মানোন্নয়ন ও দাবী-দাওয়া আদায়। মাওলানা আবদুল্লাহিল কাফী এ সংস্থার সভাপতি, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সহ সভাপতি ও কিতাব আলী তালুকদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সরকার কর্তৃক কুরআনের উপদেশাবলি প্রকাশ ঃ বিংশ শতাব্দীর সপ্তম দশকের প্রথম দিকে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় পবিত্র কুরআনের প্রত্যক্ষ উপদেশাবলীর সমন্বয়ে একটা মূল্যবান পুস্তক প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এ পুস্তক সংকলনের জন্য যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছিল তার সভাপতি ছিলেন শামসুল উলামা বেলায়েত হুসাইন এবং সদস্য ছিলেন ডক্টর মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ, ডক্টর সিরাজুল হক ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ নির্বাচন ও তা বাংলায় অনুবাদ করে কমিটির কাছে পেশ করার দায়িত্ব অর্পিত হয় মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের উপর। তিনি এ দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করেন।১
পিতৃবিয়োগ ঃ ১৯৭৬ ঈসায়ীর ৬ই সেপ্টেম্বর মুতাবিক ১৩৯৬ হিজরীর ১০ই রামাযান সোমবার দুপুর প্রায় ১১টার সময় পিতা হাকীম মৌলবী আনসারুদ্দীন খান ইন্তিকাল করেন। সেদিন আসরের নামাযের পর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাযের ইমামতি করেন মরহুমের জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। জানযায় উপস্থিত ছিলেন খলিফায়ে মাদানী মাওলানা মুহিবুর রাহমান লাকসামী, খলিফায়ে মাদানী মাওলানা আমিনুল হক মাহমূদী, মাওলানা সায়্যিদ তোয়াহা, মাওলানা আলী নেওয়াজ রাহিমাহুমুল্লাহ্ প্রমুখ বিশিষ্ট আলিমসহ প্রায় ২০-২৫ হাজার লোক। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লংমার্চ ঃ ভারত সরকার একতরফাভাবে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কি. মি. দূরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সম্মিলিত উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করে। এ বাঁধ নির্মিত হলে নদীদ্বয়ের নাব্যতা হারিয়ে যাবে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই এ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ‘ভারতীয় নদী আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে ২০০৫ ঈসায়ীর ৯ ও ১০ই মার্চ টিপাইমুখ অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চের ডাক দেন। এতে দেশের প্রায় ত্রিশটা সংগঠন যোগদান করে। লংমার্চ শেষে জকিগঞ্জে অনুষ্ঠিত লাখো জনতার সমাবেশে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে টিপাইমুখ বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা ব্যক্ত করেন এবং তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়।
সমাজকল্যাণমূলক কার্যাবলি ঃ অসহায়, দরিদ্র ও ইয়াতিম ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, সম্বলহীন লোকদের বসত বাড়ি নির্মাণসহ সার্বিক কল্যাণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বান্দরবন জেলার কয়েকশ উপজাতি পরিবার তাঁর সহযোগিতায় ইসলাম গ্রহণ করে। সেখানে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষকে তিনি ‘তাওহীদ মিশন’ নামক সংস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন করেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়ি, মাসজিদ, মকতব ও স্কুল নির্মাণ করেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন এলাকায় বহু মাসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, মকতব, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।
বিদেশ সফর ঃ ইসলামের অগ্রগতি ও মুসলিম জাতির কল্যাণের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে তিনি সাঊদী আরবের মাক্কা, মাদীনা, জিদ্দা, রিয়াদ; সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দুবাই; ইরাকের বাগদাদ, বসরা, নজফ, কারবালা; মিশরের কায়রো, সুয়েজ, তানতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য নগরীগুলো একাধিকবার সফর করেন। তাছাড়া তিনি কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, সুমালিয়া, নাইজেরিয়া, সাইপ্রাস, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়সিয়া, ইন্দোনেসিয়া প্রভৃতি দেশ কয়েক বার সফর করেন।

রচনাবলি ঃ প্রতীভাধর মাওলানা মুহিউদ্দীন খান বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্য রচনা, সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলা ভাষায় সীরাত সাহিত্যের বিকাশে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি প্রায় একশ পাঁচ খানা গ্রন্থ অনুবাদ ও রচনা করেন। মুফতী শাফী উসমানী রচিত ‘তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন’ (আট খ-), ‘সীরাতে রাসূলে আকরাম সা.’ ও ‘আদাবুল মাসাজিদ’, আল্লামা শিবলী নুমানী ও আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদবী প্রণিত ‘সীরাতুন্নবী সা.’, আল্লামা আবদুর রাহমান জামী কৃত ‘শাওয়াহিদুন নুবুওয়াত’, ডা. আবদুল হাই কৃত ‘উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সা.’, শায়খুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলবী কৃত ‘প্রিয় নবীজীর অন্তরঙ্গ জীবন’, শায়খ আবদুল হক দেহলবী রচিত ‘হৃদয়তীর্থ মদীনার পথে’, আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী প্রণিত ‘খাসায়েসুল কুবরা’ (দুই খ-), ইমাম গাযালী রচিত ‘ইহ্ইয়াউ উলূমুদ্দীন’ (পাঁচ খ-), ‘মাকতুবাতে ইমাম গাযালী রাহ্.’, মাওলানা ফযলে হক খয়রাবাদী রচিত ‘আযাদী আন্দোলন-১৮৫৭’, মাওলানা জাহিদ আল-হুসাইনী রচিত ‘চেরাগে মুহাম্মাদ’, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ রচিত ‘জীবন সয়াহে মানবতার রূপ’, আল্লামা মানযূর নুমানী রচিত ‘ইরানী ইনকিলাব, ইমাম খোমেনী ও শীআ মতবাদ’ প্রভৃতি বিখ্যাত গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করেন। তাছাড়া ‘কুরআন পরিচিতি’, ‘রওজা শরীফের ইতিকথা’, ‘স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ্ সা.’, ‘নূরুল ঈমান’ (দুই খ-), ‘কুড়ানো মানিক’ (দুই খ-), ‘দরবারে আউলিয়া’, ‘হযরতজী মাওলানা মুহাম্মাদ ইল্ইয়াস রাহ্.’, ‘ইসলাম ও সমকালীন বিস্ময়কর কয়েকটি ঘটনা’ প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। এতদ্ব্যতীত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবনের খেলা ঘরে’ এবং আধুনিক আরবী-বাংলা ও বাংলা-আরবী অভিধান ‘আল-কাওসার’ প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁর সম্পাদিত ‘মাসিক মদীনা’র প্রশ্নোত্তর সংকলন ‘সমকালীন জিজ্ঞাসার জবাব’ বিশ খ-ে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ‘মুসলিম জাহান’ নামে একখানা বাংলা সাপ্তহিক প্রত্রিকা প্রকাশ করেন।
সংবর্ধনা ও সম্মাননা ঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান বিভিন্ন সময়ে বহু সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও পদক লাভ করেন। তন্মধ্যে ১৯৯৫ ঈসায়ীতে আনজুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কর্তৃক গুণীজন সংবর্ধনা, ১৯৯৯ ঈসায়ীতে ইংল্যান্ডের ইউএনবি কর্তৃক ‘বাহরুল উলূম’ উপাধি ও পদক, ২০০৭ ঈসায়ীতে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক একাডেমি কর্তৃক জাতীয় ব্যক্তিত্ব সংবর্ধনা, ২০০৮ ঈসায়ীতে মাওলানা ভাসানী রিসার্চ একাডেমি কর্তৃক গুণীজন সংবর্ধনা ও সম্মাননা পদক, ২০০৯ ঈসায়ীতে জালালাবাদ স্বর্ণ পদক উল্লেখযোগ্য।

প্রসঙ্গ টিপাইমুখবাধঁ :
টিপাইমুখবাধঁ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদেন তিনি। ২০০৫ সালের ৯ ও ১০ মার্চ রাজধানী থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ অভিমুখে ঐতিহাসিক ফ’মার্চের নেতৃত্বদেন।


সিলেটে সংর্বধনা:

বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যে অনন্য অবদান রাখায় স্বর্ণপদক ও সংবর্ধনা দিয়েছে জালালাবাদ লেখক ফোরাম সিলেট। এ উপলক্ষে বিগত ১৯ মার্চ ২০০৯ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক ঝাকজমকর্পূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফোরামের সভাপতি লেখক ও গবেষক শাহ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক জালালাবাদ এর নির্বাহী সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আব্দুল হামিদ মানিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক রশীদ জামীল। মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের প্রতি উৎসর্গকৃত সম্মাননা পত্র পাঠ করেন- ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান। কবিতা পাঠ করেন কবি আব্দুল কুদ্দুস ফরিদী। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার জন্য মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এর অবদান অবিস্মরণীয়। তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনকে সহজ সরল বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে তিনি সাধারণ মানুষের কুরআন বুঝা সহজ করে দিয়েছেন, এপার বাংলা ওপার বাংলা উভয় বাংলার মানুষ তার এই অবদানে উপকৃত হচ্ছে।
মেয়র মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে একজন নিরব সমাজকর্মী উল্লেখ করে বলেন- কোন মহান ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কতটুকু স্বীকৃতি দিল না দিল তাতে কিছু যায় আসে না। এই মহান ব্যক্তিরা মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করেন। তিনি বলেন-মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এর সম্পাদিত মাসিক মদীনা মুসলমান জাতিকে খাটি মুসলমান হওয়ার চর্চা করতে সাহায্য করে। আমরা যদি মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের প্রদর্শিত পন্থায় অগ্রসর হই, তাহলেই প্রকৃত অর্থে উনাকে সম্মান জানানো হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন- এক সময় যখন মুসলমানদেরকে গবাদি পশুর চাইতে বেশী কিছু মনে করা হতো না, যখন মুসলমানরা ছিল চরমভাবে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও অবহেলিত, ঠিক তখনই জন্ম হয় মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের। তিনি বলেন- মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের সারাটি জীবন কেটেছে ঢাকায়, তার সম্পাদিত মাসিক মদীনার জন্ম ঢাকায়, আমি নিজে অবস্থান করি ঢাকায়, অথচ সে ঢাকাবাসী যা পারেনি সেই কাজটি আজ করে দেখালো জালালাবাদ লেখক ফোরাম তথা সিলেটবাসী। গোটা বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনের কাঁধে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের প্রতি যে ঋণের বোঝা ছিল সেটা আজ কিছুটা হালকা হলো। মাওলানা আলীনুর ও মুফতি মুফিজুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংবর্ধিত অতিথি ছাড়া ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল, মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল এম. আতাউর রহমান পীর, সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান সম্পাদক- মোস্তফা মইন উদ্দীন খান, ওসমানী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ শিব্বির আহমদ শিবলী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ বদিউজ্জামান ফারুক, প্রফেসর রেজাউল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা আশরাফ আলী মিয়াজানী, মুফতি নোমান সিদ্দিক, মুছা আল হাফিজ, মাওঃ আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, মাওলানা গাজী রহমত উল্লাহ, মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী, সৈয়দ এহসান আহমদ, সাংবাদিক ফায়জুর রহমান, মাওলানা মখলিছুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রশিদ, মাওলানা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ডাঃ আব্দুল জলিল, মাওলানা আবু তাহের, মাওঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ প্রমুখ।
এ. কে. এম. তোফাজ্জল আহমদ উসমানী ও হাফিজ জহিরুল ইসলাম এর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে জালালাবাদ লেখক ফোরামের পক্ষ থেকে বাংলা সাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে “জালালাবাদ স্বর্ণপদক” প্রদান করা হয়। সিলেটবাসীর পক্ষে তার হাতে পদকটি তুলে দেন- সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত জালালাবাদ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন- সংবর্ধিত অতিথি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। পরে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ৫০ টাকা মূল্যের স্মারকটি ২৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন- আম্বরখানাস্থ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজ রইছ উদ্দিন। সভায় জালালাবাদ লেখক ফোরামের সভাপতি শাহ নজরুল ইসলাম গবেষণায় “রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল এ্যাওয়ার্ড-০৮ইং” এবং লেখক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক রশীদ জামীল কলামিষ্ট হিসেবে নওয়াব ফয়জুন্নেছা স্বর্ণপদক পাওয়ায় লেখক ফোরামের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিলেটের প্রায় অর্ধ শতাধিক সামাজিক সাং®কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে ফুলের তোড়া ও পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সংবর্ধিত অতিথি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- আমি জীবনে ছোট-বড় অনেক পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু আজ জালালাবাদ লেখক ফোরাম তথা সিলেটবাসী আমাকে যে সম্মান জানালো, সেটা আমার জীবনের অনেক বড় পাওয়া এবং আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে মানুষের ভালবাসা। আর এজন্য আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি বলেন- আমি সিলেটবাসী সহ দেশবাসীর দোয়া চাই, যেন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণে ইসলামের কল্যাণে কলম চালিয়ে যেতে পারি। তিনি বলেন- সিলেটবাসীর আন্তরিকতার উষ্ণতা যেভাবে আমি অনুভব করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। তিনি মাসিক মদীনার দুর্দিনের স্মৃতি চারন করলে সমগ্র অনুষ্ঠান স্থলে এক অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রায় সহস্রাধিক স্রোতা তখন তন্ময় হয়ে তার বক্তব্য শুনছিলেন।
মাসিক মদীনা প্রকাশনায় যে সকল বাধার সম্মুখীন হয়ছিলেন, তার স্মৃতিচারণ করে বলেন ১৯৬১ সাল থেকে মাসিক মদীনা প্রকাশিত হলেও স্বাধীনতার পর সব ইসলামী পত্র-পত্রিকা নিষিদ্ধ হয়। ফলে ডিক্লারেশন বাতিল হয় মদীনার। কিছুদিন পর এক আওয়ামীলীগ নেতার সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন- মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। এক পর্যায়ে জনৈক পাঠক হৃদয়ের ব্যাথা ব্যক্ত করে চিঠি লিখেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের নিকট। চিঠির অংশ বিশেষ হল “গত তিন মাস যাবত আপনার পত্রিকা পাইতেছিনা। আপনার পত্রিকা (মাসিক মদীনা) না পাইলে আমার কষ্ট হয়। দয়া করিয়া পত্রিকা পাঠাইয়া দিবেন, আমি মুজিবুরকে (বঙ্গবন্ধু) লিখিব, সে আপনার বিল পাঠাইয়া দিবে’। এভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফুর রহমানের একটি চিঠির স্মৃতিচারন করেন মাসিক মদীনা সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু মাসিক মদীনা পত্রিকার ডিক্লারেশন পূনর্বহাল করা যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত দেওয়ায় মাওলানা মুহিউদ্দীন খান তার হাতে একটি পত্র ধরিয়ে দেন। পত্রটি ছিল বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফুর রহমানের। তখন তিনি বেঁচে নেই। পিতার পত্রটি পড়ে বঙ্গবন্ধুর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে তিনি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে মাসিক মদীনা পত্রিকার ডিক্লারেশন পূনর্বহালের নির্দেশ দেন। সেই মাসিক মদীনা পত্রিকা প্রকাশনার পঞ্চাশ বছর এখন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মাওঃ শায়খ ইসমাঈল খাঁন, হাফিজ আব্দুল্লাহ নেজামী, মাওঃ আব্দুল মতিন নবীগঞ্জী, মাওঃ আজিজুর রহমান, মাওঃ আব্দুল মুমিন, সৈয়দ মাওঃ আং নূর, অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান আহমেদ প্রমুখ।
পুষ্পমাল্য প্রদান ঃ এদিকে বিশ্বনাথ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে- মামুনূর রশিদ, জাগো তরুণ সাহিত্য পরিষদ বিশ্বনাথ- মনসুর আহমদ, সিলেটে অবস্থানরত আমরা সৈয়দপুরবাসী- হাঃ সৈয়দ এহসান, আস-সালাম ফাউন্ডেশন মাওঃ তাফাজ্জুল হক, মাদানী কাফেলার আহŸায়ক- মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী, আমরা দিরাই শাল্লাবাসীর সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমদ উসমানী, মুসলিম ছাত্র ঐক্য আন্দোলন জগন্নাথপুরের মাওঃ আঃ সালাম, হাঃ মল্লিক, ভাটি উন্নয়ন পরিষদের পক্ষে- মামুনুর রশীদ চৌধুরী, জাগো মুসলিম সিলেটের পক্ষে- সাজ্জাদুর রহমান আনছারী, শাহজালাল ইসলামী পাঠাগার বিশ্বনাথ আব্দুল্লাহ আল-ফারুক, মুক্তস্বর সাংস্কৃতিক ফোরাম- ফায়জুর রহমান, জালালাবাদ ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, আল্লামা আশরাফ আলী বিশ্বনাথী ফাউন্ডেশন- মাওঃ রশীদ আহমদ, মুসলিম জাহান পাঠক ফোরাম- এম. আবু বকর সাদী, ফ্রেস সোস্যাল ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন, জগন্নাথপুর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ কল্যাণ ট্রাস্ট, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম, বয়স্ক কোরআন শিক্ষা বোর্ড সহ প্রায় অর্ধশতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া এবং পুষ্পমাল্য দ্বারা বরণ করে নেওয়া হয়।

সংবর্ধনায় “চলমান দর্পনে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন- আবদুল হামিদ মানিক-এ দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে পরিচিত একটি নাম মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। সামাজিক, সাহিত্য ও সংাস্কৃতিক তৎপরতায় প্রানবন্ত খ্যাতিমান একজন সফল মানুষ আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিত। প্রজ্ঞাবান প্রবীন আলিম, শক্তিমান লেখক, দক্ষ অনুবাদক, ধীমান সম্পাদক, সফল সংগঠক এবং সমাজসেবী মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি বিশ্বস্ত কর্মকান্ডে লাভ করেছেন শ্রদ্ধার আসন। সমাজের কল্যাণেই তাঁর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রয়োজন। এ যুগে তথাকথিক বিশ্বায়নের বিকৃতি ও আকাশ সংস্কৃতির দাপটে অনেক জাতি জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। এ বাস্তবতায় মাটি ও মানুষের প্রতি বিশ্বস্ত মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের ভূমিকা অকুণ্ঠ প্রশংসার দাবি রাখে। বাঙালি মুসলমান জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক চেতনা ও ধর্মীয় কল্যাণকর মূল্যবোধ গঠন ও লালনে তিনি এখনো নিবেদিত প্রান। মেধাবী এ ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবন এ দেশের অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে প্রেরণা যোগায়। স্বকীয় সত্তা বহাল রাখার সংগ্রামে সাহস সঞ্চার করে।
মুহিউদ্দীন খান একজন ব্যক্তিই নন, বহুমুখী তৎপরতায় এক উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তাঁর জন্ম ১৯৩৫ সালে ময়মনসিংহে, ছাত্র জীবন শেষে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকায়। উর্দূ দৈনিক পাসবান এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত। ঢাকা সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে এবং সাংবাদিকতার সুবাদে দেশ দুনিয়া, রাজনীতি, সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে ছিলেন সচেতন। রেডিও পাকিস্তানেও কাজ করেছেন। শৈশব কৈশোর থেকে ছিলেন কৌতূহলী স্বভাবের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের খবর জানার প্রবল কৌতূহলে দৈনিক আজাদ পত্রিকা সংগ্রহ করতে সাইকেলে ষাট মাইল পর্যন্ত যাতায়াত করেছেন। তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনের খেলা ঘরে’তে তিনি লিখেছেন- ‘আমার মনে স্বজাতি প্রেম এবং একটা লড়াকু ধরনের জেহাদী মনোভাবের অংকুরোদগম হয়েছিল নিতান্ত শিশুকাল থেকেই।’ তিনি জানিয়েছেন, আম্মার কাছ থেকে শুনতেন সিলেটের মজলুম একজন মুসলমানের কথা। পুত্রের আকিকায় গরু জবাইর জন্য গৌড় গোবিন্দ তাঁর হাত কেটে দিয়েছিল, শুনতেন তরফের বারো আউলিয়ার কথা (উল্লেখ্য গ্রন্থের ৩য় সংস্করনে মজলুম এই মুসলমানের নাম ছাপ হয়েছে নাসিরুদ্দিন। আসলে তা হবে শেখ বুরহান উদ্দীন)। এমনি অনুসন্ধিৎসু একজন মানুষ উপমহাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে ছিলেন ওয়াকেফহাল। সেই সঙ্গে আরবি, উর্দূ, ফার্সি ভাষা সহ কুরআন, হাদীস, ফেকাহ শাস্ত্রে অর্জন করেন পান্ডিত্য। সমকালীন কবি, সাহিত্যিকদের সন্নিধ্যে আসেন। এই পটভূমিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান তাঁর চলার পথ ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। তিনি তখনকার গতানুগতিকতায় গা ভাসিয়ে দেননি। পাকিস্তান সৃষ্টির আবেগ উত্তেজনায় কেউ কেউ তখন এ দেশের ভাষা সংস্কৃতির প্রতি প্রত্যাশিত আনুগত্য রক্ষা করতে পারেননি। আলিম সমাজের অনেকে তখনও বাংলা ভাষার প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। অবশ্য মাদ্রাসা শিক্ষিত অনেকের বাংলা ভাষায় অদক্ষতাও ছিল। এমনি অবস্থায় প্রতিভাধর মাওলানা মুহিউদ্দীন খান উর্দূ দৈনিক পত্রিকা ছেড়ে এসে বের করেন বাংলায় মাসিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা। মাসিক দিশারী, সাপ্তাহিক নয়া জামানা এবং ১৯৬১ সালে বের করেন মাসিক মদীনা। ঘরে ঘরে পরিচিত এ পত্রিকাটি আজও বিপুল প্রচার সংখ্যা নিয়ে তাঁর সম্পাদনায় বের হচ্ছে।

বাঙালি মুসলমান সবাই উর্দূ, আরবি, ফার্সি শিখে ইসলাম সম্পর্কে জানবে অথবা জানতে হবে। এ ধরণের মানসিকতা অনাধুনিক ও অযৌক্তিক। অযৌক্তিক এই প্রবনতার বিরুদ্ধে অবিভক্ত বাংলায় যে ক’জন মনীষী কথা ও কাজে এগিয়ে এসেছিলেন, মুহিউদ্দীন খান তাঁদের একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি। মুনসী মেহেরুল্লাহ, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, নাসির উদ্দীন, মাওলানা আকরম খাঁ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কবি নজরুল ইসলাম, ফজলুল হক সেলবর্ষী, মুহাম্মদ নূরুল হক, ইব্রাহিম খাঁ, কবি গোলাম মোস্তফা, শিল্পী আব্বাস উদ্দিন প্রমুখ বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও অগ্রগতিতে যে অবদান রেখেছেন, মুহিউদ্দীন খান তাদের উত্তরসুরী হিসেবে তেমনি অবদান রাখছেন। বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করে তিনি ইসলাম এবং বাঙলা ভাষায় ইসলামের পরিচ্ছন্ন উপস্থাপনায় সফল একজন আলিম ও চিন্তাবিদ।
আলিম সমাজকে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় উদ্বুদ্ধ করনে তিনি সফল এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষিত বিপুল সংখ্যক আলিম আজ বাংলায় সাহিত্য চর্চা করছেন। কওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের উর্দু, আরবি, ফার্সির বৃত্ত থেকে বের করে বাংলা ভাষায় বহাল করার কৃতিত্ব তাঁর প্রাপ্য। ঐ সব ভাষাকেও তিনি নিরুৎসাহিত করেন নি। ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত একাধিক ভাষায় দক্ষ এই লেখকদের কাছে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান প্রেরণার জীবন্ত আদর্শ। লেখক অনুবাদক হিসেবে তো বটেই, মাসিক মদীনার সম্পাদক হিসেবেও তিনি সকলের কাছের মানুষ, আত্মার আত্মীয় হয়ে আছেন। তাঁর এ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় যুক্ত না হলে আলিম সমাজ জাতীয় মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন। ১৯৬১ সালে মাসিক মদীনা প্রকাশ করেন তিনি। তখন বাংলা ভাষায় লেখালেখিতে আলিম সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন হাতে গোনা। নানা বিরূপতা সত্তে¡ও আজ বাংলা সাহিত্যে আলিমদের উপস্থিতি কোনো ক্রমেই গৌণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের সম্পাদনায় সাহিত্য সংকলন এবং প্রচুর পত্র-পত্রিকা বের হচ্ছে। ইসলামী পত্রিকা পরিষদ বাংলাদেশ ২০০৮ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্র“য়ারী সিলেট নগরীর শহীদ সুলেমান হলে ইসলামী পত্রিকা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। এই প্রদর্শনীতে বিপুল সংখ্যক ইসলামী পত্রিকা ঠাঁই পেয়েছিল। এগুলো আলিমদের সম্পাদনায় ও লেখায় বের হয়। সাহিত্য ও প্রকাশনার অঙ্গনে এই কাম্য প্রবাহ সৃষ্টির পেছনে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ও মাসিক মদীনার প্রভাব ও প্রনোদনাই প্রধান। এভাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলা ভাষায় মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, মুফতী আজিজুল হক, মুহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা ছিদ্দিক, শায়খুল হাদিস আজিজুল হক, নূর মোহাম্মদ আযমী, মাওলানা আব্দুর রহিম, অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারুক, আমিনুল ইসলাম, মাওলানা রেজাউল করিম, সৈয়দ শামসুল ইসলাম, নূরুল হক প্রমুখ যে চিন্তা চেতনায় কাজ শুরু করেছিলেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান তার পরিচর্যা, লালন ও বহন করে এখন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বের মর্যাদায় আসীন হয়েছেন। বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা এখন প্রায় ত্রিশ কোটি। তাদের সঙ্গে আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ স্থাপনের প্রধান বাহন বাংলা ভাষায় আলিম সমাজ দেশ ও জাতির খেদমতে এগিয়ে আসছেন।

মাসিক মদীনার প্রশ্নোত্তর বিভাগটি বহুল পঠিত। এর সুপ্রভাব এখন আমাদের গণমাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও এ রকম সওয়াল জওয়াব চালু হয়েছে। এ-সব দিক বিবেচনা করে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে সুদূর প্রসারী, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন চিন্তাবিদ ও যুগস্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করা যায়। বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক ভিত্তি ইসলামিক একাডেমী সহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠান ও নানা সংস্থার পেছনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। সত্তরোর্ধ এই মানুষটি এখনও যুবকসুলভ উদ্যমে দেশ বিদেশে সফর করেন। আলোর পথের পথিকদের উৎসাহিত অনুপ্রানিত করেন এবং আজীবন সাধনায় অর্জিত আত্মিক আলোক রশ্মি ছড়িয়ে দেন অসংখ্য চিত্তে।

লেখক, অনুবাদক গবেষক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান অনেকের কাছে সমকালে সর্বাধিক সমৃদ্ধ অগ্রসর ব্যক্তিত্ব। মেধাবী, পন্ডিত এবং একই সঙ্গে বাংলা, উর্দূ, আরবী, ফার্সি ভাষায় সুবিজ্ঞ তিনি। মুফতি মুহাম্মদ শফী (র.)’র বহুল পঠিত আট খন্ডে সম্পন্ন তাফসীর গ্রন্থ মাআ’রিফুল কুরআন স্বল্পতম সময়ে অনুবাদ করে তিনি এক নজীর সৃষ্টি করেছেন। অত্যন্ত সাবলীল স্ব^চ্ছ বাংলায় অনূদিত এ তাফসীর সর্বত্র সমাদৃত ও বহুল পঠিত। অবিশ্বাস্য রকম অল্প সময়ে এ বিরাট গ্রন্থ অনুবাদ বাস্তবিত পক্ষেই একটা অনুপম কর্ম সাধনার পরিচায়ক বলতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাপরিচালক এ জেড শামসুল আলম এ মন্তব্য করেছেন মাআ’রিফুল কুরআনের প্রথম খন্ডের প্রকাশকের বক্তব্যে। বাংলায় সিরাত চর্চার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম পথিকৃৎ। মাওলানার অনুবাদ ও মৌলিক রচনা গ্রন্থের সংখ্যা ১০৫টি। সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, রাজনীতি, সফর সহ নানাবিধ কার্যক্রমের মধ্যেও জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক এই বিশাল অর্জন নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী প্রতিভার একটি স্বাক্ষর। তাঁর পঠন পরিসরও অত্যন্ত ব্যাপক। প্রশ্নোত্তর এবং চার খন্ডে প্রকাশিত কুড়ানো মানিক পাঠ করলে তা কিছুটা আঁচ করা যায়। স্থিতধি, নিভৃতচারী, প্রজ্ঞাবান এই সৃজনশীল মহান ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিবৃত্তিক একটি সাহিত্য ঘরানার জনক।

তিনি আমাদের মাঝে আজ আর নেই আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

লেখক : মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
সদস্য সচিব: মাসিক মদীনা পাঠক ফোরাম
মোবাইল ০১৭১৬৪৬৮৮০০।
তারিখ ২৫-৬-২০১৬


তথ্যসুত্র:
আস-সিরাজ ,মুহিউদ্দীন খান সংখ্যা
মাসিক মদীনা, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক ইনকিলাব


.: 20 October 2016 : ব্যক্তিত্ব :. (1470 বার পঠিত)
মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামছুদ্দীন কাছেমী (র)


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী: ’মৃত্যু’ মানুষকে এ বসুন্ধরা থেকে ছিনিয়ে নেয় বটে, কিন্তু কীর্তি তাঁকে রাখে চিরস্থায়ী করে। এজন্য তারা মরেও অমর। লক্ষ তারা হারিয়ে গেলেও রাতের শুক তারাটি যেমন কখনো কখনো ভোরেও আকাশে দীপ্ত সমুজ্জ্বল হয়ে ফুটে থাকে, তদ্্রুপ বিশেষ কিছু মানুষের জীবনের কোন কোন ঘটন ...Details...


.: 21 April 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (3115 বার পঠিত)
খলিফায়ে মাদানী হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল মন্নান শায়খে গুনই (র.)


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী: উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও আধ্যাত্মিক রাহবার শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী (র.) এর বিশিষ্ট খলিফা বৃহত্তর সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ মাওলানা শাহ আব্দুল মন্নান শায়খে গুনই আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি গত ৭ এপ্রিল ...Details...




মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী এর সর্বাধিক পঠিত লিখা

.: : ব্যক্তিত্ব :. (3115 বার পঠিত)
খলিফায়ে মাদানী হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল মন্নান শায়খে গুনই (র.)


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী: উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও আধ্যাত্মিক রাহবার শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী (র.) এর বিশিষ্ট খলিফা বৃহত্তর সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ মাওলানা শাহ আব্দুল মন্নান শায়খে গুনই আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি গত ৭ এপ্রিল ...Details...


.: 21 April 2015 : ব্যক্তিত্ব :. (2538 বার পঠিত)
চলে গেলেন জাতীয় অভিভাবক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী : আমাদের জাতীয় অভিভাবক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান চলে গেলেন। দেশবরেণ্য লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান আর নেই। তিনি গতকাল শনিবার (১৯ রমজান, ২৫ জুন ২০১৬ ইসায়ী) সন্ধ্যা ৬-১০ মি: রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্ত ...Details...


.: 26 June 2016 : ব্যক্তিত্ব :. (1470 বার পঠিত)
মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামছুদ্দীন কাছেমী (র)


SylhetExpress.com

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী: ’মৃত্যু’ মানুষকে এ বসুন্ধরা থেকে ছিনিয়ে নেয় বটে, কিন্তু কীর্তি তাঁকে রাখে চিরস্থায়ী করে। এজন্য তারা মরেও অমর। লক্ষ তারা হারিয়ে গেলেও রাতের শুক তারাটি যেমন কখনো কখনো ভোরেও আকাশে দীপ্ত সমুজ্জ্বল হয়ে ফুটে থাকে, তদ্্রুপ বিশেষ কিছু মানুষের জীবনের কোন কোন ঘটন ...Details...


পাঠকের মতামত

Other Pages :

 
 অন্য পত্রিকার সংবাদ
 অভিজ্ঞতা
 আইন-অপরাধ
 আত্মজীবনি
 আলোকিত মুখ
 ইসলাম ও জীবন
 ঈদ কেনাকাটা
 উপন্যাস
 এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল
 কবিতা
 খেলাধুলা
 গল্প
 ছড়া
 দিবস
 দূর্ঘটনা
 নির্বাচন
 প্রকৃতি পরিবেশ
 প্রবাস
 প্রশাসন
 বিবিধ
 বিশ্ববিদ্যালয়
 ব্যক্তিত্ব
 ব্যবসা-বাণিজ্য
 মনের জানালা
 মিডিয়া ওয়াচ
 মুক্তিযুদ্ধ
 যে কথা হয়নি বলা
 রাজনীতি
 শিক্ষা
 সমসাময়ীক বিষয়
 সমসাময়ীক লেখা
 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
 সাইক্লিং
 সাক্ষাৎকার
 সাফল্য
 সার্ভিস ক্লাব
 সাহিত্য-সংস্কৃতি
 সিটি কর্পোরেশন
 স্বাস্থ্য
 স্মৃতি
 হ য ব র ল
 হরতাল-অবরোধ

লেখালেখি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)
আব্দুল হামিদ মানিক
শফিকুল ইসলাম
প্রা. মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট
ইকবাল বাহার সুহেল
হারান কান্তি সেন
সেলিম আউয়াল
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
এ.এইচ.এস ইমরানুল ইসলাম
জসীম আল ফাহিম
সৌমেন রায় নীল
সাকিব আহমদ মিঠু
রাহিকুল ইসলাম চৌধুরী
সালাহ্‌ আদ-দীন
ছাদিকুর রহমান
সাঈদ নোমান
জালাল আহমেদ জয়
আজিম হিয়া
মিহির রঞ্জন তালুকদার
পহিল হাওড়ী (মোঃ আবু হেনা পহিল)
শাহ মিজান
নারী অঙ্গন
নূরুন্নেছা চৌধুরী রুনী
মাহবুবা সামসুদ
আমেনা আফতাব
ইছমত হানিফা চৌধুরী
মাছুমা আক্তার চৌধুরী রেহানা
নীলিমা আক্তার
সুফিয়া জমির ডেইজী
আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না
রওশন আরা চৌধুরী
রিমা বেগম পপি
সালমা বখ্ত্ চৌধুরী
জান্নাতুল শুভ্রা মনি
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী
আলেয়া রহমান
মাজেদা বেগম মাজু
নাঈমা চৌধুরী
অয়েকপম অঞ্জু
শামসাদ হুসাম
নাদিরা নুসরাত মাশিয়াত
তাসলিমা খানম বীথি

সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আলোচিত লিখা
.: 4 weeks ago : :.
ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার কথা সে জানতো (3051 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: একদিন দুপুরে হঠাৎ ফোন করলো আবদুর রাহমান-চাচা, আমার পেটের ভেতর আলসার হয়ে গেছে। আপনার একটু পরামর্শ দরকার, কি করবো। বিকেলেই আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবদুর রাহমানের চৌকিদেখির বাসায় চলে যাই। আমি ভাবতে পারিনি ও এতো তাড়াতাড়ি এতো দূর্বল হয়ে পড়বে। বললো, নর্থ ইস্ট মেডিকেলে ডা. মধুসূদ Details...


.: 4 weeks ago : :.
সেই তাকে প্রথম কাঁদতে দেখলাম (1537 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: আবদুর রাহমানের মুখে তখন অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আইসিইউ-এর একটি বেডে শুয়ে। নর্থ ইস্ট হাসপাতালের কেবিন থেকে আইসিইউতে নেবার খবর শোনার দশ পনেরো মিনিটের মধ্যেই আমি আর অনুজ ফয়সল হাসপাতালে এসেছি। ভেবেছিলাম আবদুর রাহমান বোধ হয় সেন্স হারিয়ে ফেলেছে। কিন্ Details...


.: 1 week ago : নারী অঙ্গন :.
অভিমানী গল্পকার (1349 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

তাসলিমা খানম বীথি: ১. চকচকে ঝকঝকে হাসির অন্তরালে অভিমানী একটি মুখ লুকিয়ে থাকে তার হৃদয়ে। যার প্রচন্ড অভিমান করার ক্ষমতা রয়েছে। তাকে বাইরে থেকে গুছালো মনে হলোও ভেতরে ভেতরে সে খুবই অগুছালো। কারন সে যখনই ঘর থেকে বের হয় তখন মানিব্যাগ না হয়, হাত ঘড়ি ঘরে রেখে দৌড় দেয়। তার মাথার চুল দেখলে ম Details...


.: 4 weeks ago : :.
সব সাধ পূরণ হয়না (1041 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: আবদুর রাহমান মারা যাবার কয়েকদিন আগে, ঈদের দু’দিন না তিনদিন পর আমি আর আমার স্ত্রী তাকে দেখতে গিয়েছি ওসমানি হাসপাতালে। আবদুর রাহমান খুব শুকিয়ে গেছে। তারপরও সেদিন অন্য এক আবদুর রাহমান দেখলাম। প্রচুর কথা বললো। বললো ওর পেটে জমে উঠা পানি বের করার পর খুব ভালো লাগছে। খাবার রুচ Details...


.: 4 weeks ago : :.
একদিন সে পাখি হয়ে গেলো (876 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: আবদুর রাহমানের সাথে আমার কোন ছবি নেই। চাচা-ভাতিজা সম্পর্কের কারনে একটু দূরত্ব। অসুস্থ হবার পর কোনদিন বলিনি, চলো আবদুর রাহমান আমরা একটি ফটো তুলি। কারন সে ভাববে এ ফটো তোলার অর্থ তাকে বিদেয় জানানো। কিন্তু আমরা তো তাকে এতো তাড়াতাড়ি বিদেয় জানাতে চাই না। আর সেওতো আমাকে প্রতি Details...


.: 4 weeks ago : :.
সিলেটের চা বাগান (761 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: সিলেটের পাহাড়গুলো সেই অতীতে চিরসবুজ ক্রান্তীয় বন দ্বারা ঢাকা ছিলো। টিলাগুলোতে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা বাগান তৈরী করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে দেশের অধিকাংশ চা বাগান এ বাগানসমুহ থেকে উৎপদিত চা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সিলেট গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা Details...


.: 2 weeks ago : :.
কুঁড়িতেই সব স্বপ্ন যাদের (546 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

লুৎফুর রহমান তোফায়েল: দুই হাতের কর্মতৎপরতা দৃষ্টি কাড়ে যে কারও। ছন্দের তালে যেন নাচছে তাদের দুই হাত। সমান তালে চলছে হাত দু’টি। মুঠো ভরে এলে পেছনে ঝুলানো ঝুলিতে পুরে নিচ্ছেন সবটুকু। চা শ্রমিকদের এমন শৈল্পিক চা পাতা সংগ্রহের দৃশ্য অনেকেই প্রত্যক্ষ করে থাকবেন বাগানে গেলে। চা পাতাক Details...


.: 4 weeks ago : :.
দুঃখ বিভুর (422 বার পঠিত)

আব্দুল কাইয়ূম:
অশ্রু সিক্ত নয়ন আমার
ঝরছে অঝরে বৃষ্টিরে
হৃদয় সিক্ত কষাঘাতে
আপন জনের তরেরে ।
যাহাদের তরে দিয়েছি সর্বস্হ
তাহারাই আজ দিল কষ্ট
যাহাদের তরে হয়েছি বিভূর
তাহারা আজ বলে দূর দূর ।
আমি নিঃস একাকার
বুঝিনি হতে বসেছি অঙ্গার
তবুও দেই না তাদের ধিক্কার
বলি স Details...


.: 4 weeks ago : :.
সামান্যের প্রকাশ (344 বার পঠিত)

মোঃ আব্দুল হক:
বন্ধু দাঁড়াও
মুখ তোলে দেখো
তোমার আলো খুব ক্ষীণ তাই
এখনি ক্ষুণ্ন হওয়ার
নাই কোনো অবকাশ।
তুমি জেনো,
আদিত্য হারায় অস্তপাটে
প্রগতির বিদ্যুৎ ঘটে বিভ্রাট।
তমিস্র রাত
স্বোৎসাহে ঝিঁঝিঁদের রাজ্যে
হয় জমজমাট কবিতা পাঠ।
কিচ্ছু দেখা যায়না, তখন
জোনাকির আ Details...


.: 4 weeks ago : :.
স্পর্শ (341 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

তাবেদার রসুল বকুল:
এতদিন পর কেন
মনে করলে আমায়
তা আজ বুঝতে পারিনি
যে ভালোবাসা তোমার
অনুভূতিকে স্পর্শ করতে পারেনি
তাকে আর ভালোবাসা বলে
ভালোবাসা শব্দটির অপমান করছ কেন বলো
যা বুঝতে পারনি
তা কোনওদিনও আর বোঝার চেষ্টা করো না
আমি আজও তোমাকে বুঝতে চাইনি
তুমি বুঝল Details...



www.SylhetExpress.com - First Online NEWS Paper in Sylhet, Bangladesh.

Editor: Abdul Baten Foisal Cell : 01711-334641 e-mail : news@SylhetExpress.com
Editorial Manager : Abdul Muhit Didar Cell : 01730-122051 e-mail : syfdianews@gmail.com
Photographer : Abdul Mumin Imran Cell : 01733083999 e-mail : news@sylhetexpress.com
Reporter : Mahmud Parvez Staff Reporter : Taslima Khanom Bithee

Designed and Developed by : A.S.H. Imranul Islam. e-mail : imranul.zyl@gmail.com

Best View on Internet Explore, Mozilla Firefox, Google Chrome
This site is owned by Sylhet Sifdia www.sylhetexpress.com
copyright © 2006-2013 SylhetExpress.com, All Rights Reserved