User Login | | নীতিমালা | 25 Sep 2017 : Sylhet, Bangladesh :
    সংবাদ : মুক্তিযোদ্ধার শয্যাপাশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান 
কমান্ড সিলেট মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ  সংবাদ :  মহিউদ্দিন শিরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  সংবাদ : সিলেট মহানগর বিএনপি ১৯নম্বর ওয়ার্ডে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন
  সংবাদ : রাজারগাঁও মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস
মাওলানা তবারক আলী আর নেই  সংবাদ : অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দূর্গাপূজা উপলক্ষে 
সদর উপজেলায় বস্ত্র ও অর্থ বিতরণ  সংবাদ : আখালিয়াতে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক রেজাসহ ৪জন আহত   সংবাদ : মানুষরূপী রাক্ষসী সুচি মানবতার কলংক
রোহিঙ্গাদের সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নিতে হবে
  সংবাদ : শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল  সংবাদ : অরুণ আলোর অঞ্জলি’র প্রকাশনা সম্পন্ন
  সংবাদ : অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক এর উদ্যোগে শারদীয় দুর্গা পুজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

  সংবাদ : বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর
৯৯তম জন্মবাষির্কী পালন
  সংবাদ : অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শারদীয় দূর্গাপূজায়
নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ  সংবাদ : দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই
  সংবাদ : সরকার হতদরিদ্র মানুষদের সাবলম্বী করে 
তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে
  সংবাদ : দুগাপূজা উপলক্ষে মেয়র আরিফ এর শুভেচ্ছা  সংবাদ : জার্সি উম্মোচনের  মধ্য দিয়ে ‘টিম শুভ প্রতিদিন’র যাত্রা
sylhetexpress.com এর picture scroll bar এর code. এই কোড যেকোন website এ use করা যাবে।
| সিলেট | মৌলভীবাজার | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | বিশ্ব | লেখালেখি | নারী অঙ্গন | ছবি গ্যালারী | রঙের বাড়ই ব্লগ |

লেখক মেলা
E-mail : syfdianews@gmail.com
সিলেট এক্সপ্রেস এর লেখক মেলা। লেখা পাঠানো ইমেল :- syfdianews@gmail.com

Web Address : www.sylhetexpress.com/lekhalekhiNew.php?writerID=107
লেখক মেলা এর লিখা
.: 1 April 2017 : দিবস :.

গভীর আত্মত্যাগের ইতিহাস ও মহান স্বাধীনতার ৪৫ বছর


SylhetExpress.com

মোঃ মাহমুদুল হাসান:
২৬মার্চ-২০১৭ রবিবার, মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তি দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জল অবিস্বরণীয় একটি দিন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের যাতাকল থেকে মুক্তির জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বিশ্বের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এ দিন থেকেই চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম-সশন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।
দেশ
মানুষের যতগুলো অনুভুতি আছে তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর অনুভুতি হচ্ছে ভালোবাসা। আর এই পৃথিবীতে যা কিছুকে ভালোবাসা সম্ভব তার মাঝে সবচেয়ে তীব্র ভালোবাসাটুকু হতে পারে শুধুমাত্র মাতৃভূমির জন্যে। যারা কখনো নিজের মাতৃভূমির জন্যে ভালোবাসাটুকু অনুভব করেনি তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই। আমাদের খুব সৌভাগ্য আমাদের মাতৃভূমির জন্যে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল তার ইতিহাস হচ্ছে গভীর আত্মত্যাগের ইতিহাস, অবিশ্বাস্য সাহস ও বীরত্বের ইতিহাস এবং বিশাল এক অর্জনের ইতিহাস। যখন কেউ এই আত্মত্যাগ, বীরত্ব আর অর্জনের ইতিহাস জানবে, তখন সে যে শুধুমাত্র দেশের জন্যে একটি গভীর ভালোবাসা আর মমতা অনুভব করবে তা নয়, এই দেশ, এই মানুষের কথা ভেবে গর্বে তার বুক ফুলে উঠবে।
পূর্বইতিহাস
যেকোনো কিছু বর্ণনা করতে হলে সেটি একটু আগে থেকে বলতে হয়, তাই বাংলাদেশের ইতিহাস জানার জন্যেও একটু আগে গিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করা যেতে পারে। ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে প্রায় দুইশ বছর শাসন-শোষণ করেছে। তাদের হাত থেকে স্বাধীনতার জন্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে, জেল খেটেছে, দ্বীপান্তরে গিয়েছে। ১৯৪০ সালে ‘লাহোর প্রস্তাব’-এ ঠিক করা হয়েছিল ভারতবর্ষের যে অঞ্চলগুলোতে মুসলমান বেশি, সেরকম দুটি অঞ্চলকে নিয়ে দুটি দেশ এবং বাকি অঞ্চলটিকে নিয়ে আর একটি দেশ তৈরি করা হবে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট যে এলাকা দুটিতে মুসলমানরা বেশি সেই এলাকা দুটি নিয়ে দুটি ভিন্ন দেশ না হয়ে পাকিস্তান নামে একটি দেশ এবং ১৫ আগস্ট বাকি অঞ্চলটিকে ভারত নামে অন্য একটি দেশে ভাগ করে দেয়া হলো। পাকিস্তান নামে পৃথিবীতে তখন অত্যন্ত বিচিত্র একটি দেশের জন্ম হলো, যে দেশের দুটি অংশ দুই জায়গায়। এখন যেটি পাকিস্তান সেটির নাম পশ্চিম পাকিস্তান এবং এখন যেটি বাংলাদেশ তার নাম পূর্ব পাকিস্তান। মাঝখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব এবং সেখানে রয়েছে ভিন্ন একটি দেশ ভারত।
বিভেদ,বৈষম্য,শোষণ,আর,ষড়যন্ত্র
পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে শুধু যে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব তা নয়, মানুষগুলোর ভেতরেও ছিল বিশাল দূরত্ব। তাদের চেহারা, ভাষা, খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সবকিছু ছিল ভিন্ন, শুধু একটি বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলোর মাঝে মিল ছিল- সেটি হচ্ছে ধর্ম। এরকম বিচিত্র একটি দেশ হলে সেটি টিকিয়ে রাখার জন্যে আলাদাভাবে একটু বেশি চেষ্টা করার কথা, কিন্তু পাকিস্তানের শাসকেরা সেই চেষ্টা করল না। দেশভাগের সময় পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল দুই কোটি, পূর্ব পাকিস্তানের ছিল চার কোটি, কাজেই সহজ হিসেবে বলা যায় শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পুলিশ-মিলিটারি, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা সবকিছুতেই যদি একজন পশ্চিম পাকিস্তানের লোক থাকে, তাহলে সেখানে দুইজন পূর্ব পাকিস্তানের লোক থাকা উচিত। বাস্তবে হলো ঠিক তার উল্টা, সবকিছুতেই পশ্চিম পাকিস্তানের ভাগ ছিল শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। বাজেটের ৭৫% ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, ২৫% ব্যয় হতো পূর্ব পাকিস্তানে, যদিও পূর্ব পাকিস্তান থেকে রাজস্ব আয় ছিল বেশি, শতকরা ৬২ভাগ।

ভাষা-আন্দোলন
অর্থনৈতিক নিপীড়ন থেকে অনেক বড় নিপীড়ন হচ্ছে একটি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের ওপর নিপীড়ন আর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ঠিক সেটিই শুরু করেছিল। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালে আর ঠিক ১৯৪৮ সালেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ঘোষণা করলেন উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে পাকিস্তানের বাঙালিরা তার প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ শুরু করে দিল। আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং আরো অনেকে। তারপরেও সেই আন্দোলনকে থামানো যায়নি, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীকে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছিল। যেখানে আমাদের ভাষাশহীদরা প্রাণ দিয়েছিলেন, সেখানে এখন আমাদের প্রিয় শহীদ মিনার, আর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখটি শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়, এখন সারা পৃথিবীর মানুষের জন্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
সামরিক-শাসন
একেবারে গোড়া থেকেই পাকিস্তানে শাসনের এক ধরনের ষড়যন্ত্র হতে থাকে, আর সেই ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় ছিল সেনাবাহিনী। দেশের বাজেটের ৬০% ব্যয় করা হতো সেনাবাহিনীর পিছনে, তাই তারা তাদের অর্থ, বিত্ত, ক্ষমতা, সুবিধার লোভনীয় জীবন বেসামরিক মানুষের হাতে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল না। নানারকম টালবাহানা করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সেনাপতি আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নেন। সেই ক্ষমতায় তিনি একদিন দুইদিন ছিলেন না, ছিলেন টানা এগারো বৎসর। সামরিক শাসন কখনো কোথাও শুভ কিছু আনতে পারে না, সারা পৃথিবীতে একটিও উদাহরণ নেই যেখানে সামরিক শাসন একটি দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছে- আইয়ুব খানও পারেনি।
ছয়-দফা
দেশে সামরিক শাসন, তার ওপর পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর এতরকম বঞ্চনা, কাজেই বাঙালিরা সেটি খুব সহজে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। বাঙালিদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তেজস্বী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জন্যে স্বায়ত্বশাসন দাবি করে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করলেন। ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সবকরম অর্থনৈতিক শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়ন থেকে মুক্তির এক অসাধারণ দলিল। তখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর যেরকম অত্যাচার নির্যাতন চলছিল, তার মাঝে ছয় দফা দিয়ে স্বায়ত্বশাসনের মতো একটি দাবি তোলা খুব সাহসের প্রয়োজন। ছয় দফার দাবি করার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের ছোট বড় সব নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পুরে দেয়া হলো। শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে একটি কঠিন শাস্তি দেয়ার জন্যে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে দেশদ্রোহিতার একটি মামলার প্রধান আসামি করে দেয়া হলো।
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা কিছুতেই এটা মেনে নিল না এবং সারাদেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। জেল-জুলুম, পুলিশ, ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস)-এর গুলি, কিছুই বাকি থাকল না, কিন্তু সেই আন্দোলনকে থামিয়ে রাখা গেল না। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিল ছাত্ররা, তাদের ছিল এগারো দফা দাবি। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন জেলের বাইরে, তিনিও এগিয়ে এলেন। দেখতে দেখতে সেই আন্দোলন একটি গণবিস্ফোরণে রূপ নিল কার সাধ্যি তাকে থামায়? ৬৯-এর গণআন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিল ফুটফুটে কিশোর মতিউর, প্রাণ দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ যার নামে আইয়ুব গেটের নাম হয়েছিল আসাদ গেট। পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ সব নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো। শুধু তাই নয়, প্রবল পরাক্রমশালী প্রেসিডেন্ট আইয়ুর খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিল।তারিখ টি ছিল ১৯৬৯-এর ২৫ মার্চ, কেউ তখন জানত না ঠিক দুই বছর পর একই দিনে এই দেশের মাটিতে পৃথিবীর জঘন্যতম একটি গণহত্যা শুরু হবে।

পাকিস্থানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন
জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন দেবার কথা ঘোষণা করে, তারিখটি শেষ পর্যন্ত ঠিক করা হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। নির্বাচনের কিছুদিন আগে ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের উপকূল এলাকায় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে গেল- এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দশ লক্ষ লোক মারা গেল। এত বড় একটি ঘটনার পর পাকিস্তান সরকারের যেভাবে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত ছিল, তারা মোটেও সেভাবে এগিয়ে এল না। ঘূর্ণিঝড়ের পরেও যারা কোনোভাবে বেঁচে ছিল তাদের অনেকে মারা গেল খাবার আর পানির অভাবে। ঘূর্ণিঝড়ে কষ্ট পাওয়া মানুষগুলোর প্রতি এরকম অবহেলা আর নিষ্ঠুরতা দেখে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সরকারের প্রতি বিতৃষ্ণা আর ঘৃণার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল।১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সারা পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বড় বড় জেনারেলের রাজনৈতিক নেতাদের জন্যে কোনো শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। তারা ধরেই নিয়েছিল, নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, তাই দলগুলো নিজেদের ভেতর ঝগড়াঝাটি আর কোন্দল করতে থাকবে আর সেটিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থেকে দেশটাকে লুটেপুটে খাবে। কাজেই নির্বাচনের ফলাফল দেখে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল, ফলাফলটি ছিল অবিশ্বাস্য- পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২ আসনের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১৬০টি আসন পেয়েছে। যখন সকল আসনে নির্বাচন শেষ হলো তখন দেখা গেল, মনোনীত মহিলা আসনসহ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মাঝে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি, পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর দল পিপল্স পার্টি ৮৮টি এবং অন্যান্য সব দল মিলে পেয়েছে বাকি ৫৮টি আসন। সোজা হিসেবে এই প্রথম পাকিস্তান শাসন করবে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ। বঙ্গবন্ধু পরিষ্কার করে বলে দিলেন, তিনি ছয় দফার কথা বলে জনগণের ভোট পেয়েছেন এবং তিনি শাসনতন্ত্র রচনা করবেন ছয় দফার ভিত্তিতে, দেশ শাসিত হবে ছয় দফার ভিত্তিতে।পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, কোনোভাবেই বাঙালিদের হাতে পাকিস্তানের শাসনভার তুলে দেয়া যাবে না। নিজের অজান্তেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান আর তার দলবল ‘বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাষ্ট্র জন্ম দেবার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলো।
ষড়যন্ত্র
জেনারেলদের ষড়যন্ত্রে সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী ছিল সেনাশাসক আইয়ুব খানের একসময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পশ্চিম পাকিস্তানের পিপল্স পার্টির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো। হঠাৎ করে জুলফিকার আলী ভুট্টো জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে লারকানায় ‘পাখি শিকার’ করতে আমন্ত্রণ জানাল। ‘পাখি শিকার’ করতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সাথে যোগ দিল পাকিস্তানের বাঘা বাঘা জেনারেল। বাঙালিদের হাতে কেমন করে ক্ষমতা না দেয়া যায় সেই ষড়যন্ত্রের নীল নকশা সম্ভবত সেখানেই তৈরি হয়েছিল।
ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র চলতে থাকলেও জেনারেল ইয়াহিয়া খান সেটি বাইরে বোঝাতে চাইল না। তাই সে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করল ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হবে। সবাই তখন গভীর আগ্রহে সেই দিনটির অপেক্ষা করতে থাকলো।
এর মাঝে ১৯৭১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালিদের ভালোবাসা এবং মমতার শহীদ দিবস উদযাপিত হলো অন্য এক ধরনের উন্মাদনায়। শহীদ মিনারে সেদিন মানুষের ঢল নেমেছে, তাদের বুকের ভেতর এর মাঝেই জন্ম নিতে শুরু করেছে স্বাধীনতার স্বপ্ন। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালিদের সেই উন্মাদনা দেখে পাকিস্তান সেনাশাসকদের মনের ভেতরে যেটুকু দ্বিধাদ্বন্দ ছিল সেটিও দূর হয়ে গেল। জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিল সংখ্যালঘু দলে, তার ক্ষমতার অংশ পাবার কথা নয়, কিন্তু সে ক্ষমতার জন্যে বেপরোয়া হয়ে উঠল। জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের ঠিক দুই দিন আগে ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দিল। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের বুকের ভেতর ক্ষোভের যে বারুদ জমা হয়ে ছিল, সেখানে যেন অগ্নিস্ফূলিঙ্গ স্পর্শ করল। সারাদেশে বিক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটল তার কোনো তুলনা নেই।

উত্তাল মার্চ
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হয়ে গেছে, এ ঘোষণাটি যখন রেডিওতে প্রচার করা হয়েছে, তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সাথে কমনওয়েলথ একাদশের খেলা চলছে। মুহূর্তের মাঝে জনতা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে, ঢাকা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে একটি যুদ্ধক্ষেত্র। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, দোকান-পাট সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমে আসে, পুরো ঢাকা শহর দেখতে দেখতে একটি মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়ে যায়। মানুষের মুখে তখন উচ্চারিত হতে থাকে স্বাধীনতার স্লোগান:
‘জয় বাংলা’
‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর,
বাংলাদেশ স্বাধীন কর।
বঙ্গবন্ধু ঢাকা এবং সারাদেশে মিলিয়ে ৫ দিনের জন্যে হরতাল ও অনিদিষ্টকালের জন্যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। সেই অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারকে কোনোভাবে সাহায্য না করার কথা বলেছিলেন এবং তাঁর মুখের একটি কথায় সারা পূর্ব পাকিস্তান অচল হয়ে গেল। অবস্থা আয়ত্তে আনার জন্যে কারফিউ দেয়া হলো ছাত্র জনতা সেই কারফিউ ভেঙে পথে নেমে এল। চারিদিকে মিছিল, স্লোগান আর বিক্ষোভ, সেনাবাহিনীর গুলিতে মানুষ মারা যাচ্ছে তারপরেও কেউ থেমে রইল না, দলে দলে সবাই পথে নেমে
এল। ২মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলা হলো। ৩মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় জাতীয় সংগীত হিসেবে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি নির্বাচন করা হয়।পাঁচদিন হরতালের পর ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণ দিতে এলেন। ততোদিনে পুরো পূর্ব পাকিস্তান চলছে বঙ্গবন্ধুর কথায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর ভাষণ শুনতে এসেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আক্ষরিক অর্থে একটি জনসমুদ্র। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করলেন,
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম ভাষণ খুব বেশি দেয়া হয়নি। এই ভাষণটি সেদিন দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অকাতরে প্রাণ দিয়ে দেশকে স্বাধীন করার শক্তি জুগিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে একদিকে যখন সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন চলছে অন্যদিকে প্রতিদিন দেশের আনাচে কানাচে পাকিস্তান মিলিটারির গুলিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। পাকিস্তান মিলিটারির গতিবিধি থামানোর জন্যে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পথে পথে ব্যারিকেড গড়ে তুলছে। সারাদেশে ঘরে ঘরে কালো পতাকার সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। দেশের ছাত্র-জনতা স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিচ্ছে। মাওলানা ভাসানী ৯মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় পরিষ্কার ঘোষণা দিয়ে বলে দিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানিরা যেন আলাদা করে তাদের শাসনতন্ত্র তৈরি করে, কারণ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়ে নিজেদের শাসন্তন্ত্র করতে চায়।
ঠিক এই সময়ে জেনারেল ইয়াহিয়া খান গণহত্যার প্রস্তুতি শুরু করে দিল। বেলুচিস্তানের কসাই নামে পরিচিত জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করে পাঠাল, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের কোনো বিচারপতি তাকে গভর্নর হিসেবে শপথ করাতে রাজি হলেন না। ইয়াহিয়া খান নিজে মার্চের ১৫ তারিখ ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার ভান করতে থাকে, এর মাঝে প্রত্যেক দিন বিমানে করে ঢাকায় সৈন্য আনা হতে থাকে। যুদ্ধজাহাজে করে অস্ত্র এসে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে, কিন্তু জনগণের বাধার কারণে সেই অস্ত্র তারা নামাতে পারছিল না। ২১ মার্চ এই ষড়যন্ত্রে ভুট্টো যোগ দিল, সদলবলে ঢাকা পৌঁছে সে আলোচনার ভান করতে থাকে।
১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করে বসে। তাদের থামানোর জন্যে ঢাকা থেকে যে সেনাবাহিনী পাঠানো হয় তাদের সাথে সাধারণ জনগণের সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। ২৩মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস, কিন্তু সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট আর গভর্নমেন্ট হাউজ ছাড়া সারা বাংলাদেশে কোথাও পাকিস্তানের পতাকা খুঁজে পাওয়া গেল না। ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসাতেও সেদিন ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের সাথে সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তোলা হলো।
পরদিন ২৪ মার্চ, সারাদেশে একটি থমথমে পরিবেশ মনে হয় এই দেশের মাটি, আকাশ, বাতাস আগেই গণহত্যার খবরটি জেনে গিয়ে গভীর আশষ্কায় রুদ্ধ নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করে ছিল।

গনহত্যার শুরুঃ অপারেশন সার্চলাইট
গণহত্যার জন্যে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ তারিখটা বেছে নিয়েছিল কারণ সে বিশ্বাস করত এটা তার জন্যে একটি শুভদিন। দুই বছর আগে এই দিনে সে আইয়ুব খানের কাছ থেকে ক্ষমাতা পেয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যার আদেশ দিয়ে সে সন্ধাবেলা পশ্চিম পাকিস্তানে যাত্রা শুরু করে দিল। জেনারেল ইয়াহিয়া খান সেনাবাহিনীকে বলেছিল, ৩০ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারা আমাদের হাত চেটে খাবে! গণহত্যার নিখুঁত পরিকল্পনা অনেক আগে থেকে করা আছে সেই নীল নকশার নাম অপারেশন সার্চলাইট, সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে কেমন করে আলাপ আলোচনার ভান করে কালক্ষেপণ করা হবে, কীভাবে বাঙালি সৈন্যদের নিশ্চিহ্ন করা হবে, কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ করা হবে, সোজা কথায়, কীভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
শহরের প্রতিটি রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে, লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে দেরি হবে তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রাত সাড়ে এগারোটায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের কাজ শুরু করে দিল। শুরু হলো পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ, এই হত্যাযজ্ঞের যেন কোনো সাক্ষী না থাকে সেজন্যে সকল বিদেশী সাংবাদিককে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তারপরেও সাইমন ড্রিং নামে একজন অত্যন্ত দুঃসাহসী সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা শহরে লুকিয়ে এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন।
ঢাকা শহরের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে পাকিস্তান মিলিটারি সব বাঙালি অফিসারকে হয় হত্যা না হয় গ্রেপ্তার করে নেয়, সাধারণ সৈন্যদের নিরস্ত্র করে রাখে। পিলখানায় ই.পি. আরদেরকেও নিরস্ত্র করা হয়েছিল, তারপরেও তাদের যেটুকু সামর্থ্য ছিল সেটি নিয়ে সারারাত যুদ্ধ করেছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশদের নিরস্ত্র করা সম্ভব হয়নি এবং এই পুলিশবাহিনীই সবার আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সত্যিকার একটি যুদ্ধ শুরু করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অনেক ক্ষতি স্বীকার হয়ে পিছিয়ে গিয়ে ট্যাংক, মর্টার, ভারী অস্ত্র, মেশিনগান নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে শেষ পর্যন্ত রাজারবাগ পুলিশ লাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

২৫ মার্চের বিভীষিকার কোনো শেষ নেই। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসে ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) আর জগন্নাথ হলের সব ছাত্রকে হত্যা করল। হত্যার আগে তাদের দিয়েই জগন্নাথ হলের সামনে একটি গর্ত করা হয়, যেখানে তাদের মৃতদেহকে মাটি চাপা দেয়া হয়। এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের দৃশ্যটি বুয়েটের প্রফেসর নূর উল্লাহ তাঁর বাসা থেকে যে ভিডিও করতে পেরেছিলেন, সেটি এখন ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধের আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে, পৃথিবীর মানুষ চাইলেই নিজের চোখে সেটি দেখতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ছাত্রদের নয় সাধারণ কর্মচারী এমনকি শিক্ষকদেরকেও তারা হত্যা করে। আশেপাশে যে বস্তিগুলো ছিল সেগুলো জ্বালিয়ে দিয়ে মেশিনগানের গুলিতে অসহায় মানুষগুলোকে হত্যা করে। এরপর তারা পুরানো ঢাকার হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলো আক্রমণ করে, মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দেয়, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। যারা পালানোর চেষ্টা করেছে সবাইকে পাকিস্তান মিলিটারি গুলি করে হত্যা করেছে। ২৫ মার্চ ঢাকা শহর ছিল নরকের মতো, যেদিকে তাকানো যায় সেদিকে আগুন আর আগুন, গোলাগুলির শব্দ আর মানুষের আর্তচিৎকার।




স্বাধীন বাংলাদেশ
কমান্ডো বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে যাবার আগে তিনি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণায় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার আহবান জানিয়ে গেলেন। তাঁর ঘোষণাটি তৎকালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ল। যখন ঘোষণাটি প্রচারিত হয় তখন মধ্যরাত পার হয়ে ২৬ মার্চ হয়ে গেছে, তাই আমাদের স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে ২৬ মার্চ।
পূর্ব পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরদিনের জন্যে মুছে গেল, জন্ম নিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

প্রতিরোধ আর প্রতিরোধ
ঢাকা শহরে পৃথিবীর একটি নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ২৭ মার্চ সকাল আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হলে শহরের ভয়ার্ত নারী-পুরুষ-শিশু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গ্রামের দিকে ছুটে যেতে লাগল। জেনারেল টিক্কা খান ভেবেছিল সে যেভাবে ঢাকা শহরকে দখল করেছে, এভাবে সারা বাংলাদেশকে এপ্রিলের দশ তারিখের মাঝে দখল করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি সম্ভব হলো না। বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা, এই দেশের ছাত্র-জনতা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তার কোনো তুলনা নেই।
চট্টগ্রামে বাঙালি সেনাবাহিনী এবং ই.পি.আর বিদ্রোহ করে শহরের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে আবার স্বাধীনতা ঘোষণা পড়ে শোনান। এই ঘোষণাটি সেই সময় বাংলাদেশের সবার ভেতরে নতুন একটি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে যুদ্ধেজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করতে হয় এবং বিমান আক্রমণ চালাতে হয়। বাঙালি যোদ্ধাদের হাত থেকে চট্টগ্রাম শহরকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ হয়ে যায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া এবং পাবনা শহর প্রথমে দখল করে নিলেও বাঙালি সৈন্যরা তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে শহরগুলো পুনর্দখল করে এপ্রিলের মাঝামাঝি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। বগুড়া দিনাজপুরেও একই ঘটনা ঘটে। বাঙালি সৈন্যরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাত থেকে শহরগুলোকে পুনর্দখল করে নেয়। যশোরে বাঙালি সৈনদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করার সময় তারা বিদ্রোহ করে, প্রায় অর্ধেক সৈন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেও বাকিরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত হয়ে আসতে পারে। কুমিল্লা, খুলনা ও সিলেট শহর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিজেদের দখলে রাখলেও বাঙালি সৈন্যরা তাদের আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই সময়ে পাকিস্তান থেকে দুইটি ডিভিশন সৈন্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে অসংখ্য মিলিশিয়া বাহিনী আনা হয়, তার সাথে সাথে আনা হয় যুদ্ধজাহাজে করে অস্ত্র আর গোলা বারুদ। বিশাল অস্ত্রসম্ভার এবং বিমানবাহিনীর সাহায্যে নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মে মাসের মাঝামাঝি তারা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বড় বড় শহর নিজেদের দখলে নিয়ে আসতে পারে।
পাকিস্তান সরকার ১১ এপ্রিল টিক্কা খানের পরিবর্তে জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজীকে সশস্ত্রবাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়। মুক্তিযোদ্ধারা তখন যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার জন্যে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।




শরণার্থী
২৫ মার্চের গণহত্যা শুরু করার পর বাংলাদেশে কেউই নিরাপদ ছিল না। তবে আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রাগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারে এরকম তরুণেরাও সেনাবাহিনার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সবচেয়ে বেশি আতষ্কের মাঝে ছিল কমবয়সী মেয়েরা। সেনাবাহিনীর সাথে সাথে বাংলাদেশের বিহারি জনগোষ্ঠীও বাঙালি নিধনে যোগ দিয়েছিল এবং তাদের ভয়ংকর অত্যাচারে এই দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী পাশের দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। জাতিসংঘ কিংবা নিউজ উইকের হিসেবে মোট শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যাই ছিল মাত্র সাত কোটি যার অর্থ দেশের প্রতি সাতজন মানুষের মাঝে একজনকেই নিজের দেশ ও বাড়িঘর ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে পাশের দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।
ভারত এই বিশাল জনসংখ্যাকে আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু তাদের ভরণপোষণ করতে গিয়ে প্রচন্ড চাপের মাঝে পড়েছিল। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু আগরতলায় মোট অধিবাসী থেকে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল বেশি। শরণার্থীদের জীবন ছিল খুবই কষ্টের, খাবার অভাব, থাকার জায়গা নেই, রোগে শোকে জর্জরিত, কালেরা ডায়রিয়া এরকম রোগে অনেক মারা যায়। ছোট শিশু এবং বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, যুদ্ধ শেষে কোনো কোনো শরণার্থী ক্যাম্পে একটি শিশুও আর বেঁচে নেই।

বাংলাদেশ সরকার
একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের আকাঙ্খা এই দেশের মানুষের বুকের মাঝে জাগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে যে মানুষটি এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি হচ্ছেন তাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর পরিবারের সবাইকে তাঁদের নিজেদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে ৩০ মার্চ সীমান্ত পাড়ি দেন। তখন তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতাই ছিলেন না, পরে তিনি তাঁদের সবার সাথে যোগাযোগ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। এপ্রিলের ১০ তারিখ মুজিবনগর থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা সনদ ঘোষণা করা হয়। এই সনদটি দিয়েই বাংলাদেশ নৈতিক এবং আইনগতভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই নতুন রাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি ও বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে (মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা) বাংলাদেশের প্রথম সরকার দেশী বিদেশী সাংবাদিকদের সামনে শপথ গ্রহণ করে তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তাদের প্রথম দায়িত্ব বাংলাদেশের মাটিতে রয়ে যাওয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্র সংগ্রাম পরিচালনা করা।

পাল্টা আঘাত
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধেগুলো ছিল পরিকল্পনাহীন এবং অপ্রস্তুত। ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের সংগঠিত করে পালটা আঘাত হানতে শুরু করে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের দায়িত্ব দেয়া হয় কর্নেল (অবঃ) এম.আতাউল গণি ওসমানীকে, চিফ অফ স্টাফ করা হয় লে. কর্ণেল আবদুর রবকে এবং ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে.খন্দকারকে। পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।এই এগারোটি সেক্টর ছাড়াও জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ এবং শফিউল্লাহর নেতৃত্বে তাঁদের ইংরেজি নামের অদ্যাক্ষর ব্যবহর করে জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড তৈরি করা হয়। এছাড়াও টাঙ্গাইল আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি অঞ্চলভিত্তিক বাহিনী ছিল। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে তিনি যে শুধু কাদেরিয়া বাহিনী নামে একটি অত্যনত্ম সুসংগঠিত বাহিনী গড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তা নয়, এই বাহিনীকে সাহায্য করার জন্যে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন। যুদ্ধের শেষের দিকে সশস্ত্রবাহিনীর সাথে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও যোগ দিয়েছিল এবং এই যুদ্ধে প্রথম বিমান আক্রমনে কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান মিলিটারির নাকের ডগায় ঢাকা শহরে দুঃসাহসিক গেরিলা অপারেশন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল ক্র্যাক প্লাটুন নামে দুঃসাহসী তরুণ গেরিলাযোদ্ধার একটি দল।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল সত্যিকার অর্থে একটি জনযুদ্ধ। এই দেশের অসংখ্য ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক যোগ দেয় সমতল ও পাহাড়ী আদিবাসী মানুষ। মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ে জুতো কিংবা গায়ে কাপড় ছিল না, প্রয়োজনীয় অস্ত্র ছিল না এমনকি যুদ্ধ করার জন্যে প্রশিক্ষণ নেবার সময় পর্যন্ত ছিল না। খালেদ মোশাররফের ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্রেই তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। তাদের বুকের ভেতরে ছিল সীমাহীন সাহস আর মাতৃভূমির জন্যে গভীর মমতা। বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনী যখন প্রচলিত পদ্ধতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাথে যুদ্ধ করেছে, তখন এই গেরিলাবাহিনী দেশের ভেতরে থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে তাদেরকে বাধ্য করেছে তাদের গতিবিধি নিজেদের ঘাঁটির মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে।

এই মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা বলে কখনো শেষ করা যাবে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসারের নিজেদের লেখা বইয়ে একটি ছোট কাহিনী এরকম: ১৯৭১ সালের জুন মাসে আখালিয়ার নোয়া পাড়া এলাকায় একই পরিবারের তিনজন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। শত অত্যাচারেও তারা মুখ খুলছে না। তখন পাকিস্তানি মেজর তাদের তিন ভাইকে শুইয়ে বুকে স্টেনগান ধরে বলল, আমাদের প্রশ্নের উত্তর দাও, তা না হলে তমাদেরকে আমরা গুলি করে মেরে ফেলব। নির্ভীক সেই তিন মুক্তিযোদ্ধা নিচু হয়ে মাতৃভূমির মাটিতে শেষবারের মতো চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমি মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত। আমার রক্ত আমার প্রিয় দেশটাকে স্বাধীন করবে। এই হচ্ছে দেশপ্রেম, এই হচ্ছে বীরত্ব এবং এই হচ্ছে সাহস। এঁদের দেখেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানত এই দেশটিকে তারা কখনোই পরাজিত করতে পারবে না, আগে হোক পরে হোক, পরাজয় স্বীকার করে তাদের এই দেশ ছেড়ে যেতেই হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেনি, কিন্তু প্রকৃত যোদ্ধাদের মতোই অবদান রেখেছিল, সেরকম প্রতিষ্ঠানটির নাম হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। আমাদের কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহায্যে এই বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের অবরুদ্ধ জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস আর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।সেই সময়ের অনেক দেশের গান এখনো বাংলাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের কথা আলাদা করে না বললে ইতিহাসটি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তাঁদের সাহায্য সহযোগিতা জন্যোই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে যুদ্ধ করতে পেরেছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, এমনকি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছেন।


দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রবাসী অনেক বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সরকারের জন্যে টাকা তুলেছেন, পাকিস্তানের গণহত্যার কথা পৃথিবীকে জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। যাঁদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, তাঁরা হচ্ছেন জাস্টিস আবু সায়ীদ চৌধুরী, স্থপতি এফ.আর. খান, প্রফেসর মুহম্মদ ইউনুস এবং প্রফেসর রেহমান সোবহান। শুধু যে বাংলাদেশের মানুষই এগিয়ে এসেছিলেন তা নয়, আগস্টের ১ তারিখ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে রবিশংকর, জর্জ হ্যারিসন সহ অসংখ্য শিল্পীকে নিয়ে স্মরণাতীত কালের বৃহত্তম একটি কনসার্ট সারা পৃথিবীর বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবি অ্যালেন গিনসবার্গ শরণার্থীদের কষ্ট নিয়ে সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ নামে যে অসাধারণ কবিতাটি রচনা করেন, সেটি এখনো মানুষের বুকে শিহরণের সৃষ্টি করে।
আত্মসমর্পণ
মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় সৈন্যরা ঢাকা ঘেরাও করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্যে আহবান করল। গভর্নর হাউসে বোমা ফেলার কারণে তখন গভর্নর মালেক আর তার মন্ত্রীরা পদত্যাগ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটনে) আশ্রয় নিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ঢাকার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ লিফলেট ফেলেছে, সেখানে লেখা’ মুত্তিবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আগে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করো।
ঢাকার ‘পরম পরাক্রশালী’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখন আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিল। আত্মসমর্পণের দলিলে বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথাটি দেখে একজন পাকিস্তান জেনারেল দুর্বলভাবে একবার সেখান থেকে বাংলাদেশের নামটি সরানোর প্রস্তাব করেছিল কিন্তু কেউ তার কথাকে গুরুত্ব দিলনা, ইতিহাসে সত্যকে অস্বীকার করার কারণ নেই!
১৬ ডিসেম্বর বিকেল বেলা রেসকোর্স ময়দানে হাজার হাজার মানুষের সামনে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি থেকে মাথা নিচু করে বিদায় নেয়ার দলিলে স্বাক্ষর করল। যে বিজয়ের জন্যে এই দেশের মানুষ সুদীর্ঘ নয় মাস অপেক্ষা করছিল সেই বিজয়টি এই দেশের স্বজন হারানো সাতকোটি মানুষের হাতে এসে ধরা দিলো।
বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় পাকিস্তানের সব সৈন্য আত্মসমর্পণ করে শেষ করতে করতে ডিসেম্বরের ২২ তারিখ হয়ে গেল।
আমাদের অহংকার
আমাদের মাতৃভূমির যে মাটিতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, ওপরে তাকালে যে আকাশ আমরা দেখতে পাই কিংবা নিঃশ্বাসে যে বাতাস আমরা বুকের ভেতর টেনে নেই, তার সবকিছুর জন্যেই আমরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঋণী। সেই ঋণ বাঙালি জাতি কখনোই শোধ করতে পারবে না, বাঙালি কেবল তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাটুকু প্রকাশ করার একটুখানি সুযোগ পেয়েছে তাঁদেরকে বীরত্বসূচক পদক দিয়ে সম্মানিত করে। পুরষ্কার প্রাপ্তদের মাঝে সাতজন হচ্ছেন মরণোত্তরে সবচেয়ে বড় পদকপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ। তাঁরা হচ্ছেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হামিদুর রহমান, মোস্তফা কামাল, রুহুল আমীন, মতিউর রহমান, মুন্সী আব্দুর রউফ এবং নূর মোহাম্মদ শেখ। এঁদের মাঝে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ ছিল পাকিস্তানে এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ ছিল ভারতে। তাঁদের দুজনের দেহাবশেষই এখন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অন্য বীরশ্রেষ্ঠ এবং অসংখ্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সাথে সাথে তাঁদের দুজনকেও এখন গভীর মমতায় আলিঙ্গন করে আছে আমাদের মাতৃভূমির মাটি।
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদান রাখার জন্যে যাঁদের বীরত্বসূচক পদক দেয়া হয়, তাঁদের মাঝে নারী মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দেশের নারীরা শুধু যে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য সহায়তা করেছেন তা নয়, অস্ত্র হাতে পুরুষদের পাশাপাশি তাঁরা যুদ্ধও করেছেন।














গণহত্যার পরিসংখ্যান
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার, মিলিশিয়া বাহিনী ছিল আরো ২৫ হাজার, বেসামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ হাজার, রাজাকার, আলবদর, আলশামস আরো ৫০ হাজার। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লক্ষ পচাঁত্তর হাজার। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ভারতীয় সেনা মিত্রবাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেয়। যুদ্ধ শেষে আত্মসমর্পণের পর প্রায় একানব্বই হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি ভারতে স্থানান্তর করা হয়।

যুদ্ধ চলাকালে প্রায় আড়াই লক্ষ নারী পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর তাদের পদলেহী বিশ্বাসঘাতক দেশদ্রোহীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। যুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, এই এক কোটি মানুষ দেশত্যাগ না করলে তাদের প্রত্যেককেই হয়ত এই দেশে হত্যা করা হতো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চলাকলে কতজন মানুষ মারা গিয়েছে সে সম্পর্কে গণমাধ্যমে বেশ কয়েক ধরনের সংখ্যা রয়েছে। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আলমানাকে সংখ্যাটি ১০লক্ষ, নিউইয়র্ক টাইমস (২২ ডিসেম্বর ১৭৭২) অনুযায়ী ৫ থেকে ১৫ লক্ষ, কম্পটনস এনসাইক্লোপিডিয়া এবং এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা অনুযায়ী সংখ্যাটি ৩০ লক্ষ। প্রকৃত সংখ্যাটি কত, সেটি সম্ভবত কখনোই জানা যাবে না। তবে বাংলাদেশের এই সংখ্যাটি ৩০ লক্ষ বলে অনুমান করা হয়।

শেষ কথা
আমাদের দুঃখী দেশটি আমাদের বড় ভালোবাসার দেশ, বড় মমতার দেশ। যাঁরা জীবন বাজি রেখে এই স্বাধীন দেশটি আমাদের এনে দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞাতার শেষ নেই। আর যেসব স্বাধীনতা বিরোধী, বিশ্বাসঘাতক, যুদ্ধাপরাধী এই স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে তাদের জন্যে রয়েছে অত্নহীন ঘৃণা। আজ থেকে একশ বছর কিংবা হাজার বছর পরেও যতদিন বাংলাদেশ টিকে থাকবে, এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী, বিশ্বাসঘাতক, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করবে না।

আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের নতুন প্রজন্ম মাতৃভূমিকে ঘুরে ঘুরে অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের হাত স্পর্শ করে বলবে, আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দেয়ার জন্যে ভালোবাসা এবং ভালোবাসা। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কোমল গলায় বলবে, আমরা তোমাদের কথা দিচ্ছি, তোমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলে আমরা সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। তোমাদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করব।



লেখকঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান
(সাহিত্যপ্রেমী, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী)


তথ্য সুত্রঃ
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস



.: 24 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (68 বার পঠিত)
বিপ্লবের খণ্ডাংশের পাতায় মাখসাই দেখা


বদরুজ্জামান জামান:
‘অনতিব’ থেকে ফিরছিলাম প্যারিসে।
‘মাখসাই’ এসে ট্রেন থামলো ।
যাত্রীদের ধৈর্যহীন প্রতীক্ষা- কখন ছাড়বে ট্রেন ?
অনাকাঙ্ক্ষিত নাতিদীর্ঘ বিরতি কাঙ্ক্ষিত হয়েছিল ।
ট্রেনের সিটে বসে, ষ্টেশনের প্লাটফর্মে পায়াচারিতে
অবিস্মৃত সদ্য পঠিত ফরাসি বিপ্লবের
খণ্ডা ...Details...


.: 21 September 2017 : সমসাময়ীক লেখা :. (126 বার পঠিত)
রোহিঙ্গাদের কি অপরাধ


SylhetExpress.com

বদরুজ্জামান জামান:
রোহিঙ্গাদের জাতিয়তা কি কিংবা তারা কারা ?
কি অপরাধ করছে তারা কেন স্বদেশছাড়া ? মিয়ানমার আধিবাসী তারা শতক শতক ধরে
তবুও কেন সুচিরা তাদের নেয়নি আপন করে।
তাদের উপর নির্যাতনে মধ্যযুগে আজ হার মানে
স্বদেশে নেই অধিকার একথা আজ কে না জানে ।
মিয়ানমারের সংখ্যালগু এ ...Details...


.: 20 September 2017 : সমসাময়ীক লেখা :. (149 বার পঠিত)
হায়রে মানবতা


SylhetExpress.com

প্রিন্সপাল এম আতাউর রহমান পীর:
কলম আমার থমকে গেছে পারছেনা যে চলতে
প্রশ্ন করলে বললো কেঁদে পারছিনা যে লিখতে
নারী জ্বলে, শিশু জ্বলে আরও জ্বলে বৃদ্ধ
কেমন করে লিখব বলো হয়ে গেছি নিঃস্ব।
রোহিঙ্গারা ছিল সেথায় জনম জনম ধরে
স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল তাদের হাজার বছর আগে
আজকে তারা বিতাড় ...Details...


.: 20 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (145 বার পঠিত)
আমার মায়ের স্বপ্নগুলো


SylhetExpress.com

ইসতাইন আহমেদ:
আমার মায়ের স্বপ্নগুলো স্বপ্ন রবে না
মরণ দিয়ে পূরণ হবে শেষ ঠিকানা
আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল কেবল মানুষ করার
সর্বদা এক সত্যবাদী শক্তি দিবে লড়ার
আমার মায়ের স্বপ্নেছিল কেবল বাংলাদেশ
সুখে দুঃখে মাটির বুকে জীবন হবে শেষ
আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল নদীর স্রোতে চলার
গাঙ ...Details...


.: 19 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (158 বার পঠিত)
‘ঈদ’-‘ইদ’ বানান বিতর্ক, বাস্তবতা ও একটি প্রস্তাব


SylhetExpress.com

মোঃ আব্দুল মালিক: গত ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ি যখন কেউ কেউ ‘ঈদ’ বানান ‘ইদ’ অর্থাৎ ‘ঈ’ এর স্থলে ‘ই’ দিয়ে লিখে ঈদের শুভেচ্ছা জানান বা কোন কোন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ই’ কার দিয়ে ‘ইদ’ বানান লিখছেন তখন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক ...Details...


.: 18 September 2017 : সমসাময়ীক লেখা :. (273 বার পঠিত)
আরাকান


SylhetExpress.com

ইসতাইন আহমেদ:
হবে না হত্যা আর কোনো মুসলিম
হাতে হাত ধর হে মুজাহিদ রক্ষা করি দ্বীন
মোরা গর্বিত মুসলিম।
আর যেন কোনো শিশু না মরুক
আর যেন কোনো পিতা না জ্বলুক
আর যেন কোনো মা না বলুক
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম।
বাধ ভাঙা স্রোতের মত নির্ ...Details...


.: 18 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (174 বার পঠিত)
ছবির মত অংকিত অনতিব শহরে...


SylhetExpress.com

বদরুজ্জামান জামান:
. আমি যে পদচিহ্ন রেখে এসেছি ছবির মত অংকিত
'অনতিব' শহরে, এখন হয়তো তা মিলিয়ে গেছে।
আটলাণ্টিকের কূল বেয়ে স্হাপত্য শৈলীর মোহমগ্নতা
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আলোয়ানে মোড়ানো 'অনতিব',
'নিছ', 'কান' শহর। উঁচু-নীচু টিলায় দাঁড়িয়ে থাকা সদ্য প্রসূতি
'অলিভট্রি' নুজ্য দে ...Details...


.: 14 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (397 বার পঠিত)
শরতে হলো দেখা


SylhetExpress.com

কামরান চৌধুরী:
সাদা সাদা মেঘগুলো নীল আকাশে চলছে ভেসে অজানায়
প্রজাপতি যুগলের মন ছুঁয়ে ছুটছি তোমার ঠিকানায়।
এই শরতেই তার সাথে হয়েছে মিতালী, কাশ বনে একা;
নীল শাড়ি পড়ে, পরিপাটি বেশে এসেছিল, নিবিড় সে দেখা।
চোখদুটি মুগ্ধ, বাকরুদ্ধ, পরখ করি নির্মল হাসি, চুল,
গুইচিচাঁপা খোপাতে ...Details...


.: 13 September 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (176 বার পঠিত)
নেতা হবে হ্যায়্যিয়ে!


নোমান মাহফুজ:
. দলে দলে 'পদ' খেলা
চলে কতোই ঢংয়ে,
বুরু ভাই চুরু ভাই
নেতা হবে হ্যায়্যিয়ে।
পদ পেতে ফটোশপ
প্রচারণায় তুঙ্গে,
অমুক ভাই সভাপতি
দিতেই হবে আগে।
নেতা চাই নেতা চাই
নীতি নাই কপালে,
রাজনীতি করে দেখো
যত সব গোপালে।
ছাত্র রাজনীতি ভাই
অছাত্রে ভরপুর,
নেতাগী ...Details...


.: 11 September 2017 : প্রকৃতি পরিবেশ :. (279 বার পঠিত)
নির্লজ্জ মানবতা


SylhetExpress.com

মজিবুল হক হিরণ:
ধিকধিক শত ধিক নির্লজ্জ যে জন
সাম্প্রদায়িক চেতনায় কে করে আলাদা
হিন্দু-বৌদ্ধ, মুসলিম-খৃষ্টান,
ধর্ম-বর্ণ হোক আলাদা তবুতো সবাই মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ক্ষমতার লোভ সবাইকে করছে বেহুশ।
আজ কোথায় "হিউম্যান রাইট ওয়াচ"
কোথায় হাড়াল জাতিসংঘ
তাদের চোখে কি পরেনা বা ...Details...


Next Page»: লেখক মেলা এর আরো লিখা »

লেখক মেলা এর সর্বাধিক পঠিত লিখা

.: : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (106912 বার পঠিত)
কবি শফিকুল ইসলাম যাকে সব সময় মনের ফ্রেমে বেঁধে রাখা যায়...


SylhetExpress.com

আউলিয়া বেগম আলো (সম্পাদক, জাতির আলো)ঃ মহান সাধক ব্যক্তিরা বলে গেছেন পৃথিবীতে এসেছিস একটি দাগ রেখে যা। আসলি আর গেলি এমনটি যেন না হয়। তাই তো বিজ্ঞ জ্ঞানী গুণী ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ আসা-যাওয়ার এই দুনিয়ায় কিছু না কিছু রেখে যতে চান। তবে কর্মে একনিষ্ঠ, দায়িত্ববোধ, সঠিক সাধনা ও সাফল্য থাকলে অগ্র ...Details...


.: 15 February 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (13288 বার পঠিত)
ভোরের শিশির


SylhetExpress.com

মজিবুল হক হিরণ:
আমরা যে ভাই ভোরের শিশির ঘাসের উপর বসি
দিনের আলোয় লুকিয়ে থেকে রাত্রি ভোরে আসি,
ঘাসের বুকে শীতের ভোরে মোদের বসবাস
শীত -শরতে আছি মোরা অত:পর পরবাস।।
প্রকৃতিতে মিশে মোরা প্রকৃতিকেই ধুই
শ্রান্ত পথিকের ক্লান্ত হৃদয় আলতো করে ছুঁই।
মোদের ছোঁয়াতে প্রাণ ফিরে পায় ...Details...


.: 12 November 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (8514 বার পঠিত)
জ্বিনের পাহাড়


SylhetExpress.com

নাদিম নেওয়াজ আহমেদ: ভয়। আশ্চর্য্য! মাথা গোলমেলে। ঠিক তাই। আমার দেয়া ছবিটি ভাল করে লক্ষ্যে করুন। এটি আমি যে গাড়িতে করে গিয়েছিলাম সেটার মিটার বোর্ড এর চিত্র উপরে এবং নিচে গুগোল থেকে নেয়া সেই রাস্তাটির চিত্র। আমরা সবাই জানি যে গাড়ি চালাতে হলে ইঞ্জিন চালু করে নিউট্রল অবস্থা হতে গিয়ার ...Details...


.: 25 April 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (8353 বার পঠিত)
প্রকৃতির বিছানায়


SylhetExpress.com

নাদিম নেওয়াজ আহমেদ: মুষলধারে বৃষ্টি। ঘুম ভাঙতেই এমন অবস্থা দেখে মনে মনে ভাবলাম আজ আর মনে হয় যাওয়া হচ্ছে না। কিন্তু সকাল ৯টা বাজতেই আমার ফোনটি বেজে উঠলো। ওপার থেকে তাহমিম দেওয়ান জানতে চাইলো আমার অবস্থান কোথায়। বৃষ্টির এমন রসিকতা দেখে আমার মেজেট টা বিগড়ে গেল, সিন্ধান্ত নিলাম আমি যাব ...Details...


.: 8 March 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (8195 বার পঠিত)
ক্রমাগত হত্যার সেরেনাদে : রক্তাক্ত সময়ের ডায়েরি


SylhetExpress.com

বাশিরুল আমিন; প্রচলিত ধারণা ; ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত উপন্যাস সমুহের চেহারা চাকচিক্যময় হলেও ব্যাকরণে, প্রকরণে ও বয়ানে থাকে অন্তঃসারশূন্যতা। বিশেষ সংখ্যার লেখাগুলি যেহেতু ফরমায়েশি আর লেখা হয় স্বল্পসময়ে স্বল্পকায় ফলে আবেদনময়ী হয় যৎসামান্যই। ধারাণাটা যে ভুল আবারো প্রমাণিত হলো। এবা ...Details...


পাঠকের মতামত
তোমার দুচোখ
পাঠকের মতামতঃ (1)

13 June 2016 তারিখে তারেক লিমন তেবাখো কক,ক্লাব ২০০০ কিম্বালি সাউথ আফ্রিকা লিখেছেনঃ আমাদের সিলেটের অনেক পত্রিকা পড়েছি, কিন্তু এই প্রতম সিলেট এক্সপ্রেস পড়লাম, প্রতিটি বিভাগ দারুণ ভাবে সাজানে হয়েছে পড়ে খুবই উপভোগ করেছি আরো বেশি ভাল লেগেছে, কারণ আমার অনেক প্রিয় কবিগনদের লেখা ও থাতে রয়েছে, আমার অনেক পরিচিত সাংবাদিকগন ও তার সাথে জড়িত এক কথায়, আজ থেকে আমিও সিলেট এক্সপ্রেস এর একজন পাঠক হয়ে গেলাম, সিলেট এক্সপ্রেস, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাক,।। ..... তারেক লিমন তেবাখো কল,ক্লাব ২০০০ কিমবালি, সাউথ আফ্রিকা

নষ্ট পৃথিবীতে আমি ভালো নেই
পাঠকের মতামতঃ (1)

6 October 2015 তারিখে মোঃগোলাম মোস্তফা তুহিন সিলেট লিখেছেনঃ sylhetexpress.com এ প্রকাশিত আমার প্রথম কোন লেখা।কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ আমার কবিতাটি প্রকাশ করার জন্য।

ভালবাসার এপিঠ ওপিঠ
পাঠকের মতামতঃ (1)

1 September 2015 তারিখে মো: মশিয়ার রহমান rangpur লিখেছেনঃ

Other Pages :

 
 অন্য পত্রিকার সংবাদ
 অভিজ্ঞতা
 আইন-অপরাধ
 আত্মজীবনি
 আলোকিত মুখ
 ইসলাম ও জীবন
 ঈদ কেনাকাটা
 উপন্যাস
 এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল
 কবিতা
 খেলাধুলা
 গল্প
 ছড়া
 দিবস
 দূর্ঘটনা
 নির্বাচন
 প্রকৃতি পরিবেশ
 প্রবাস
 প্রশাসন
 বিবিধ
 বিশ্ববিদ্যালয়
 ব্যক্তিত্ব
 ব্যবসা-বাণিজ্য
 মনের জানালা
 মিডিয়া ওয়াচ
 মুক্তিযুদ্ধ
 যে কথা হয়নি বলা
 রাজনীতি
 শিক্ষা
 সমসাময়ীক বিষয়
 সমসাময়ীক লেখা
 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
 সাইক্লিং
 সাক্ষাৎকার
 সাফল্য
 সার্ভিস ক্লাব
 সাহিত্য-সংস্কৃতি
 সিটি কর্পোরেশন
 স্বাস্থ্য
 স্মৃতি
 হ য ব র ল
 হরতাল-অবরোধ

লেখালেখি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)
আব্দুল হামিদ মানিক
শফিকুল ইসলাম
প্রা. মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট
ইকবাল বাহার সুহেল
হারান কান্তি সেন
সেলিম আউয়াল
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
এ.এইচ.এস ইমরানুল ইসলাম
জসীম আল ফাহিম
সৌমেন রায় নীল
সাকিব আহমদ মিঠু
রাহিকুল ইসলাম চৌধুরী
সালাহ্‌ আদ-দীন
ছাদিকুর রহমান
সাঈদ নোমান
জালাল আহমেদ জয়
পহিল হাওড়ী (মোঃ আবু হেনা পহিল)
শাহ মিজান
তাবেদার রসুল বকুল
কাউসার চৌধুরী
নারী অঙ্গন
নূরুন্নেছা চৌধুরী রুনী
ইছমত হানিফা চৌধুরী
আমেনা আফতাব
মাহবুবা সামসুদ
সুফিয়া জমির ডেইজী
নীলিমা আক্তার
মাছুমা আক্তার চৌধুরী রেহানা
সালমা বখ্ত্ চৌধুরী
রিমা বেগম পপি
রওশন আরা চৌধুরী
অয়েকপম অঞ্জু
আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না
জান্নাতুল শুভ্রা মনি
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী
আলেয়া রহমান
মাজেদা বেগম মাজু
নাঈমা চৌধুরী
শামসাদ হুসাম
তাসলিমা খানম বীথি
রায়হানা বারী রেখা

সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আলোচিত লিখা
.: 4 weeks ago : :.
কুরবানী : মালিকের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের শিক্ষা দেয় (495 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

শাহ নজরুল ইসলাম: কুরবানির ইতিহাস কুরবানির বিধান হযরত আদম আ.এর চলে আসছে। সকল উম্মতের ইবাদতে এ কুরবানির আবশ্যিক বিধান ছিল। মহান আলøাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির এক রীতিপদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আলøাহর নাম নিতে পারে, যেসব আলøাহ তাদের দান করেছেন Details...


.: 2 weeks ago : :.
দেশের প্রথম তেলক্ষেত্র সিলেটে (460 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সেলিম আউয়াল: জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের ভেতর দিয়ে উদ্ভব হওয়ায় সিলেট অঞ্চল বিভিন্ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এরমধ্যে উলেøখযোগ্য হচ্ছে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পিট, চুনাপাথর, কাঁচবালি, বেলেপাথর, নুড়ি ্এবং বড়ো পাথর ইত্যাদি। এই প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে Details...


.: 4 weeks ago : :.
প্রবন্ধ সাহিত্য জ্ঞানের পরিধি বাড়ায় (437 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক: বিশ্বসাহিত্যে প্রবন্ধের গুরুত্ব ব্যাপক এবং প্রবহমান। বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্য অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যেও প্রবন্ধ ঠাঁই পেয়েছে সেই উনবিংশ শতাব্দীতে সাহিত্যিক খ্যাতিলাভ করেছেন যাঁরা তাঁদের লেখায়। বাংলা বর্ণমালায় সাহিত্য রচনা করে সমগ্র বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ কর Details...


.: 2 weeks ago : :.
শরতে হলো দেখা (397 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

কামরান চৌধুরী:
সাদা সাদা মেঘগুলো নীল আকাশে চলছে ভেসে অজানায়
প্রজাপতি যুগলের মন ছুঁয়ে ছুটছি তোমার ঠিকানায়।
এই শরতেই তার সাথে হয়েছে মিতালী, কাশ বনে একা;
নীল শাড়ি পড়ে, পরিপাটি বেশে এসেছিল, নিবিড় সে দেখা।
চোখদুটি মুগ্ধ, বাকরুদ্ধ, পরখ করি নির্মল হাসি, চুল,
গুইচিচাঁপা খোপাতে Details...


.: 4 weeks ago : :.
চাপাবাজ (362 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

ইমরান ইমন: কয়েকদিন আগে ওসমানী মেডিকেলে গিয়েছিলাম ছোটবোন দেখতে। চারতলার ছয় নাম্বার ওয়ার্ডে। আমার সাথে ছিলো এক বন্ধু। দুজনই রোগীকে দেখতে গিয়েছিলাম। নিচতলায় সিঁড়িপথে ওপরে উঠবো তখন গার্ড বলল যাওয়া যাবেনা। আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না যে, গার্ডকে কিছু দিতে হবে। নূন্যতম বিশত্রিশ টাকা। Details...


.: 4 weeks ago : :.
নজরুল সাহিত্যের দার্শনিক রূপরেখা ! (332 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

রাজু আহমেদ: আমাদের নজরুল নোবেল পাননি । নোবেল প্রাপ্ত হননি ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ ও ‘আন্না কারেনিনা’র মত জগৎ বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম সৃষ্টিকারী লিও তলস্তয়ও । তাই বলে কি সাহিত্যের ভূবনে নোবেল প্রাপ্তদের থেকে এদের অবদান কম ? মোটেই না । বরং অনেক নোবেল প্রাপ্ত কবি-সাহিত্যিকের চেয়ে নজরুল ইসলা Details...


.: 2 weeks ago : :.
শব্দ চয়নে পটু সত্যচয়ন (315 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক:
আমার বন্ধু বই পড়ে
কবিতা ভালোবাসে
ভালোবাসে প্রিয়তমা স্ত্রী
পরিবার ভালোবাসে
জন্মভূমি যেন তার স্পন্দিত হৃদয়।
ঠিক জায়গায়
বাচনভঙ্গিমায়
সঠিক শব্দচয়নে পটু
বন্ধু আমার সত্যচয়ন।
সে চাকরি করে
ভালো বেতনের চাকরি
বড় অফিসে চেয়ার টেবিল টেলিফোন
মোবা Details...


.: 4 weeks ago : :.
নোমান মাহফুজের গুচ্ছ "আরাকান ছড়া" (297 বার পঠিত)

নোমান মাহফুজ:
(১)
রুখো!
রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ
চলছেই দেখো,
মুসলিম শত মারে
রুখো সবে রুখো।
জাতিসংঘ চুপ কেন
জবাবটা চাই,
সুচি কেন বেপরোয়া
শান্তি কেন নাই।
আর কতো মুসলিম
মরে হবে লাশ,
বাড়িঘর ছেড়ে সবে
করছে হাসফাস।
মুসলিম নামধারী
শাসকেরা শুনো,
মুখ এঁটো বসা নয়
পদক্ Details...


.: 2 weeks ago : :.
নির্লজ্জ মানবতা (279 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মজিবুল হক হিরণ:
ধিকধিক শত ধিক নির্লজ্জ যে জন
সাম্প্রদায়িক চেতনায় কে করে আলাদা
হিন্দু-বৌদ্ধ, মুসলিম-খৃষ্টান,
ধর্ম-বর্ণ হোক আলাদা তবুতো সবাই মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ক্ষমতার লোভ সবাইকে করছে বেহুশ।
আজ কোথায় "হিউম্যান রাইট ওয়াচ"
কোথায় হাড়াল জাতিসংঘ
তাদের চোখে কি পরেনা বা Details...


.: 1 week ago : :.
আরাকান (273 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

ইসতাইন আহমেদ:
হবে না হত্যা আর কোনো মুসলিম
হাতে হাত ধর হে মুজাহিদ রক্ষা করি দ্বীন
মোরা গর্বিত মুসলিম।
আর যেন কোনো শিশু না মরুক
আর যেন কোনো পিতা না জ্বলুক
আর যেন কোনো মা না বলুক
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম
আমি নির্যাতিত মুসলিম।
বাধ ভাঙা স্রোতের মত নির্ Details...



www.SylhetExpress.com - First Online NEWS Paper in Sylhet, Bangladesh.

Editor: Abdul Baten Foisal Cell : 01711-334641 e-mail : news@SylhetExpress.com
Editorial Manager : Abdul Muhit Didar Cell : 01730-122051 e-mail : syfdianews@gmail.com
Photographer : Abdul Mumin Imran Cell : 01733083999 e-mail : news@sylhetexpress.com
Reporter : Mahmud Parvez Staff Reporter : Taslima Khanom Bithee

Designed and Developed by : A.S.H. Imranul Islam. e-mail : imranul.zyl@gmail.com

Best View on Internet Explore, Mozilla Firefox, Google Chrome
This site is owned by Sylhet Sifdia www.sylhetexpress.com
copyright © 2006-2013 SylhetExpress.com, All Rights Reserved