User Login | | নীতিমালা | 18 Nov 2017 : Sylhet, Bangladesh :
    সংবাদ : নিবৃতচারী কথাসহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম। জীবন ও কর্ম  সংবাদ : সিলেট সিটি নির্বাচন
বিএনপির তিন নেতার 'ঢাকা মিশন'  সংবাদ : ‘নাদিমস ফটোগ্রাফি’এ্যাওয়ার্ড পেলেন মিস ফিলিপাইন  সংবাদ : জাপানে ৩০তম টকিও আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসব অনুষ্ঠিত  সংবাদ : কৈতর সিলেটের উদ্যোগে গল্পগ্রন্থ ‘মনুষ্যত্ব’ এর প্রকাশনা উৎসব রোববার অনুষ্ঠিত হবে  সংবাদ : ভাটেরায় 'সম্ভাবনার হাতছানি' সাহিত্য সাময়িকীর ৩য় সংখ্যার প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত  সংবাদ : মোবাইল পাঠাগারে আজ কথাশিল্পী আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম স্মরন সভা  সংবাদ : এক্সেলসিয়র সিলেট পরিদর্শনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী  সংবাদ : তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে লিফলেটের মোড়ক উন্মোচন   সংবাদ : জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদের জন্মদিন পালন করল আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা  সংবাদ : জয়নগর বাজার হাজী গণি বক্স হাই স্কুল,সুনামগঞ্জ 'র ৫০ বছর পূর্তি  উৎসবের রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সিলেটে শুরু   সংবাদ : সিলেট জেলা ও মহানগর 
ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
  সংবাদ :  ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিন্টুকে গ্রেপ্তারের
প্রতিবাদে  জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের মিছিল   সংবাদ : ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় সিলেটে স্বেচ্ছাসেবকদলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল  সংবাদ :  রাস্তা প্রশস্থকরণ
কাজ পরিদর্শন করলেন সিসিক মেয়র আরিফ  সংবাদ : ওয়ালটন গ্রæপের ইলেকট্রিক পন্য সামগ্রীর 
পরিবেশক জোনাকী ডিস্ট্রিবিউশনের উদ্বোধন
sylhetexpress.com এর picture scroll bar এর code. এই কোড যেকোন website এ use করা যাবে।
| সিলেট | মৌলভীবাজার | হবিগঞ্জ | সুনামগঞ্জ | বিশ্ব | লেখালেখি | নারী অঙ্গন | ছবি গ্যালারী | রঙের বাড়ই ব্লগ |

হারান কান্তি সেন
Phone/ Mobile No.: 01819867388
E-mail : harankanti.sen@facebook.com
01819867388

Web Address : www.sylhetexpress.com/lekhalekhiNew.php?writerID=4
হারান কান্তি সেন এর লিখা
.: 7 February 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :.

পা বাড়ালেই শিলং গুয়াহাটি


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন:
১৮ই এপ্রিল ২০১৫ শুক্রবার সকালে এমন বৃষ্টি ছিল যে, ছুটির দিনের এমন সময়টা আরেকটু বিছানায় থাকতে সবারই মন চায়। কিন্তু কি আর করা সকাল সকাল ওঠেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ৯টায় বেরুনোর কথা থাকলেও আমরা ৯.৪৫-এ গাড়িতে ওঠি। পৌনে ১২টায় তামাবিল পৌছে চেক পোষ্টে – ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস সেরে আমরা জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি পৌছি। প্রথমেই একজন বি এস এফ জওয়ান পাসপোর্ট দেখে এগুতে বললেন। এদিকে পায়ে হেঁটে এক মিনিটেরও কম সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পৌছার ব্যাপারটায় বেশ অবাক আমার ৯ বছর বয়সী পুএ তোজো। তার কথা হলো ঢাকা থেকে প্লেনে উঁড়ে ইতোপূর্বে আমরা যেখানে আধাঘন্টায় কলকাতা (ভারত) পৌঁছি সেখানে এখন কিভাবে এটা হলো ---------।
ডাউকি নোমেন্স ল্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে ২ মিনিটের ও কম সময়ে আমরা ভারতীয় ইমিগ্রেশন- কাষ্টমস বিল্ডিং এ প্রবেশের আগেই আমাদের রিসিভ করতে শিলং থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে আসা তালতো ভাই রান্টু দার (রনধীর ধর) দেখা পেয়ে যাই। এখানে একিই বিল্ডিং-এ কাষ্টমস ইমিগ্রেশন। রান্টুদা এসে খুব দ্রুত আমাদের পাসপোর্ট এর্ন্ট্রি করিয়ে গাড়িতে উঠলাম। ডাউকি বাজারের থানা রোডে একটা রেষ্টুরেন্টে আমরা লান্ঞচ করতে বসলাম তবে আমার পুএ তোজো মাছ- ভাত- মাংস না খেয়ে লুচি আর আলু মটর খেলো।
এদিকে ইতিমধ্যে আমি ঘড়ির কাঁটা আধাঘন্টা পিছিয়ে নেই। ভারতীয় সময় দুপুর একটায় (বাংলাদেশে ১টা৩০মি:) আমরা শিলং এর পথ ধরি। মাইক্রো ড্রাইভার খাসিয়া নাসরো গাড়ী ষ্টার্ট করলো। জাফলং থেকে দেখা ছবির মত ছোট্ট ডাউকি শহর দিয়ে যেতে থাকি। এদিন শুক্্রবার হওয়ায় বাংলাদেশগামী কয়লা বোঝাই ট্রাক না থাকায় রাস্তা অনেকটা খালিই ছিল।শুনেছি রবিবার ভারতের ছুটির দিনেও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে।
বাজার পেরিয়ে ডাউকি ঝুলন্ত সেতুর কাছ থেকেই নিচের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে দেখি নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বাংলার ভ্রমন বিলাসী অগুনিত মানুষের সমারোহ। একবার ইচ্ছে হচিছল গাড়ী থেকে নেমে একটা হাঁক দেই- দেখ বাহে মুইনু এহানে .......।
ডাউকি ব্রীজের কাছে এসে ভেবেছিলাম বি এস এফ গাড়ী থামাবে কিন্তু এখন এই ব্যাবস্থা নেই।আমরা আগে যখন শিলং যেতাম তখন এখানে চেক পোষ্ট ছিল। প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ২০ ফুট প্রস্হের এই ডাউকি ব্রীজ নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা পিয়াইন নদীর উপর অব¯্হতি। জাফলং থেকে পিয়াইন নদী - বালুচর - পাহাড় আর এই ব্রীজকে ফ্রেম করে ছবি তুলতেই ভ্রমন বিলাসীরা চেষ্টা করেন। মেঘালয় পাহাড় এই অংশে এখন যে রূপ ধরে আছে তা সত্যিই ভয়ংকর ! মনে হয় পাহাড় হা করে আছে সব কিছু গ্রাস করা কিংবা পিষে ফেলার জন্য।১৮৯৭ খ্রী: ডাউকি ফল এ রিখটার স্কেলে ৮.৭ মাএার ভূমিকম্প পুরো মেঘালয় জুড়ে ভৌগলিক পরিবর্তন ঘটায়। ডাউকি – শিলং রাস্তাটি ভারতের ৪০নং জাতীয় সড়ক দূরত্ব ৮১ কিলোমিটার।আমরা এখন পাহাড়ের হাজার হাজার ফুট উপর দিকে উঠছি এবং এভাবে ৩৩ কিলোমিটার পথ গাড়ী শুধু ধীরে ধীরে উপরে উঠবে এবং পাইনার স্লা পর্যন্ত।
আমরা কিছু পথ পেরুনোর পর দেখি পাহাড়ের মাঝে তাবু টানিয়ে একটা পরিবার বাস করছে এবং দেখে মনে হলো এরা বুঝি অনেক দিন যাবত এখানে আছে।মেঘালয় মেঘ পাহাড়ের ঝর্নার সমারোহ দেখে দেখে আমরা যাচ্ছি এবং কোন কোন ঝর্না হাজার হাজার ফুট নীচে আছড়ে পড়ছে - সত্যিই এসব দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে যায়।..... এমনি সময় বৃষ্টির আগমন ঘটে। বাড়ি থেকে সঙ্গত কারনেই হাফ শার্ট পরে বেরুলে ও পাহাড়ে ওঠার সাথে পাল্লা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস এসে একদিকে যেমন শরীরকে জুড়িয়ে দেয় অন্যদিকে ধীরে ধীরে শীত অনুভূত হতে থাকে। চলার পথে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় অনেক পুরনো স্থাপনার অস্থিত্ব চোখে পড়ে যা, দেখে মনে হয় এক সময় এইসব স্থানগুলোতেই অনেক মানুষের বসতি ছিল।হয়তো ১৮৯৭ খ্রী: ডাউকি ফলের সেই প্রলংকরী ভূমিকম্পে এসব ছোট ছোট নগরী একদম বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ডাউকি থেকে একটানা ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে ওপারে পাইনুর স্লা এসে চা বিরতি দিলাম। পাইনুর স্লা একটি ছোট্ট শহর। পাইনুর স্লা অর্থ হলো পাইনুর পাতা যা আমরা ’কিত্বা পাতা’ হিসেবেই চিনি। আগে গ্রাম্য বাজারে এই কিত্বা পাতা দিয়ে শুটকী বাঁধা হতো। এখানে এক খাসিয়া দোকানে আমরা দুধ চা আর ভাপা পিঠার মত এক ধরনের পিঠা খেলাম । বৃষ্টি কিšত’ তখনও আমাদের পিছু ছাড়েনি।পাইনার স্লা পেরিয়েই আমরা জন প্রতি ১০ টাকা টিকেট করে একটা ভিউ পয়েন্টে উঠলাম।এখান থেকে পাহাড়ের সব দিকের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে।হাজার হাজার ফুট উচুঁ উঁচু পাহাড় বেষ্টিত মনোরম প্রকৃতির মাঝে দাড়িয়ে বার বার নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে ........।মনে পড়ে কবি গুরুর সেই গান কোথাও আমার হাড়িয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে মেলে দিলেম গানের সুরে এই ডানা মনে মনে.....।এদিকে পেজা তুলোর মত মেঘ এসে যেন তার ছোঁয়ায় আমাদের শীতল আর সিক্ত করে দেয়।আমার পুএ পিদিম এর আগে উড়োজাহাজের জানালা দিয়ে এমন মেঘ দেখে ছিল কিন্তুু আজ সেই মেঘ তার মুখমন্ডলে চুমু খেয়ে যায় এবং তা দেখে সে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে, আসলে মেঘালয়ের পাহাড়ে পাহাড়ে এমন বিষ্ময় আপনার জন্য সব সময় যেন মুখিয়ে থাকে,এখান থেকে গাড়ীর আরও মজা উপরে ওঠার বেলা কোন কথা নেই কিন্তু নিচের দিকে নামতে গিয়ে র্ষ্টার্ট বন্ধ করে দেয়।কি মজা Ñ বিনা তেলে গাড়ী চলে।সারি সারি পাইন আর নাশপাতি গাছের সমারোহ পেরিয়ে আমরা মেঘালয়ের রাজধানী শিলং দেখতে পাই।বিকেল ৪টায় আমাদের বহনকারী গাড়ী শিলং শহরের লাবান নরেন্দ্র দামলেন এ থামলো। রান্টুদার বাসার বিস্বস্ত গৃহকর্মী শ্যামলা আর খাটোময় সদাহাস্যময় ববিতা দাস আমাদের সাথে মালপএ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে।
শিলং নেমে তো আমরা এপ্রিলে মাঘ মাসের শীতে থর থর করে কাঁপতে থাকি।ভাগ্যিস আমার শিশু পুএ তোজোর জন্য বাড়ি থেকে জ্যাকেট নিয়ে আসায় রক্ষা।আমি, আমার স্ত্রী পম্পা আর সহযাএী কাকাতো ভাই শংকরকে রান্টুদা শীতবস্ত্র দেন।ইতিমধ্যে সদাহাস্যময়ী গৃহকর্মী ববিতা আমাদের মাঝে বেশ জম্পেষ্ট দুধ চা আর স্থানীয় ভাবে প্রস্তুত বিশেষ ধরনের মজাদার বিস্কিট পরিবেশন করে।সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পটু ববিতার কাছ থেকে জানলাম তার মা বাবা চেরাপুঞ্জির চেলা থাকেন। সেও ওখানে থাকতো।
শিলং এর বাঙালীরা প্রায় সবাই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে এবং এজন্য আমি ইতোপূর্বে যখনই শিলং গিয়েছি তখনই নিজে থেকে সিলেটি কথা বলেছি।আর শিলং এর বাঙালীদের মুখে সিলেটি কথা শুনে আমার বুকতো গর্ভে মেঘালয়ের পাহাড়ের থেকেও উঁচু হয়ে যায়।এদিন সন্ধ্যায় এই পাড়ার তালতো ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যাই,পথে মোবাইল সীমকে ৩৬টাকা দিয়ে রেইট কাটার করি যাতে বাংলাদেশে (ওখান থেকে) প্রতি মিনিট ২ টাকায় কথা বলা যায।এখানে মোবাইল সীম কেনা কলকাতা ব্যাঙ্গালুরুর মত সহজ নয়।
রাতে খাবারের পর কিছু সময় আড্ডা দিয়ে আমরা ঘুমোতে যাই,কিন্তুু শীতের তীব্রতায় লেপের মধ্যে আরেকটা কম্বল জড়িয়ে তবেই শীত নিবারন।অবাক করা ব্যাপার হলো আগের রাতে সিলেটে নিজের বাড়িতে যেখানে গরমের মাঝে ফুল স্পীডে ফ্যান চালিয়ে ঘুমিয়েছি সেখানে পরের রাতে শিলং লেপ কম্বল গাযে জড়িয়ে ঘুমাতে হয়েছে। শিলং এ গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ ২৬ ডিগ্রি এবং শীতে সর্বনিম্ন ১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাএার পতন হয়।তবে গ্রীষ্মে ও বৃষ্টি হলে শিলং তথা মেঘালয়ের তাপমাএা আমাদের শীতকালের চেয়েও কম হয়। এখানে বাসা বাড়িতে শিলিং ফ্যান দেখিনি,তবে ২/১টা টেবিল ফ্যান কেউ কেউ রাখেন।
১৯ এপ্রিল একটা রোদেলা সকাল আমরা পেলাম। সারারাত বৃষ্টি হলেও সকালে যেন এর কোন চিহ্ন নেই।কিন্তুু সাড়ে ৯টা থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝেই সকাল ১১টায় লাবান থেকে টেক্্ির চড়ে পুলিশ বাজার যাই। ষ্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় মানি একচেঞ্জ করতে গেলে পরিচয় হয় এই ব্যাংক ষ্টাফ ওসমানীনগর থানার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গুপ্তপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহনকারী পঞ্চাশোধ প্রতিমা দের সাথে। এই শিলং এমন এক জায়গা যেখানে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিখ্যাাত কাব্যগ্রন্থ ‘শেষের কবিতা’ লিখেন।এখানে কোন মশার উৎপাৎ নেই এবং কেউই মশারী ব্যাবহার করেনা বলে শুনেছি।তবে গরম কালে ২/১টা মশা আসলেও তা ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না।
মেঘালয় রাজ্যের রাজরানী শিলং-এ মহিলারা সব সময় নিরাপদ।এখানের মানুষ ইভটিজিং কি তাই জানেনা।সব বয়সী মহিলারা স্কুল, কলেজ, মার্কেট থেকে শুরু করে সব জায়গায় চলাফেরা করার জন্য ভোর কিংবা রাতে কখনো পূরুষ সঙ্গীর প্রয়োজন মনে করেন না।
এদিন ও লেপ গায়ে দিয়ে আমরা ঘুমিয়েছি সেই আগের রাতের মত। ২০শে এপ্রিল ঘুম থেকে ওঠে দেখি রোদেলা সকাল। রন্টুদার বাসার সামনের দিকে অর্থ্যাৎ উপরের দিকেই আপার শিলং সেই ভিউ পয়েন্ট। আজ আকাশ বেশ পরিস্কার।সকালে নাস্তার পর রন্টু’দার মেয়ে দিপান্বিতা কর রিমি (বর্তমানে কমিউনিকেশন মিডিয়ায় দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নিরত) হারমনিয়াম বাজিয়ে পরিবেশন করে আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের ভজন..... “অন্তরে তুমি আছ চিরদিন ওগো অন্তর্যামী......’ ও‘ সখি সে হরি কেমন বল নাম শোনে যার এতো প্রেম জাগে চোখে আসে এত জল........” । আসলে সকাল বেলার এই শান্ত পরিবেশ রিমির গাওয়া গান গুলো যেন একটা অন্য ধরনের প্রশান্তি এনে দেয় দেহমনে। তবে মজার ব্যাপার হলো রিমি বাংলা বলতে পারে কিন্ত লিখতে ও পড়তে পারে না। এজন্য তার স্বরলিপি বাংলার বদলে ইংরেজিতে লিখা।
দুপুর বেলা আমার ছোট বোন জয়ার ভাসুর অধ্যাপক আশুতোষ দেব- অধ্যাপিকা মিতালী দাশগুপ্তের আপার লাবান এর বাসায় শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজায় যোগ দিই স্ত্রী পুত্র নিয়ে। ওখানে প্রসাদ খেতে বসি বিভিন্ন দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (বাঙ্গালী) সাথে যারা এখন ও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। কেউ খুব ছোট বেলা এখানে আসেন আবার ২/১ জন এখনও বাংলাদেশে বেড়াতে যান আত্মীয় স্বজনের কাছে।
এসব অবসর প্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন কথায় আমার খুব ভাল লাগে যেমন - বর্তমানে বাংলা ভাষা, রবীন্দ্র - নজরুল সাহিত্যের মূল কেন্দ্র যে, বাংলাদেশ তা তারা খুব সহজেই স্বীকার করেন।
বিশ্বকাপ ক্রীকেট ২০১৫-এর কোয়াটার ফাইনালে ভারত বাংলাদেশ মেসে রেফারিংয়ের ভুলগুলো না হলে বাংলাদেশ জিততে পারতো বললে আমার একথা ও তারা মেনে নেন এবং এদের সকলেই বলেন বাংলাদেশ একদিন পাকিস্তানের চেয়েও সেরা টিম হবে। এ বাসায় দুপুরের খাবারের পর পৌনে তিনটায় মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতের জাতীয় মহাসড়ক এন এইচ ৪৪ দিয়ে আসামের রাজধানী গৌহাটির পথে আমরা যাএা করি। শিলং শহর থেকে বেরিয়েই আমাদের টেক্সি ড্রাইবার আলী উমিয়াম লেক ভিউ পয়েন্ট (বড় পানি) এ গাড়ি থামায়। পাহাড়ের হাজার ফুট উচ্চতায় দাঁিড়য়ে নয়নাভিরাম লেক যে কারো মন ভাল করে দিতে পারে।এখানে বিভিন্ন দেশের ও ভারতের অনান্য রাজ্যের পর্যটকরা দলে দলে আসছেন। আমার সাথে কথা হলো সুইজারল্যান্ড থেকে এক দম্পতি এবং মুম্বাইয়ের এক ভদ্রলোকের।আধাঘন্টার মধ্যে সেই দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করে আমরা গাড়িতে উঠলাম।
পাহাড়ী আঁকাবাকা চারলেনের শিলং গৌহাটি রাস্তা ধরে আমরা এগুতে থাকি।সুউচ্চ পাহাড় কেটে এই চারলেনের রাস্তার অপরুপ দৃশ্য দেখে মুহুর্তেই মনে মনে একে আমি ‘হাইওয়ে টু হ্যাভেন’ বলি।হাজার হাজার ফুট উঁচু রাস্তা সবচেয়ে উঁচু স্থান থেকে নিচের ধাপগুলো দেখলে যে কেউ আমার মত বলবেই - এটি আসলেই ‘হাইওয়ে টু হ্যাভেন’! চার লেনের রাস্থার ডিভাইডার থাকার যে কোন মুখি গাড়ীই নিরাপদে চলাচল করছে। ১০/১৫টন মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান বেশ সাচছন্দেই এই ঝুঁকিহীন পাহাড়ী রাস্তায় চলাচল করছে। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো এই শিলং- গৌহাটি প্রায় পুরো রাস্তাটাই পড়েছে মেঘালয় রাজ্যে। মধ্য এপ্রিলে শিলং ধেকে শীতবস্ত্র পরে বেরুলেও আমরা যত গৌহাটির কাছে যাচ্ছিলাম ততই গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া অর্থ্যাৎ গরম অনুভূত হতে থাকে।
বিকেল ৫.১৫ টায় আমরা গন্তব্য গৌহাটির ল²ীমন্দির বাইলেন-২ এর ১১ নম্বর বাড়ির গুরু শংকরদেবা গেষ্ট হাউসে পৌছি।এই গেষ্ট হাউসে থাকা এবং রান্না করে খাবার জন্য ক্রোকারিজ ও গ্যাসের চুলা সরবরাহ করা হয়। আমাদের গেষ্ট হাউসের আনুমানিক ১০০গজ অদূরেই শংকর নেত্রালয়।গেষ্ট হাউসের সামনের দোকান থেকে চাউল - ডাল-তেল - লবণ - পিয়াজ ডিম ইত্যাদি নিয়ে আসলে আমার স্ত্রী রান্নার করতে লাগলেন। গেষ্ট হাউসে আমাদের পাশের রুমগুলোতে অরুনাচল ও মিজোরামের অধিবাসীরা থাকেন। এরা সকলেই মূলত: চক্ষু চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছেন। সকাল বেলা ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় আসতেই দেখি এক মাছওয়ালা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় (আসামের বাংলা ভাষাভাষী বেশীর ভাগ মানুষই সিলেটি ভাষায় কথা বলে) তার স্বরে হাঁক দিচ্ছে -’মাছ কিনতায় নিবা মাছ’ ছোট মাছ হওয়ায় কাটাকুটির ঝামেলা এড়াতে মাছ কিনলাম না।
সকালে রেষ্টুরেন্ট থেকে আটার রুটি আর ডাল এনে আর নিজেরা চা করে নাস্তা পর্ব সেরে আমরা হাসপাতাল যাই।সকাল ৯টায় ওখানে পৌছে দেখি দীর্ঘ লাইন। শংকর নেত্রালয় এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: কস্তুরী ভট্রাচার্য আমার ছেলে তোজোকে দেখলেন।এর আগে অনেক - টেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। ডাক্তারের কাছে খুব দ্রুত যেতে আমাদের সহায়তা করেন হাসপাতালের ষ্টাফ মিরাজুল ভাই।আরেকটা কথা -আমি সহ অনেককেই শংকর নেত্রালয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়ার অনেক সহজ পথ দেখিয়ে দেন সিলেট শহরের এক সমাজ কর্মী মলয় পুরকায়স্থ মোবাইল নম্বর হলো -০১৭১১ -৭৩৬০৮১এবং তিনি সিলেটে বসে ডাক্তারের এ্যাপয়েনমেন্ট থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং পর্যন্ত করে দেন।এই ভদ্রলোক নিজ তাগিদ থেকেই যেন এতসব করে আত্ম তৃপ্তি পান। গৌহাটির এই শংকর নেত্রালয় আমার মতে চোখের ব্যাপারে বিশ^মানের চিকিৎসা সেবালয়।আমার কাছে ব্যাঙ্গালুরু নারায়না নেত্রালয় থেকে ও শংকর নেত্রালয়কে বেশী উন্নত মানে হয়েছে। তবে শুনেছি চেন্নাইর শংকর নেত্রালয় আরো উন্নত এবং বিশে^র সেরা চক্ষু হাসপাতালগুলোর অন্যতম। গৌহাটির বেলতলা বাজার আমাদের গেষ্ট হাউসের কাছেই তাই আমি রোজ সকাল বিকাল দু’বার ও খানে যেতাম। মাছ বাজারে মাছির প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখে রুই,কাতলা ,আইড় য়ে কোন মাছ কিনতে নিজের দেশের মত মনে ফরমালিন আতংক থাকতো না।
এদিকে গৌহাটির এখন চলছে আসামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বহাগবিহুু। বৈশাখ মাস জুড়ে এই উৎসব চলে এক বিশাল মাঠ জুড়ে ।বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়া অনেক ষ্টলও থাকে।প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি নানা বয়সীর পুরুষনারী অনুষ্ঠান উপভোগ করে। সন্ধ্যাবেলা বেলতলা বাজার থেকে পান কিনে ফেরার সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।
কামরূপ- কামাখ্যা তীর্থযাত্রা:- ২২ শে এপ্রিল ১৫ সকাল ৮,০০টায় একটা টেক্সিতে চেপে আমরা কামরূপের কামাখ্যা তীর্থের পথে যাত্রা করি। ড্রাইভার রাহুল পুরো গৌহাটি শহর ঘুরিয়েই আমাদের নিয়ে যেতে থাকেন । আগেকার দিনে নাকি ওই তীর্থে গিয়ে অনেকেই পথ হারিয়ে ফেলতো।এই কামরূপ কামাখ্যার মধ্যেই লুকিয়ে থাকা অনেক রহস্য রোমাঞ্চ সেই ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। আমাদের দেশে অনেক গুনীন কবিরাজ নানান জটিল রোগের চিকিৎসা করতে এলে তার নামের পিছনে ডিগ্রীর মতোই জুড়ে দেয়া হতো - ‘কামরূপ কামাখ্যা’র যাদু বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী ।এই উপমহাদেশ তো বটেই তাবৎ বিশ্বের কামরূপ কামাখ্যা’র আশ্চর্যে ভরা আখ্যানের আলাদা একটা কদর আছে ।এক সময় এ জায়গায় কেউ গেলে আর ফিরে আসতো না।
হাজার বছরের রহস্যময় স্থান কামরূপ কামাখ্যা । এখনো জাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশে পাশের অবণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো মন্দ আত্মারা।এই স্থানটিকে ব্ল্যাক ম্যাজিকের স্বর্গও বলা হয়।তবে সবকিছু কে পিছে ফেলে কামরূপ জাদুবিদ্যা আর সাধকদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার গল্পই সবার মুখে মুখে।
ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গৌহাটি শহরের উপকন্ঠে কামাখ্যা পর্বতে উঠার জন্য আমাদের টেক্সি মালিগাঁত্ত গেট - এ উপস্থিত হয়। এখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ী আঁকাবাঁকা উচু পথ মাড়িয়ে তবেই মন্দির।
আমাদের নিয়ে মালিগাঁত্ত গেট [ কামাখ্যা পর্বত (নীল পর্বত) ওঠার রাস্তা] পেরিয়ে টেক্সি যখন উপরের দিকে ওঠছিল তখন পাহাড়ের বিভিন্ন নির্জন স্থান আর অন্ধকার বাঁক দেখে এতদিন আমার কল্পনার থাকা দৃশ্য যেন বাস্তবের মত হতে থাকে। আমি ভাবি - এই পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যে বিমোহিত এক পর্যটক পাহাড়ের মধ্যে প্রবেশ করতেই গা ছম ছম করা ভূতুড়ে হা......হা.........হি..........হি..........আওয়াজ করে ডাকিনী নারী ( সুন্দরী নারী রূপে পেতিœ) এসে উপস্থিত হবে এবং তক্ষুনী আগন্তুক পথ হারিয়ে ক্রমশ:অচেনা পথে নিজেকে হারিয়ে ফেললো কোনো এক ভাকিনী নারী এই আগন্তুককে খুব আদর – যতœ করেই নিজের ঘরে নিয়ে গেল । এরপর লোকটির অবস্থা এমন হলো যে,সে তার পুরো অতীতটাই ভূলে গেল।দিন যায়- রাত আসে রাত যায় দিন আসে এবং কামাখ্যা পর্বতে প্রবেশকারী মানুষটি মনুষ্যরূপী সুন্দরী ডাকিনীর সাথে ঘরসংসার করতে থাকে। ডাকিনীরা নিজের প্রিয় পুরুষকে মন্ত্রবলে (!) ভেড়া না হলেও মনুষ্যরূপী ভেড়াপুরুষ বানিয়ে রাখে।আর এই আনন্দে ডাকিনী সংসারে সে কী আনন্দ। এভাবে কেটে যাওয়া ২০ বছর পর লোকটি যখন আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করে তখন তার জীবনের মহা মূল্যবান সময় সে ফেলে এসেছে। এমন ভাবতে ভাবতে টেক্সি চালক রাহুল বরোর শক্ত করে গাড়ী ব্রেক কষার আমি সম্বিত ফিরে পাই । সকাল ৯ টায় আমরা পার্কিং জোনে গাড়ী থেকে নামি । পূজারী অঞ্জন শর্মা আমাদের স্বাগত জানান। পূজারীরা পান্ডা নামেই বেশী পরিচিত এবং আগে এঁদের সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা শুনলেও অঞ্জন শর্মা আগাগোড়া ভদ্রলোক তাঁর নির্দেশমত জুতা রাখার নির্ধারিত স্থানে পাদুকা রেখে সিঁড়ি বেয়ে কিছু পথ পেরিয়ে ’সৌভাগ্য কুন্ডে’ হাত মুখ ধোয়ে মন্ত্রপাঠ করে আমরা পূর্জার্চনা শুরু করি। এদিক শ্রী শ্রী কামাখ্যা দেবীর মন্দির হয়ে গুহায় ঢুকে পূজা দিতে হলে আগে থেকে টিকেই কেটে ৩/৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর সে সুযোগ মিলে।কিন্তু আমরা সে দিকে না গিয়ে পূজাবীর সহযোগিতায় খুব দ্রুত মূল মন্দিরের কোলাপসিবল গেটে দাঁড়িয়ে দেবী দর্শন করে পূজা পর্ব শেষ করলাম।মন্দিরের নিদিষ্ট অংশে একটু পর পরই বিভিন্ন স্থান থেকে আনা পূন্যর্থীরা ছাগল বলি দিতে দেখি।
শ্রী শ্রী কামাখ্যা তীর্থঃপৌরানিক কাহিনী অনুসারে - ব্রহ্মা নিজ মানস পুত্র দক্ষকে জগন্মাতার পূজা কবার উপদেশ দিয়ে বললেন - হে দক্ষ এই প্রার্থনা করবে তিনি যেন তোমার কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে শিবের পতœী হন। এ অনুসারে দক্ষরাজ বহু বছর যাবৎ কঠোর তপস্যাবলে জন্মতাকে সন্তুষ্ট করেন। অত:পর মহামায়া আবির্ভূত হয়ে বললেনÑ ”আমি তোমার কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে শিবপতœী হব। কিন্তু যখনই অনাদর করবে করবে তখনই দেহ ত্যাগ করবো।” নিজ প্রতিজ্ঞানুসারে মহামায়া আদ্যা শক্তি সতীদেবী যথাসময়ে দক্ষরাজপতœী বীরিনীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেন এবং মহাদেবকে পূজায় সন্তুষ্ঠ করেন। দক্ষপ্রজাপতি শিবের সাথে কন্যা সতী’র বিয়ে দেন। এরপর তাঁরা কৈলাস পর্বত শিখরে অবস্থান করতে থাকেন। এর কিছুকাল পর স্বর্গরাজ্যে দেবসভামধ্যে দক্ষরাজ একদা শিব কর্তৃক সম্পর্ধিত না হওয়ায় নিজেকে অপমানিত বোধ করেন এবং শিবকে দেবগন সমক্ষে হয়ে প্রতিপন্ন করার জন্য এক শিবহীন যজ্ঞের আয়োজন করেন । দক্ষরাজ এই যঞ্জে দেবর্ষি নারদকে শিব ও সতী ভিন্ন সকলকে নিমন্ত্রণ করতে আদেশ দেন। অত:পর যজ্ঞ আরম্ভ হলে সতীদেবী নারদের নিকট এবং লোকমুখে যজ্ঞানুষ্ঠানের সংবাদ পেয়ে স্বামীর নিকট পিত্রালয়ে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করেন। প্রাথমিকভাবে সদাশিব তাকে অনুমতি না দিলেও পরে অনুমতি না দিয়ে থাকতে পারেননি। এদিকে দক্ষপ্রজাপ্রতি অনিমন্ত্রিত সতী দেবীকে যজ্ঞে উপস্থিত হতে দেখে ক্রোধভরে অজস্র শিবনিন্দা করতে লাগলেন। যজ্ঞস্থলে অবিরত স্বামীনিন্দা শুনে শুনে সতী দেবী শোকে মুর্চা যান এবং প্রাণ বিসর্জন করেন। অত:পর সদাশিব পারিষদমুখে সতীদেবীর প্রাণ বিসর্জনের খবর শুনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং যজ্ঞ ভুমিতে গিয়ে সতীদেবীর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থির থাকতে পারেন না। ওই মূহর্তেই তিনি অনুচরগনকে দক্ষ প্রজাপতির মুন্ডচ্ছেদন ও যজ্ঞস্থল লন্ডভন্ডের আদেশ দেন। এরপর পারিষদগনকে কৈলাসে পাঠিয়ে স্বয়ং সতীদেবীর শবদেহ কাধে নিয়ে পাগলের মত বিশ^ময় ভ্র্রমণ করতে থাকেন যেন প্রলয় কান্ড উপস্থিত। ব্রক্ষাদি দেবগন ভয়ে তটস্থ হয়ে সৃষ্টি রক্ষার জন্য বিষ্ণুর নিকট উপস্থিত হন এবং তাঁকে সতীর দেহত্যাগ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করে। শিবগাত্র স্পর্শে এর মহিমা তখন আরও বেড়ে যায়। তাই জগত পালক বিষ্ণু জগতের মঙ্গলের জন্য সুদর্শন চক্র দ্বারা মহাদেবের কাছে থাকা সতীদেহ ধীরে ধীরে খন্ড খন্ড করে একান্ন খন্ডে বিভক্ত করেন। সতীদেবীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ যে যে স্থান পড়েছিল সে সে স্থান পূন্যভূমি বলে প্রসিদ্ধ হয়। তখন যেখানে সতীর অঙ্গ পতিত হয় সেখানে সেখানে মহাদেব সতী ¯েœহবশে বিমূঢ় হয়ে স্বয়ং লিঙ্গরূপে (শিলা) আভির্ভূত হন।
‘যত্র-যত্রাপতন ম্যাস্তপাদাদয়ে দ্বিজঃ
তস্থৌ মোহসমযুক্তা সতী¯েœহবশানুগ: “[কালিকা পুরান। অষ্টাদশ অধ্যায় । ৪৭’’
যে স্থানে সতীর যোনি পতিত হয়েছিল সে স্থান তীর্থ চুড়ামনি। স্থানটি ব্রক্ষপূত্র নদের তীরে। এই স্থানটি নীলাচল পর্বত নামে ও বিখ্যাত। কালিকাপুরানে এই বলে উল্লেখ আছে যে, জগত পালক বিষ্ণুর, সুদর্শন চক্র দ্বারা খন্ডে খন্ডে বিভক্ত সতীর যোনি- মন্ডল নীলাচল পর্বতে পতিত হয়ে প্রস্তরতœ প্রাপ্ত হয়। সে প্রস্তরময় যোনিতে কামাখ্যা দেবী অবস্থান করেন। যে মানুষ ঐ শিলাকে স্পর্শ করে সে অমরত্ব পায় এবং অমর হয়ে ব্রহ্মসদনে অবস্থান করে পরিনামে মোক্ষ লাভ করে। মাদ্দাকথা হলো এই স্থানটি মহাপবিত্র। কথিত আছে যেসব সাধক এই মন্দিরে স্থাপিত শ্রী শ্রী কামাখ্যা দেবীর সাধন ও ভজন করেন তারা জাগতের তিনটি ঋন পিতৃঋন, ঋষিঋন ও দেবীঋন থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই জগদ্বিখ্যাত মন্দিরে প্রতি বছর বর্ষাকালে অম্বুবাচী মেলার আয়োজন করা হয়। অম্বুবাচীর তিন দিন ওই জলাধার রক্তবর্ণ ধারণ করে। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথি থেকে নবমী পর্যন্ত অম্বুবাচী পালিত হয়। অ¤ু^বাচী পালনকারী বিধবা মহিলারা তখন মানে ওই তিনদিন ভাত বা এ জাতীয় কিছু না খেয়ে শুধু দুধ আর ফল আহার করেন। অম্বুবাচীর তিনদিন শ্রী শ্রী কামাখ্যা মন্দিরের মূল ফটক বন্ধ থাকে। তখন সবার জন্যই মন্দিরে ঢোকা সমপূর্ন নিষেধ। কথিত আছে একবার এক পুরোহিত নিয়ম অমান্য করে মন্দিরে ঢুকলে সঙ্গেঁ সঙ্গেঁ তার দু’চোখ অন্ধ হয়ে যায়। তবে মূল ফটকের বাইরে মেলা উৎসব ও অন্যান্য পূজা অর্চনা চলতে থাকে। [তথ্য সূত্র; ধরনীকান্ত শর্মা, বড় পূজারী রচিত ৫টি ভাষার লিখা বই‘কামাখ্যা-তীথ]
কামাখ্যা পাহাড়ে শ্রী শ্রী কামাখ্যা দেবীর মন্দির ছাড়াও আরও সাতটি মন্দির আছে। নীলাচলের সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গে ভূবনেশ^রী মন্দির। কামাখ্যাদেবীর মন্দিরের দক্ষিনে নিæস্থানে ভৈরবী মন্দির অবস্থিত। কামেশ^র মন্দিরের দক্ষিনে নিæস্থানে ভৈরবী মন্দির অবস্থিত। কামেশ^র মন্দিরের অগ্নিকোনে শ্রী কামাখ্যা বগলা নামে বিখ্যাত বগলাদেবীর পীঠস্থানটি এক প্রকান্ড প্রস্তরের উপর অবস্থিত। মন্দিরের পূর্ব ভাগে শ্রী কামেশ^র মন্দির, কামেশ^র মন্দিরের পূর্বে ঈশান নামে শিব, সিদ্ধেশ^র নামে বিখ্যাত। কামেশ^র মন্দিরের উত্তর প্রান্তে তৎপুরুষ নামে শিব, কোটিলিঙ্গ নামে বিখ্যাত। ভৈরবী মন্দিরের মধ্যে হেরুকভৈরব অঘোর নামে বিখ্যাত। কামাখ্যাদেবী মন্দিরের পশ্চিম প্রান্তে নি¤œ ভাগে এবং দূর্গ কূপের পূর্বে সদ্যোজাত শিব, আম্রাতকেশর নামে বিখ্যাত।
শ্রী শ্রী কামাখ্যা মন্দির ও পাহাড়ের উপরিভাগ গৌহাটি পৌর কর্পোরেশনের আওতাভূক্ত হওয়ায় এখানের সব উন্নয়ন কর্ম কান্ড ওই প্রতিষ্টান দ্বারা পরিচালিত হয়। পাহাড়ের উপরে প্রায় বিশ হাজার মানুষ বাস করে। এরা সকলেই কোন না কোন ভাবে মন্দিরের সাথে ( সরকারী ও বিভিন্ন দফতরে কর্মরত ব্যতিত) সম্পৃক্ত। একটি ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুল, দুইটি প্রাইমারী স্কুল, কামাখ্যা লাইব্রেরী এন্ড ক্লাব,কামাখ্যা নাট্যসমিতি সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আছে। কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা গৌহাঢী শহরে যায়। ওখানে ডাকঘর ; হাসপাতাল ও পুলিশ ফাঁড়ী আছে।
এদিকে কামাখ্যা মন্দিরের পাকিং-এ গাড়ী থেকে নামতেই বৃষ্টি আমাদের পিছু যেন ধাওয়া করে এবং এই বৃষ্টি এই বিরতী এসবের ফাঁকে ফাঁকে আমরা পুরো পুজা-অর্চনা শেষ করি। আমরা মন্দির থেকে বেরিয়ে গাড়ীতে ওঠি যখন ঘড়ির কাঁটা তখন ১২:০০টায় কাছাকাছি। দেখি একটি কাভার্ত ভ্যান স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে ও পরে উঠছে। ভারতে সরকারী স্কুলে ৪র্থ শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ের আকাঁবাকাঁ পথ ঘুরে সমতলে নেমে আমরা গৌহাটি শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের (ভৈরব সেতুর মত) ব্রীজের উপর দিয়ে এপার ওপার করি। এই রাস্তাটি তেজপুর চলে গেছে। ব্রীজে সেনা পাহারা এবং ছবি উঠানোয় বারন থাকায় আর ক্যামেরা বের করলাম না। এরপর জালুক বাড়িতে অবস্থিত গৌহাটি বিশ^বিদ্যালয় –এলাকায় অবস্থিত আসাম রতœ ড: ভূপেন হাজরিকা’র সমাধিতে যাই । গৌহাটি যাবার আগেই এই মানবতার গান গাওয়া গুণী শিল্পীর সমাধি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়ে যাই। সমাধি কম্পাউন্ডে তাঁর বিভিন্ন প্রতিকৃতি দেখে আমার মনের আঙিনায় বেজে ওঠে সেইসব গান-গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা ও আমার দুই চোখে দুই জলধারা মেঘনা যমুনা; আমি এক যাযাবর , পৃথিবী আমাকে আপন করেছে আপন করেছে পর; মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু;বির্স্তীর্ণ দুপুরে অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনে নি:শব্দে নিরবে ও গঙ্গা তুমি ও গঙ্গা বইছ কেন; তোমরা গেইলে কি আসিবেন আমার মহুত বন্ধুরে; মেঘ থম থম করে আলো নেই; শরৎ বাবুর খোলা চিঠি; আমার গানের হাজার শ্রোতা; দোলা হে দোলা; জীবন নাটকের নাট্যকার কি বিধাতা ; আমার ভুল বুঝিস না সহ অসংখ্য গান।
ড: ভূপেন হাজারিকা ১৯২৬ খ্রি: ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের আসাম রাজ্যে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর স্ত্রী প্রিয়ংধা প্যাটেল এবং একমাত্র পুত্র তেজ ভূপেন হাজারিকা জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৫২ খ্রি:। একাধারে সঙ্গীতজ্ঞ, শিল্পী, কবি, গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ড: ভূপেন হাজারিকার কর্মযজ্ঞের সময় ১৯৩৯ খ্রি: হতে ২০১১ খ্রি: পর্যন্ত। তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে গজগামিনী, দামানও ইন্দ্রমালতী ছায়াছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার পান যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো- পদ্মবিভূষন (২০১২) পদ্মশ্রী (১৯৭৭) দাদা সাহেব ফালকে(১৯৯২), পদ্ম ভূষণ(২০০১), সঙ্গীত নাটক একাডেমী ফেলোশীপ এ্যাওয়ার্ড(২০০৮), অসম রতন(২০০৯), বাংলাদেশ কতৃক মুক্তিযোদ্ধা পদক (২০১১) তিনি রাজনৈতিক দল হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থক ছিলেন।
ড: ভূপেন হাজারিকার সমাধিক্ষেত্রে আসাম রাজ্য সরকার ৩০ কোটি রুপি ব্যায়ে একটি মিউজিয়াম নির্মাণ করেছেন এবং আমরা এর নির্মাণ কাজ দেখেছি। স্থাপত্য শৈলীতে দিনে একরূপে এবং রাতে অন্য চেহারায় একই সমাধি ক্ষেত্রকে দারুণ লাগবে দর্শনার্থীদের কাছে। সমাধি ক্ষেত্রের কেয়ারটেকার দুলাল তালুকদার আমার হাতে একটা শোকবই দেন এবং আমি তাতে আমার সব আবেগ তোলে ধরি। এখোনো এখানে একটা গ্লাসের বাক্সে ড: ভূপেন হাজারিকার চিতার প্রদীপ জ্বলছে এবং দুলাল তালুকদার মাঝে মাঝে তৈল দেন। আসামে জন্মগ্রহণকারী ভূপেন হাজারিকা ২০১১ খি: ৫ নভেম্বর মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ করেণ। মুম্বাই থেকে তাঁর মৃত দেহ গৌহাটি নিয়ে আসা হয় এর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যায়গায় সৎকার করা হয়। ড: ভূপেন হাজারিকার জন্ম ও মৃত্যু দিবসে এই সমাধি ক্ষেত্রে দিনব্যাপী নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এখান থেকে বেরিয়ে কিছু পথ এগিয়ে টেক্সি ড্রাইভার রাহুল ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে এক যায়গায় গাড়ী থামান। এখান থেকে ট্রলার চড়ে নদীর মাঝখানে উমানন্দ মন্দিরে যেতে হয়। কিন্তু বৈশাখ মাসের খরশ্রোতা নদীতে স্ত্রী পুত্র নিয়ে নামতে আমার মন সায় দেয়নি।
এরপর গৌহাটি হাইকোটের পাশ দিয়ে আমরা আসাম ষ্টেট চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে পৌঁছি। এখানে প্রবেশ ফি ইন্ডিয়ান-৩০ টাকা ও ১০ টাকা(শিশু) এবং বিদেশীদের জন্য ১০০/- টাকা ও ৫০/- টাকা (শিশু) হলেও আমরা ইন্ডিয়ান হিসেবেই টিকিট নিলাম। আমি আবশ্য ইতোপূর্বে আগ্রার তাজমহলেও বিদেশীদের জন্য নির্ধারিত ৮০০/- টাকার গেট পাস ভারতীয়দের মতো ২০ রুপিতে কিনি।
এই চিড়িয়াখানায়- বানর, হারিণ. বক সহ বিভিন্ন পাখির আবাধ বিচরণ আমাদের খুব ভাল লাগে। আমার পুত্র পিদিম তো বেশ বড় মাইজের একটা হরিণকে আমাদের কাছে দাঁড়িয়া থাকতে দেখে গরু বলে ভাবে। গৌহাটি শহরের বালাজি মন্দির ও একটি দর্শনীয় স্থান।বিকেল বেলা আমরা আমাদের অস্থায়ী ঠিকানা লক্ষী নগর গুরুাশংকর দেবা গেস্ট হাউসে ফিরে আসি।
২৩শে এপ্রিল সকাল বেলা আমর পুত্র পিদমকে নিয়ে এক ডেন্টিষ্টের কাছে গেলাম। ফেরার পথে গুয়াহাটি, শিলচর ও ডিব্র“গড় থেকে একযোগে প্রকাশিত বাংলা ‘দৈনিক যুগসংঘ’ এবং গুয়াহাটি ও ডিব্র“গড় থেকে একযোগে প্রচারিত আসামীয় ভাষার দৈনিক অসম কিনে নিই। ‘যুগসংঘ’ প্রত্রিকা প্রকাশনার ৬৫ বছর ও দৈনিক অসম’ ৫০ বছর অতিক্রম করছে। ১২ ও ১৪ পৃষ্ঠার পত্রিকাগুলোর মূল্য ছিল ৭ টাকা ও ৬ টাকা। উভয় পত্রিকার এ দিনের লীড নিউজ ছিল- কেন্দ্র বিরোধী আম আদমি পার্টি (আপ) সমাবেশ প্রকাশ্যে কৃষকের ফাঁসি ( আত্মহত্যা) সচিত্র খবর। এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তী কয়েকদিন বেশ বিক্ষোভের খবর ও পত্রিকায় পড়ি।
২৪শে এপ্রিল ১৫ দিনে তেমন কাজ ছিল। যেতেতু আমরা লজে থাকি এবং নিজেরা (আমার স্ত্রী) রান্না করে খাই- সেহেতু সকালে বেলতলা বাজার থেকে ফ্রেশ রুইমাছ- খাশীর মাংস আর শাক-সবজি কিনে আনি। মজার ব্যাপার হলো গৌহাটি তথা পুরো আসাম জুড়েই মৎসজীবিদের আদি নিবাস সিলেট (বাংলাদেশ)।
গৌহাটি শহরকে অনেকেই মটর সাইকেল চোরদের স্বর্গ ভূমি বলেই মনে করেন। এখানে কেউ যদি নিজের মটর সাইকেল ভুল করে শুধু ২ মিনিট দৃষ্টির আড়াল করেছেন তাহলে কর্ম সাবাড়-ইঞ্জিনচালিত দ্বিচক্র যানটির মালিক হবে চোর বেটা। একজন বললেন এসব চুরি যাওয়া মটর সাইকেল নাকি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় বিক্রি হয়।
গৌহাটিতে শংকর নেত্রালয়, ক্যান্সার হসপিটাল, কিডনী- নিত্তরো মেডিসিনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল, জে এন আর সি হসপিটাল, সার্জারীর জন্য ডাউন টাউন হসপিটাল ইত্যাদি পূর্ব ভারতে সেরা কয়েকটি চিকিৎসালয়।
গৌহাটি শহরের পল্টন বাজার, ফেন্সিবাজার, পান বাজার ইত্যাদি স্থান থেকে কেনাকাটা করলে বেশ সস্তা দরেই অনেক কিছুই কেনা যায়। আমাদের সফরসঙ্গী শংকর এদিন ওইসব মার্কেটে কিছু কেনা কাটা করতে যায়। আমরা অবশ্য এদিন রুমেই কাটাই এবং সঙ্গত কারনেই নিজেদের শীত বস্ত্র সহ অন্যান্য কেনা কাটা শিলং এ করবো বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখি। এ দিন সন্ধায় প্রচন্ড ঝড়- বৃষ্টি হয় এবং তা প্রায় রাতভর চলে। এখানে অবশ্য ঝড়- বৃষ্টির প্রভাবে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ২৫শে এপ্রিল ১৫ সকালে শংকর নেত্রালয় থেকে আমার পুত্র পিদিম (তোজো)র চশমা নিয়ে আসি। এরপর বেলা ১১.৪০- এ গৌহাটি থেকে জাতীয় সড়ক এনএইচ ৪৪-ধরে ড্রাইভার আলী আমাদের নিয়ে শিলং- এর পথে যাত্রা করে। আমার মতে উচু- নিচু পাহাড়ী চারলেনের এই নয়নাভিরাম রাস্তা ‘হাইওয়ে টু হ্যাভেন’। পাহাড় কেঁটে ধাপে ধাপে তৈরী করা এই চারলেন রাস্তায় এক ধাপ থেকে অন্য ধাপ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
চলার পথে শংকর বাড়িতে ফোন করে- কিন্তু কেউ তা রিসিভ করেনি। এভাবে বেশ কতক্ষণ ফোন করা পর ও পাশ থেকে কেউ একজন তা রিসিভ করে জানায় দেশে প্রচন্ড ভূমিকম্প হয়েছে এবং ফোন ঘরে রেখে সবাই ঘরের বাইরে ছিল।
হাফ শার্ট পরে গৌহাটি থেকে যাত্রা করলেও যতই শিলিং এর কাছে মানে পাহাড়ের গভীর দিকে যাচ্ছিলাম ততই যেন শীত অনুভূতি হতে থাকে। রাস্তার কোথাও ভূমিকম্পের কোন চিহ্ন চোখে পড়ে নি।
দুপুর তিনটার কিছু আগে আমাদের টেক্সি শিলং শহরের নরেন্দ্র দাম লেন, লাবান পৌছি। রান্টুদার বাসায় গৃহকর্মী ববিতা খুব দ্রুত গাড়ী থেকে ব্যাগ- লাগেজ ঘরে নিতে সহযোগিতা করে।
বিকালে আমি আর শংকর গাড়ীখানা, পুলিশবাজার ইত্যাদি যায়গায় পরিচিত জনের সাথে দেখা করলাম। শিলং- এ রিক্সা; সিএনজি, টমটম যাই বলি না কেন এই সব কিছুর সম্মিলিত যান- টেক্সি। পুরো শহরটাই টেক্সিময়। এখানে পার্কিং, ট্রাফিক আইন সব কিছুর প্রতিই যেন সবশ্রেনীর নাগরিক শ্রদ্ধাশীল। সন্ধ্যায় লাবানের চা- দোকান, পান দোকান সব যায়গায়ই নেপালের ভূমিকম্প নিয়ে আলোচনা। ডিনারে রান্টুদা’র স্ত্রী আমার তালতো বোন রীনা দি (ছোট বোন জয়ার ননাস) বেশ মজার মজার আইটেম রান্না করেন। সন্ধ্যা থেকে এন ডি টি ভি, এবিপি নিউজ ইত্যাদি চ্যানেলে নেপালে ভূমিকম্পের খবর দেখে যায়। এপ্রিল মাসে ও শিলং- এ রাতে এত শীত লাগে যে, আমার পুত্র তোজো একদিন পা থেকে যেমন মোজা খুলেনি অন্যদিকে লেপ দিয়ে মাথা ঘুরে ঘুমায়।
২৬ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত ব্িষ্ট হতে থাকল, এদিকে এর মধ্যেই আমাদের পাশের বাড়ির বিকাশ মামু (শিলং এ স্থায়ী ভাবে বসবাসরত) নিজের টেক্সি নিয়ে লাবান হাজির। দুপুর বেলা তাঁর বাসায় যাব বলে তবেই রক্ষে।
এরপর আমরা রান্টুদা’র গাড়ীতে তিনি, রিমি আর গৃহকর্মী ববিতাকে নিয়ে বেরুলাম। বৃষ্টি ও যেন থেমেছে। এই ঝর্না উপর থেকে দেখলে এক সৌন্দর্য আবার কয়েক শো ফুট নীচে নেমে প্রত্যক্ষ করলে অন্য ধরনের আনন্দ।
এখান থেকে আমরা শিলং পিক-এ যাই সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬৪৪৯ ফুট। সেনানিবাস এরিয়ায় গাড়ী নিয়ে যেতে ড্রাইভারকে কিছু নিয়ম কানুন মেনে অনুমতি পেতে হয়। এই স্থানটি শিলং- এর সবচেয়ে উচু স্থান। বেশ বড় একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ লাগিয়ে ৭/৮ মইল দূরবর্ত্তী শিলং শহরের দর্শনীয় স্থান দেখতে বেশ ভালো লাগ্।ে এখানে ওয়াচ টাওয়ার ও আছে। তবে মজার ব্যাপার হলো আমাদের দেখাদেখি শেষ হলে মেঘ এসে পুরো পাহাড় ডুবিয়ে দেয়। এখন নীচের কিছুই দেখা যায় না। পরে আসা পর্যটকরা আফসোস আর আফসোস করতে থাকেন। এখন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে যদি মেঘ সরে তবে কিছু দেখা যাবে।
শিলিং পিক থেকে আমরা পুলিশ বাজারের পাশে ওয়ার্ডলেক দেখতে এলাম। চমৎকার এই লেকে অযুত মাছের ডুব- সাঁতার যে কারো মন কেড়ে নেবে। অনেকেই মটর , খই ইত্যাদি খাবার পানিতে ফেলে মাছ দলকে আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত। এদিকে দলে দলে পর্যটক প্যাডেল বোটে চড়ে আনন্দে ব্যস্ত। আমরা এখানে ঘুরে ঘুরে মাছকে খাবার দিয়ে আর ফটো ফ্রেমে বন্দি হয়ে আনন্দ করি।
এরপর আমরা সোজা গলফ গ্রাউন্ডে চলে যায়। এখানে তখন অনেক গলফার খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। সিকিউরিটিরা দর্শনার্থীদের যার যার নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য হুইসেল বাজিয়ে শতর্ক করছিল। এক সময় নাকি শিলং গলফ গ্রাউন্ড পৃথিবীর দ্বিতীয় সেরা ছিল। আমলে এই গলফ গ্রাউন্ডের মনোরম দৃশ্য যে কারো খুব ভালো লাগবে। মনে মেঘ জমে থাকলে মুহুর্তে ফকফকা রোদ উঠে পরে।
এখানের পাশেই আমদের দুলিয়ার বন্দের পাশের বাড়ির বিকাশ দে’র বাসা। আমরা এখানে ঘুরতে ঘুরতেই তিনি নিজের কার নিয়ে চলে আসেন।
গলফ গ্রাউন্ডের কাছেই শিলিং পলো গ্রাউন্ড। এখানে প্রতিদিন দুইবার তীর খেলা হয়। পুরস্কার ১টাকাই ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১ টাকার টিকেটে ৪৪২০ টাকা। শুনেছি সিলেটের সীমান্ত এলাকার অনেকেই প্রতিদিনকার এই খেলায় অংশ নেন এবং ঘরে বসে পুরস্কার পান। মেঘালয় রাজ্য সরকারের সমবায় পেন্ট্রিতে চাকুরীরত বিকাশ মামুর বাসা গলফ গ্রাউন্ডের পাশেই। স্ত্রী আর দুই কন্যা নিয়ে বিকাশ মামুর ছোট্র পরিবার। তাঁর বড় মেয়ে পিংকী লেডি কেনি কলেজে বি এ থার্ড ইয়ারে এবং ছোট মেয়ে লিপি একই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। ১৯২৪ খ্রি: গঠিত লেডিকেনি কলেজ উত্তর- পূর্ব ভারতের প্রথম মহিলা কলেজ। বিকাশমামু-মামী আতিথেয়তার একদম সিলেটের মানুষের মত। বিকাশ মামু- বোয়ালমাছ, খাশির মাংস, চিংড়ী মাছ সহ অনেক কিছুই বাজার করে আনেন। আমরা খেতে খেতে একদম মৈনাক পর্বত হবার যোগাড়। এদিনও টিভিতে নেপাল ভূমিকম্পের সচিত্র প্রতিবেদন দেখে আনন্দের মাসেও মন খারাপ হয়।
২৭ এপ্রিল ১৫ সকাল বেলা আমরা বললাম চা নাস্তা খেয়ে যাব কিন্তু মামা- মামী নাছোড় ভাত খেতে হবে। মামী রাধলেন ডাল, আলু- পুস্তু, মটর- পনির এবং বাধ্য হয়েই আমরা খেলাম। সিলেটের, আঞ্চলিক ভাষায় ‘অনুরোধে ঢেকি গেলা’ বলে একটা প্রবচন আছে আমাদের অবস্থা তেমনি হলো। আসলে মানুষের আতিয়েতা আর আন্তরিকতা তো মহা মূল্যবান। ওই বাসা থেকে বেরিয়ে একটা টে´ি নিয়ে বারো পাত্থর পয়েন্ট হয়ে আমরা আপার মপ্রেম মালতী মাসীর বাসায় পৌছলাম। একটা পাহাড়ের ঢালুতে সেই মত ধাপে ধাপে দালান নির্মাত হয়েছে এবং মালতী মাসীর বাসা একদম নীচের ধাপে। এ বাসার নীচের দিকে ও এভাবে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বাসা হয়ে হয়ে একদম পাহাড়ের নীচ পর্যন্ত গেছে। নীচের দিকে একদম কাছের বাসায় চাতালে দেখলাম ইয়া বড় এক নাশপাতি গাছ। নাশপাতির মৌসুম হলে দেখা যেত গাছ ভরে এই ফলটি থোকা থোকা ঝুলে আছে।
এ দিনের পত্রিকায় নেপাল ভূমিকম্পের খবর পড়লাম আবার টিভিতে এ চিত্র খবর দেখলাম।
সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা বজ্রসহ বৃষ্টি হলো। আমরা দুপুরের খাবার শেষ করে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকালে ৩ টায় মাসীকে নিয়ে মার্কেটিং এর জন্য পুলিশ বাজার গেলাম। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এর এই পুলিশ বাজার (পি বি) এ সুঁই থেকে শুরু করে সুইমিং পুল পর্যন্ত কি না পাওয়া যায়। আমরা এখন থেকে অনেক কিছুই কেনাকাটা করলাম যার অধিকাংশই ছিল শীকবস্ত্র।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। বুলু দত্ত ও মালতী দত্ত (আমার চাচার বোন) দম্পতি তিন পুত্রকে নিয়ে এক সুখী পরিবার। বড় ছেলে বিপ্লব দত্ত (বিকি) গ্রাজুয়েশন করে বাংলাদেশের প্রাণ ও এসিআই পণ্য শিলং শহরে মার্কেটিং করে, মেঝো গৌতম দত্ত ব্যবসায়ী এবং কনিষ্ঠ বিক্রম দত্ত সি এ।
রাতে তারা বাসায় ফিরলে সবাই মিলে জম্পেশ আড্ডায় বসলাম। মেসো (বুলু দত্ত) ১৯৭২ এ চেরাপুঞ্জির চেলা হয়ে ছাতক, সিলেট(বাংলাদেশ) বেড়ানোর গল্প বললেন এবং শুনেও বেশ শিহরিত হলাম।
পুরো মেঘালয়ে মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ (২০১২ খ্রি: পর্যন্ত)। ৪৫% খাসিয়া এবং ৫৫% অন্যান্য। শিলং শহরের মোট জনসংখ্যার ২০% নেপালী, ৩৫% বাঙ্গালী, ২০% হিন্দুস্তানী এবং খাসিয়া ২৫% এর বসবাস, নেপালীরা সাধারণ পুরুষ- মহিলা নির্বিশেষে শক্ত কাজ করে থাকে। তাদের হোটেল ( খাবার) ব্যবসাও আছে। এছাড়া শিলং শহরের মুটে- মজুরদের অধিকাংশই নেপালী। তবে নেপালের ভূমিকম্পে নিজেদের স্বজন- পরিজনের বিয়োগ ব্যাথায় এদের চেহারায় বেদনার প্রচ্ছন্ন ছাপ।
শিলং শহরে শিক্ষা সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ীক কর্মকান্ডে বাঙ্গালীরা সব সময়েই অগ্রগামী। তাইতো ১৯৯৪ খ্রি শিলং শহরময় এক তরফা দাঙায় খাশিয়ারা অগুনতি বাঙালী, নেপালী, বিহারী হত্যাকান্ড চালায়। দরজায় তালাবদ্ধ করে আগুনে পুুড়িয়ে জ্যান্ত মনুষকে মেরে ফেলা হয়। আক্ষরিক অর্থে তখন ওখানে কোন ন্যায় বিচার ছিল না এবং খাশিয়ারা সভ্যতার ধারে কাছেও যেতনা। বর্তমানে পড়াশোনা করে এবং বাইরে গিয়ে এদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
“স্কটল্যান্ড অব দ্য ইষ্ট” খ্যাত শিলং শহরের সেরা সেরা বোর্ডিং স্কুলে আমাদের দেশের অনেক ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে। ভারতের ৩টি সংখ্যাগরিষ্ট খ্রিষ্টান অধ্যুষিত প্রদেশের অন্যতম মেঘালয় আগে আসামে ছিল। ১৯৭২ খ্রি: ২১শে জানুয়ারি মেঘালয় প্রদেশের গোড়াপত্তন হয়। ২২৪২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মেঘালয় ১১টি জেলা নিয়ে গঠিত। অফিসিয়াল ভাষা- ইংলিশ ও খাশিয়া। তবে স্থানীয় ৮৭% খাশিয়া ৩১% গারো, ২% হিন্দি, ২% নেপালী, ১.৫৮% আসামী, ১.৬৭% মারাঠী এবং ৮% মানুষ সিলেটী ভাষায় কথা বলে। মোট জনগোষ্ঠীর ৭০% খ্রিষ্টান, ১৪% হিন্দু এবং ১৬% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। মেঘালয়ের শিক্ষা হার ৭৫.৮৪%। এই প্রদেশ জুড়ে ১১৭০ কি:মি: ন্যাশনাল হাইওয়ে এবং ৭০% বনভূমি বিদ্যমান। উল্লেখযোগ্য নদ- নদী উমকারী, দিঘারু, উমিয়াম, কানচিয়াং (যাদুকাটা), মাত্তপা। বৃষ্টিপাত হয় বছরে ৪৭০ ইঞ্চি। পৃথিবীর বৃষ্টিবহুল চেরাপুঞ্জির মাত্তাসিনরাম এবং চেরাপুঞ্জিতেই দৃষ্টিনন্দন সেভেন সিষ্টারস্ ফল্স। মেঘালয়ে বছরে গড়ে ৪৭০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। জুনে সর্ব্বোচ্ছ তাপমাত্রা ২২.৭ ডি:সে: এবং ডিসেম্বর সর্বনিæ ১.০০ ডিগ্রী সে: পর্যন্ত নামে।
ঠান্ডা শীতের রাতে (এপ্রিল মাস) যখন মাসীর বাসায় লেপের আদরে ঘুমাতে যাই তখন আমার বার বার মনে খুব ভয় হচ্ছিল। যদি নেপালের মত পাহাড়ী শহর শিলিং এ ভূমিকম্প হয় তবে পাঁচ ধাপ নীচে এই বাসায় আমাদের অবস্থান হবে । তারপর এই দুঃশ্চিন্তা আর মাথায় না রেখে মহানাম জপ করে করে ঘুমোতে গেলাম। ২৮ এপ্রিল ১৫ সকালে নাস্তার পর ভাবলাম বড় বাজার গিয়ে কিছু মার্কেটিং করবে পুলিশ বাজার থেকে যে জিনিস পাঁচশো টাকায় কেনা যাবে বড় বাজারে তা খুব বেশী হলে চারশো হবে। কিন্তু মালতী মাসী বললেন লাঞ্চ করে যাব।এরপর আমি ও মাসী বিকেল বেলা বড়বাজারে গিয়ে স্যুয়েটার কসমেটিক্স ইত্যাদি মার্কেটিং করে ফিরলাম।
সন্ধ্যার পর চা খেয়ে আমরা লাবান রান্টুদা’র বাসায় ফিরে এলাম। পরদিন আমাদের দেশে ফিরতে হবে তাই রাতেই ব্যাগ- লাগেজ রেডি করে রাখলাম। এদিন রাতে ও কনকনে শীত আমদের পিছু ছাড়েনি।
২৯ এপ্রিল ১৫ সকালে নাস্তা করে টেক্সিতে উঠতে উঠতে সকাল পৌনে ১০টা বেজে গেল। রান্টুদা’র ঠিক করা বাঙালী ড্রাইভার রিপন দাসের গাড়ীতে উঠে একটু এগুতেই প্রচন্ড বৃষ্টি আমাদের সঙ্গী হল। শিলং থেকে ৬২ কিঃ মিঃ পাহাড়ী উঁচু নিচু আঁকা বাঁকা পথ পেরুনোর পর পনতুয়াং আমাদের গাড়ী অন্য পথ ধরলো। এখান থেকে ১৯ কিঃ মিঃ ঐ দিকে এশিয়ার সবচেয়ে ক্লিন ভিলেজ ‘মাওলাইনং’।
‘ক্লিন ভিলেজ’ পৌছে আমাদের টেক্সি পার্কিং এরিয়ায় রেখে নেমে পড়লাম। তখনও টিপ টিপ বৃষ্টি ঝরছে। মজার ব্যপার হলো এখানে যেতেই আমার মোবাইলের রবি সিম সচল হয়ে গেল এবং বৃষ্টির জন্য সঙ্গত কারণে ৫০০০ ফুট নীচে বাংলাদেশ ভূখন্ড কেমন ধোয়াশা ধোয়াশা লাগছিল।
মাওলাইনং মেঘালয়ে একটি ছোট গ্রাম।
মাওলায়ইননংঃ ২০০৩ থেকে এটি এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ছোট গ্রাম। ইহা পাইনারস্লা কমিউনিটি ডেভলাপমেন্ট ব্লক ও বিধান সভাএরিয়া ভূক্ত।
ইহা শিলিং থেকে ৯০ কি:মি: দূরবর্তী এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী। ‘ওয়াশিংটন পোষ্ট’ পত্রিকায় ১৭ এপ্রিল ও ৬ জুন ২০১৫ সংখ্যায় এই গ্রাম ‘কিংডম অব গার্লস’ এবং ‘ নিউ ইয়ার্ক টাইমস’ পত্রিকার ৩ ও ৫ জুন ২০১৫ সংখ্যায় ‘গালস রুল ইন এন ইন্ডিয়ান ভিলেজ’ বলা হয়েছে।
অপরূপ এই গ্রামটির মাঝে নয়নাভিরাম জলপ্রপাত আর হরেক অর্কিডের সমারোহ এর মাঝে আলাদা একটা প্রাকৃতির সৌন্দর্যের মাত্রা যোগ করেছে। শতভাগ শিক্ষিতে ইংলিশ জানা অধিবাসীর গ্রামটির প্রতিটি বাড়িতেই পাকা লেট্রিন রয়েছে। রাস্তায় একটু পর পর বাঁশ দিয়ে তৈরী বাস্কেটে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা। নিজেদের গ্রাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন খেতাব পাওয়ায় ৯৫ পরিবারের ৫০০ (২০১৫) গ্রামবাসীদের গর্বের অন্ত নেই। শিশুরা স্কুল থেকে গ্রাম পরিচ্ছন্ন রাখার দীক্ষা পেয়ে সেমত চলে। ২০০৫ সালে ইহা ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের খেতাব পায়।
বাঁশ দিয়ে তৈরী প্রায় চার তলা সমান উঁচু একটি ‘ওয়াচ টাওয়ার’ আছে সেখান থেকে দাঁড়িয়ে বনের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে রূপসী বাংলার(বাংলাদেশ) রূপে যে কারো মন ভরে যাবে। গ্রামের ছোট চা স্টল গরম চায়ে চুমুক দিলে কার না মন ভরে যায়। পছন্দসই নাস্তাও খাওয়া যাবে। একটা ছোট দোকানে দেখলাম বেতের গোটা (খেতে টক লাগে) বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। আমি আর শংকর প্রায় হাজার ফুট নীচে ঝর্ণার আওয়াজ শুনে নামতে থাকলাম। গিয়ে তো চোখ চড়ক গাছ- দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বিশাল এক ঝর্ণা তার বর্ষার পূর্ণ যৌবন নিয়েই আঁচড়ে পড়েছে। মজার ব্যাপার হলো ঝর্ণার উপরে মানুষেল তৈরী (প্রাকৃতিক ভাবেই) গাছ- গাছালীর সাঁকো তৈরী হওয়ায় এ যেন দুই পারের মিতালী করে দিয়েছে। অনেক পর্যটক এই সাঁকো পেরিয়ে ওপারে যাচ্ছে এবং আমরা গেলাম। ঝর্ণা দেখে আমার মনে হলো গোয়াইনঘাটের পানতুমাই থেকেই বোধহয় আমরা এই ঝর্ণা দেখতে পেয়েছিলাম।
এই গ্রামের কমলালেবু, আনারস, লেবু ইত্যাদি সহ বিভিন্ন প্রকার ফল- ফলাদির টেষ্ট যেন আলাদা। নানান রংয়ের প্রজাপ্রতি উড়ে বেড়ানো দেখা আর পাখীর কোলাহলে একটু সময়ের জন্যও যে কারো মনে হবে এখানে থেকে গেলে কেমন হয়।
এই গ্রামের কার পার্কিং- এ ৫০/- টাকা ফি’র যে রশিদ পাই তাতে ইংরেজিতে লিখা- ‘ওয়েলকাম মাইলাইননং- গডস ওউন গার্ডেন’।
ওই রশিদের লিখাকে বিশ্বাস করেই শ্রষ্টার নিজের বাগান এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামটি বেড়ানো শেষ করে আমরা টেক্সিতে উঠলাম। এবার পাহাড়ী আঁকাবাঁকা ১৯ কিলোমিটার এসে আমাদের গাড়ী ডাউকী - শিলং রাস্তায় ধরালো। এবার আরো ১৯ কিলোমিটার নেমে একদম ডাউকী আর তারপর বাংলাদেশ।



.: 2 November 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (322 বার পঠিত)
তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: যখন প্রথম দিন কলেজের পথে পা বাড়িয়েছি তখন কে যেন বললো-কলেজ যাচ্ছ,স্কুলের সব কিছু ভুলে যাও।কলেজে চলাফেরা,ক্লাশ করা,উপস্হিতি দেয়া সবকিছু আলাদা এবং আমাদের আম্বরখানা কলোনীর পাশের বাড়ির ইলুভাই বললেন-এখানে আরেকটা সুবিধা হলো কলেজের স্যাররা স্কুলের মত বেত দিয়ে পিটান না! ...Details...


.: 12 October 2017 : সমসাময়ীক লেখা :. (1980 বার পঠিত)
এক সিএনজি চালকের সততার অনন্য দৃষ্টান্ত


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: অক্টোবরের ৯ তারিখ সোমবার সন্ধ্যা।আমেরিকা প্রবাসী সৈয়দা আশরাফুন্নছা,তাঁর সদ্য বিবাহিত পুত্র কলিম উদ্দিন চৌধুরী (হুমরান) ও ছোট ভগ্নিপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জামিল চৌধুরী সহ সিলেট শহরের হাউজিং এস্টেট থেকে CNG অটোরিক্সায় উঠেন-গন্তব্য কাজলশাহ।রাস্তায় তেমন কোন জ্যা ...Details...


.: 8 August 2017 : ব্যক্তিত্ব :. (532 বার পঠিত)
বন্ধু রজব আলী খান নজীবের চির বিদায়


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: গত ডিসেম্বরের (২০১৬) তৃতীয় সপ্তাহে রাতের বাসে আমি ঢাকা যাচ্ছিলাম। বাসে আমার পিছনের সিটে রজব ভাই বসেছিলেন। গাড়ীতে ওঠে তাঁকে দেখে আমি কাছে যাই এবং বলি রজবভাই আদাব-তিনি তক্ষুনী "আরে হারানদা"বলে ওঠেন।দু'জনে একটু সময়ের মাঝে অনেক কথা হয়। আমি তাঁর কানে কানে গেয়ে ওঠি কবিগ ...Details...


.: 8 June 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (1519 বার পঠিত)
আবাবিল পাখি হয়ে দিয়ে যাই চুম


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: এটি গল্পকার সেলিম আউয়ালের ৮ম গ্রন্হ।লেখক মাতা ও স্ত্রী-কে নিয়ে ২০১১ খ্রি: পবিত্র মক্কা-মদিনা সফরের টুকরো স্মৃতি নিয়েই এই ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন। বইয়ের নামকরণেই যেন লেখকের সব আবেগ উছ্লে উঠেছে।পবিত্র কাবা ঘরে নিজে তো চুমু দিয়ে এসেছেন তারপরও যেন স্বাদ মিটেনী তাঁর।তা ...Details...


.: 25 April 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (1325 বার পঠিত)
রম্য কথনঃ খেতাব এ্যাওয়ার্ডে সয়লাব ভুরু মিয়ার ১০০% লাভ


হারান কান্তি সেন; "বাবায় রাখছিল নাম মদনা কদু আমার নাম(২) সেই নামরে বিলিন কইরা(২) নাম রাখিলাম শ্যাম্পেন বস্(২)...." দুলিয়ারবন্দ আর্ট ক্লাব অডিটরিয়ামের বারান্দায় বসে মদনা সুর করে এই গানের প্রথম চারলাইন গেয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছই।হঠাৎ চৈত্রের রোদেলা বিকেলে কোথা থেকে দমকা হাওয়ায় ভর করে বৃষ্ট ...Details...


.: 10 April 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (1505 বার পঠিত)
নগা'দা আর দিপু'র কথা


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন; ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯৪০ শতকের শেষ দিকের কোন এক বছর।পিতৃ-মাতৃহীন ১৫/১৬ বছরের কিশোর নগেন্দ্র দাস তখন তার একমাত্র অবলম্বন দিদিমা'র আশ্রয়ে। চিকিৎসার অভাবে নানান রোগে মৃত্যু'র কোলে ঝরে পড়া ভাই-বোনদের স্মৃতিও তাকে প্রায়ই তাড়া করতো।তার কাছে পুরো পৃথিবীটাকেই যেন মনে ...Details...


.: 13 March 2017 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (2643 বার পঠিত)
শেকড়ের সন্ধানে আমাদের সকলের অনন্য একদিন


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন; সকালবেলা বৃষ্টি। এত বৃষ্টি যে,আমরা ফাল্গুনে আছি নাকি বৈশাখে খট্কা লাগে! হুমায়ুন চত্বরে বাস থেকে নেমে সাহিত্যকর্মী তাসলিমা খানম বীথি-কে ফোন দিয়ে প্রস্ততি সম্পর্কে জানি এবং তাকে আমার কার্ড নিতে বলি। আজ ১১মার্চ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ শনিবার বৃষ্টিস্নাত সকাল। কেন্দ্রীয় ...Details...


.: 4 August 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (3521 বার পঠিত)
রম্য রচনা গল্প হলেও সত্যি


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: গেল শতাব্দীর সাত দশকের শেষের কোন এক বছর। সিলেট শহরে তখন ‘কমিউনিটি সেন্টার’ ব্যবসা শুরু হয়নি। আম্বরখানা কলোনী ৬ নম্বর (৬/ই) বিল্ডিংয়ের এ আর খান সাহেবেরে বড় মেয়ে নীলুর বিয়ে। ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের সামনে পূর্ব কর্ণারে প্যান্ডেল করা হলো। আমরা কলোনীবাসীর আনন্দ আর ধরে না। জ ...Details...


.: 7 June 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (2819 বার পঠিত)
রস রচনা দুধ+গোসল=দুগ্ধস্নান


হারান কান্তি সেন: আমাদের দুলিয়ারবন্দ এলাকায় নতুন একটা ব্যবসা দু'দিন আগে চালু হলে এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুলকালাম কান্ড।এলাকাবাসীর মুখে মুখে দুধ নিয়ে তুলকালাম,কথাটি শুনে তরল দুধ বিক্রেতা আবু কালামের এক কথা-ভাই আমার কাছ থেকে কোন দুধ ওরা কিনে না।তাই আপনারা ওদের যত ইচ্ছে তুলুন আমার আপত্তি ...Details...


.: 14 March 2016 : ব্যক্তিত্ব :. (2540 বার পঠিত)
একজন রত্নগর্ভা মা মিরজা সমর-উন-নিসা


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: তিনি মিরজা সমর-উন-নিসা।একজন রত্নগর্ভার নাম। স্বামীঃমরহুম মোঃআব্দুল ওয়াহিদ।আদি নিবাস বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের খুজ্গীপুর গ্রাম। তিনি ও স্বামী আব্দুল ওয়াহিদ তাঁদের আম্বরখানা কলোনীর বাসায় সেই ষাট দশকে পবিত্র কোরআন শিক্ষার আয়োজন করতেন নিয়মিত।সে ...Details...


Next Page»: হারান কান্তি সেন এর আরো লিখা »

হারান কান্তি সেন এর সর্বাধিক পঠিত লিখা

.: : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (16350 বার পঠিত)
হাইওয়ে টু ব্যাঙ্গালুরু


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: এয়ারক্রাফট তখন কলকাতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে অমনি নীচে তাকিয়ে দেখি আকাশের তারার মেলাকে হার মানানোর মত অবস্থা। ওসবই নীচের বাড়ি-ঘরের রাতের বাতি। কবিগুরুর লেখা “সুন্দরও বটে তব অঙ্গদ খানি তারায় তারায় খচিত” গানটি এ ম ...Details...


.: 12 February 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (10096 বার পঠিত)
পা বাড়ালেই শিলং গুয়াহাটি


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: ১৮ই এপ্রিল ২০১৫ শুক্রবার সকালে এমন বৃষ্টি ছিল যে, ছুটির দিনের এমন সময়টা আরেকটু বিছানায় থাকতে সবারই মন চায়। কিন্তু কি আর করা সকাল সকাল ওঠেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ৯টায় বেরুনোর কথা থাকলেও আমরা ৯.৪৫-এ গাড়িতে ওঠি। পৌনে ১২টায় তামাবিল পৌছে চেক পোষ্টে – ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস সে ...Details...


.: 7 February 2016 : সাহিত্য-সংস্কৃতি »মতামত (1) :. (4769 বার পঠিত)
মান্না দে এবং তাঁর ভক্ত অনুরাগী আমরা


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন:- (ক) গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর’১৪ স্ত্রী পুত্র নিয়ে আমি ব্যাঙ্গালুর নারায়ণা হেল্থ সিটিতে পৌছে প্রথমেই মনে পড়ে গুরু সঙ্গীত সূর্য মান্না দে’র কথা। তিনি তো এই হাসপাতালেই ঠিক ১১ মাস আগে ২০১৩ সালের ২৪ শে অক্টোবর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। আসলে তখন আমার শরীরে অন্য ধরণের একটা শি ...Details...


.: 22 October 2014 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (3798 বার পঠিত)
অন্য গ্রহের এক দিন রাত


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন:আমরা একটা গল্প পড়তাম সে-ই ছোটবেলায় আর গল্পটা ছিল অনেক রকম ‘‘টুনা টুনিকে কহিল পিঠা খাইব, টুনি কহিল গুড় আনো, ময়দা আন, কাঠ আন, অত: পর টুনা সব জোগাড় করিল এবং টুনি পিঠা করিলৃ..‘’ তে আমাদের ইংল্যান্ড প্রবাসী বন্ধু ভাস্কর শ্যাম চৌধুরী এবার দেশে ফেরার আগে থেকেই আমরা তার ঘনিষ্ট ক ...Details...


.: 14 June 2015 : সাহিত্য-সংস্কৃতি :. (3521 বার পঠিত)
রম্য রচনা গল্প হলেও সত্যি


SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: গেল শতাব্দীর সাত দশকের শেষের কোন এক বছর। সিলেট শহরে তখন ‘কমিউনিটি সেন্টার’ ব্যবসা শুরু হয়নি। আম্বরখানা কলোনী ৬ নম্বর (৬/ই) বিল্ডিংয়ের এ আর খান সাহেবেরে বড় মেয়ে নীলুর বিয়ে। ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের সামনে পূর্ব কর্ণারে প্যান্ডেল করা হলো। আমরা কলোনীবাসীর আনন্দ আর ধরে না। জ ...Details...


পাঠকের মতামত
মান্না দে এবং তাঁর ভক্ত অনুরাগী আমরা
পাঠকের মতামতঃ (1)

23 October 2014 তারিখে haran kanti sen লিখেছেনঃ amer ai likhati porle sober vhalo lagbe

Other Pages :

 
 অন্য পত্রিকার সংবাদ
 অভিজ্ঞতা
 আইন-অপরাধ
 আত্মজীবনি
 আলোকিত মুখ
 ইসলাম ও জীবন
 ঈদ কেনাকাটা
 উপন্যাস
 এক্সপ্রেস লাইফ স্টাইল
 কবিতা
 খেলাধুলা
 গল্প
 ছড়া
 দিবস
 দূর্ঘটনা
 নির্বাচন
 প্রকৃতি পরিবেশ
 প্রবাস
 প্রশাসন
 বিবিধ
 বিশ্ববিদ্যালয়
 ব্যক্তিত্ব
 ব্যবসা-বাণিজ্য
 মনের জানালা
 মিডিয়া ওয়াচ
 মুক্তিযুদ্ধ
 যে কথা হয়নি বলা
 রাজনীতি
 শিক্ষা
 সমসাময়ীক বিষয়
 সমসাময়ীক লেখা
 সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
 সাইক্লিং
 সাক্ষাৎকার
 সাফল্য
 সার্ভিস ক্লাব
 সাহিত্য-সংস্কৃতি
 সিটি কর্পোরেশন
 স্বাস্থ্য
 স্মৃতি
 হ য ব র ল
 হরতাল-অবরোধ

লেখালেখি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)
আব্দুল হামিদ মানিক
শফিকুল ইসলাম
প্রা. মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট
ইকবাল বাহার সুহেল
হারান কান্তি সেন
সেলিম আউয়াল
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
এ.এইচ.এস ইমরানুল ইসলাম
জসীম আল ফাহিম
সৌমেন রায় নীল
সাকিব আহমদ মিঠু
রাহিকুল ইসলাম চৌধুরী
সালাহ্‌ আদ-দীন
ছাদিকুর রহমান
সাঈদ নোমান
জালাল আহমেদ জয়
পহিল হাওড়ী (মোঃ আবু হেনা পহিল)
শাহ মিজান
তাবেদার রসুল বকুল
কাউসার চৌধুরী
নারী অঙ্গন
নূরুন্নেছা চৌধুরী রুনী
ইছমত হানিফা চৌধুরী
আমেনা আফতাব
মাহবুবা সামসুদ
সুফিয়া জমির ডেইজী
নীলিমা আক্তার
মাছুমা আক্তার চৌধুরী রেহানা
সালমা বখ্ত্ চৌধুরী
রিমা বেগম পপি
রওশন আরা চৌধুরী
অয়েকপম অঞ্জু
আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না
জান্নাতুল শুভ্রা মনি
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী
আলেয়া রহমান
মাজেদা বেগম মাজু
নাঈমা চৌধুরী
শামসাদ হুসাম
তাসলিমা খানম বীথি
রায়হানা বারী রেখা

সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আলোচিত লিখা
.: 2 weeks ago : নারী অঙ্গন :.
কিশোরী ভাবনা... (552 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

তাসলিমা খানম বীথি: ১. ছোটদের ‘শরৎ চন্দ্র’ বইটি হাতে নিতেই নিজেকে তখন কিশোরী মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো অন্য কোন বই হাতে তুলে দেবেন। যাই হোক গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর সাহিত্য আসর উপস্থাপনা শেষ করে লাইব্রেরীতে গিয়েছিলাম বইয়ের জন্য। বই পড়া অভ্যাস সেই ছোটব Details...


.: 3 weeks ago : :.
নবজাগরণের কবি ফররুখ আহমদ (534 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: ফররুখ আহমদ বাংলাসাহিত্যের নবজাগরণের কবি। তিনি অসাধারণ কাব্যপ্রতিভা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে ছন্দের কবি, সংগীত ঝংকারের কবি বলতে ফররুখ আহমদকেই বুঝায়। সৌন্দর্য, জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, রোমান্টিকতা, প্রেম, ভালোবাসা, অনুরাগ, উদাস জীবনের বাসনা, স্বদেশ Details...


.: 3 weeks ago : :.
বহু বিবাহ এবং ইসলাম (415 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মোহাম্মদ আব্দুল হক: একটি প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেতে ও মেয়েতে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের প্রচলন মানব সভ্যতার এক অতি সুন্দর ও পবিত্র প্রথা। সকল ধর্মে বিয়ের গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের পবিত্র মিলনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি লাভের পাশাপাশি বৈধভাবে সন্তান উৎপাদন Details...


.: 4 weeks ago : :.
ঘর পালানো মেয়ে (413 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

সোহানুর রহমান অনন্ত: মগবাজারের জ্যামটা আজ আঠার মতো লেগে আছে। গত তিন দিন ধরে অফিসে লেট করে ঢুকছি। বসের আড়চোখে দেখার সিগন্যালটা আমাকে ভালই তাড়া করছে। বাস থেকে নেমে গেলাম, হেঁটে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। কিছুদূর যেতেই পকেটে ভ’মিকম্প তুলে বেজে উঠলো মোবাইলটা। জয়ার ফোন, -হ্যালো, -তোমার Details...


.: 2 weeks ago : :.
প্রেম ছিল সরল (347 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

মিজানুর রহমান মিজান:
আমার প্রেম ছিল সরল
ছলনা করে বন্ধে বানাল গরল।।
শেষ বিকেলে নদীর তীরে
বন্ধের স্মৃতি জাগে অন্তরে
মান অভিমানের করুণ সুরে
আগুন নিভে না যত ঢালি জল।।
বাঁশে যেমন ধরলে ঘুণে
বাহির ভাল ভিতর শুন্যে
কায়াসম বুকের জমিনে
অঙ্গ মলিন হতাশায় অতল।।
তুই ব Details...


.: 4 weeks ago : :.
অংকে আমি কাঁচা (331 বার পঠিত)

বদরুজ্জামান জামান:
. মনে করো, রুজি
দুই হাজার প্রতিমাসে
খরচ করে এক হাজার
প্রতিমাসে দীর্ঘশ্বাসে।
. বছর শেষে জমবে তার
বার হাজার তাইনা ?
অংকে আমি খুব কাঁচা
হিসাব কষতে চাইনা।
. হঠাৎ নাকি চোর এসে
ঢুকলো তার বাসায়
তারপরের ঘটনাটা
আমাকে খুবই হাসায় ।
. সোনা গহনা Details...


.: 4 weeks ago : :.
প্রিয়তমা (327 বার পঠিত)

প্রজ্ঞা লাবণী দাশ: সুন্দরের সকল পূজারী প্রিয়তমা তুমি তাদের কাছে আদুরী, সবার কাছে প্রিয় তুমি সম্ভাষণে শ্রেষ্ঠ মানবী। তুমিই হলে ভালোবাসার সাথী তোমার জন্যই সকলে খুঁজে পায় প্রীতি, তোমায় পাওয়া যায় সকলের সুখে তুমি ঝাঁপিয়ে পড়ো সকলের দুখে। তুমিই হলে অনুপমা, তুমিই তো প্রিয়তমা। Details...


.: 4 weeks ago : :.
আমার মা (322 বার পঠিত)

প্রজ্ঞা লাবণী দাশ: শুনো মাগো একটি কথা তোমায় ভালোবাসি, যুগ জনমের বন্ধু তুমি তুমি চাঁদের হাসি। তুমি হাসলে মাগো পৃথিবীটাও হাসে, তুমি কাঁদলে মাগো মোর নয়নও ভাসে। জন্মের পর পৃথিবীটাকে দেখলাম তোমার কোলে থেকে, মরতে যেন পারি মাগো তোমার কোলে মাথা রেখে। জানি মাগো একথাটি মানায় না কোনো স Details...


.: 2 weeks ago : :.
তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম (322 বার পঠিত)
SylhetExpress.com

হারান কান্তি সেন: যখন প্রথম দিন কলেজের পথে পা বাড়িয়েছি তখন কে যেন বললো-কলেজ যাচ্ছ,স্কুলের সব কিছু ভুলে যাও।কলেজে চলাফেরা,ক্লাশ করা,উপস্হিতি দেয়া সবকিছু আলাদা এবং আমাদের আম্বরখানা কলোনীর পাশের বাড়ির ইলুভাই বললেন-এখানে আরেকটা সুবিধা হলো কলেজের স্যাররা স্কুলের মত বেত দিয়ে পিটান না! Details...


.: 3 weeks ago : :.
নতুন স্বপ্ন বুনে হেমন্তের শিশির (298 বার পঠিত)

বদরুজ্জামান জামান :
কর্মক্লান্ত দিবসের সমাপ্তিতে জ্বলে সন্ধ্যাতারা
নৈস্বর্গ উদ্যান সাজায় শিশির সিক্ত জ্যোৎস্না
নিঃশব্দ ঘুমমগ্ন নক্ষত্ররাজি
মখমল ওম বিলায় ভোরের সূর্য ।
ঘাসফড়িং শিশির ভেজা সুখে ভাসে সানন্দ্যে
অবয়বের ক্লান্তি মুছে শীতের আগমনী বার্তা,
কর্দম পিচ্ছি Details...



www.SylhetExpress.com - First Online NEWS Paper in Sylhet, Bangladesh.

Editor: Abdul Baten Foisal Cell : 01711-334641 e-mail : news@SylhetExpress.com
Editorial Manager : Abdul Muhit Didar Cell : 01730-122051 e-mail : syfdianews@gmail.com
Photographer : Abdul Mumin Imran Cell : 01733083999 e-mail : news@sylhetexpress.com
Reporter : Mahmud Parvez Staff Reporter : Taslima Khanom Bithee

Designed and Developed by : A.S.H. Imranul Islam. e-mail : imranul.zyl@gmail.com

Best View on Internet Explore, Mozilla Firefox, Google Chrome
This site is owned by Sylhet Sifdia www.sylhetexpress.com
copyright © 2006-2013 SylhetExpress.com, All Rights Reserved