লাকড়ীপাড়ায় শিশু অপহরণের চেষ্টা পুলিশ ও প্রতিবেশির অসহযোগিতা

,
প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২     আপডেট : ৪ মাস আগে

 

শিবগঞ্জের লাকড়ীপাড়া এলাকায় দেড় বছরের শিশু অপহরণের চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। পাশের বাড়িতে সিসিটিভি থাকলেও মালিক সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শিশুটির মা তান্নী চৌধুরী গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ সব অভিযোগ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবরের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। গত ২৬ ডিসেম্বর, রবিবার আমার ১৮ মাস বয়সী মেয়ে ইসাবেলা হোসেন ইসরাকে অপহরণ চেষ্টা করে এক যুবক। বাসার সিসি টিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ বিষয়টি পাত্তা দেয়নি।’
যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় গত ৩১ ডিসেম্বর শাহপরাণ থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান শিশুটির মা। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ তদন্তে আসেনি। এ ছাড়া বাড়ির আশেপাশে অপরিচিত ব্যক্তিদের ঘুরাঘুরি এবং সামনের বাড়ির মালিক সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অনীহা প্রকাশ করায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা অনুভব করছি।’
তান্নী চৌধুরী জানান, গত ২১ ডিসেম্বর তার স্বামীর আফজল হোসেনের সঙ্গে শ্বশুরের কোনো এক বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিবাদ হয়। পরের দিন ২২ ডিসেম্বর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। কিন্তু, ২৩ ডিসেম্বর রংধনু ৩১/সি ভাড়াটে রিপন নামের একটি প্রতিবেশি স্বামী আফজল হোসেনকে জানান, আগের রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে একজন লোক বাসার বাউন্ডারির কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছিল। তাকে পরিচয় জানতে চাইলে লোকটি ধমক দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বর বিকেল তিনটায় মেজো মেয়ে ইসাবেলা বাড়ির উঠানে খেলতেছিল। মূল ফটক খোলা থাকায় বেরিয়ে বাড়ির গলির রাস্তায় চলে যায়। ভিডিও দেখে আমরা বুঝেছিÑ সে বাড়ির গেইট অতিক্রম করে গলির রাস্তায় ২০-২৫ সেকেন্ড বসে থাকে।’
‘আমরা অনুমান করছিÑ তারপরই মূল সড়ক থেকে কারও ইশারা পেয়ে খেলার ছলে সে হাঁটা ধরেছিল। তখন সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যাচ্ছিল। সে সময় একটি ছেলে আমার মেয়েকে কোলে করে আমাদের বাড়ির মূল সড়ক অতিক্রম করে গলির ভেতর দিয়ে হাটা শুরু করে।’
একটি ছেলে তার মেয়ে ইসাবেলাকে কৌশলে নিয়ে যাচ্ছিল অভিযোগ করে তান্নী চৌধুরী বলেন, ‘হঠাৎ আমি যখন অনুভব করলাম মেয়ে আমাদের বাড়ির উঠানে নেই। দৌঁড়ে মূল গেটের সামনে যাওয়া মাত্র দেখি ছেলেটি খুব তাড়াহুড়ো করে আমার মেয়েকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। জোরে চিৎকার করে ডাক দিয়ে এবং তার পিছনে দৌঁড়ে গিয়ে আমার মেয়েকে উদ্ধার করি।’
তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে প্রথমে জিজ্ঞেস করলে সে আমার মেয়েকে রাস্তায় পেয়েছে দাবি করে বাসা খুঁজতে ভেতরের দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করে। কিন্তু, গলির প্রথম বাড়িতে না খোঁজে অনেক ভিতরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে সদুত্তর দিতে পারেনি।’
‘বাড়ির সামনে সিলেট ফার্মা-২ ফার্মেসিতে জিজ্ঞেস করিÑ আমার মেয়ে কী রাস্তায় চলে আসছিল কিনা। তখন ফার্মেসিতে কর্মরত লোকজন জানান, মেয়েটি রাস্তায় বেরিয়ে আসতে তারা দেখেননি।’
তান্নী চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘ঠিক তখনই বাড়ির সামনে একজন মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর (বংগাই মিয়ার খাসির মাংসের দোকান) ছেলেটাকে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে, ৩১ ডিসেম্বর সাধারণ ডায়রি করি। কিন্তু, পুলিশ একবারও বাড়িতে আসেনি। সামনের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দিতেও অনিহা প্রকাশ করেন ওই বাড়ির মালিক।’
সবমিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কাবোধ করছেন তান্নী চৌধুরী ও তার স্বামী আফজল হোসেন। তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আরও পড়ুন