প্রবাসী কবি ও গীতিকার আবদুল হাসিব এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম-মোঃ আব্দুল মালিক

,
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি। তম্মধ্যে প্রবাসী প্রায় সোয়া কোটি। প্রবাসীদের একটি সুন্দর নাম দেওয়া হয়েছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশকে রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছিলেন বটে কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেওয়ার পূর্বেই দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে সপরিবারে নিহত হন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিয়ে বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। অচিরেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত হবে ইনশাল্লাহ। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশ বিভূইয়ে আত্মীয় স্বজন ছেড়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে উপার্জন করেন তা তাঁরা দেশে প্রেরণ করেন। রেমিট্যান্স প্রেরণের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশে^ নবম। একক খাত হিসেবে জিডিপির সর্বোচ্চ ১২% আসে প্রবাসী আয় থেকে। গত ৩০ জুন ২০২০ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার সিংহভাগই প্রবাসীদের প্রেরিত। এছাড়াও প্রবাসীরা আরো বড় একটি অবদান রেখে যাচ্ছেন যা অর্থনীতিবিদরা এখন পর্যন্ত হিসেব করেন নি বলে মনে হয়। সেটা হচ্ছে এই সোয়া কোটি প্রবাসী যদি দেশে থাকতেন তাহলে তাঁদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থান ইত্যাদির যোগান দিতে হতো বাংলাদেশকে। এটিও পরোক্ষভাবে আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
আমাদের প্রবাসী বা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা প্রবাসে শুধু অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত নন। তাঁরা সময় সুযোগ মত তাঁদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এরকম একজন প্রবাসী বা রেমিট্যান্স যোদ্ধা হচ্ছেন কবি গীতিকার আবদুল হাসিব। তিনি সুন্দরী শ্রীভূমি, আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেট জেলাধীন বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ছড়া কবিতা লেখা শুরু করেন। ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৫ সালে বাণিজ্য বিভাগে ডিগ্রী পাস করে সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ৩ বছর চাকুরী করে ১৯৮৭ সালে তিনি কানাডা প্রবাসী হন। প্রবাস জীবনে নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে আবারো সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
কবি আবদুল হাসিব প্রধানতঃ ছড়া-কবিতা লিখেন। কবিতার মধ্যে চতুর্দশপদী কবিতা এবং রুবাইয়া ও আছে। তাছাড়া সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়ও তিনি ছড়া কবিতা লিখে থাকেন। তিনি বাস্তব প্রতীতি নিয়ে নিরন্তর রচনা করে যাচ্ছেন-প্রবন্ধ-নিবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস। কবি আবদুল হাসিব একজন নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হিসেবেও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ও ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন ও করছেন।
এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ১৬টি। ১) চোখে আসে জল (ছড়া গ্রন্থ-২০০৬), ২) অষ্ট প্রহর স্পর্শ চাই (কাব্য-২০০৭), ৩) নিষ্ফলা জমির কান্না (কাব্য-২০০৮), ৪) প্রসূনে প্রনষ্ট (কাব্য-২০০৮), ৫) বালকের চোখে দেখা ‘৭১ (মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি গ্রন্থ-২০০৯), ৬) গোধূলির দুটো রঙ (গল্প গ্রন্থ-২০০৯), ৭) পারুলের প্রথম পরশ (গল্প গ্রন্থ-২০১১), ৮) প্রজাপতির রঙিন পাখা (ছড়া গ্রন্থ-২০১১), ৯) নজরুল, নারী ও অন্যান্য প্রসংগ (প্রবন্ধ -২০১৩), ১০) জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে (জীবনী-২০১৩), ১১) ছড়ায় ছন্দে স্বদেশ দেখো (কিশোর ছড়া গ্রন্থ-২০১৩), ১২) এক টুকরি সিলোটি ছড়া (সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত ছড়া গ্রন্থ-২০১৩), ১৩) মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (প্রবন্ধ-২০১৯), ১৪) পোশাকের অন্তরালে (উপন্যাস-২০১৯), ১৫) খুঁজে বেড়াই তোমাকে (কাব্য-২০১৯) ১৬) দ৭১ রহ ঃযব বুবং ড়ভ ধ নড়ু (বালকের চোখে দেখা-’৭১, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ২০১৯)। তাঁর রচিত গান নিয়ে অচিরেই এ্যালবাম প্রকাশিত হবে।
কবি আবদুল হাসিবের লেখা বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর, সমকাল, সাপ্তাহিক গোর্কী, স্বদেশ খবর, অনলাইন পত্রিকা, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম, সাহিত্য বার্তা, যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সুরমা ও জনমত এবং ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা এবং অনলাইন পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
প্রবাসী লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীরা তাঁদের সৃষ্টিকর্ম প্রকাশের জন্য বাংলাদেশি প্রকাশক ও রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফোনে বা কোন স্বল্প পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন। যার ফলে অনেক সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও মান সম্মত কাজ পান না বা প্রতারিত হন বলে অভিযোগ আছে। অনেকে কলকাতা থেকে বই ছাপানোর চিন্তা করছেন বলে জানা যায়।
সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে অনেক কিছু করছেন। প্রবাসী লেখকদের জন্যও পুরষ্কারের ব্যবস্থা করেছেন। তবে বিনা অর্থ ব্যয়ে আরো কিছু ব্যবস্থা যদি সরকার গ্রহণ করেন তাহলে প্রবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীরা আরোও উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ^াস। যেমন: বাংলা একাডেমিতে প্রবাসী সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মী ডেক্স বা কর্ণার স্থাপন করে সেখানে প্রবাসী সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের নাম তালিকাভূক্তকরন। প্রতি বৎসর একুশের বই মেলায় বহু প্রবাসী সাহিত্য সংস্কৃতিকর্মী এসে থাকেন। তাঁদেরকে নিয়ে এক বা দুই দিন আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হলে মূল ধারার সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে প্রবাসী সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের সহজ যোগসূত্র স্থাপিত হবে। ফলে সাহিত্য সংস্কৃতির মান উন্নয়ন হবে এবং প্রবাসী লেখকদের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটি বিবেচনা করতে পারেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

স্পর্শহীন

         মিজানুর রহমান মিজান: গভীর এ...

কেমুসাস বইমেলায় বক্তৃতা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

         আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রতিযোগিতামুলক...

সিলেটে রবীন্দ্রনাথ স্বরণোৎসব অনুষ্ঠান আয়োজকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

         বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট...