সাম্যের ঈদ

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

মো: নাসির উদ্দিন সাম্যের কবি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজ থেকে প্রায় ৯৪ বছর আগে ১৯ চৈত্র ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে কলকাতায় বসে ঈদুল ফিতরের মর্মবাণীকে তাঁর কাব্যিক বৈচিত্রের শত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। এখানে তাঁর ‘ঈদ মোবারক’ কবিতার অংশ বিশেষ দিয়ে আমার লেখা শুরু করলাম-
ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুৎখ সমভাগ করে নেব সবাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো আঁখি জলে কারো ঝাড়ে ফিরে জ্বলিবে দ্বীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দ নসীব, লাখে লাখে হবে বদনসীব?
এ নহে বিধান ইসলামের।
ঈদ আল্ ফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান,
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!
ভোগের পেয়ালা উপচারে পড়ে তব হাতে
তৃষ্ণাতুরের হিস্সা আছে ও পেয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর বীর দেদার।
বুক খালি করে আপনারে আজ দাও জাকাত,
কারোনা হিসাবী আজ হিসাবের অংকপাত।
পথে পথে আজ হাঁকিব বন্ধু
ঈদ মোবারক। আস্সালাম।
ঠোঁটে ঠোঁঠে আজ বিলাব শিরনী ফুল-কালাম!
বিলিয়ে দেওয়ার আজকে ঈদ।
আমার দানের অনুরাগে-রাঙা ঈদগা’রে!
সকলের হাতে দিয়ে দিয়ে আজ আপনারে
দেহ নয় দিল হবে শহীদ।

দীর্ঘ ৩০ দিন সিয়াম সাধনের পর আসে ঈদুল ফিতরের অনাবিল আনন্দের দিন। এ দিন মুসলিম জাহানে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হবার দিন, আনন্দ উৎসবের দিন। শত ব্যস্ততা ও অভাব অনটনের মাঝেও আমরা ঈদ উদযাপনে পেছপা হইনা। শহর-গঞ্জের মানুষ মহানন্দে শরিক হয় এ পবিত্র দিনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে। তবে যারা সুন্দর সুষ্ঠভাবে রোযা পালন করলনা তাদের ঈদ উৎসব মানায় না। দীন-দুঃখী সাধারণ মানুষ ছাড়াও স্বল্প আয়ের মানুষ কিছু না পেয়েও হাসি খুশি থাকে ঈদের দিনে, ঈদের দিনে কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিশেষ দিনে রাস্তায় নিঃস্ব গরিবের যে ঢল দেখা যায় তা সুখকর নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল গঠন করে গরিবদের পুনর্বাসন করা উচিত। ধনীদের দেয়া যাকাত আর সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির তহবিল দিয়ে হত দরিদ্রদের অন্তত বেচে থাকার অবলম্বন করে দেয়া যায়। তাহলে তাদেরকে ভিক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে না। সেক্ষেত্রে ঈদের আনন্দ আরও উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
ঈদের সময়ে ধনী ব্যক্তিরা গরিবদের মাঝে যাকাতের নামে ঢাক ঢোল বাজিয়ে লোক সমাগম করে শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণ করেন। এতে প্রচন্ড ভিড়ে পায়ে চাপা পড়ে গরিব শিশু এবং বৃদ্ধ মারা যায়। মর্মান্তিক ঘটনা পরিহার করতে যাকাতের টাকা যাকাত ফান্ডে, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় জমা দেওয়া উচিত। যাকাত প্রদানকারী/দান খয়রাতকারীর মধ্যে আত্মপ্রচার ভাব থাকলে যাকাত/দানখয়রাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারকে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর মত যাকাত বিত্তশালীরা প্রদান করলে সমাজে দরিদ্রের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমবে এবং যাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তি যাকাত প্রদানকারীর পর্যায়ে চলে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাকাত নেয়ার লোক নেই। যাকাতের টাকার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সামাজিক অবস্থা বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।

ঈদুল ফিতর সাম্যের কথা বলে, কিন্তু আমরা তা অনুসরণ করিনা। সমাজে শ্রেণী বৈষম্য দূর না হলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে গরিবরা বঞ্চিত থাকবে। গ্রাম-গঞ্জের বিত্তশালীরা বেশিরভাগই শহরে বসবাস করেন, তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের খবর রাখেন না। আমি মনে করি বিত্তশালীরা যদি নিজ নিজ গ্রামের হতদরিদ্র কয়েকটি পরিবারের দায়িত্ব নেয়, আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হতে বা নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে তাহলে আগামী বছর তাদের ঈদ হবে আনন্দময়, শান্তিময় ও স্বস্তিময়।

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার রাশ টেনে না ধরার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে আনন্দময় ঈদ একটি দুঃস্বপ্ন বটে। এজন্য দায়ী থাকবে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজ তথা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সরকার দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে এনে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রাখতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস।
বাজারে যখন কেনাকাটা করতে যাই তখন ভাবি আমার মত সাধারণ মানুষ কিভাবে কেনাকাটা করবে, কিভাবে বেঁচে থাকবে। তারপরও পত্র-পত্রিকা এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যাবে এবারের ঈদের বাজারে অত হাজার কোটি টাকার বেচা-কেনা হয়েছে। রোজাকে লক্ষ্য করে প্রতি বছরই জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে, বাজার মনিটর করার কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

রমজানের শিক্ষা হলো সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগ, ঈদ হলো আনন্দের, তবে আমরা যেন আনন্দের জোয়ারে ভেসে গিয়ে দায়িত্বের কথা ভুলে না যাই, শিক্ষার উন্নয়নে আমাদের অনেক করণীয় আছে, সমাজে যে হারে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় বাড়ছে, তার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার ওপর। প্রাইভেট স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষা লাভের পথে তা বাঁধা স্বরূপ। সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীরাও এদিকে সু-নজর রাখার অনুরুধ জানাচ্ছি।

আসুন আমরা গ্রামে যাই। গ্রামীন আত্মীয়-স্বজনের খবর নেই, তাদের পাশে দাড়াই। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন।

লেখক পরিচিতি: সাহিত্যকর্মী ও
সম্পাদক : অনুপ্রাণন (ঐতিহ্য সন্ধানী কাগজ)

আরও পড়ুন

উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিলেটসহ দেশের...

বাংলাদেশ ব্যাংকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে...

মানবপাচারের মামলায় বিশ্বনাথের তরুণী পিংকি গ্রেফতার

মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায়...