প্রেমিক কবি রোকেস লেইস

,
প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ আব্দুল হক: ছোট্ট শিশুটি হাতের কাছে নানান রকম খেলনা পেলে, সে একটি একটি করে নাড়াচাড়া করে তার মনের মতো করে এক খেলার মাঠ সাজায়। খেলনা শিশুর ভালো লাগে। তাই দিয়ে সে তার স্বপ্ন সাজায়। সে নিজে সেই সাজানো স্বপ্নের মাঠে খেলা করে আপন মনে। একজন কবিও শিশুর মতো স্বপ্ন বুনেন। তাঁর বুনন কাজের সহযোগী উপাদান বর্ণ, শব্দ, বাক্য, উপমা আর যতি-চিহ্ন। এতোসব উপাদান তাঁর স্বপ্নের আকাশে উড়ে বেড়ায়। কবি তাঁর মনের খেয়ালে যখন যা প্রয়োজন, যতোটুকু প্রয়োজন নেন এবং রচনা করেন। এ হচ্ছে কবির কাব্য। তবে কবিকে স্বপ্ন দেখায় বা স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করে তাঁর বিচরণ জগতের পরিবেশ। প্রাকৃতিক নানান বৈশিষ্ট্য তাঁকে বহু রকমের স্বপ্নের সিঁড়ি দেখায়। ওইসব সিঁড়ি বেয়ে কবি উঠা-নামা করেন আবার থামেন, ভাবেন, চলেন ও বলেন। মূলত আমাদের চারপাশে যা আছে তাই নিয়ে যে পরিবেশ, সে পরিবেশই কবির খেলার মাঠ। এখানে কবি শিশুর মতোই আপন খেয়ালে ভাঙেন, গড়ে তোলেন এবং ভালোবাসার মঞ্চে আরোহণ করেন। কবির নিজস্ব একটা শক্তি আছে সৃজনশক্তি। কবি সৃজনশীল মানুষ। কবি তাঁর সৃজনীশক্তি দ্বারা মানবিক মানুষের ভালোবাসায় থাকেন এবং ছুটেন যুগ থেকে যুগে।অনেকেই মহাকালের কাব্যরথে টিকে থাকেন। কবি আপনি কেমন আছেন? একটি চার শব্দের প্রশ্নবাক্যে দেখতে পাই কবির চোখের ঝিলিক, ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসি আর শতো শব্দের ঝুড়ি।এখানে আমি কি বুঝলাম? আর কতোটুকু বুঝতে পেরেছি জানিনা। আমার মতো বহুজনে এমন হাসি হাসি মুখখানা দেখতে পায়। তবে এই হাসির মানে কে কতোটা বুঝে জানিনা। মনে হচ্ছে এপর্যন্ত আমি কিছুটা বুঝেছি তাঁকে। তাই তাঁকে নিয়ে আপনাদের কাছে উপস্থিত হবার ইচ্ছা থেকেই আমার এই লেখাটুকু।

উপক্রমনিকা বা ভূমিকার রহস্য ভেদে কবি রোকেস লেইস নিয়ে আমি হাজির হয়েছি এখানে। কবির কবিতা আমাদের সাহিত্যের অংশ। কবিরা সাহিত্য নিয়ে সাহিত্যমাঠে খেলা করেন। সাহিত্যমাঠ ব্যাপারটাই এমন, এখানে সৃজনশীল কর্মের ব্যস্ততা চলে সারা জীবন। এখানে যুগে যুগে আর শতাব্দীকাল ধরে খেলে আসা সকল খেলোয়ার কবি সাহিত্যিকের সাথে কবি এই শতকের হলেও কবি রোকেস লেইস একই দলের সদস্য। কবি রোকেস লেইস নদী, পাখি, মেঘ, পাহাড়, ফুল, বন, গাছ, বর্ষন, মাটিতে কর্ষন, রোদ, চাঁদ আর জোনাকিদের ভিড়ে বেড়ে উঠে হয়েছেন প্রেমিক, হয়েছেন কবি। সর্বোপরি তিনি মানুষ ভালোবাসেন। তিনি যে ভালো বাসতে জানেন সেটি তাঁর সাথে যে কথা বলেছে, মিশেছে সে ই বুঝতে পেরেছে। বাংলাদেশের এক শহর নীলফামারি সদরে কবির মাতুলালয়ে ০৯ নভেম্বর ১৯৫৬ খ্রীষ্টিয় সালে তিনি জন্মেছেন। এপর্যন্ত কবির সাহিত্য সৃষ্টি যেখানেই প্রকাশিত বা উদ্ভাসিত হয়েছে সেখানেই মানুষ মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে।

তাঁর কবিতায় প্রেম শতো ধারায় বয়ে গেছে। কবিতা পাঠে সে উপলব্ধি আমার হয়েছে। এখানে ‘প্রেমিক কবি রোকেস লেইস’ নামক নিবন্ধটিতে তাঁর সৃজনশীল মেধা আমাকে যতোটা স্পর্শ করেছে তার খুব অল্পই প্রকাশ করতে পেরেছি। তাঁর লেখা কবিতায় অনেকেই মজেছেন অনেক বেশি। কবি বলেন, ” আমি বিশ্বাস করি কবিতা কখনো সখনো আসে, আর তক্ষণই ধরতে না পারলে হারিয়ে যায়।” উত্তম সাহিত্য চর্চা সৃজনশীল মানুষের মনোজগতের বিকাশ ঘটিয়ে মানুষকে আরো বেশি মানবিক করে। তাই কবি সাহিত্যক যারা তারা আমাদের সমাজ দেহের পরিচ্ছন্ন অংশ। আমাদের কবি রোকেস লেইস মনে করেন, ‘সাহিত্য চর্চায় ব্যক্তি, মন-মননে, চিন্তা – চেতনায়, জ্ঞানে – বুদ্ধিতে অবশ্যই সমৃদ্ধ হন।’ প্রেমিক কবি রোকেস লেইস যতো কবিতা লিখেছেন তা পাঠক পড়েই নিজে উপলব্ধি করতে পারবেন এবং আমি বিশ্বাস করি সুন্দর মনের খুঁজে আছেন যারা তারা ঠকবেননা বরং উপকৃত হবেন কবি রোকেস লেইসের কবিতা পাঠে। এই কবির কবিতার শব্দচয়ন অতুলনীয়। এখানে তাঁর লিখা কয়েক চরণ উপস্থাপন করছি, ” কোনো এক সু-নয়না / অবারিত বিস্ফারিত দৃষ্টি / অজান্তে অলক্ষ্যে ঘটায় অনাসৃষ্টি / অগোচরে পুড়ায় সহস্র অন্তর / আহা, সু-নয়না রাখেনা খবর।” কবি এভাবেই কবিতায় তাঁর যতো কথা তাঁর নিজের ও আমাদের জন্যে লিখেছেন। তাঁর সকল কবিতার খোঁজ পেতে হলে আমাদেরকে তাঁর কবিতার বই পড়তে হবে। এপর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ হলো, ১) অন্যমনে প্রতিবিম্ব, প্রকাশকাল ১৯৮৭ খ্রীষ্টাব্দ, ২) সূচারু শব্দের শিস, প্রকাশকাল ২০১০ খ্রীষ্টাব্দ, ৩) অনন্ত অন্তহীন রাত্রিদিন, প্রকাশকাল ২০১৪ খ্রীষ্টাব্দ। এছাড়াও তাঁর অজস্র কবিতা দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামীদিনে কবির আরও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হবে। আর তা পাঠে আমরা সমৃদ্ধ হবো। সুপ্রিয় পাঠক উক্ত কাব্যগ্রন্থ সমূহের নাম পড়েই অনুমান করা যায় কবি রোকেস লেইসের আছে সমৃদ্ধ জাদুকরী শব্দ ভাণ্ডার।

কবি তাঁর কবিতায় কী ধরণের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন তা খুঁজে পেতে পাঠককে তাঁর বই পড়তে হবে। কবির লেখায় সমাজের বাস্তবতা যেমন ফুটেছে তেমনি চিরকালীন প্রেম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এসেছেন পাঠক সম্মুখে। তাঁর ‘সুচারু শব্দের শিস’ গ্রন্থে ‘কোন দিকে যাই’ কবিতাটি পড়লে সহজেই সমাজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত মানুষের বাস্তব জীবন চিত্রই পাই _ ”কোন দিকে যাই। / ঘর আমাকে ডাকে ঘরের সুখ / পথ আমাকে ডাকে পথের শোভা/ ঘরের তৃপ্তিতে ঘরে ফেরা / পথের তৃষ্ণায় পথে ঘুরা।” আবার ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা এই কবির ‘শতাব্দী পর’ কবিতায় একজন বিজ্ঞান মনষ্ক কবির দেখা মিলে _ “শতাব্দী পর যখন সূর্যের স্ফুলিঙ্গ / আজকের মতো নয় এতোটা দূরের / দু’হাতে খুবলে উষ্ঞতা কেন্দ্রের নেড়েচেড়ে / চোখের সামনে কাটা মাংসের মতন। / তখন দেহের আচ্ছাদন অগ্নি প্রতিরোধী / তখন চোখের দৃষ্টি দিগন্ত-ভেদী আল্ট্রাসনিক / তখন পৃথিবীর কোমল মাটির জীবন; মঙ্গল/ বুধ; প্লুটোর ধূসর লাল পাথর কাঁকড়ে চাষবাস।” এভাবে কবি রোকেস লেইস তারঁ সাহিত্য পথে হেঁটেছেন এবং নতুন নতুন পথ তৈরী করছেন। আমাদের এই কবিকে পুরোপুরি জানতে হলে পড়তে হবে এবং মিশতে হবে তারঁ সৃষ্ট পথে।

সুনামগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া কবি রোকেস লেইস ব্যক্তিগত জীবনে একজন আইনজীবী। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ২০০২ সাল ও ২০১০ সাল এবং ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ জেলা বারের নির্বাচিত সভাপতি। আইন পেশার পাশাপাশি কাব্যচর্চা করেও খেলাধুলা ও ভ্রমণে তাঁর দারুন আগ্রহ রয়েছে। তিন সন্তানের জনক এই কবি দেশের সুন্দরের খোঁজার পাশাপাশি ছুটে গেছেন ভারত, ভূটান ও নেপাল। পিতা ডাঃ আবুল লেইস এবং মাতা বেগম রাবেয়া লেইসের পুত্র একজন খাঁটি বাঙালি কবি রোকেস লেইস স্ত্রী সেলিমা লেইস শেলী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পারিবারিক বলয়ে সুখী।

তারঁ পুরোনাম রবিউল লেইস রোকেস। তবে রোকেস লেইস নামেই তিনি সবখানে সমধিক পরিচিত। কবির পাঁচ ভাইবোনের বাকি চারবোন সকলেই কবি হয়ে উঠেছেন এবং কাব্যে ফুটেছেন। খুব কাছ থেকেই দেখেছি। কবি রোকেস লেইসের পরিবারটি যেন কবি ও কবিতার বাগান। সেখানে প্রকৃতির নানান ঋতুতে কবিমন প্রভাবিত হয় এবং সকাল-সন্ধ্যায় নানান শব্দের হরেক রকম কবিতা দোল খায়। কবিতা কি? এমন প্রশ্ন আমাদের মনে প্রায়শ জাগে। কবি রোকেস লেইস কবিতার মূল্যায়ন করেন এভাবে, ‘কবিতা হচ্ছে আবেগ, কল্পনা, অনুভূতি, উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা, দুঃখবোধ, ভালোলাগার শৈল্পিক প্রকাশ। কবিতায় গদ্যের আঙ্গিকে সবিস্তারে বর্ণনা থাকেনা বরং ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য বিন্যাসে উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষায় বিষয় উপস্থাপিত হয়। মনোযোগী পাঠক মাত্র, সহজেই কবিতার রস উপভোগ করেন। কবিতা সর্বাবস্থায় মনের খোরাক জোগায়।’ পরিশেষে কবির কবিতার প্রকাশ ও বিকাশ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করবে মনে করি।।
# লেখক _ মোহাম্মদ আব্দুল হক
কলামিস্ট, কবি ও প্রাবন্ধি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে সরস্বতী পূজা

         লিডিং ইউনিভার্সিটিতে সরস্বতী পূজা উদ্যাপন...

জনসচেতনতায় রোটারিয়ানদের ভূমিকা রাখতে হবে

         রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিসট্রিক্ট ৩২৮২ এর...

Just how to Report Great Marks in Economics

         Hearsay, Deception and Education Day...

নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের জনগন ঐক্যবদ্ধ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মহানগর আওয়ামীলীগের...