১০ দফা দাবিতে বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলার বরাবর স্মারকলিপি পেশ

প্রকাশিত : 28 November, 2019     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে  
  

পেঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল সবজীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, ন্যুনতম মজুরি ১৬০০০ টাকা ঘোষনা, ফসলের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করা, নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধ করা, অবৈধ সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখা আজ ২৮ নভেম্বর ’১৯ সোমবার দুপুর ১২টায় মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি পেশের পূর্বে জিন্দাবাজার থেকে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করেন সিটি পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়। বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য রেজাউর রহমান রানার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সদস্য মুখলেছুর রহমান, রুবাইয়াৎ আহমেদ, প্রসেনজিত রুদ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই চাল, ডাল, সবজীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠছে জনগণের। এখন পেঁয়াজের দাম ১২০, ১৫০ থেকে বাড়তে বাড়তে ২৫০ টাকায় গিয়ে পৌছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে হঠাৎ করে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেই প্রধাণমন্ত্রী ভারত সফর করে ফেনী নদীর পানিসহ অনেক কিছু দিয়ে আসলেন। এরা সময়মত পেঁয়াজ বাজারে না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। খাতুনগঞ্জের আড়তে টন টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে, এ খবর দেশবাসী জানেন। এই মজুতদার আড়তদারদের বিরুদ্ধে সরকারের কোন তৎপরতা নেই। অন্যদিকে দেশের যে কৃষকরা ফসল ফলায় তারা পাচ্ছেনা ফসলের ন্যায্যমূল্য। একইভাবে শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে ব্যবসায়ীরা হাজার কোট টাকা লাভ করলেও শ্রমিকদে ন্যুনতম মজুরি দেয়ার বেলার তাদের কাছে টাকা থাকে না। নারী-পুরুষ-শিশু কাউকেই আজ নিরাপত্তা দিতে পারছে না এই রাষ্ট্র। কাজেই জনগনের অধিকার আদায়ে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
আমাদের দাবি :
১. স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ও গণতান্ত্রিক অধিকার চাই। দমন-পীড়ন, গায়েবী মামলা, বিচারবহির্ভূত আটক-হত্যা, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে গুম-ক্রসফায়ার বন্ধ করতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।
২. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা ঞঈই-কে সক্রিয় করা, গরীব-মধ্যবিত্তের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ওএমএসে ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করতে হবে। রেল-বিআরটিসিসহ সরকারি গণপরিবহন বিস্তৃত করতে হবে। নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সরকারি উদ্যোগে অল্প ভাড়ায় বহুতলবিশিষ্ট কলোনী নির্মাণ কর। বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর কর।
৩. কৃষি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হাটে হাটে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চাই। ভর্তুকি দিয়ে স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ কর। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ ও রেশন চাই। ভূমিহীনদের খাস জমি বরাদ্দ দিতে হবে।
৪. শ্রমিকদের নি¤œতম জাতীয় মজুরী ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক-শ্রমিকবান্ধব শ্রম আইন প্রণয়ন ও সকলক্ষেত্রে বাস্তবায়ন চাই।
৫. ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মাদক, পর্ণোগ্রাফী ও জুয়া বন্ধ কর। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন চাই।
৬. চিকিৎসা ও শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা বন্ধ কর। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে প্রত্যেক নাগরিকের উপযুক্ত চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খরচ সরকারকে বহন করতে হবে।
৭. নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করে ড্রাইভারদের নিয়োগপত্র, মাসিক বেতন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সবেতন ছুটি ও প্রশিক্ষণ চাই। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
৮. সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ কর। ধর্র্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠন কর। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অঘোষিত সেনাশাসন প্রত্যাহার কর।
৯. ভারতের কাছ থেকে তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় কর। সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎপ্রকল্প চাই না। কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্যাতন, আসামে বিজেপি-র ‘বাংলাদেশী’ বিতাড়নের হুমকি এবং মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে সোচ্চার হও।
১০. জনগণের ম্যা-েটবিহীন আওয়ামী লীগ সরকার অবিলম্বে পদত্যাগ করে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ গঠন করে তার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাও। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুসহ নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার চাই।

আরও পড়ুন



স্বাধীনতা

মোঃআরিফুর রহমান আরিফ জন্ম মোদের...

উন্নয়ন মেলায় উপচেপড়া ভিড়

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: উন্নয়নের অভিযাত্রায়,...