হ্যালো শিকাগো

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

এমদাদ চৌধুরী দীপু(২৪ মে,২০২০ ইং) নিউইয়র্ক
শিকাগো শহরের ডাউন টাউনের একটি টাওয়ারের নাম উইলিস টাওয়ার। ১১০তলা টাওয়ারের নকসা এবং ডিজাইনার ছিলেন একজন বাংলাদেশী। নাম ফজলুর রহমান খান। উইকিপিডিয়ায় টাওয়ারের বিবরনে এই নাম আছে। তবে বেচে নেই জনাব খান। তার নামেএকটি রাস্তা রয়েছে শিকাগো শহরে। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব শিকাগো ল্যান্ড প্রতিষ্টা করেন ফজলুর রহমান খান। এই ফজলুর রহমান খান কী শিকাগোতে বাংলদেশীদের জন্য কলম্বাস?

নিউইয়র্ক নিউজার্সীর পর যুক্তরাস্ট্রে করোনায় বিপর্যস্ত অঙ্গরাজ্য ইলিনইস।একলাখ অতিক্রম করেছে শনাক্তের সংখ্যা। মারা গেছেন ৪ হাজার ৭৯০জন। এই তথ্য ওয়াল্ডোমেটারের সুবাদে সবাই জানেন। আমি জানতে চাই বাংলাদেশীরা কেমন আছেন।আমার এই সংবাদ সংযোগে সূত্র খুজতে শুরু করলাম। একটা সূত্র পেয়ে গেলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে। সংবাদ কর্মী এবং এক সময় আমার সহকর্মী সারিকা দেবের বসবাস এখন ইলিনইসে। সারিকার আরেকটি পরিচয় আমাদের গ্রামের মেয়ে। প্রতিবেদনের বিষয় বস্তু তুলে ধরলাম সারিকার কাছে। কিছু তথ্য ডেলাম,তবে সেটি যথেস্ট নয়। আরো সূত্র সংযোগের জন্য সাহায্য পেলাম সারিকা দেবের। সুন্দর বন ফিশবাজার শিকাগোর সন্ধান পেলাম। বাংলাদেশী ফারুক আহমদ এই প্রতিষ্টানের মালিক। হ্যালো শিকাগো। কেমন আছেন বাংলাদেশী শিকাগোবাসী সেটি জানার অবলম্বন হলো। অনেক কিছু জানা হলো ফারুক আহমদ এর সাথে আলাপ করে। বাংলাদেশী কমিউনিটির অবস্থা জানার জন্য আরো একটি লিংক পেলাম সারিকা দেবের কাছ থেকে। পৌছে গেলাম বাংলাদেশী এ্যাসোসিয়েশন অব শিকাগো ল্যান্ড এর সভাপতির কাছে।

ইলিনইসে বাংলাদেশী কেউ মারা যাননি,গুরুতর অসুস্থ কেউ নেই,বন্ধ রয়েছে মসজিদ,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশীরা ভালো আছেন। অঙ্গরাজ্যে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে কৃঞ্চাঙ্গ,মেক্সিকান বেশী,৪০ ভাগ মানুষ মারা গেছেন নার্সিংহোম এর বাসিন্দা,এ মাসের শেষে অঙ্গরাজ্য রিওপেন হওয়ার কথা। এসব তথ্য জানালেন এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মকবুল এম আলী ,তিনি জানান নিউইয়র্ক এর মত শিকাগোতে বাংলাশেী বহুল নেইভারহুড নেই। বাংলাদেশীরা ছড়িয়ে রয়েছেন অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন জনপদে। সবাই জানালেন রাজ্যের কোক কাউন্টিতে বেশী মানুষ মারা গেছেন। তারা আরো জানালেন রাজ্য গভর্নর ডেমক্রেট দলের হওয়ার কারনে অর্থনৈতিক সংকট চলছে ইলিনইসে।
ফারুক আহমদ বলেন শিকাগোতে কোন বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট নেই কারন এই সংখ্যক বাংলাদেশী নেই। শিকাগোর ডিবেন নামক যেই স্থানে তার সুন্দরবন নামের গ্রোসারী সেখানে বার্মিজরা বাংলাদেশীর চেয়ে বেশী,আছেন পাকিস্তানী,ইন্ডিয়ানরা। বাংলা কোন পত্রিকা নেই,একবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি পরে বন্ধ করে দিয়েছেন।
সারিকা দেব কাজ করেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিনে।তার স্বামী উজ্জল কুমার ভৌমিক শিক্ষকতা করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে।ইলেকট্রিক্যালে পিএইচডি ডিগ্রীধারী বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনইসে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষক। সারিকা জানান শতাধিক প্রকৌশলী রয়েছেন এ্যালিনইসে,আছেন অর্ধশতাধিক চিকিৎসক,মূলত পেশাজীবী বাংলাদেশীদেও বসবাস উল্লেক করার মত।
বাংলাদেশীরা শিকাগোতে সংখ্যায় কত হবেন জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মকবুল এম আহমদের কাছে। সুনির্দিস্ট কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও তার ধারনা অন্তত সাত হাজার বাংলাদেশী বসবাস করেন ,ছড়িয়ে থাকার কারনে কোন অনুষ্টানে ৫শ এর বেশী লোকের সমাগম হয়না বলে তিনি জানান। মৌলবীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা মকবুল এম আলীর বাবা ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম ইয়াকুব আলী। ৪০ বছর যাবত তিনি বাস করছেন শিকাগোতে। তিনি বলেন তাদের এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্টাতা সভাপতি ছিলেন স্থপতি ফজলুর রহমান। শিকাগোত ফজলুর রহমানের কবর রয়েছে। ফজলুর রহমান বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তার পেশাদারিত্ব দিয়ে এবং তিনি শুধু শিকাগোবাসী নয় যুক্তরাস্টে বসবাসরত সব বাংলাদেশীর গর্ব এবং অহংকারের প্রতীক হয়ে থাকবেন। ফজলুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এসব কথা বলেন মকবুল আহমদ,তিনি বলেন কাজের জন্য বাংলাদেশীদের একটি প্লাটফরম তৈরীর জন্য ফজলুর রহমান এবং সেই সময়ের সাধারন সম্পাদক ডাঃ সিরাজুল্লাহ অমরত্ব লাভ করবেন,প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলাদেশীরা তাদের স্মরন করবে।তাদেও সংগঠন বাংলাদেশের ইতিহাস,ঐতিহ্য,ভাষা সংস্কৃতি তুলে প্রচেস্টায় নিবেদিত রয়েছে বলে জানান।
শিকাগোতে বাংলাদেশীদের আবিস্কার করা।সংগঠিত করা। এবং উজ্জল প্রতিনিধিত্ব করা। এসব বিবেচনায় মরহুম ফজলুর রহমানই বাংলাদেশীদের কাছে শিকাগোর কলম্বাস খ্যাতি পেতে পারেন।
অঙ্গরাজ্য এ্যালিনইসে রয়েছে পৃথিবীর শীর্ষ কিছু শিল্প প্রতিষ্টান,জিডিপিতে আছে উল্লেখ করার অবদান। শিক্ষা প্রষ্টিান রয়েছে প্রচুর। মহান মে দিসের স্মৃতি বিজড়িত এই অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহর এর পরিচিতি বিশ্বময়। অপার সম্ভাবনার রাজ্য ইলিনইসে বৈশ্বিক করোনায় বাংলাদেশীরা ভালো আছেন এটাই সবার জন্য স্বস্থির,এবং আনন্দের খবর।গড ব্লেস আমেরিকা,গড ব্লেস শিকাগো,গড ব্লেস বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন