হোম কোয়ারান্টাইন থেকে লিখছি

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জুবেদ আহমদ চৌধুরী
জন্ম মোদের একই মায়ের গর্ভে বছর দেড়েক আগে পিছে, ও আমার বড়। আমার ভাই উবেদ আহমদ চৌধুরী। যখন আমি অবুজ শিশু মা বলেছেন কোন খাবার দিলে সে না খেয়ে বলতো আমার ভাইকে দাও। যখন একটু বুঝ হলো তখন ভালো খাবার হলে আমারটা খেতাম তারটাও খেতাম ,সে কিন্তু রাগ হতো না। এক সাথে বেড়ে ওঠা, পাঠশালাতে এক বছর আগে পিছে। হাই স্কুলে (মাদ্রাশাতে) গিয়ে দুই বছর আগে পিছে, কিন্তু স্কুলে যাওয়া আসা, খেলাধুলা, চলাফেরা উঠাবসা, মাছ শিকারে, ক্ষেত খামারে, সব পদচারণে যুগল বন্ধুর মতো। তবে সে ছিল অলস প্রকৃতির, সব সময় ধাক্কায় পরিচালিত হতো, বিশেষ করে কাজে।ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় দুই ভাইয়ে টিম দিতাম-ভাই ভাই অথবা টু ব্রাদার্স নামে। খেলায় পরাজয়ের চেয়ে জয়ের পাল্লা ছিল ভারী।ছাত্র জীবন পার করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করি, কিন্তু সে যে ছিল অলস, চাকুরী নিজে থেকে খুজেনি। দু একটা যা চেষ্টা করেছেন মেজো ভাই। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরী হয়েই গিয়েছিল টাইপিস্ট পদে, কিন্তু মরহুম এম সাইফুর রহমান সাহেব অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন।সে ও নিজ উদ্যোগে কোন দিকে চেষ্টা করে চাকুরীর ব্যাবস্থা করেনি, ফলে আমরা তিন ভাই চাকুরী করলেও সে ছিল বেকার।তবে এই বেকারত্বের অবসান ঘটান মেজো ভাই (জাবেদ আহমদ, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক)। তিনি প্রথমে ফার্মেসী দিয়ে, পরে জম জম মিট এন্ড পোল্ট্রি হাউস প্রতিষ্টানের দায়িত্ব তার হাতে দিয়ে। প্রায় দুই যুগ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন ভাইয়ের এই প্রতিষ্টানে একত্র থেকে।২০১০-১১ সালে ফ্যামলী পৃথক হলেও ব্যাবসা প্রতিষ্টান তার অধিনেই ছিল।২০১৮ সালের শেষ কিংবা ১৯ সালের প্রথম দিকে স্বেচ্ছায় প্রতিষ্টান বুঝিয়ে দিয়ে সড়ে পড়েন। কারন এই দোকানে বসলে তার শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়।যদিও তাহার ফ্যামেলী চালানোর খরচ বহনের পুরোপুরি সক্ষমতা ছিলনা। মেজো ভাই ও তার প্রতিষ্টানের ভাড়ার একটা অংশ দেওয়া অব্যাহত রাখেন।মাস চারেক অবসরে থেকে পূনরায় কাজলশাহে ভাতিজাকে নিয়ে যৌথভাবে আল আজিজ মেডিকো নামে ফার্মেসীতে ব্যবসা শুরু করেন এবং শেষ অবধি এখানে থেকে অসুস্ত হয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দুই দিন হাসপাতালে থেকে ০৭/০৬/২০২০ ইংরেজি সকাল ০৭.৩০ ঘটিকায় মাবুদের ডাকে সাড়া দিয়ে পরলোকগমন করেন। (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।
যদিও আমি বয়সে ছোট ছিলাম কিন্তু প্রায় লোক বলতো আমি ওর চেয়ে বড়।আমিও প্রায় সময় ছোট হয়ে তার উপর বড়ত্ব খাটাতাম, রাগ করতাম, ধমক দিতাম। লেখাটাও লিখছি ছোট হয়ে বড়র ভাষায়।কিন্তু সে কখনও আমার উপর রাগ হয়ে ধমক দিয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না। আমরা এক সাথে কোন অনুষ্ঠানে, কারো বাসায় বেড়াতে যেতাম বিশেষ করে ঈদে। এবারই প্রথম হলো না যাওয়া মহামারীর প্রাদুর্ভাবে, যদিও তার যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু আমি বুঝালাম যে, এই অবস্থায় যাওয়া ঠিক নয় একে অন্যে সন্দেহ করে।
আর কখনো এভাবে আমাদের দুজনের ঈদের বেড়ানো হবে না, কারন সে চলে গেছে দুরে বহু দুরে।যেখান থেকে আর আসবে না ফিরে। আজ নিজ থেকে অপরাধী মনে হয়, তার জীবনের শেষ বেলায় বলতে পারিনি-ভাই আমাকে ক্ষমা করো।যদিও আমার সামনে সে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে তাহার বড় থেকে, যার কাছে ছিল সে দায়বদ্ধ। আমি বুঝিনি সে চলে যাচ্ছে আমাকে ছেড়ে একাকিত্ব করে।আজ বড় একা একা লাগে।আর কোথায় গিয়ে খাটাবো ছোট হয়ে বড়ত্ব। আল্লাহ আমার ভাইকে পরকালে দিও বড় রাজত্ব।আমিন।
লেখক:বাংলাদেশ পুলিশের সুবেদার এস,আই


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন