হারান কান্তি সেন’র যুগল গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

মো. আব্দুল বাছিত: জাতীয় ক্রীড়া পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব রণজিৎ দাস বলেছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে একটি সুন্দর আলোকিত পরিবেশ তৈরী করা সম্ভব। এক্ষেত্রে হারান কান্তি সেন সমাজসেবায় একজন প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ। প্রত্যেকের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর রচিত গ্রন্থদ্বয় দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার বন্ধন তৈরীতে ভূমিকা রাখবে।
কৈতর এবং সাইক্লোন কেন্দ্রীয় সংসদ, সিলেট-এর উদ্যোগে রম্যলেখক-সংগঠক এডভোকেট হারান কান্তি সেন’র যুগল গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব এবং যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সতীর্থ সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৈতর সিলেট-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক-সংগঠক সেলিম আউয়ালের সভাপতিত্বে গত রোববার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট মহানগর ইউনিট-এর ইউনিট কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ রানা, দৈনিক উত্তর পূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম এবং অনুভূতি প্রকাশ করেন গ্রন্থের লেখক এডভোকেট হারান কান্তি সেন।
সিলেট এক্সপ্রেসের স্টাফ রিপোর্টার গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কবি-গবেষক তাবেদার রসুল বকুল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ইকবাল বাহার সোহেল, অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বশির উদ্দিন আহমদ এবং গ্রন্থদ্বয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি নাঈমা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাইক্লোন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি মো. জাবেদ আহমদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. শেখ মোহাম্মদ সাদী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন, ভারতের গোহাটি বিশ^বিদ্যালয়ের পিএইচডি ফেলো আবদুল মজিদ শেখ, সাইক্লোন কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি সায়ফুল আলম রুহেল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন, এডভোকেট মো. বেলাল উদ্দিন, লতিফা-শফি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আমিরুল আলম খান, মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের সহাকারী অধ্যাপক মো. বদরুল আলম খান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আজির হাসিব, এপেক্স বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল অফিসিয়াল ইফতেখার রনি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বাগবাড়ী-জিন্দাবাজার শাখা প্রধান মনসুর আলম, তাজপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সুমিত সেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রাবন্ধিক মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ এবং গীতা পাঠ করেন সুমিত সেন। অনুষ্ঠানের শেষে সাইক্লোন কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে লেখক-সংগঠক হারান কান্তি সেন’র যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা উপলক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট মহানগর ইউনিট-এর ইউনিট কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ রানা বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মননশীলতার বিকাশ ঘটে। হারান কান্তি সেন গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে কলোনির বিশাল স্মৃতিময় সময়কে মলাটবদ্ধ করেছেন, যেগুলো আমাদের পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। অন্যদিকে, সভ্যতার-সংস্কৃতির ধারণ-বাহনে ভ্রমণকাহিনি বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করে কল্যাণ সাধন করেছেন যা আমাদের জন্য আনন্দের।
দৈনিক উত্তর পূর্ব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম বলেন, আম্বরখানা কলোনির জীবনটা সকলের জন্য বৈচিত্র্যময় ছিল। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার বন্ধনে এক আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কলোনির জীবনের এক সোনালী আখ্যান হারান কান্তি সেন বইয়ের পাতায় আবদ্ধ করেছেন। দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এরূপ কাজ করা সম্ভবপর হয়েছে।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এডভোকেট হারান কান্তি সেন বলেন, আমার দুটি বই আলোর মুখ দেখেছে এটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। অন্যদিকে, দেশ ছেড়ে যেতে হবে, এটা আমার জন্য বেদনার জন্য। সুদূর বিদেশে থাকলেও আমি যেন দেশ ও সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি সেজন্য সকলের আশীর্বাদ চাই।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম আউয়াল বলেন, শুধু কলোনিবাসী নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের সুখ-দু:খের সাথী ছিলেন রম্যলেখক হারান। সমস্যা সমাধানের মূল হোতা ছিলেন তিনি। তাঁর চলে যাওয়ার মাধ্যমেই সবাই তাঁর অভাব বুঝতে পারবে। আশা করি সে সারাজীবন মানুষ ও সাহিত্য চর্চায় কাজ করে যাবে।

আরও পড়ুন