হামলাকারী ফয়জুলের অজানা তথ্য

প্রকাশিত : ০৪ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

কাউসার চৌধুরী  অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ফয়জুল ইসলাম ছিল মাদ্রাসার ছাত্র পড়ালেখা বাদ দিয়ে সে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতো । তার গ্রামের বাড়ীর একাধিক সূত্র  এই তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময়ের মাদ্রাসা পড়–য়া ফয়জুল ইসলাম গত প্রায় ৪ বছর আগে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। তার গ্রাম দিরাইয়ের কালিয়ারকাপন বাজারে প্রায় ২ বছর আগে কাপড় বিক্রি করতো সে। ঐ সময় গ্রামের মসজিদে গিয়ে সে একা একা নামাজ আদায় করতো এ কারণে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেন সেখানকার মুসল্লীরা। এর পর আর সে গ্রামের বাড়ীতে যায়নি। এলাকার এক বিশিষ্ট ব্যক্তি গতরাত ১টায়  এই তথ্য জানালেও তার পরিচয় প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেন।
বাড়ীতে যাতায়াত ছিল কম ॥
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী ফয়জুলের পিতার নাম হাফিজ আতিকুর রহমান। তার বাড়ী দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন গ্রামে। এলাকায় যিনি হাফিজ কুরেশ আলী নামেই বেশি পরিচিত। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ফয়জুল ৩য়। তার প্রথম ভাই এনামুল বর্তমানে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। মেঝো ভাই আব্দুল বিদেশে। প্রায় ১৫ বছর ধরে সে তার পিতার সাথে পরিবারসহ বসবাস করছিল। বছর খানেক আগে সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওস্থ শেখপাড়ায় নিজস্ব বাসা তৈরি করে তার পরিবার। এর পর থেকে এখানেই বসবাস করছিল সে। সে নগরীতে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করত। সিলেটে পরিবারসহ বসবাসের ফলে গ্রামের বাড়ী কলিয়ারকাপনে তার যাতায়াত কম ছিল। সর্বশেষ মুসল্লীদের বাধায় মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার পর আর সে বাড়ীতে যায়নি।
চাচার পথেই ভাতিজা ফয়জুল ॥
ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে মত ভিন্নতার কারণে ফয়জুল ইসলামের আপন চাচা জাহার মিয়াকে ভাতিজার মতো গ্রামের মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। বর্তমানে জাহার কুয়েত প্রবাসী। জাহারের পথ ধরেই ভাতিজা ফয়জুল তার মতাদর্শ গ্রামের মসজিদে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। কিন্তু গ্রামের মুসল্লীদের প্রবল বাধায় চাচা-ভাতিজা দুজনকেই মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
এলাকাজুড়ে নিন্দা-ধিক্কার ॥
অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের হামলার ওপর ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলাকারীর ছবি ভাইরাল হলে প্রত্যন্ত হাওর এলাকা কলিয়ারকাপনে তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীকে ফয়জুল বলে শনাক্ত করেন। এলাকার একটি ছেলে একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদের উপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী ধিক্কার জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি সিলেটের ডাককে বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় ফয়জুলের সাথে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে এই হামলার মদদ পেয়েছে তা উদঘাটন করে নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, ফয়জুল হলো কলিয়ারকাপন তথা দিরাইয়ের জন্য কলঙ্ক।

আরও পড়ুন