হবিগঞ্জের পুলিশ এখন চিকিৎসক

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : যতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পেশা রয়েছে এর মধ্যে একটি পুলিশ। দিন কিংবা রাত, যেকোন মূহুর্তে তাদেরকে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মুখোমুখি হতে হয়। আর এ সকল ঝুঁকিপুর্ণ কাজের মুখোমুখি হতে গিয়ে আহত হতে হয় পুলিশ সদস্যদের।

সেইসাথে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে পৌঁছার আগেই রোগির অবস্থা সঙ্কটাপণ্য হয়ে পড়ে। সেই কথা বিবেচনা করে নিজেদের ও দূর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ।

ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির ৬০ জন পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী এই কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন ডাক্তার মিঠুন রায়, ডা. গৌতম বরন মিস্ত্রি, ডা. আহমেদ রিয়াজ চৌধুরী, ডা. মো. রিফায়েত হোসাইন, ডা. মৌসুমী ভদ্র।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ একটি হাওর অঞ্চলিয় জেলা। এখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। সেইসব পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সময়ে অসময়ে অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে পারেন না। আবার ছোটখাটো অসুস্থ্যতার কারণে মাসে দুই তিনদিন শহরে এসে চিকিৎসা নিতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে গিয়ে মাস শেষে আর্থিক টানাপোড়ানে পড়তে হয় তাদের।

এছাড়া পানি ডুবে যাওয়া, অগ্নিকা-ের ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দূর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত হতে হয়। আবার দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে অনেক রোগির অবস্থা গুরুত্বর হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত রক্ষকরণের কারণে অনেক রোগি মারাও যায়।

সেই ক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় উদ্ধারকারি পুলিশ সদস্যরাই যেন আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে প্রেরণ করতে পারে তার জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ শহরের ধুলিয়াখাল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্স-এর হলরুমে দুইদিন ব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার আয়োজিত এই কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ৬০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ সদস্য ও ৩০ জন নারী সদস্য ছিলো।

পরে গত বুধবার বিকেলে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারি পুলিশ সদস্যদের হাতে সনদপত্র এবং ফাস্ট এইট বক্স তুলে দেন প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শেখ সেলিম।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন বলে দাবি করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

এ ব্যপারে অনুভূতি জানতে চাইলে কয়েকজন প্রশিক্ষনার্থী বলেন- ‘এটা এক অন্যরকম অনুভূতি। কারণ পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগিদের প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে অতিরিক্ত সেবা করতে পারব। এই সাথে নিজেদের বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের প্রাথমিক চিকিৎসাও করতে পারব।’

তাঁরা বলেন- ‘পুলিশ সদস্য হিসেবে আমরা সামান্য বেতন পাই। যা দিয়ে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। আমরা যারা দূর-দুরান্তের ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করি তাদের ছোটখাটো অসুখের জন্য শহরে আসতে হয়। ফলে ভাড়াবাবদই প্রতিমাসে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এতে করে মাস শেষে আর্থিক টানাপোড়ানে পড়তে হয়। কিন্তু এই প্রশিক্ষণ ও ফাস্ট এইট বক্স পাওয়ার কারণে এখন ছোটখাটো অসুখের চিকিৎসা নিজেরাই করতে পারব।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম বলেন- ‘পুলিশকে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। এতে করে নিজেরা অনেক সময় দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেই অবস্থায় যেন তারা নিজেদের চিকিৎসা অথবা সহকর্মীর চিকিৎসা করতে পারে তাই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মহোদয় এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা আশা করি এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা নিজেরে পাশাপাশি প্রতিবেশি ও আহত রোগিদের চিকিৎসা করতে পারবে।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা পিপিএম বলেন- দুইদিন ব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে ৬০ জন পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে ফাস্ট এইট বক্সের ভিতরে প্রেসার মাপার যন্ত্র, ডায়বেটিস মেশিন, সেভলন ক্রীম, ওজন মাপার যন্ত্রসহ চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে প্রতি মাসে কিছু ঔষধ দেয়া হবে।’

তিনি বলেন- ‘বাংলাদেশে এই প্রথম এ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামিতেও এ প্রশিক্ষণের ধারা অব্যহত রাখা হবে।’

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাবের টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাব, সিলেট আয়োজিত...

হবিগঞ্জের দুই রাজাকারের রায় সোমবার

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের...

ভোট চেয়ে এবার মাঠে সেলিম পত্নী হেনা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আসন্ন সিলেট...