স্মরণঃ এ,কে,এম,শামসুদ্দিন চৌধুরী: আমাদের প্রাণপ্রিয় ছোট চাচা

প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

* জাবেদ আহমদ *

আমাদের ছোট চাচা জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত সেরেস্তাদার এ,কে,এম, শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এ দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার রাণাপিং শেরপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল খালিক চৌধুরী ও মরহুমা মমজিদা খানম চৌধুরীর ৮ ছেলে মেয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। তাঁর ডাক নাম ছিল মলাই মিয়া। তাঁর অন্য ভাই বোনেরা হলেন গৌছ উদ্দিন চৌধুরী মুশি মিয়া, করফুন্নেছা চৌধুরী করফুল, বদরুজ্জামান চৌধুরী বদই মিয়া, ফৈয়াজ উদ্দিন চৌধুরী ফজই মিয়া, জহীর উদ্দিন চৌধুরী জরা মিয়া, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী লেচু মিয়া ও বেগম সামসুন্নাহার নেওয়া। ৬ ভাইয়ের ৪ জনই ছিলেন সরকারি চাকুরে। সবাই এখন পরপারের স্থায়ী বাসিন্দা।
শামসুদ্দিন চৌধুরী কুচাই এলাকায় জায়গীর থেকে ইছরাব আলী হাই স্কুল হতে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা দিয়ে জেলা জজ আদালতে করণিক হিসেবে যোগদান করেন এবং অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে কাজ করে সেরেস্তাদার পদ হতে ১১ মে ২০০৭ সালে অবসরে যান।
স্ত্রী সুলতানা চৌধুরী রাণী, বড় ছেলে কাওসার আহমদ চৌধুরী শাহীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট এ কর্মরত, পুত্রবধু লবিবা বেগম চৌধুরী, নাতনি সাদিয়া সারা চৌধুরী তাসনীম। ছোট ছেলে সারওয়ার আহমদ চৌধুরী তুহিন সিলেট সিটি কর্পোরেশনে কাজ করে এখন স্থায়ীভাবে যুক্তরাস্ট্রে বসবাস করছে। কনিষ্ঠ পুত্রবধু জেসমীন চৌধুরী। তিনি জীবিত থাকতে কনিষ্ঠ পুত্রের বিবাহ দিয়েছিলেন। কনিষ্ঠ কন্যা শাহিদা বেগম চৌধুরী। ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করছে। তার স্বামী আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী শাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। বাসা আবহাওয়া অফিসের বিপরীতে শাহমীর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শাহী ঈদগাহে।
জেলা শহরে সরকারি চাকুরীর সুবাদে সিলেট নগরীতেই থেকেছেন সারাটি জীবন। নগরের চাষনীপীর রোডে ৮ বছর থেকে ১৯৮৪ সালে আসেন আম্বরখানা সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে। অবসর অবধি থাকেন এখানে। অবসরের পরে হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন উত্তর পীরমহল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় যান এবং ২০০৯ সালের ২১ জুন সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। দাফন করা হয়েছে শাহজালাল (র.) এর মাজার সংলগ্ন গোরস্তানে।
তখনকার সময়ে সরকারী চাকুরির সীমিত বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। আমাদের ছোট চাচা অসম্ভব একজন ভাল মানুষ ছিলেন। সীমিত বেতনের টাকা হতে বাড়িতে থাকা দু ভাইয়ের পরিবার ও গরীব আত্মীয়স্বজনদের নিয়মিত সাহায্য করতেন। পত্রের ভিতর টাকা পাঠাতেন আত্মীয়দের বাড়িতে। সহজ সরল ইসলামী জীবন ছিল তাঁর। আমার সিলেট নগরীতে প্রথম ঠিকানা ছিল আমার ছোট চাচার বাসা। ১৯৭৬- ১৯৭৮ ও ১৯৮৪- ১৯৯০ সময়ে থেকেছি আমরা একই ছাদের নিচে। পারিবারিক কত কথা, কত ঘটনার দর্শক স্বাক্ষী আমি। তাঁর বাসায় থাকতেই পেশাজীবনের শুরুতে (১৯৮৮ সালে) চাচার উপদেশে মাসিক ২০০/- করে ডিপিএস করি। আজও আমার কমহলে একটাও ডিপিএস চলে আর ছোট চাচার কথা মনে পড়ে। ডিপিএসের টাকা বিয়েতে কাজে লেগেছে, জমি কিনতে সহায়তা করেছে। শেষ অবধি আমাদের শুধু ভালবাসা সহায়তা দিয়েই গেছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় ছোট চাচা। তিনি আমাদের পরিবারের ইতিহাসের আদ্যপান্ত রচনা করে গেছেন যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমার মায়ের মৃত্যুর (৯ মে ২০০৯) পর তিনি নিজে ৪০ দিনের মধ্যে পবিত্র কোরআন খতম করেন। এর দিনকয়েক যেতেই আমার শ্রদ্ধেয় চাচা একই বছরের ২১জুন মাসে চলে যান না ফেরার দেশে। ভাল থাকুন সিলেট শহরে আমাকে প্রথম আগলে রাখা প্রিয় অভিভাবক। কিছুই তো করতে পারলাম না আপনার জন্য। দোয়া করি মাবুদের কাছে যার কাছে আমাদের সবাইকে আসতে হবে (প্রিয় ছোট ভাই উবেদ চলে গেছে) আমার চাচাকে যেন জান্নাতের মেহমান করেন। আত্মীয়দের ভালবাসার প্রতিদান দেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

চীনের ‘জৈব অস্ত্র’ খেয়ে ফেলবে করোনাভাইরাস!

         করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ ন্যানোম্যাটেরিয়াল বানিয়েছে...

ছাত্র সমাজের শেষ আশ্রয়স্থল ছাত্র মজলিস

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ ইসলামী...

ব্যক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট...