স্নেহভাজনের অনুভূতিতে প্রতিবেশী মহৎপ্রাণ জেনারেল

প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১২ মাস আগে  
  

সালেহ আহমদ খসরু: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী,এন.ডি.ইউ./ পি.এস.সি./এম.ডি.এস. (অবঃ) ১৯৪৯ সালে সিলেট জেলার ওসমানী নগরের পাঁচ পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম শাহ তজম্মুল আলি সিদ্দিকী ও মাতা মরহুমা মরিয়মুন্নেছা চৌধুরী।
ওসমানী নগরের আলো বায়ু’র ধারাবাহিকতায় কিনা জানিনে তিনিও যুক্ত হলেন সামরিক বাহিনীর গৌরবময় অধ্যায়ে। ১৯৬৭ সালে নিয়মিত কমিশন্ড অফিসার পদে সামরিক জীবন শুরু করে নানান প্রতিকূল মুহূর্তেও তৎকালীন পাকিস্তান আর্মি হতে আজকের গৌরবান্বিত বাংলাদেশ আর্মির একজন সফল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে চাকুরী জীবন শেষ করে অবসরের দিন কাটাচ্ছেন এবং তার দিনপুঞ্জ কাটে স্কুল, লেখালেখি, সেমিনার ও সাহিত্যের আসরে।
তাঁর সামরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় ডেসার্ট স্টর্ম (Operation Desert Storm) মুসলিম শক্তির উত্থান ঠেকানো কলঙ্কিত যুদ্ধে আমেরিকান এলাইড ফোর্সে বাংলাদেশ আর্মির কন্টিনজেন্টে ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে সৌদি আরবে মিত্র বাহিনীর সাথে তাঁর অংশ নেয়া একটি আলোচিত অধ্যায়। যুদ্ধের মানদন্ডে এটি কোন ন্যায়ের পক্ষের যুদ্ধে অংশগ্রহণ বলে আমার মন সায় দেয়না! কিন্তু চাকুরির নীতিমালা ও বিধান অনুযায়ী তিনি নির্দেশ মেনেছেন ও দিয়েছেন।সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার সফল এই যুদ্ধে তিনিও গর্বিত সৈনিক হিসেবে স্মৃতিচিহ্ন রোমন্থন করা জেনারেল হিসেবে বলে যেতে পারেন বহু না বলা সত্য কথা! যা হতে আগামী প্রজন্ম জানবে অন্তত তার চোখে দেখা কিছু অপ্রকাশিত ইতিহাস, যেটি হতে পারে ইসলামি বিশ্বে ভাবনার নতুন সূত্র এই আশাবাদ আমি করছি। ওই সময়ে আমি সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার একটি শহরে বাস করতাম, পড়েছি তাদের মিডিয়া থেকে কতো রঙিন ফানুস ছড়িয়ে দিয়ে ওই যুদ্ধের যৌক্তিকতা জাহির করা হতো! এ-ও দেখেছি সেখানকার সাধারণ মানুষ কেমন করে এই অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছে! অথচ শুধু গণমাধ্যমের ঢেউয়ের তোড়ে সব উড়ে গিয়েছিল! ব্যাতিক্রম ছিল কিছু শক্তিশালী মিডিয়া কিন্তু অধিকাংশেরই বিজয় সর্বত্র, শুধু আমার আজকের বাংলাদেশে অধিকাংশ পরাজিত এবং যাদের অবস্থান অকল্পনীয় অসহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে!
তাই এই ডেসার্ট স্টর্ম কতো ভয়ংকর স্টর্ম হয়ে মুসলিম বিশ্বে তোলপাড় আজও করে যাচ্ছে। তার ঐতিহাসিক অংশীদার হিসাবে তাঁর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবেনা বলেই আমি বিশ্বাস রাখতে চাই। অচিরেই জানা-অজানা বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বই লিখে তিনি আমাদের চিন্তক শক্তি আরও শাণিত করে ইতিহাসের পাতায় অন্যমাত্রার আসন তিনি করে নেবেন এটি আমার আহ্বান। এই যুদ্ধে ন্যায়নিষ্ঠতা যে ছিলনা তা যদি প্রকাশিত হয় জেনারেল সিদ্দিকী’র কলমে তবে সিলেটি জনগোষ্ঠীর গর্বের স্থানে আরও একটি পালক সংযুক্ত হবে এ আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। একটি কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক নয় যে, ওই যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেন পরাজিত হয়েছিলেন এবং ইউরোপ আমেরিকা উল্লাসের সাথে বলেছে একনায়কের পতন হয়েছে! সাদ্দাম হোসেন একনায়ক ছিলেন বটে কিন্তু ত্যাজি এক মুসলিম শাসকও ছিলেন, যার ক্ষমতাবান হওয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চায়নি বা আজও তারা এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দিনরাত আমাদের মধ্যে হানাহানি ছড়িয়ে দিচ্ছে। একসময় কিউবার অবিসংবাদিত নেতা বিশ্বময় তুমুল জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছিলেন বিশ্ব আজ দু-ভাগে বিভক্ত, এক শোষক আর শোষিত। আর আজ আমার বিনীত হৃদয় বলে-বিশ্ব আজ দু-ভাগে বিভক্ত, একদিকে মুসলমান আর অন্যদিকে সারা দুনিয়া। এখন কেউ আবার আমাকে দয়া করে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেবেন না, ভেবে দেখুন এই পৃথিবীর সকল গোত্র ও জনগোষ্ঠী সবাই নিজের সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরক্ত থাকে! কোনটা প্রকাশিত আবার কোনোটি চুপিসারে! এ ক্ষেত্রে আমি এর বাইরে যাবো এমন ভাবা আমার প্রতি অনুচিত হবে, তবে প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ আবদুল হক’র ভাষায় আমি ‘সু-সাম্প্রদায়িক’ বটে।এই ‘সু-সাম্প্রদায়িক’ বিষয়টি বেশ সাবলীল কলমশৈলীতে প্রাবন্ধিক উপস্থাপন করেছেন। কেউ পড়লে আমাকে আর অপবাদ দেবেন বলে মনে হয়না।
যতোদূর জেনেছি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দুর্গাকুমার পাঠশালার ছাত্র হতে শিক্ষাজীবন শুরু করে দি এইডেড হাই স্কুল ও পরবর্তীতে গৌরবময় ও ঐতিহ্যের স্মারক এম.সি. কলেজে ছাত্র জীবনের সোনালী রূপালী দিন কাটিয়ে তবেই পৌঁছেছেন গর্বিত কর্মময় জীবনের সোনালী অধ্যায়ে।
সিলেট শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচিত বিদ্যাপীঠ স্কলার্স হোম স্কুল এন্ড কলেজ’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। তিলে তিলে আজ এই বিদ্যাপীঠ যে বড় হয়ে উঠেছে তার কৃতিত্ব বহুলাংশে এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী নিতেই পারেন বললেও অত্যুক্তি হবে বরং এটি জনাব সিদ্দিকী’র প্রাপ্য। এখানে অপ্রাসঙ্গিক হলেও ব্লু-বার্ড স্কুলের কথা চলে আসে, সেই স্কুলটি যেমন বেগম রাবেয়া খানমের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষতায় একটি মাইল ফলক স্থাপন করেছে তেমনি সিলেট স্কলার্স হোম’র গৌরবগাঁথা আগামীতে জনাব সিদ্দিকীকে বাদ দিয়ে লেখা যাবেনা।
খোঁজ নিয়ে জেনেছি জিন্দাবাজারের সহির প্লাজার সামনে একটি বাসায় এই জেনারেলের কৈশোর কেটেছে তারপর এসেছেন হযরত চাষনী পীর (রঃ) মাজার সংলগ্ন হোসনাবাদের পাহাড় টিলার সবুজ পরিবেশে নিজেদের আপন করে নেওয়া আবাসস্থলে। এই জেনারেলের নিবিড় ঠিকানা এখন হযরত শাহজালাল (রঃ)’র গুরুত্বপূর্ণ সহচর যার কথা একটু আগেই উল্লেখ করেছি। এই আউলিয়া ছিলেন শাহজালাল সাহেবের সাথে করে আনা মাটির পরীক্ষক, অর্থাৎ তিনি ভু-তত্ববিদ। এমন এক মনোরম সবুজ বনায়ন ছিল এই স্থানে যা কেবল পঞ্চাশোর্ধ্ব লোকেরা বলতে পারবে। এর নানারকম মজাদার বা গা ছমছমে গল্প অথবা নিজের দেখা সব শিহরিত সুন্দর ঘটনার কথা। আমার বেশ মনে পড়ে ৭৫’র পর একটি ঘটনা! বলে রাখা ভাল আমি এই মহৎপ্রাণ জেনারেলের প্রতিবেশী ও স্নেহভাজন। আমি বরাবর দুরন্তপনায় সিদ্ধহস্ত ছিলাম বলে রাতবিরোতে ঘুরাঘুরি করতে ভয় পেতাম এমন অপবাদ কেউ দিতে পারবেন বলে মন সায় দেয় না! হোসনাবাদের পাশের গলিতেই আমাদের বাসস্থান। একরাতে গলিতে ঢুকছি এমন সময় স্থানীয় বন্ধুতুল্য আতিক ভাই পাড়ার গলি পথে পেয়ে বলে উঠলেনÑএতো রাতে যাবেন না, সামনে গেলেই আকাশ-অবধি লম্বা এক সাদা কিছু আপনার পথ রোধ করবে, ক্ষতি করে ফেলতে পারে, যাবেন না। কে শোনে কার কথা, আমি ঠিকই গিয়েছি! পাইনি কিছু। তবে সরীসৃপ অতিক্রম করে যেত রাস্তার এপার ওপার বহুবার, সেটি বলার আর অপেক্ষা রাখেনা। আর জেনারেলের বাসায় যাবার পথ আরও সরু গলি এবং গাছগাছালি ঘেরা ছিল! ওদিকে গিয়ে কালাপাথর মাঠে ফুটবল খেলতে সব তরুণ দিনে হই-হট্টগোল করতে করতে চলে যেত, সে হিসেব আমার চেয়ে জেনারেল সিদ্দিকী’র বা তাঁর অনুজ শামীম সিদ্দিকী’র বেশী থাকার কথা। রাতের অন্ধকারে খুব গিয়েছি ওদিকে সে দাবী করছিনা, কিন্তু যে ক’বার পা মাড়িয়েছি তা বিপদসংকুল ছিল এ কথা স্থির চিত্তে বলা যায়। সে বিপদ আরও ভয়ানক কারন হোসনাবাদের গলিতে রাতের আঁধার নেমে এলে বাঘ চলে আসতো, বিশেষ করে শীতকালে। এই সেদিনও বনবিড়াল ধরা পড়েছে হাজারীবাগের এক মোরগের ফার্মে। তবে আমার বেশ মনে পড়ে মাঝেমধ্যে ক্রিকেট খেলতে কালাপাথর মাঠে যাবার সময় ‘জিংলাপোড়া’ সাপ বলে কথিত সরীসৃপ পাওয়া যেতো না এমন কোন ক্ষণই ছিলোনা। তারপর সেইসব দিন পেরিয়ে সেই গলিÑআমার গলি আজ সদর রাস্তা, আর রাতের অন্ধকারে নিমজ্জিত সেই ভয়ানক রাত এখন মারকারি বাতিতে উজ্জ্বল। এখন সেই গলিতে পিচঢালা ঝকঝকে সড়কে ল্যাম্পপোস্ট’র নীচে দাঁড়িয়ে কতো তরুণ সেলফি তুলে তার কোন হিসেব আমি দিতে না পারলেও চোখে পড়ে হরহামেশা! তবুও মন বলে, পঞ্চইন্দ্রিয় বলেÑসেই দিনগুলোই ছিল ভাল, তা-ই ছিল ভাল, হোকনা কেন ভয় আর গা-ছমছমে রাতবিরেত। আমি নিশ্চিত এই যে ভয় আর ছমছমে পরিবেশ তা জেনারেল মহোদয়কে নিতান্ত কৌতুহল ছাড়া আর অন্যকিছু তাড়িত করতোনা। শত হলেও তিনি যে আর্মি জেনারেল।
ব্রিগেডিয়ার সাহেবের বাসস্থান ঘিরে যে বিষয়টি আজ উপদ্রবে পরিণত হয়েছে তা একসময় অত্র এলাকার মানুষ তথা পর্যটকদের আকর্ষণ করে জানান দিতো নানান মুখরোচক গল্প বা তাদের নিত্যকার লম্ফঝম্প আগত রসিক পর্যটক ও মাজার দর্শনে আসা পরহেজগার মানুষের মন আনন্দিত করে তুলতো। এ গাছ হতে ওগাছ তাদের আসা-যাওয়া যেন কোন এক কোরিওগ্রাফির অপরূপ নিদর্শন। হ্যাঁ এই নৃত্যের কলাকুশলী হলো এই টিলা’পরে বাস করা বানর, যারা সুদীর্ঘ বছর ধরে এখানে আছে। যা ছিল একদা দর্শনীয় ও আনন্দের তা আজ পরিণত হয়েছে যন্ত্রণা এবং আতঙ্কের। বাসাবাড়িতে হানা দিয়ে খাবারের হাড়ি টেনে নেওয়া ও শিশুদের আক্রমণ করে চিরে দেওয়া, কামড়ানো সব ভয়ানক রাত দিন কাটাচ্ছেন এই এলাকার বাসিন্দারা! কিন্তু এ জন্যেও আমরা মানুষ দায়ী, উজাড় করেছি বনাঞ্চল, টিলার গাছগাছালি উপড়ে ফেলেছি নিজের অন্যায় স্বার্থে! কতিপয় অজ্ঞাতনামা স্থানীয় বনদুস্য এই কু-কীর্তি করে আজ এই প্রাণীকূলের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা করেছে অস্বাভাবিক, আর তাই তারাও হয়ে উঠেছে উশৃংখল ও আক্রমনাত্মক। সেই ক্ষতির রেশ বয়ে বেড়াচ্ছে এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ! অথচ সেই বনদস্যুরা নির্বিকার ও বুঝতেই অক্ষম যেÑআমি যদি কারো জীবন দুর্বিসহ করে তুলি তবে সেও তার সাধ্যমতো ছোটাছুটি করে আমার বাসযোগ্য পৃথিবী বিষাদময় করে তুলবে। বিষয়টি যতো দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক পন্থানুসরণ করবে ততই মঙ্গল হবে এলাকার মানুষ তথা আগত পর্যটককুলের এবং আমলে নিতে হবে এটি এখন বিশাল আবাসিক অঞ্চল। সর্বোপরি সেইসকল কলাকুশলীদের জন্যেও গড়ে দিতে হবে অভয়াশ্রম। জানিনা ধান ভানতে শিবের গীত হল কিনা, কিন্তু এই এলাকার নাগরিকদের আজ এটি অন্যতম এক বিষফোড়া।
ব্রিগেডিয়ার সাহেবের কথা বলতে গিয়ে বহু কথার অবতারণা করে ফেলেছি, কিন্তু সবইতো জেনারেল সিদ্দিকী’র আশেপাশে বিচরণ করা সমস্যা তাই একটু অবারিত কলমের সোচ্চার হওয়া!
ব্যক্তিগত অনুভুতি যদি বলি তবে লিখতেই হয় জেনারেল সিদ্দিকী অতোটা আমায় চিনতেন কিনা আগে যতোটা জানেন আমি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসেদের সাহিত্যে আসরে যাবার পর হতে, এইযে মেলবন্ধন তা নিতান্ত আমি এক সাহিত্যের শ্রোতা বলে। অথচ আমি জানি তিনি যতোখানি সামরিক ঠিক ততোখানি মানবিক ও বিনয়ী এক সিনিয়র সিটিজেন আমাদের মহল্লায়। দেখা হলে একটু হাসির সাথেই সালাম বিনিময়, সবচেয়ে যে আচরণ আমায় মুগ্ধ করে তা হলো তিনি প্রায় সকলকেই ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ভালবাসেন। আমি আজ অবধি তাঁর কাছ হতে ‘তুমি’ ডাক শুনিনি। ভাবনার উত্তর বলেÑএটি কেবল তার বিনয় নয়, এ হলো পরিবারের শিক্ষা! যা মানুষের প্রথম বিদ্যাপীঠ। দিন রাত্রি বছর পেরিয়ে আমিও ষাটের কাছাকাছি আসা এক তরুণ, বহু স্থানকালের ব্যবধানে ঘুরে দেখা জীবন থেকে এই সাধুবাদ দিতে আমার স্পর্ধা হবে কিনা জানিনে যে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী একজন সত্যিকার নিরেট ভদ্রলোক। এতো গেল মানুষ সিদ্দিকী, কিন্তু কলামিস্ট জুবায়ের সিদ্দিকী আমাদের প্রতিনিয়ত জাগ্রত করুন তার লেখনীতে এ দাবি আমি করছি। কারন একাধারে তিনি যোদ্ধা, সাহিত্যিক ও শিক্ষক! তাই আজকের এই দৈনন্দিন দৈন্যদশার সমাজের বিরুদ্ধে হাতুড়ি চালাতে শক্ত সৈনিক যেমন প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষক তার মাধুরি মিশিয়ে গড়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন আলোর মিছিল জ্বালিয়ে পথের ঠিকানা বলে দিবেন এটিই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী’র ৭০বছর পূর্তিতে আমার আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা। এমন দিনে তার নেক হায়াত ও কলমের কালির অবারিত গতিপথ থেকে মানুষ উপকৃত হবে, সমাজ বিনির্মাণ হবে এই আমার শুভাশিষ! শুভ জন্মদিন।
একনজরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী’র কিছু কর্মময় জীবন ঃ ১৯৬৭ সনে চাকুরী শুরু করে কমান্ড ও স্টাফ কলেজ কোর্স ১৯৮০, কর্নেল হিসেবে ১৯৯০-৯১ সালে অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম-এ অংশগ্রহণ, ব্র্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে নয়াদিল্লিতে ডিফেন্স এটাচি ১৯৯৩-৯৮, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ টি-বোর্ড ১৯৯৮-৯৯ এবং অত:পর ৩২ বছরের পেশাগত জীবনের সফল পরিসমাপ্তি শেষে ১৯৯৯ সনে অবসরে চলে আসা।
তারপর বিভিন্ন সামাজিক ও সাহিত্য সংস্কৃতির সুকুমার চর্চায় আলোকিত বিচরণ! এখন দিন-সন্ধ্যা কেটে যায় লায়ন্স ক্লাব, ধুমপান বিরোধী, নিরাপদ সড়ক, দরীদ্রের জন্য শিক্ষা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এসব সংগঠনে। এরমধ্যে তিনি সভাপতি হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ কমিটির পুরস্কার গ্রহণ করেন ২০১৩ সালে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান ‘কেমুসাস’-এর সহ-সভাপতি এবং এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।
ইতিমধ্যে তাঁর ০৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে কলাম লেখে কাটাচ্ছেন পড়ন্ত বেলা ! আর এই বেলা শেষে যা দিয়ে যাবেন তা-ই হবে আগামীর পথনির্দেশ, এই হোক! এই যেন হয়। আল্লাহ পাক নেক হায়াত দিন।
লেখক : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের পৃষ্ঠপোষক সদস্য, কলামিস্ট

আরও পড়ুন



দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন সালেহ আহমদ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: দলের সিদ্ধান্তের...

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধা যুবকমান্ড‘র দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার...

কেমুসাসের ১০৪০তম সাহিত্য আসর

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কেন্দ্রীয় মুসলিম...

সিলেটে আজহারীর ওয়াজ নিষিদ্ধ

সিলেটে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর...