সেদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি কি বলেছিলেন?

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে

ডা. মইন উদ্দিন। একজন দরদী চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। করোনা সংক্রমণের মধ্যে অনেক চিকিৎসক যেখানে সতর্কতার অংশ হিসেবে রোগী দেখা, চিকিৎসা কমিয়ে দিয়েছেন, সেখানে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। আগের মতোই ব্যস্ত ছিলেন রোগী নিয়ে। মানুষকে এই সেবা দিতে গিয়ে নিজের অজান্তে আক্রান্ত হন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের করোনা যুদ্ধে প্রথম একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে জীবন দিতে হলো।

গত ২রা এপ্রিল সর্বশেষ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী দেখেন মঈন। এরপর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হলে নিজে থেকেই আইসোলেশনে চলে যান। সিলেট শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভর্তি হন করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে। ভর্তির পর তার চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদের জন্য প্রস্তুত করা ওই হাসপাতালে দুইটি আইসিইউ বেড থাকলেও তা কার্যকর নয় বলে পরে প্রকাশ হয়েছে।

ডা. মইন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখন ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সুবিধা সেখানে না থাকায় মইনের পরিবার তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মইন নিজেও ঢাকায় আসতে চাইছিলেন। কিন্তু তাকে ঢাকায় আনার জন্য এয়ার এম্বুলেন্স বা আইসিইউ এম্বুলেন্স যোগাড় করা যায়নি সময়মতো।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের একজন নেতা জানিয়েছেন, ডা. মইনকে ঢাকায় আনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন করোনা আক্রান্ত কোন রোগীকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নেয়ার নিয়ম নেই। পরে অবশ্য পরিবারের চেষ্টায় তাকে ঢাকায় আনা হয়।

স্বাচিপের নেতা ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ অভিযোগ করে বলেন, এই চিকিৎক ঢাকায় এসেও অবহেলার শিকার হয়েছেন।

বলা হচ্ছে, কভিড-১৯ এর প্রস্তুত হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সেবা আছে। বাস্তবে সেখানে তা নেই। দেখা যাচ্ছে একটি হাপাতালে একেকটি শিফটে একজন করে ক্লিনার দায়িত্ব পালন করছেন। একজন ক্লিনার এতোগুলো রোগীর সেবা কিভাবে করবেন। এছাড়া রোগীদের দুপুরের খাবার সন্ধ্যায় দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও আছে।

তিনি বলেন, করোনা বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ অদৃশ্য একটি শুত্রুর বিরুদ্ধে। আমরা কখনও শত্রুকে দুর্বল ভাবতে পারি না। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি থাকা উচিত।

এই চিকিৎসক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এতো দিন ধরে আমরা পরীক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথা বলে আসছি। আমাদের কথায় কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজকে চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন। এরপর এসে বললেন টেস্ট বাড়ানোর কথা। তিনি চীনা প্রতিনিধি দলের কথা শুনলেন। আমাদের কথা শুনলে তো সংক্রমণের হার আগেই কমানো যেতো।

চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে এই চিকিৎসক বলেন, আগে থেকে প্রস্তুতি যদি থেকে থাকে তাহলে এখন কেনো এমন অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে?

শুধু স্বাচিপ নেতাই এমন অভিযোগ করেননি। এর আগে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যাওয়া এক ব্যবসায়ীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, আগে থেকেই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ওই রোগী সময় মতো খাবার পাননি। এতে তার ব্লাড সুগার ফল করে। এ কারণেই হয়তো তিনি শৌচাগারে পড়ে গিয়ে মারা যান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভিন্ন তথ্য তাদের দিয়েছে।

করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে ওই হাসপাতালের সামনে রাতভর অবস্থান করেও ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি এমন অভিযোগও এসেছে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে।

এমন অব্যবস্থাপনার মধ্যে ডা. মইনের মৃত্যু, নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন চিকিৎসকের চিকিৎসার ক্ষেত্রেই যদি অবহেলার অভিযোগ আসে তাহলে সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে কি ঘটছে তা সবাই অনুমান করতে পারছেন। পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা বলা হলেও সিলেটে কেন ডা. মইন চিকিৎসা পাননি। তাকে কেন যথা সময়ে ঢাকা আনার ক্ষেত্রে গড়িমসি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে। এখানে কারও অবহেলা বা গাফিলতি থাকলে তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সামনে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়তো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সুত্রমানবজমিন

আরও পড়ুন

বাতিঘর

সৈয়দ সাকিব আহমদ নিঃস্তব্দ আকাশ...

শাবিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান...

পুনরায় স্থাপনের পরও উপড়ে পড়লো বৈদ্যুতিক খুঁটি

পুনরায় স্থাপনের মাসখানেকের মাথায় আবারও...