সূরা ফাতিহার অফুরান আমল ও ফজিলত

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: এটি কোরআনের সর্বোত্তম সূরা : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাব (রা.) কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি কি চাও আমি তোমাকে এমন একটি সূরা শিক্ষা দেব যার মতো কোনো সূরা তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল, কোরআনে অবতীর্ণ হয়নি?’ তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি নামাজে কি পড়?’ (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি সূরা ফাতেহা তেলাওয়াত করলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন,

‘যার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ, তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল, কোরআনে এরকম কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়নি।’

বারবার পঠিত সাতটি আয়াত : কোরআনে রাসুলকে উদ্দেশ করে রবের বাণী- ‘আমি আপনাকে বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত ও মহান কোরআন দিয়েছি’- এখানে বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত হচ্ছে সূরা ফাতেহা। আবু সাঈদ বিন মুআল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) তাকে বলেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে আমি তোমাকে কোরআনের বড় একটি সূরা শিক্ষা দেব। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন। তিনি যখন বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন আমি তাকে বললাম, আপনি কি আমাকে বলেননি আমি তোমাকে কোরআনের বড় একটি সূরা শিক্ষা দেব? তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। এটাই বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত এবং মহান কোরআন, যা আমাকে দেওয়া হয়েছে। (বোখারি : ৪৪৭৪)।
শারীরিক ও কলবের অসুস্থতায় কার্যকর : বোখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে, নবী (সা.) এর কয়েকজন সাহাবি এক সফরে ছিলেন। তারা আরবের এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তাদের কাছে মেহমানদারি প্রত্যাশা করলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করেনি। তারা তাদের বলল, তোমাদের মাঝে কি কোন ঝাড়ফুঁককারী আছে? কেননা গোত্রপ্রধান দংশিত বা আক্রান্ত। তাদের একজন বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তার কাছে গেলেন এবং সূরা ফাতেহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করলেন। ফলে লোকটি সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই তাকে একটি ছাগলের পাল দেওয়া হয়। তিনি তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, রাসুল (সা.)কে না বলে নেব না। অতঃপর নবী (সা.) এর কাছে এসে ঘটনা বললেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আল্লাহর শপথ! আমি তো সূরা ফাতেহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করেছি? রাসুল (সা.) এতে মুচকি হাসলেন। বললেন, তোমাকে কে বলে দিল যে এটা ঝাড়ফুঁক? অতঃপর বললেন, তোমরা তাদের থেকে তা নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমার জন্য একটি অংশ রেখো।

সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য :
১) এই সূরা কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সূরা। তাওরাত, জবুর, ইনজিল, কুরআন কোনো কিতাবে এই সূরার তুলনীয় কোন সূরা নেই। বুখারি, মিশকাত : ২১৪২

২) এই সূরা এবং সূরায়ে বাকারা’র শেষ তিনটি আয়াত হল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নূর, যা ইতিপূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

৩) যে ব্যক্তি নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার ছালাত অপূর্ণাঙ্গ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিনবার বললেন। মিশকাত : ৮২৩

৪) আবু সা‘ঈদ খুদরী রা. বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধুমাত্র সূরায়ে ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হন। বুখারি শরীফ : ৫৪০৫

সুরা ফাতিহার বিশেষ মর্যাদা হলো, আল্লাহ এটিকে নিজের ও নিজের বান্দার মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। একে বাদ দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। সেজন্যই এর নাম দেয়া হয়েছে ‘উম্মুল কুরআন’। পবিত্র কুরআন মূলত তিনটি বিষয়ে বিন্যস্ত। তাওহীদ, আহকাম ও নছীহত। সূরায়ে ইখলাছে ‘তাওহীদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকার কারণে তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু সূরায়ে ফাতিহায় তিনটি বিষয় একত্রে থাকার কারণে তা ‘উম্মুল কুরআন’ হওয়ার মহত্তম মর্যাদা লাভে ধন্য হয়েছে। তাফসীরে কুরতুবী : ১৪৮

সূরা ফাতিহার ফজিলত :
সুরা ফাতিহার ফজিলত অপরিসীম। এর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিন্মরূপ।

১) উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ উম্মুল কুরআনের মত তাওরাত ও ইনজিলে কিছু নাযিল করেননি। এটিকেই বলা হয়, ‘আস-সাব‘উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), যাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, সে যা চাইবে’। নাসায়ী শরীফ : ৩১৯

২) আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা সূরা ফাতিহা পড়। কোন বান্দা যখন বলে, আলহামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামীন, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন বলে, আর-রহমা-নির রহীম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে, মালিকি ইয়াউমিদ্দীন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। বান্দা যখন বলে, ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাস্তাইন, আল্লাহ বলেন, এ হচ্ছে আমার ও আমার বান্দার মাঝের কথা। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। বান্দা যখন বলে, ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম.. (শেষ পর্যন্ত)। আল্লাহ বলেন, এসব হচ্ছে আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। মুসলিম শরীফ : ৩৯৫

৩) ইবনে আববাস (রা.) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিবরাঈল (আ.) উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আ.) ওপর দিকে এক শব্দ শুনতে পেলেন এবং চক্ষু আকাশের দিকে করে বললেন, এ হচ্ছে আকাশের একটি দরজা যা পূর্বে কোনদিন খোলা হয়নি। সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। তা আপনার পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। তা হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’আয়াত। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

সূরা ফাতিহার সর্বাধিক পরিচিত নাম ‘সূরাতুল ফাতিহা’। তারপরও সূরা ফাতিহার স্থান, মর্যাদা, বিষয়বস্তু, ভাবভাষা, প্রতিপাদ্য বিষয় ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে এর বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক নামের সাথেই সূরাটির সামঞ্জস্য বিদ্যমান। এই সূরাটির ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকেই সূরা ফাতিহার প্রতি আমল করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

সিলেট এক্সপ্রেস/ইসলাম ও জীবন/সোলেমান ইসলাম তাওহীদ

আরও পড়ুন



মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়ের বিদায়ী সংবর্ধনা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: অদ্য ১৪-০১-২০১৯...

সিকৃবিতে ৩ জন নতুন ডিনের যোগদান

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) তিনটি...

শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ স্মরণে শোক র‌্যালি

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ১৯৭১ সালে...