সুরা কাহাফের তাফসীর চলমান

প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাইসির মাহমুদ :

রামাদ্বানের আগে সুরা কাহাফের সংক্ষিপ্ত তাফসীর শুরু করেছিলাম । ইতোমধ্যে সুরার পঞ্চম আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি । কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
শুক্রবারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কমপক্ষে প্রতি শুক্রবার সংক্ষিপ্তভাবে লিখিত আলোচনা উপস্থাপনের চেষ্টা করছি । আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন । সহযোগিতাটুকু হচ্ছে, পড়া শেষে কমেন্ট বক্সে আপনাদের মতামত রাখবেন। ভালো লাগলে লাইক করবেন এবং শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দেবেন।

আজ সুরাটির ছয়, সাত, আট ও নয় নাম্বার আয়াতের ওপর আলোচনার চেষ্টা করবো।

ছয় নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন,
ফালায়াল্লাকা বাখিউন নাফসাকা আ’লা আ-ছা-রিহিম ইল-লাম ইউমিনুনা বিহাজাল হাদিসে আছাফা। “যদি তারা এই কথার ওপর ঈমান না আনে তাহলে তুমি হয়তো তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে-কষ্টে নিজেকেই বিসর্জন দিয়ে দেবে।”

কুরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বনবী ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন । আরবের ইহুদী, খ্রিষ্টান, মূর্তিপুজক ও অবিশ্বাসীদেরকে দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের মহান বাণী বুঝানোর চেষ্টা করেন । কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও তাদের কাছ থেকে আশাব্যাঞ্জক কোনো সাড়া পেলেন না। এতে তিনি ভীষন চিন্তিত হয়ে পড়লেন । তিনি শুধু ভাবতে থাকেন, কেন তাঁর কথা তাঁরা শুনছে না। ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি কি কোনো ভুল করছেন? এ নিয়ে তিনি সবসময়ই চিন্তায় থাকতেন । তাঁর মনে হতো, সম্ভবত এভাবে হচ্ছেনা, ওভাবে হলে হয়তো মানুষ বুঝতে পারবে। এভাবে বুঝিয়েছি, বুঝেনি। তাহলে অন্যভাবে বুঝানোর চেষ্টা করি । এভাবেই তিনি চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়তেন।

তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই অবস্থা দেখে বলছেন, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি তাদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে নিজেকেই বিসর্জন দিয়ে দেবেন । এখানে আল্লাহ তায়ালা নবীকে কনফিডেন্স দিচ্ছেন । বলছেন, আপনি দুঃখে কষ্টে হতাশ হয়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। যারা ইসলামের পতাকাতলে আসার তাঁরা দাওয়াত পেয়ে আসবে । যারা আসবে না তাদেরকে কোনোদিনও আনতে পারবে না । তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করে আপনি একেবারে হতাশ হয়ে পড়বেন না ।

পবিত্র কুরআনের সুরা গাশিয়ায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “ফাজাক্কির । ইন্নামা আনতা মুজাক্কির । লাসতা আলাইহিম বি-মুসাইতির” । অর্থাৎ “(হে নবী) আপনি শুধু উপদেশ দিতে থাকেন । আপনি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র।”
তুমি তাদের জন্য শক্তি প্রয়োগকারি নয় । অর্থাৎ যারা ইসলামের ওপর বিশ্বাস আনয়ন করে না, তাদেরকে জোর করে ইসলামে আনার দায়িত্ব তোমার নয়।

এরপরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন,
(সাত). ইন্না- জ্বায়ালনা মা- ‘আলাল আর্দি যীনাতাল্লাহা লিনাবলুয়াহুম আইয়ুহুম আহ্সানু আমালা। “এই জমিনের উপর যা কিছু আছে আমি সবকিছু তার (পৃথিবীর জন্য) শোভাবর্ধনকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি । যাতে করে আমি তাঁদেরকে (মানুষকে) পরীক্ষা করতে পারি, তাঁদের মধ্যে (কাজ-কর্মের দিক থেকে) কে বেশি উত্তম?”

আল্লাহ তায়ালা বলছেন, পৃথিবীর উপরে এই যে সাগর, নদী-নালা, খাল বিল, পাহাড়-পর্বত, পশু পাখি রয়েছে তা তিনি পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যই সৃষ্টি করেছেন । আর পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন মানুষের পরীক্ষার নেওয়ার জন্য। অর্থাৎ তিনি দেখতে চান পৃথিবীর সৌন্দর্যকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করছি। সৃষ্টিকর্তার এসব প্রতিদানের জন্য তাঁর প্রতি কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

এরপরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন,
আট. ওয়া ইন্না লা-জা-ইলুনা মা-আলাইহা-সায়ীদান জুরুযা । “(আজ) যা কিছু এর উপরে আছে (একদিন ধ্বংস করে দিয়ে একে) আমি উদ্ভিদ শুন্য মাটিতে পরিণত করে দেবো।”

ইয়াদীরা যে তিনি প্রশ্ন নিয়ে এসেছিলো। তিনটির মধ্যে একটি ছিলো আসহাবে কাহাফ কারা? তাদের জীবনে কী ঘটেছিলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আল্লাহ তায়ালা দিতে যাচ্ছেন । যেহেতু ইয়াহুদীদের কাছে গুহাবাসী যুবকদের ঘটনাকে খুব আশ্চর্য মনে হয়েছে তাই তাদের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতটিতে বলছেন, আসহাবে কাহাফ ছাড়াও আমার অনেক আশ্চর্য ঘটনা আছে।

পৃথিবীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্যই আমি তার উপরিভাগের সবকিছু সৃষ্টি করেছি। আবার একসময় ক্বেয়ামত চলে আসবে। এই পৃথিবীতে আমি ধ্বংস করে দেবো। এখানে শুধু শুস্ক মাটি থাকবে । আর কিছুই থাকবে না । এই কথাগুলো কি আশ্চর্য মনে হয় না? শুধু কি আসহাবে কাহাফের ওই ঘটনা তোমাদের কাছে অবাক করা কাহিনী মনে হলো?

পরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন,
(নয়) আম্ হাসিব্তা আন্না আছ্হা-বাল্ ক্বহ্ফি ওয়ার রাক্বীমে কা-নো মিন্ আ-ইয়া-তিনা- ‘আজ্বাবা? “হে নবী তুমি কি মনে করো যে, গুহা ও রাকীমের বাসিন্দারাই ছিলো আমার নিদর্শনসমুহের মধ্যে বিস্ময়কর?”
অর্থাৎ এটাই কি একমাত্র বিস্ময়কর ঘটনা । আজ ইহুদীরা তোমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করছে? তারা কি আমার অন্যান্য আশ্চর্য়জনক সৃষ্টি ও ঘটনা দেখে না?

আগামী শুক্রবারে আলোচনা করবো আসহাবে কাহাফের মুল কাহিনী নিয়ে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে ৭ যুবক কীভাবে ও কেন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলো, কীভাবে এক ঘুমে ৩শ বছর কাটিয়েছিলো- তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হবে । আজ এ পর্যন্ত। ভালো থাকুন। সঙ্গে থাকুন, সঙ্গে রাখুন। স্ট্যাটাসটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দেন।

তাইসির মাহমুদ
লন্ডন, যুক্তরাজ্য


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

নাদেলকে টাইটেনিয়াম টেকনলজিসের শুভেচ্ছা

         সিলেটের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট...

লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত

         শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষকদের...

দেশ আজ অন্ধকার কারাগারে পরিণত হয়েছে – মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক

66        66Sharesএক্সপ্রেস ডেস্ক :- সিলেটে জাতীয়তাবাদী...

গ্যাসের কারণেই নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে তল্লায়...