সুন্দর আলীর নির্যাতনে আমরা অসহায়

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর চিন্তামনি গ্রামের সুন্দর আলী ও তার সন্তানদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন একই গ্রামের সাব্বির আহমদ ও পরিবারের সদস্যরা। বিশাল লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন একই গ্রামের মরহুম সজ্জাদ আলীর পুত্র সাব্বির আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সুন্দর আলী গ্রামে প্রভাব বিস্তার করছে। সে এলাকার নিরিহ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এমনকি তার পুত্রের দ্বারা নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
সাব্বির আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সুন্দর আলী একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে হয়রানির মধ্যে রেখেছে। তার ঘরে আশ্রিত নিমাই নামে চিহ্নিত এক ডাকাত দক্ষিণ সুরমার আলোচিত ব্যবসায়ী মোনায়েম খান বাবুলের বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে আটক হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা হয়। যার নম্বর ০৩/০৩। রিমান্ডে নিমাই ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করে। এছাড়াও সুন্দর আলীর সঙ্গে আরো দুর্বৃত্তদের যোগাসাজশ রয়েছে।
সাব্বির আহমদ আরো বলেন, সুন্দর আলীর দ্বিতীয় ছেলে দিপু গত ৯ অক্টোবর দিলোয়ার হোসেনের স্ত্রীকে নির্যাতন করে। তিনি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। ভিকটিমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ওসিসির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ চেষ্টা আইনে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনার পরও পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাব্বির আহমদ বলেন, দিপু প্রকাশ্যে বাড়িতে বসবাস করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো মামলা তুলে নিতে সুন্দর আলী ও তার ছেলে দিপু প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। থানায় তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মামলা করার সাহস পায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৩ ডিসেম্বর আমার ভাই দিলোয়ার হোসেন ও চাচা সিদ্দেক আলীকে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে সুন্দর আলীর ছেলে। আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা স্কুল- কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারে না।
তিনি বলেন, সে এলাকার মানুষকে বন্দুক দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এসব অপকর্মের কথা তুলে ধরে সুন্দর আলীর বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসী ২০১১ সালের ১১ মে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চিন্তামনি গ্রামের মো. ফারুক ও আনছার আলী থানায় সুন্দর আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সুন্দর আলী গ্রামের অনেকের জমি প্রভাব কাটিয়ে জোরপূর্বক দখল করেছে। তার দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন চিন্তামনি গ্রামের মরহুম আব্দুল মন্নান খান, বিশ্বনাথের বড়খুরমা গ্রামের মরহুম আব্দুল আহাদ গেদা মিয়া, চিন্তামনি গ্রামের লন্ডন প্রবাসী রুহেল মিয়া, লালাবাজারের বাগরখলা গ্রামের রইছ আলী মেম্বার, চিন্তামনি গ্রামের ছিদ্দেক আলী, কালিরগাও গ্রামের আপ্তাব আলীসহ অনেকে।
সুন্দর আলীর নির্যাতন ও ভীতি প্রদর্শনে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় কিংবা বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন জানিয়ে সাব্বির আহমদ সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপার, র‌্যাব ৯ এর অধিনায়ক, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন

আরও পড়ুন



ছাত্রদল নেতা লায়েক আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ

সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারন...

জেলা জমিয়ত নেতা শাহবাগীর ঈদ শুভেচ্ছা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল...

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো রমজানের শিক্ষা

রোটারী ক্লাব সিলেট আপটাউনের উদ্যোগে...

বুধবার সংস্কারকৃত শিশু আদালতের উদ্বোধন

সিলেটে নব সংস্কারকৃত শিশু আদালতের...