সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ৬ হাওড়ে পানি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফণীর প্রভাবে অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের ৬টি হাওড়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে ওইসব হাওড়ের বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। বোরবার ভোর রাতে ওই ৬টি হাওড়ে বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে। তবে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বাঁধ ভেঙে নয়, বাঁধ উপচে হাওড়ে পানি প্রবেশ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়গুলো হচ্ছে, জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওড়, শনির হাওড়, তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওড়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওড়, ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল ও ঘুরমার হাওড়।

জামালগঞ্জ উপজেলার ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, রোববার ভোর রাতে উপজেলার নিতাইপুরের স্লুইস গেট ও লালুগলা বাঁধ ভেঙে শনির হাওড় এবং বেহেলির বাঁধ ভেঙে হালির হাওড়ের ফসল ডুবে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রায়পুরের বাঁধ ভেঙে করচার হাওড় ডুবেছে। একইভাবে হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওড় ও ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল ও ঘুরমার হাওড়ের বোরো ফসল ডুবে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, পওর-১, আবু বকর সিদ্দক ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, ফসররক্ষা বাঁধ উপচে ৬টি হাওড়ে পানি ঢুকছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারেও ভারী বর্ষণ হয়। এ কারণে মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে বৌলাই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পানি ভাটির দিকে প্রবল বেগে ধাবিত হতে থাকে।
এতেই হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে। বাঁধ এলাকায় থাকা লোকজন পানি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও প্রচন্ড চাপে তারা তা করতে ব্যর্থ হন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুুল মন্নাফ বলেন, হাওড়ের সব জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, জামাগলঞ্জ এসব এলাকার হাওড়ের শতভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন হালির হাওড় ও শনির হাওড়ের শতভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। এখন কিছু জমি রয়েছে যেগুলো অবস্থান বেশ উঁচু এলাকায়। হাওড়ে পানি প্রবেশ করায় ধানের কোনও ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, শনিবার পর্যন্ত হাওড় এলাকায় মোট এক লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। হাওড় ছাড়া মোট ৫২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে কাটা হয়েছে ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান।

আজ রোববার সকালে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল। এ সময় তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণে কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুয়াযী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

মাধবপুরে কাভার্ডভ্যান-ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন আহত

1        1Shareআবুল হোসেন সবুজ ঢাকা সিলেট...

মসজিদের ইমামের মাইকিং ঠেকিয়ে দিল আরেকটি দাঙ্গা

         আসানসোলের যে অঞ্চলে মঙ্গলবার সন্ধ্যে...

শহীদ দিবসে ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মসূচী গ্রহণ

         সিলেট এক্সপ্রেস : ২১শে ফেব্রুয়ারি...