সুখী হতে প্রয়োজন নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়ন

,
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: বর্তমান বিশ্বের মানুষ ঊর্ধ্বশ্বাসে সম্পদের পিছে দৌড়াচ্ছে। যেন সম্পদ অর্জনটাই মানুষের একমাত্র কাজ এবং এর জন্যই তার অস্তিত্ব ও তার জীবন। এ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তারা ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম, নৈতিক-অনৈতিক কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সমগ্র বিশ্বের সব মানুষের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে শুধুমাত্র এ লক্ষ্যেই। আজকের পৃথিবীর সব দেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাও পরিচালিত হচ্ছে শুধুমাত্র এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে। শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হচ্ছে শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদ অর্জনের যোগ্য মেশিন হিসেবে। শুধু এজন্যই উন্মোচিত হচ্ছে শিক্ষার নতুন নতুন দিগন্ত। কর্মের নতুন নতুন ক্ষেত্র। কেউ নিজেকে বা সন্তানকে যোগ্য অর্থ-সম্পদ অর্জনকারী হিসেবে দেখতে পেলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে যে, আমার জীবন স্বার্থক, আমি সফল, আমার সব কাজ সমাপ্ত, আমার দায়িত্ব পালন পরিপূর্ণ।
প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন: প্রাচুর্যের লালসা তোমাদের গাফেল রাখে। এমনকি তোমরা কবরে পৌঁছে যাও। এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্বরই জেনে নেবে। (তাকাসুর : ১-৩) আল্লাহপাক আরো বলেন:
যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে, সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে। কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কী? এটা আল্লাহর প্রজ্বালিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। এতে তাদের বেঁধে দেয়া হবে। লম্বা খুঁটিতে। (হুমাযা : ১-৯)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রা.) বলেন আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পৌঁছে দেখলাম তিনি সূরা তাকাসুর তিলাওয়াত করে বলছিলেন, ‘মানুষ বলে আমার ধন, আমার ধন, অথচ তোমার অংশ তো ততটুকু যতটুকু তুমি খেয়ে ফেল অথবা পরিধান করে ছিন্ন করে দাও অথবা সদকা করে সম্মুখে পাঠিয়ে দাও। এছাড়া যা আছে তা তোমার হাত থেকে চলে যাবে- তুমি অপরের জন্য তা ছেড়ে যাবে। (ইবনে কাসীর, তিরমিযি, আহমদ, মা’আরেফুল কুরআন)

এই যে সম্পদ, যার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে মানুষ তার সমগ্র জীবনকে ব্যয় ও বিনাশ করছে, দ্বিধাহীন চিত্তে ও নির্ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জাহান্নামের দরজার দিকে, কী তার মূল্য? কতটুকু তার সত্যিকার মূল্যমান? এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাকে একটি সুন্দর বর্ণনা রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক বলেন: ‘যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাবার আশঙ্কা না থাকতো, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে আমি তাদের দিতাম তাদের গৃহের জন্যে রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি, যার ওপর তারা চড়ত এবং তাদের গৃহের জন্যে দরজা দিতাম এবং পালংক দিতাম, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত এবং স্বর্ণ নির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র। আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাদের জন্যই যারা ভয় করে। (যুখরুফ : ৩৩-৩৫)

পৃথিবীতে বসবাসকারী কিছু অবিশ্বাসীর জীবনে কিছু ধন-সম্পদ, প্রভাব প্রতিপত্তি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু প্রাচুর্যের স্পর্শ লাগলেও এখনো তা আল্লাহপাকের ঘোষিত স্বর্ণ-রৌপ্য বর্ষণের প্রচুর্যের দূরতম নিকটেও যায়নি। এতেই আমরা বিশ্বাসীরা যেন খেই হারিয়ে ফেলেছি। ঊর্ধ্বশ্বাসে-চোখ বন্ধ করে তাদের অনুকরণে-অনুসরণে প্রাচুর্য লাভের জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আগ-পাছ চিন্তা করার সময় নেই। সময় নেই ভাববার ভালো-মন্দ, লাভ-অলাভ, কল্যাণ-অকল্যাণের। ধরেই নিয়েছি প্রাচুর্য মানেই উন্নতি, সম্পদের আধিক্য মানেই কল্যাণ।
অথচ হযরত উকবা ইবনে আমের (রা.) নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেন: যখন তোমরা দেখতে পাবে যে, আল্লাহ তায়ালা কোনো ব্যক্তিকে তার অসংখ্য পাপ ও নাফরমানি সত্ত্বেও তার বাসনা অনুযায়ী দুনিয়ার অফুরন্ত নিয়ামত দান করিতেছেন, তখন মনে করবে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ইস্তেদরাজ বা ঢিলদান ছাড়া আর কিছু না। অতঃপর তিনি সূরা আন-আমের ৪৪নং আয়াত পাঠ করেন। যার অর্থ অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল যা তাদের দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি যখন তারা প্রদত্ত নিয়ামত পেয়ে আনন্দে মেতে উঠলো ও ভোগ-ব্যবহারে মগ্ন হলো, তখন আমি অকস্মিক তাদের পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস শরীফ)
আমাদের দেখার পুরসত নেই আল্লাহর রাসূলের বাণী: ‘দুনিয়া যদি আল্লাহর কাছে মশার এক পাখার সমানও মর্যাদা রাখত, তবে আল্লাাহ তায়ালা কোনো কাফেরকে দুনিয়া থেকে এক ঢোক পানিও দিতেন না।’ (তিরমিযি, মা’আরেফুল কুরআন) আমাদের পড়ার সুযোগ হয় না আল্লাহর বাণী- ‘আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নয়।’ (আলে ইমরান : ১৮৬)

মানুষের অন্তরে এগুলোর আকর্ষণ সৃষ্টি করার অন্যতম রহস্য হলো তাদের পরীক্ষা করা যে, কে এগুলোর আকর্ষণে মত্ত হয়ে পরকালকে ভুলে যায় এবং কে এসবের প্রকৃত স্বরূপ ও ধ্বংসশীল হওয়ার বিষয় অবগত হয়ে শুধু ততটুকু অর্জনে সচেষ্ট হয় যতটুকু তার প্রয়োজন এবং তা পরকালীন কল্যাণ লাভের লক্ষ্যেই ব্যয় করে। এ কথাই নিহিত রয়েছে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর এ বাণীতে ‘দুনিয়া অভিশপ্ত এবং যা কিছু এতে আছে তাও অভিশপ্ত; তবে ঐসব বস্তু নয়, যদ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়।’ (মা’আরেফুল কুরআন) এ কারণেই কয়েকটি লোভনীয় বস্তুর উল্লেখ করার পরই আল্লাহ পাক বলেন, এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়। অর্থাৎ এসব বস্তু হচ্ছে পার্থিব জীবনে ব্যবহার করার জন্য, যা ক্ষণস্থায়ী; মন বসাবার জন্যে নয়। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম ঠিকানা। সেখানে চিরকাল থাকতে হবে। যার নেয়ামত শেষ হবে না, হ্রাসও পাবে না। এর পরই আল্লাহপাক বলেন, ‘হে রাসূল! যারা দুনিয়ার অসম্পূর্ণ ও ধ্বংসশীল নেয়ামতে মত্ত হয়ে পড়েছে, আপনি তাদের বলে দিন যে, আমি তোমাদের আরো উৎকৃষ্ট নেয়ামতের সন্ধান বলে দিচ্ছি। যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং যারা আল্লাহর অনুগত, তারাই এ নেয়ামত পাবে। সে নেয়ামত হচ্ছে সবুজ বৃক্ষলতাপূর্ণ বেহেশত- যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী সমূহ প্রবাহিত হবে। তাতে থাকবে সকল প্রকার কলুষমুক্ত পরিচ্ছন্ন সঙ্গীনিগণ এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: বুদ্ধিমান হচ্ছে সে ব্যক্তি যে আত্মসমালোচনা ও আত্মযাচাই করতে অভ্যস্ত এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে। পক্ষান্তরে দুর্বল ও সাহসহীন সে ব্যক্তি, যে নিজেকে প্রবৃত্তির লালসার দাস করে দিয়েছে এবং ইহা সত্ত্বেও সে আল্লাহর নিকট হতে অনুগ্রহের প্রত্যাশী। (তিরমিযি)
এখন আমাদের চিন্তা করা দরকার যে, আমরা কি বুদ্ধিমান থাকবো না দুর্বল-সাহসহীন হবো? মহামূল্যবান সম্পদের অধিকারী হবো না মূল্যহীন সম্পদের অধিকারী হবো? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মূল্যহীন সম্পদের লোভে মোহাচ্ছন্ন থাকবো না চিরস্থায়ী মহামূল্যবান উত্তম সম্পদের আকাক্সক্ষী হয়ে সজাগ হবো? মহানবী (সা.) এর নিম্নোক্ত হাদীছে এর উত্তর ও উত্তম সমাধান রয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের তা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে নিজের প্রিয়তম ও লক্ষ্যবস্তু রূপে গ্রহণ করবে, সে তার পরকালের বিশেষ ক্ষতি সাধন করবে। আর যে পরকালকে অধিকতর প্রিয় রূপে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যই তার দুনিয়ার দিকের বড়ই ক্ষতিসাধন করবে। অতএব নশ্বর জগতের মুকাবিলায় স্থায়ী ও অক্ষয় পরকালকেই গ্রহণ কর।’ (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকী, হাদীস শরীফ)

আমাদের জীবনের লক্ষ উদ্দেশ্য কি?

আমাদের জীবনের লক্ষ উদ্দেশ্য কি, কেনো আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি, কেনোই বা আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, কি চান আল্লাহ আমাদের কাছে, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানওতাআলা বলেন:

আমি সৃষ্টি করেছি জ্বীন ও মানুষকে এজন্য যে, তারা শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করবে।(সূরা যারিয়াত আয়াত-৫৬)

আমাদেরকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু এর মানে এই না যে আমরা দুনিয়াবি কাজ কর্ম পড়ালেখা করতে পারবো না, অবিশ্যই পারবো তবে সেটা হতে হবে অপশনাল। আমাদের মেইন উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাত লাভ করা।
আর জান্নাত এমন একটি স্থান যে কোন চোখ তা কখনো দেখেনি কোন কর্ণ তা কখনো শুনেনি কোন অন্তর কখনো কল্পণা করতে পারেনি। আমি আপনি দুনিয়া নিয়ে ব্যাস্ত অথচ দুনিয়া কিছুই না, এটা ক্ষণস্থায়ী আমরা সামন্য কিছুদিন এখানে থাকব, এরপর আমাদেরকে চলে যতে হবে অনন্ত জীবন আখিরাতে যার শুরু আছে শেষ নাই।
দুনিয়া সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে বলেন:এই পার্থিব জীবনতো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতিত কিছুই নয়। পারলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানতো।(সূরা আনকাবূত-৬৪)
পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতিত কিছুই নয়। ( সুরা হাদীদ-২০)
আর পার্থিব জীবন প্রতারনার সম্পদ ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান-১৮৫)
এই দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা আমাদের আসল জীবনকে ভুলে গেছি।
বস্তুত তোমরা দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করে থাকো। অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও চিরস্থায়ী। (সূরা আ`লা- ১৬. ১৭)

আমরা মনে করি টাকা পয়সা, ধন-দৌলত, বাড়ি গাড়ি, উচ্চ ডিগ্রী এগুলো থাকলেই সে সফলকাম।আসলে কিন্তু এগুলো সফলতা নয়, এসব কিছুদিনের জন্য মাত্র। মৃত্যুর পরে এসব আমার কোন কাজে আসবে না। তাহলে আসল সফলতা কি? জান্নাত লাভ করাই হল আসল সফলতা। কোরআনে আল্লাহ বলেন:
অতএব যে জাহান্নাম হতে বিমুক্ত হয়েছে ও জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়েছে, ফলতঃ নিশ্চয়ই সে সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান-১৮৫)

অবশ্যই আমাদেরকে আমাদের জীবনের লক্ষ উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে হবে, তা না হলে আমরা কঠিন বিপদে পতিত হব, যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নাই।একটা উদাহরণ দিই তাহলে বুঝতে সহজ হবে।
মনে করেন আপনার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাই আপনার ভাইকে পাঠালেন ডাক্তার নিয়ে আসার জন্য। সে হাসপাতালে যাই ঠিকই, কিন্তু ঘটনাক্রমে তার এক পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যাই ফলে সে তার সাথে কথা বলতে বলতে তার হাসপাতালে আসার উদ্দেশ্য ভুলে যাই, সে ভুলে গেল তার বাবা অসুস্থ সে ডাক্তার নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছে বন্ধুর সাথে কথা বলতে নয়। এদিকে ডাক্তার না আসার ফলে আপনার বাবা মৃত্যুবরণ করে।এখন কোন উপায় আছে কি আপনার বাবা কে ফিরিয়ে আনার। কেনো এমনটা হয়েছে শুধুমাত্র লক্ষ উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়ার কারণে।

ঠিক তেমনি আমরাও দুনিয়ার মোহে পড়ে দুনিয়াতে আসার লক্ষ উদ্দেশ্যকে ভুলে গেছি, যার ফলস্বরুপ আমাদেরকে ভোগ করতে হবে কঠিন আযাব। তাই আজকে থেকেই তওবা করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হয়ে তাকে সন্তুষ্ট করে চিরস্থায়ী ভোগবিলাসের জান্নাত অর্জন করুন।

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রসাদে স্থান দেব, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। কতই না উত্তম প্রতিদান সৎকর্মশীলদের জন্য।
(সূরা আনকাবূত-৫৮)
পৃথিবীতে কোন মানুষ চিরস্থায়ী নয়।প্রত্যেক মানুষই মরনশীল।মরনের স্বাদ সকলকেই গ্রহন করতে হবে।মরনের পর একজন মানুষের সব কিছুই বিলীন হয়ে যায়, শুধু বিলীন হয় না তার কৃতি। মানুষ তার কর্ম এবং ব্যবহারের মাধ্যমেই বেঁচে থাকে মরনের পরও। .আসলে টাকা-পয়সা দিয়ে সুখ কিনা যায়না,সুখ হলো সম্পূর্ন মনস্তাত্ত্বিক একটি ব্যাপার।এটি একধরনের অনুভূতির নাম যার অর্থ অন্তরের পরিতৃপ্তি।কোন মানুষ তখনি প্রকৃত সুখী হয় যখন সে যা পায় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে।টাকা আমাদের জীবনে অত্যাবশ্যকীয় বটে,সুখী হওয়ার জন্য টাকারও যে একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে তাতে সন্দেহ নেই বাট এই অর্থ প্রকৃতপক্ষে আমাদের সুখ দিতে পারেনা।মনের শান্তিটাই আসল শান্তি।সমাজের ধনী ব্যাক্তিরা সর্বাধিক সুখী নয় তারা দিনের পরদিন নির্ঘুমভাবে রাতকাটায়,বিভিন্ন সমস্যা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে।অথচ আমাদের সমাজে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র লোক আছে যারা অল্পতেই তুষ্ট থাকে এবং তারা শান্তিতে ও সুনিদ্রায় জীবন কাটায়।অর্থাৎ ধনী না হয়েও কোন দরিদ্র ব্যাক্তিও যদি সৎ ও ন্যায়-পরায়ন হয় তাহলে সে সুখের নিশ্চয়তা পেতে পারে যেখানে টাকা-পয়সা কখনোই মানুষকে সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারেনা।শুধুমাত্র নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নই মানুষের সুখের অন্যতম কারিগর।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জি এম কাদেরের সুস্থতা কামনায় জেলা জাতীয় পার্টির দোয়া মাহফিল

        করোনায় আক্রান্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান...

সিলেটে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

        সিলেটের বিয়ানীবাজারে র‌্যাব ও পরিবেশ...

মিছে সব

        কবির মাহমুদ : মিছে এই...