সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে

,
প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২১     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট বিভাগে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহ-দশদিন থেকে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আশার ঝিলিক দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও সেভাবে কমছে না মৃত্যুর সংখ্যা। গত ৭দিনে করোনায় আক্রান্ত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৪০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। কিন্তু, এসময় করোনায় আক্রান্ত নতুন ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে গত জুন থেকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা দেখা দেয়। এ সময় চার জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করে। আক্রান্ত রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে। হাসপাতালগুলোর আইসিইউ ও সাধারণ সিট রোগীতে ভরে যায়। সিট না পাওয়ার ফলে গাড়িতে ও এ্যাম্বুলেন্সে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। দফায় দফায় লকডাউনের পর গেল সপ্তাহ-দশদিন থেকে করোনা পরিস্থিতির দাপট কমতে শুরু করে। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ও শনাক্তের হারও নি¤œমুখী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন হাসপাতালগুলোয় ভিড় কমছে নতুন রোগীর।
স্বাস্থ্য বিভাগের গত দুই মাসের সংক্রমণ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় দুইমাস পর গত ১৯ আগস্ট সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে নামে। এদিন সিলেটে করোনা শনাক্তের হার ছিলো ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। সর্বশেষ গত ২৭ জুন সিলেট বিভাগে শনাক্তের হার ছিলো ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপর সংক্রমণ বাড়লে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়। প্রায় দুইমাস পর গত সপ্তাহ-দশদিন থেকে সংক্রমণ হার নিম্নগামী হয়ে আসে। গত সপ্তাহের রোববার ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে এক হাজার ৭২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৬০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ দিন শনাক্তের হার ছিলো ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। পরদিন সোমবার এক হাজার ২৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এদিন করোনা শনাক্তের হার ছিলো ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। মঙ্গলবার এক হাজার ৪৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ দিন শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। বুধবার দীর্ঘ ৫২ দিন পর সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে। এদিন দুই হাজার ২৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিলো ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার আবার শনাক্তের হার কিছুটা বেড়ে যায়। দুই হাজার ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৭৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিলো ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। শুক্রবার এক হাজার ৩৪২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিলো ২৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। শনিবার এক হাজার ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। রোববার এক হাজার ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় মাত্র ১৬৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। গতকাল সোমবার ১ হাজার ৪০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ২৯।
সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ কমছে। পাশাপাশি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির চাপও কিছুটা কমেছে। সুস্থতার হার বেড়েছে। আশা করছি, আস্তে আস্তে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে আসবে। এখন সবার জন্য জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মানা, অবশ্যই মাস্ক পরা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, সংক্রমণের উর্ধ্বগতির সময় অনেক রোগী জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার পর বাসায় বসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা বাসায় বসেই সংক্রমণটা বৃদ্ধি করছেন। যখন হাসপাতালে আসছেন, ততদিনে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে চলে গেছে। অনেকের অক্সিজেন দরকার হচ্ছে, অনেকের আইসিইউ সাপোর্টও লাগছে। এখন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন, অনেকে সুস্থ হওয়ার পথে। খুব জটিল অবস্থায় যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কিছু মারা যাচ্ছেন। তিনি জানান, এখন মৃত্যুর সংখ্যাও কমে আসবে।
গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় প্রেরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনা সংক্রমণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১৫ জনের, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন ও করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৭৫ জন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন শনাক্ত ২১৫ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ৮১ জন, সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ২৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২৫ জন, হবিগঞ্জ জেলার ৩৩ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ৫২ জন।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে সিলেট জেলায় ৭ জন, সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ৩ জন ও সুনামগঞ্জ জেলার ২জন ।
এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৯৯৬ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৭২১ জন মারা গেছেন। এছাড়া, ওসমানী হাসপাতালে ৯০ জন, সুনামগঞ্জের ৬৯ জন, হবিগঞ্জের ৪৬ জন ও মৌলভীবাজারে ৭০ জন করোনায় মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৩ জন ও ওসমানী হাসপাতালের ১৩ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চার জেলায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪০৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৩২৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ৩৫ জন, হবিগঞ্জ জেলার ২৮ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ২০ জন।
শুধু সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৩০ জন রোগী। এর মধ্যে করোনা সন্দেহজনক ১৫৭ জন, করোনাভাইরাস পজিটিভ ৬২ জন ও আইসিইউ ইউনিটে ১১ জন।
গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনামুক্ত ৩৭৫ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ২৮০ জন, ওসমানী হাসপাতালের ৮ জন,সুনামগঞ্জ জেলার ২৪ জন, হবিগঞ্জ জেলার ৫৯ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ৪ জন। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ৫১ হাজার ৪২১ জন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে করোনামুক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৭৬০ জন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

আব্দুর রব এবং আজিজুন মেডিকেল’বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান

        পিতৃভূমির মানুষের কল্যাণে কাজ করার...

সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

        সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিতকরণে শহরতলীর...