সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন সৎ ভাইর কাছ থেকে ভূমি ফিরে পেতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের আর্তি

,
প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জালিয়াতির মাধ্যমে সৎ ভাই কর্তৃক গ্রাসকৃত মায়ের নামীয় ২৫ একর ভূমি ফিরে পেতে আর্তি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনাপাটি গ্রামের মরহুম রাজাওর রহমান চৌধুরীর পুত্র অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বখতিয়ার রাজা চৌধুরী। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন তিনি এ আর্তি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার সৎ ভাই আনোয়ার রাজা চৌধুরী আদালতের একটি রায়কে জালিয়াতি করে জরিপ চলাকালীন সময়ে সেটেলমেন্টে উপস্থাপন করে মায়ের পুরো অংশ প্রায় ২৫ একর জমি গ্রাস করেন।’ তিনি বলেন, তসদিক কার্যক্রম চলাকালে কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করলে তারা দেননি, তাই বাড়ি ও জমি থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। তৃতীয় ধাপে ৩০ ধারায় আপত্তি করলেও কাজ হয়নি। ঠিক তেমনি আপিল অবস্থায়ও মোট ১৮টি আপিল না মঞ্জুর করেন কর্মকর্তারা। সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সমস্ত কাগজাদি দেখে একটি বিশেষ ধারায় সুযোগ দেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু ৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাননি। দীর্ঘ তের বছর ধরে মানসিক, আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন আমি ভেঙ্গে পড়েছি। একমাত্র ছোট ভাই হুসনেক রাজা চৌধুরী ন্যায় বিচারের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুরতে ঘুরতে অসুস্থ হয়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার পিতা জীবদ্দশায় আমার মা মরহুমা তহমিদুন নেছা খাতুন চৌধুরানীর নিকট মোট জমির অর্ধেক ১৩৩৭ নং সাফকাবালা দলিলমূলে বিক্রি করে স্বত্ত্ব ত্যাগী হন। সে মোতাবেক ১৯৫২ সালের জরিপে আমার মায়ের নামে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে পিতার মৃত্যুর পর আমার মা শহরানা বাবদ আরো দুই আনা অংশের মালিক হন। চলমান জরিপকালে আনোয়ার রাজা চৌধুরী আদালতের একটি রায়কে জালিয়াতি করে তা সেটেলমেন্টে উপস্থাপন করে আমার মায়ের পুরো অংশ প্রায় ২৫ একর জমি গ্রাস করার ফন্দি করে। রায় জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হলে আনোয়ার রাজা চৌধুরীকে জেলে প্রেরণ করা হয়।’
বখতিয়ার রাজা আরো বলেন, কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি আমি ঢাকার তেজগাঁও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে যাই। তখনকার মহাপরিচাক শেখ আব্দুল আহাদ আমার কাগজাদি দেখে সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ২০ জানুয়ারি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তদন্তের নির্দেশনা জারি করেন। কিন্তু পরক্ষণে আবার অদৃশ্য হাতের ইশারায় সেটি স্থগিত করে দেন। তিন মাস পর আবারও জরিপ অধিদপ্তরে গেলে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শামসুল আলম আমাকে ভূমি রেকর্ড পরিচালক ফজলুর রহমানের কাছে যেতে বলেন। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ মার্চ তিনি সেটেলমেন্টের অফিসারদের তার কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় অনিয়মের একটি উদাহরণ দেখাতে আমাকে বলেন। এ সময় আমি দুটি দাগে ৮.৬০ একর জমিতে যেখানে আমার প্রাপ্য ২.৪০ শতক সেখানে আমাকে শূণ্য শতক দেওয়া হয়েছে দেখালে তিনি অফিসারদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ জুলাই তৃতীয়বারের মত সরেজমিন তদন্ত করতে সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহমদসহ ৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারি আমার গ্রামে আসতে চাইলে বন্যার পানির কারণে গ্রাম থেকে দূরে একটি হাটে পরিত্যক্ত কক্ষে বসে আমার বক্তব্য না শুনে তিনি আমাকে ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে গালিগালাজ করে তথাকথিত তদন্ত শেষ করে সিলেট চলে যান। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে থেকে অন্তত ১০ বার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে নোটিশ ও ফোন আসলেও এ ব্যাপারে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আনোয়ার রাজা চৌধুরীসহ তার সহযোগী সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের করি। যার নং ১৪/২০১৭।’ তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভূমিমন্ত্রী, দুদকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। প্রিন্ট পর্চা ছাপার আগেই যেন তারা দুই ভাইয়ের প্রাপ্য অংশটুকু ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ফিরে পান সেই কামনাও করেন তিনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার

        সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক...

বীগঞ্জে নতুন করে করোনা আক্রান্ত আরো ১০জন \ মোট আক্রান্ত ৪৯

        নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলায় করোনায় নতুন...

ডা. প্রিয়াংকা হত্যা সিলেটে তোলপাড়

        ওয়েছ খছরু, স্ত্রী ডা. প্রিয়াংকা...