সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অবৈধভাবে দোকানের দখল নিতে ৯ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে মার্কেট মালিককে হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভাড়াটিয়ার দায়ের করা ৯টি মিথ্যা মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল রোডের এক মার্কেট মালিক পরিবার। চুক্তি বিলুপ্ত হওয়ার পরও বেআইনীভাবে দুটি দোকানের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছেন ঐ ভাড়াটিয়া। এই অসৎ উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানী করছেন ঐ মার্কেট মালিক পরিবারকে। ভাড়াটিয়াদের অবৈধ দখলদারিত্বেও অপচেষ্টা সহযোগিতা না করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকেও জড়ানো হচ্ছে মিথ্যা মামলায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে সুবিধা করতে না পেরে এখন আইজিপি বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন ঐ ভাড়াটিয়া।
সোমবার (২৯ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হামিদ চৌধুরীর পুত্র কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ওসমানী মেডিক্যাল রোডস্থ জান্নাত ফার্মেসীর কথিত স্বত্বাধিকারী গোলাম আজম যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভাড়াটিয়া গোলাম আজম স্বেচ্ছায় আমাদের দোকানের দখল ত্যাগহ করেন দাবী করে কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল জানান, সম্পুর্ণ বেআইনীভাবে গোলাম আজম দোকানের দখল ধরে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই বেআইনী উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই সাবেক ভাড়াটিয়া গোলাম আজম একে একে ৯টি মামলা দায়ের করেন কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল ও তার ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু, ইতোমধ্যে ৬টি মামলা মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে উল্টো ২১১ ধারায় মামলা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল ছাড়াও তার ৩ ভাই কামরুল হুসেইন চৌধুরী মিনহাজ, কামরুল মোমিন চৌধুরী মিনার ও কামরুল নকীব চৌধুরী মাফরুজ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল বলেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে ৩০ শতক ভূমির উপর অবস্থিত পৈত্রিক ১১টি দোকান, দোকানের উপরে ৫ তলা বিশিষ্ট চৌধুরী আবাসিক হোটেল, আলবাহার রেস্টুরেন্ট, জমিদার রেস্টুরেন্ট এবং কয়েকটি বাসার মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল ও তার ৩ ভাই। ২০০৫ সালে লিখিত চুক্তি করে ঐ মার্কেটের ৪নং দোকান ৩ বছরের জন্য ভাড়া নেন নগরীর নবাব রোডের ডা. কামরুল হুদার পুত্র গোলাম মোস্তফা এবং ২০০৬ সালে ৩ নং দোকানটি ৩ বছরের জন্য ভাড়া নেন গোলাম মোস্তফার অপর ভাই গোলাম আজম। চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই দুই ভাড়াটিয়ার সাথে নতুন কোন চুক্তি হয়নি। তারা চুক্তি নবায়ন না করে ভাড়া প্রদান থেকে বিরত থাকে। বছর দুয়েক আগে ঐ দোকানগুলোর পেছনে খালি জায়গায় রেস্টুরেন্ট স্থাপনের জন্য ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৭০ ফুট প্রস্থের একটি ঘর নির্মাণ করেন কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল ও তার ৩ ভাই। এরপর ঐ রেস্টুরেন্টে যাতায়াতের প্রয়োজনে রাস্তা নির্মাণের জন্য গোলাম মোস্তফা ও গোলাম আজমের দোকানটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেন। কিন্তু, এই ভাড়াটিয়ারা দোকান না ছেড়ে নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করেন। অবশেষে ২০১৭ সালে তারা দোকানগুলোর দখল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়।
কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, নির্ধারিত সময়ে দোকানের দখল না ছাড়ায় আমরা স্থানীয় মুরুব্বীয়ান ও ব্যবসায়ী সমিতির দ্বারস্থ হই। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ভাড়াটিয়া গোলাম আজমকে দোকানের দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় কৌশলে ভাড়াটিয়ারা দোকান ঘরের ৮টি তালার উপর আরো ৮টি তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গত ৬ জুন ২০১৮ ইং তারিখে আমাদের বিরুদ্ধে কতোয়ালী থানায় একটি জিডি (নং-৩৪৪) করে। একই ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলাও করে (মামলা নং- কতোলী জি.আর-২৯৬/২০১৮)। কিন্তু, দীর্ঘ তদন্তের পর ঐ অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। ফলে, মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য বাদী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা দায়ের হয়, যা চলমান আছে। এই মামলায় ব্যর্থ হয়ে ভাড়াটিয়ারা আমাদের বিরুদ্ধে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় আরেকটি নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করে, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ফলে, বিজ্ঞ আদালত এই মামলার দায় থেকে আমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। এছাড়া, ভাড়াটিয়ারা আমাদের বিরুদ্ধে দুটি রেন্ট কন্ট্রোল মামলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনায় আরো একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেছে।
লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল বলেন, ভাড়াটিয়াদের দ্বারা একের পর এক মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়ে উপায়ান্তর না দেখে আমরা আবারো এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের নিকট বিচারপ্রার্থী হলে গত ১৭ মে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী আমাদের মার্কেটে গিয়ে ভাড়াটিয়া গোলাম আজমের কাছে কোনরূপ চুক্তিপত্র না থাকায় তাকে দোকানের দখল ছেড়ে দিতে বলেন। ফলে, তারা সে তার সকল মালামাল সরিয়ে নিয়ে যায় এবং সবার উপস্থিতিতে দোকানের দখল আমাদেরকে সমঝিয়ে দেয়। মানবিক কারণে কিছু মালামাল আমাদের আবাসিক হোটেলের দুটি কক্ষে সাময়িকভাবে রাখার সুযোগ দেই। কিন্তু, কুচক্রি গোলাম আজম এরপর গত ২৮ মে আমাদের বিরুদ্ধে কতোয়ালী থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করে (কতোয়ালী জি.আর মামলা নং-২২৩/২০১৯), যা তদন্তাধীন আছে। সুচতুর ও কুটকৌশলী ভাড়াটিয়া গোলাম আজম নিজেকে স্থানীয় মন্ত্রী-এমপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং পুলিশ কমিশনার ও আইজিপি বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে, যাতে আমাদের পরিবারের লোকজন ছাড়াও কতোয়ালী থানার ওসি, স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন পদ্মা ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার এ অভিযোগটি তদন্ত করছেন এবং আমাকে ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মিথ্যা ও মনগড়া জবানবন্দি লিখে তাতে আমার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর নিয়েছেন।
কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল বলেন, বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। উচ্ছেদ হওয়া ভাড়াটিয়ারা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় আবারো দখল নেবে বলে হুমকী দিচ্ছে। এমতাবস্থায় নিজেদের নিরপত্তা দাবী করে স্থানীয় প্রশাসনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন কামরুল হাসান চৌধুরী রুমেল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট জেলা ও মহানগর আ.লীগের যৌথ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

         সিলেটে আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে...

মঙ্গলবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষনা

           সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯...

অবিলম্বে ফুলবাড়ি চুক্তি বাস্তবায়ন করুন —জাতীয় কমিটি

         অবিলম্বে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম)কে দেশ...