সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ গ্রুপিং নয়, ঐক্যবদ্ধ পথচলাই সংগঠনকে শক্তিশালী করবে

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পন্ন হলো সিলেট জেলা যুবলীগের বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার নগরীর ঐতিহাসিক রেজিষ্ট্রি মাঠে ১৬ বছর পর বসে আওয়ামী যুবলীগের কর্মীদের মিলন মেলা। সিলেট জেলার সবকটা উপজেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ ও টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ কর্মীদের গ্রুপিয়ে না জড়ানোর আহবান জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেন, গ্রুপিং যদি করতেই হয়, সেই গ্রুপ হতে হবে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর তাকে নির্বাচন করার আহবান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যাকে নির্বাচন করবেন-তার পরিবারের এবং বিগত আন্দোলন সংগ্রামে নিজের ভূমিকা কি ছিলো তা দেখে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। নতুন নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ পথচলাই যুবলীগকে শক্তিশালী করবে। মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি কোন সময় কোন সংগঠনকে শক্তিশালী করে না। নিজের রাজনৈতিক কর্মকান্ডই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি মাঠে সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার সকাল ১১টায় দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন শুরু হয়। পরে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুবলীগে ধান্দাবাজ-চাঁদাবাজদের কোন স্থান নেই। যুবলীগ একটি সুশৃৃংখল সংগঠন। একমাত্র মেধাবীরাই ঠাঁই পাবেন যুবলীগে। তিনি আরো বলেন, যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব সৃষ্টির কারখানা হচ্ছে যুবলীগ। এর জন্য মেধাবীরাই যুবলীগে মূল্যায়িত হবেন। তিনি বলেন, যুবলীগ কখনো হাইব্রিডদের স্থান দেয় না। যুবলীগ করতে হলে আপনাকে মুজিব আদর্শের উত্তরসূরি হতে হবে। কারণ যুবলীগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জায়গা নয়, যুবলীগ শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড।
সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন-যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোহসিন কামরানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান হিরন, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, মোহাম্মদ আতাউর রহমান, এডভোকেট বেলাল হোসেন, ড. আহমদ আল কবীর, মোতাহার হোসেন সাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদি, ফজলুল হক আতিক, ফারুক হাসান তুহিন, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, ত্রাণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ হায়দার লিটন, সহ সম্পাদক তারেক আল হাসান, মোয়াজ্জেম হোসেন, হাবিবুর রহমান পবন, রবিউল আলম।
শুরুতে পবিত্র থেকে পাঠ করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন দিলীপ কুমার।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে যুব সমাজকে টার্গেট করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে সেই যুবসমাজকে সঠিক পথ দেখাতে কাজ করছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ দেশ প্রেম, বঙ্গবন্ধু, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে নিয়ে ৫ শতাধিক প্রকাশনা রয়েছে যুবলীগের। সেই সবপ্রকাশনা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব যুবলীগ কর্মীদের। দলের কর্মীদের জ্ঞানে মননে অনেক মেধাবী হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন ও শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার ভ্যানগার্ড। দেশ পরিচালনায় আওয়ামীলীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্য রুখতে রাজপথে যুবলীগ ছিলো শক্ত অবস্থানে। তিনি বিএনপি জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় নতুন নেতৃত্বকে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান যুবলীগকর্মীদের।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের পর সিলেট জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ২০০৩ সালে যুবলীগের সম্মেলন হলেও ভোট হয়নি। সমঝোতার মাধ্যমেই ওই সম্মেলনে জগদীশ চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও আজাদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আরে কোনো সম্মেলন হয়নি জেলা যুবলীগের।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রেজিস্টারি মাঠ সংলগ্ন এলাকার চারপাশ বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুনে বর্ণিল হয়ে উঠে। এর আগে সকাল থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে আসেন কর্মী সমর্থকরা। তবে সম্মেলনের সর্বত্র নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছিলো। কাউন্সিলে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সমর্থকরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর করে তুলেন। তবে সম্মেলনে টানটান উত্তেজনা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি ছিলো খুবই শৃংখল। এছাড়া সম্মেলন উপলক্ষে যুবলীগের প্রকাশনা নিয়ে স্টল দেয়া হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

গোয়াইনঘাটে আলীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী সভা

        গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে সংবাদদাতাঃ সিলেট...

আসামীদের পক্ষে দাঁড়াবেন না সিলেটের আইনজীবীরা

        এক্সপ্রেস ডেস্ক :-এক সপ্তাহেও অধরা...

লটারিতে কর্মস্থল নির্ধারণ কক্সবাজার থেকে বদলি হওয়া ৪৬৫ পুলিশের

70       সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক কক্সবাজার জেলা...