সিলেট জেলা আ’লীগের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন আলোচনায় ১৪ নেতা

প্রকাশিত : 26 November, 2019     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে  
  

কাউসার চৌধুরী দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন করে দলের হাল ধরতে শীর্ষ দুই পদে ১৪ নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তারা কাউন্সিলর থেকে দলের শীর্ষ পর্যায়ে লবিং করছেন। তবে ‘ভোট না সমঝোতা’ কোন প্রক্রিয়ায় জেলা কমিটি হবে তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানিয়েছেন, বয়সে তরুণ-সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আগামী দিনের নেতৃত্বে আনা হবে। চাঁদাবাজ, অনুপ্রবেশকারী, সন্ত্রাসী, ভূমিখেকো, কোনো অপরাধীকে কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না। একটি সুন্দর ও সফল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী কর্মীবান্ধব কমিটি উপহার দেয়া হবে।
নেতৃত্বের আলোচনায় যাদের নাম
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে পদ প্রত্যাশী নেতারা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সভাপতি পদে এ পর্যন্ত ৬ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান চৌধুরী, বর্তমান সহ-সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, বর্তমান সহ-সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি, বর্তমান সহ-সভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বর্তমান সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, বর্তমান দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, বর্তমান উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী এবং বর্তমান কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম জোর লবিং করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। শীর্ষ দুই পদ পেতে এ সকল নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন দলের কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথেও লবিং অব্যাহত রেখেছেন। ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে কাউন্সিলর, সমঝোতায় হলে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টিতে থাকতেই নানা চেষ্টা-তদবির করছেন তারা। তবে পদ প্রত্যাশীর ১৪ জনই বর্তমান কমিটির কোনো না কোনো দায়িত্বে রয়েছেন। আবার তারা প্রায় সকলেই ছাত্রলীগ হয়েই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসীন হন বলে জানা গেছে।
থাকবেন ৫০০ কাউন্সিলর
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল’ এর ব্যাপারে ১২১ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, উপজেলা-থানার মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ হাজারে একজন করে কাউন্সিলর উপজেলা-থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক জেলা কাউন্সিলের জন্য নির্বাচিত হবেন। জেলা-আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সকল কর্মকর্তা ও সদস্য কাউন্সিলর হবেন। প্রতি জেলা কাউন্সিল কর্তৃক উহার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে প্রতি উপজেলা-থানা হইতে কাউন্সিলর হিসেবে কো-অপশনকৃত ৫ সদস্য। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন করিবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সংখ্যক কেন্দ্রীয় কাউন্সিলরও নির্বাচন করবে।’ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতা সিলেটের ডাককে জানান, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিলেট জেলায় প্রায় ৫০০ জন কাউন্সিলর হবেন। এই ৫০০ কাউন্সিলারই ভোটে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। তবে কমিটি ভোটে না সমঝোতায় হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পদ প্রত্যাশী একাধিক নেতা সিলেটের ডাককে জানান, কমিটি গঠনে কেন্দ্র যে প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন তারা সেই পদ্ধতি মেনে নিবেন। তবে ভোটে নেতা নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
১৪ বছর পর আবারও সম্মেলন
২০০৫ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সম্মেলনের পর কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভেরও শেষ ছিল না। দল ক্ষমতায় আসার পর সম্মেলন ছাড়াই ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে ৬ জনকে করা হয় উপদেষ্টা। কমিটিতে শ্রম সম্পাদক, ৩৪নং সদস্যের পদ শূন্য রাখা হলেও তা পূরণ হয়নি। আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কমিটি অনুমোদন দেন। এ কমিটি ৮ বছরে ৬ উপজেলায় সম্মেলন করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশের পর ৭ উপজেলার সম্মেলনের দিন ধার্য্য করে জেলা সম্মেলনেরও প্রস্তুতি নেয়া হয়। গতকাল সোমবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জেলার সকল উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন হলেও সকল উপজেলায় কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়নি। তবে ১৪ বছর পরে আবারো জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
তারা কেবলই স্মৃতি
বর্তমান সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর পর সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রায় ৪ বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পর দলের প্রবীণ নেতা আ ন ম শফিকুল হককে সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমকে সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক মায়নকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক মায়ন ২০১১ সালে, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীম ২০১২ সালের ১২ মে ও গত ১৪ আগস্ট সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক মারা যান। বর্তমান কমিটিতে ইফতেখার হোসেন শামীম সহ-সভাপতি ও আ ন ম শফিকুল হক প্রথম সদস্য ছিলেন। সিলেটের রাজনীতিতে, আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন তারা। কর্মীবান্ধব এ সকল নেতারা আগামী জেলা সম্মেলনে কেবলই স্মৃতি।
কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের দাবি
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মী সিলেটের ডাককে বলেন, শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে দলকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রয়োজন। জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ এমন আদর্শবান ও নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন নেতা নির্বাচন করতে চান তারা। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগার বনে যাওয়া এমন কেউ যেন নেতৃত্বে আসতে না পারে এজন্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরদারীও কামনা করেন তারা।
যোগ্যরাই স্থান পাবেন
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্যে যোগ্য এমন নেতারাই কমিটিতে আসবেন। যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্যে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবেন। ক্লিন ইমেজের, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, যারা নেতৃত্বে আসতে পারেননি এমন যোগ্যরা কমিটিতে স্থান পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্রঃ সিলেটের ডাক

আরও পড়ুন