সিলেট এমসি কলেজ অগ্নিকাণ্ড থেকে ধর্ষণকাণ্ড: যা বললেন আজাদ-রণজিৎ

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

উজ্জ্বল মেহেদী সিলেটের টিলাগড়ের বাসিন্দা আজাদুর রহমান আজাদ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টানা পাঁচবারের কাউন্সিলর। ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর নাম রয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে।

রণজিৎ সরকার টিলাগড়ের গোপালটিলার বাসিন্দা। সিলেট জেলা বারের আইনজীবী। সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়। মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সম্মেলন হওয়ার আগে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁকে সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে।
প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন আজাদুর রহমান

সবাই বলছেন, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়ার বিচার হলে আলোচিত এই ঘটনা না-ও ঘটতে পারত। আপনি কী বলেন?

আজাদুর : আমিও বলছি, আমি একমত। আমি মনে করি, আগুনের ঘটনার বিচার হলে এ ঘটনা ঘটত না।

বিচার হলো না কেন?

আজাদুর: কলেজ কর্তৃপক্ষের ঘাপলা ছিল। শুরুতে তারা যে তদন্ত কমিটি করে, সেটি সাত দিন পর প্রকাশ করবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি দুই বছর পরও প্রকাশিত হয়নি। ঘটনার পরই ছাত্রাবাস থেকে মামলা করেই দায়সারা। পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই—কোনো সংস্থা সহায়তা পায়নি। আবার তদন্ত করার ক্ষেত্রেও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। এ জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করতে পারেনি।

পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে অগ্নিসংযোগকারী ও ঘটনার উসকানিদাতা চিহ্নিত হয়। ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সেই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার কী মত?

আজাদুর: এ নিয়ে আমার নয়, আমাদের ভিন্নমত আছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন আছে। শুনেছি, পরিবহনশ্রমিকদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনা, পরিবহনশ্রমিকেরা কী বলবে।

এটা তো ছাত্র কিংবা শ্রমিকের বিষয় নয়, যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁরাই সাক্ষ্য দেবেন। সেই অনুযায়ী হয়েছে। ভিন্নমতটা কোথায়?

আজাদুর: আমার ভিন্নমত নয়, আমাদের রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত। ছাত্রাবাস শিবিরের দখলে ছিল। ওরা বিতাড়িত হয়েছে। তৃতীয় কেউ তো ঘটনা ঘটাতে পারে।
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস
তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আলোকে যাঁরা অভিযুক্ত হয়েছেন, সেটি মানতে রাজি নন?

আজাদুর: আমরা পুনঃ তদন্ত চাই, অপরাধের বিচার চাই। নইলে গণধর্ষণের মতো আরও ভয়ংকর কিছু ঘটবে।

ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কী জানেন, বলুন—

আজাদুর : সবাই যেমন করে শুনেছে, আমিও তেমনই শুনেছি। ওই এলাকায় এ ঘটনাই প্রথম নয়। আরও অন্তত ১০-১২টি রেপ হয়েছে। একটার পর একটা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে একটি। আমি চাই, এই একটি ঘটনার সূত্র ধরে আরও ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক। ছাত্রাবাসের ঘটনার মতো এটাও যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু শুনেছি, ভিকটিমদের নানাভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

তাই নাকি, সেটা কীভাবে?

আজাদুর : শুনেছি, ভিকটিমের ইতিবৃত্ত খোঁজা হচ্ছে। কারা ধরিয়ে দিল, এদেরকেও নানা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সাহস করে বিচারপ্রার্থী হয়েছেন বলেই তো এত বড় ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। আসলে ছাত্রাবাস ও আশপাশ ভয়ংকর জায়গা হয়ে গেছে। এমসি কলেজের আশপাশ একটি দর্শনীয় এলাকা। তরুণ-তরুণীরা বেশি যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু আছে, সেখানে বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড যেতেই পারে। তাঁদের টিলা এলাকায় মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে নানা বিড়ম্বনায় ফেলা হয়। এমনও শুনেছি, টাকা না পেলে এটিএম বুথের কার্ড নিয়ে জিম্মি করে টাকা পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায়। এসব করতে করতে রেপের দিকে গড়ায় ঘটনা।

আপনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। ভয়ংকর জায়গা হলে তো দায় আপনারও আছে। কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আজাদুর: অবশ্যই আমরা এলাকাবাসী বসছি, ঘটনাস্থলে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাব।

টিলাগড় একটি শিক্ষা-অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এমসি কলেজ ছাড়াও সরকারি কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের দুই নেতার কারণে এ এলাকা এ রকম ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে টিলাগড়ে। দুই নেতার একজন আপনি—এ ব্যাপারে কী বলেন?

আজাদুর: অভিযোগ তো করা যায়, কিন্তু প্রমাণ তো করা যায় না। শিক্ষা-অঞ্চলে যে এসব অপকর্ম এখন হচ্ছে, এটা কিন্তু নতুন নয়। বহু পুরোনো। তবে আগে রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা সীমারেখা ছিল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, দেখতাম কলেজের ভেতর কোনো উত্তেজনা বা সংঘর্ষ হলে বাইরে থেকে কেউ যেত না। আবার ক্যাম্পাসের ঘটনার জের ধরে বাইরে কিছুই ঘটত না। এখন উল্টোটা। কলেজের ভেতর বহিরাগত থাকবে, কলেজের ঘটনার জের ধরে ঘরে, দোকানে হামলা করবে। কলেজে বহিরাগত দাপট খাটিয়ে টিলাগড় পয়েন্টে হোটেল-রেস্তোরাঁয় পেট ভরে খাবে, কিন্তু বিল দেবে না। স্টাইল করে চুল কাটবে, টাকা দেবে না। টাকা চাইলে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে বলবে রাজনৈতিক। আর সাংবাদিকেরা কোনো বাছবিচার করেন না। পরদিন আপনি না করেন, আপনার পত্রিকায় বলা হবে, আজাদ গ্রুপ করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে ঘটিয়েছে, তাদের জীবনে দেখিনি আমি। অযথা অভিযোগ, দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। সুত্র-প্রথম আলো


  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

আরও পড়ুন

মৌলভীবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিদায়ী সংবর্ধণা প্রদান

         এইচ এম সামাদ,মৌলভীবাজার: দুর্গম গতি,নব...

অন্ধকার শেষ, এখন আমরা সমৃদ্ধির পথযাত্রী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: পরিকল্পনা মন্ত্রী...

সম্প্রীতির মাধ্যমেই জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে

         সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘ইলেকশন...

তওবা কি? এবং কি কি করলে তাওবা কবুল হয়?

         ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: আল্লাহ অবাধ্যতা...