সিলেট অঞ্চলে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা

প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউনুছ চৌধুরী করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে বার বার তাগাদা দেয়া হলেও এর প্রতি সিলেটের সর্বত্র উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আযহার পর থেকে মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটা কমে গেছে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব রক্ষারও কোন বালাই নেই। পর্যটন স্পট, মার্কেট, বিপণী বিতান, হাট-বাজার সর্বত্র মাস্ক ছাড়াই চলছে মানুষের অবাধ যাতায়াত। অনেক মসজিদেও এখন মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, মাস্ক ব্যবহার না করা একটি অপরাধ। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রাখা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানতে বাধ্য করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালসহ সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়, হাট-বাজার মার্কেটসহ জনসমাগম স্থানে সকলের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এমনকি হকার, রিকসা ও ভ্যান চালক, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মরত ব্যক্তি এবং গণপরিবহনের চালক ও সহকারীসহ সকল প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠানে আগত ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্ব থেকেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে। ঈদুল ফিতরে মানুষ কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হলেও এবার ঈদুল আযহার আর তার তোয়াক্কা না করেই মার্কেটসহ পশুর হাটে নামে মানুষের ঢল। ঈদের পরেও মানুষের মধ্যে সেই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেবল গ্রাম নয়, শহরেও মাস্ক না পরেই মানুষ দল বেধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। পর্যটন স্পটগুলোতে একসাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সবাই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে অনেকে মাস্ক ছাড়াই যাচ্ছেন। এদিকে, মসজিদ গুলোতে নামাজ আদায়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে নগরীর একটি পাড়ার মসজিদে দেখা যায়, মসজিদের অধিকাংশ মুসল্লীই মাস্ক ছাড়া। ওই মসজিদের জুমার নামাজের একটি কাতার গুনে দেখা যায়, ২৩ জন মুসল্লির মধ্যে মাত্র ৭ জন মাস্ক পড়েছেন। বাকি ১৬ জনই মাস্ক ছাড়া। এর মধ্যে অনেক বয়স্ক লোকও মাস্ক ছাড়া মসজিদে এসেছেন। অবশ্য, ওই মসজিদে সামাজিক দূরত্ব মেনে জামাত আদায় করা হয়েছে।
সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই এখন মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছেন। মাস্ক ছাড়াই সড়কের পাশে দাঁড়িয়েই স্বাভাবিকভাবেই চলছে গল্পগুজব। সবজি ও ফল বিক্রেতা, রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের আগে মাস্ক ব্যবহর করতে দেখা গেলেও এখন অনেককেই মাস্ক ছাড়াই দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ লেখা থাকলেও মাস্ক ছাড়াই কেউ কেউ প্রবেশ করছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্মচারীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মাস্ক ছাড়া যারা আসেন তাদের তারা বলেন মাস্ক ছাড়া চলবে না। তখন তিনি বলেন, মাস্ক আনতে ভুলে গেছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাই ক্রেতাকে বেশি চাপ দেয়া যায় না। একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, লাইনে ২৩ জন দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৭ জনকে পাওয়া যায় যারা মাস্ক পরেছেন।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, শহরতলী ও গ্রামীণ এলাকায় মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব রাখার বিষয়টি এখন কোন আলোচনার মধ্যেই নেই। সবাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজকর্ম করছেন। মাস্ক বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি তাদের কোন আগ্রহ নেই এবং এসব নিয়ে কেউ কোন কথাও বলেন না। যারা সামাজিক দূরত্ব বা মাস্ক ব্যবহারের জন্য বলেন বরং তারাই লজ্জা পান বলে জানান গ্রামের এক তরুণ। শহরতলীর জালালাবাদ থানার মইয়ারচর এলাকার গ্রামের মসজিদের ইমাম বলেন, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বের কথা বলার মতো কোন পরিবেশই নেই। গ্রামের মানুষ এসব বুঝেন না।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কমছে না। যদি সতর্ক না হই ; তবে সংক্রমণের বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাব আমরা।
একাধিক সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণের শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এমনকি ক্ষেত্রে বিশেষে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু, সাম্প্রতিক কালে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হওয়ায় মানুষের মধ্যে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতা চলে এসেছে।
সিলেট সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন বনিক মাস্ক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, নিজের সুরক্ষার জন্য মাস্ক। যিনি মাস্ক ব্যবহার করছেন না তিনি ও তার পরিবারই প্রথমে ঝুঁকির মুখে পড়বেন। মাস্ক ব্যবহার, একটু দূরত্ব রেখে চলা এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়টি আমরা পরস্পরের সাথে বিনিময় করবো। একজন অপরজনকে বলবো বা স্মরণ করিয়ে দেব। যাতে বিষয়টি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। একই সাথে শাস্তি-জরিমানা করে মানুষকে বাধ্য করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ঈদের পর থেকে মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার না করা ও দূরত্ব বজায় না রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ যাতে মাস্ক ব্যবহার করেন; সেজন্য প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রাখা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে।
তিনি বলেন, জনসাধারণকে এটা বুঝতে হবে মাস্ক ব্যবহার না করা একটি অপরাধ। একই সাথে মাস্ক ব্যবহার না করা নিজের, পরিবারের এবং সমাজের জন্য মৃত্যুঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তাই একটু অস্বস্তি হলেও ধৈর্য ধরে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

তাসমিন এন্ড জেসমিন টেইলার্সে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : দক্ষিণ...

প্রবীনদের মধ্যে কসমোপলিটন রোটারী ক্লাবের অর্থ প্রদান

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : রোটারী...

সড়ক দূর্ঘটনায় ২জন নিহত সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লি; এর শোক

         সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের তরুণ...