সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পূর্বাভাস

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মেঘালয়সহ বাংলাদেশের মেঘনা অববাহিকা, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সময় পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে সিলেটে শনিবার ( ৪ মে) সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ সেন্টারের (এফএফডব্লিউসি) বিশেষ এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে। প্রবল বর্ষণের ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, ব্রক্ষ্মপুত্র, কংস, জাদুকাটা এবং তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ভারত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পানি নেমে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা, মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই; সুনামগঞ্জের জাদুকাটা, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা হতে পারে।

এতে বলা হয়, প্রথম দফা ২-৩ মে ভারতের মেঘালয় অববাহিকায় এবং ২য় দফা ৬-৭ মে ভারতের মেঘালয়সহ বাংলাদেশের মেঘনা অববাহিকা, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ সেন্টারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফণীর কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এই সতর্কীকরণ শুধু নদীর আশপাশের এলাকার জন্য নয়, হাওর এলাকার জন্যও প্রযোজ্য। এরই মধ্যে সিলেটের সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ফণীর প্রভাবে মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। মাইকিং করে কাওয়াদীঘিসহ আশপাশের এলাকার কৃষকদের হাওরের পাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেটের জিলকার হাওর, চাতলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা একটু আগে ভাগে ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। তারা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এদিকে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রথম দফা পাহাড়ি ঢলে পিতা পুত্র নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। পুত্রের লাশ দুই দিন পর পাওয়া গেলেও এখনো পিতা নিখোঁজ রয়েছেন। কানাইঘাটেও এক যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

আরও পড়ুন