সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসবের পর্দা উঠছে আজ

প্রকাশিত : 05 November, 2019     আপডেট : ১ মাস আগে  
  

সংস্কৃতির একটি অন্যতম দিক উৎসব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘উৎসব’ প্রবন্ধে বলেছেন : ‘উৎসবের দিনে আমরা যে সত্যের নামে বৃহত্তর লোকে সম্মিলিত হই তাহা আনন্দ, তাহা প্রেম। উৎসবের দিন সৌন্দর্যের দিন। এই দিনকে আমরা ফুল-পাতার দ্বারা সাজাই, দীপশলার দ্বারা উজ্জ্বল করি, সঙ্গীতের দ্বারা মধুর করিয়া তুলি। এই রূপে মিলনের দ্বারা, প্রাচুর্যের দ্বারা, সৌন্দর্যের দ্বারা আমরা উৎসবের দিনকে বছরের সাধারণ দিনগুলোর মুকুটমণি স্বরূপ করিয়া তুলি।’ কবি উৎসবকে নিয়ে যেভাবে তা অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সেভাবেই উৎসবের মুকুট পরেছে সিলেট নগরী।
১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর অর্থাৎ আজকের দিনটিতে কবিগুরু এই শিল্পের শহর, কবিতার শহরে তাঁর দৃপ্ত পা রেখেছিলেন। ঐতিহাসিক সেই দিনটি আজ শত বছরে উপনীত হয়েছে। আর সেই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে সিলেট এখন অন্যরকম এক উৎসবের নগরী। কবির স্মৃতিধন্য সেই শিল্পিত শহর এখন কবিতার নগরীতে সেজেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন স্থানে চলছে আবৃত্তির মহড়া। প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক সংগঠনের সকল বয়েসী শিল্পী একই প্লাটফর্মে জড়ো হয়েছেন। শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে সবখানে। চলছে দলীয় নৃত্যের প্রস্তুতি। মাছিমপুরে অন্যসব অনুষ্ঠানের মতো থাকবে রাখালনৃত্য ও রাসনৃত্য। সিংহবাড়ীতে অনুশীলন চলছে গানের আসরের। আজ বিকেল তিনটায় ক্বীনব্রীজের নিচে চার দিনব্যাপী সেই উৎসবের পর্দা উঠবে।
সিলেট এমনিতে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে একটি দৃষ্টিনন্দন জনপথ। তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ আগমনের স্মৃতিকে ঘিরে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। উৎসবকে সার্থক করে তুলতে সিলেটের প্রায় সকল শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সিলেটে রবীন্দ্রনাথ আসার পেছনে যে সকল সংগঠন বিশেষ অবদান রেখেছিলো অথবা যেসকল স্থানে কবির পদচিহ্ন পড়েছিলো সেই সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে বইছে উৎসবের আমেজ। তার মধ্যে বিশেষভাবে ছিলো শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজ, এম.সি কলেজ, সিংহ বাড়ী এবং মাছিমপুর এলাকা। উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে কবির স্মৃতিজড়িত এম.সি কলেজে নির্মাণ করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের একটি ম্যুরাল। শিল্পী সত্যজিত সেই কাজটি করেছেন। যে চাঁদনীঘাট দিয়ে কবি সিলেটে প্রবেশ করেছিলেন সেই স্মৃতি ধরে রাখতে ক্বীনব্রীজের নিচে একটি শ্বেত পাথরের ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। সেই ম্যুরালে স্থান পেয়েছে শ্রীভূমি সিলেটকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সেই অমর পঙক্তি। সেখানে কবি’র একটি স্ক্যাচও স্থান পেয়েছে। স্ক্যাচ সম্বলিত এ ম্যুরালের ডিজাইন করেছেন অরূপ বাউল আর কাজটি বাস্তবায়ন করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ‘শ্রীভূমির রবীন্দ্রনাথ’ নামে একটি সম্পাদনা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে নাগরী প্রকাশন। এটি সম্পাদনা করেছেন বিশিষ্ট কবি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জফির সেতু। একইভাবে উৎস প্রকাশন থেকে বের হয়েছে নৃপেন্দ্রলাল দাশ’র ‘শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থ। এছাড়া নতুন সাজে সেজেছে বন্দরবাজারস্থ ব্রহ্ম মন্দির, চৌহাট্টাস্থ সিংহবাড়ী। শহরের অনেকস্থানে ফেস্টুন, ব্যানার শোভা পাচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোও সেজেছে ভিন্ন আবহে। তবে রবি ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানটি পৃথকভাবে করছে সিলেট ব্রাহ্ম সমাজ। তাদের দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগেই হবে। উৎসবে যোগ দিতে দুই বাংলার রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীরা সিলেট আসছেন। চার দিনব্যাপী ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ সফল করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন



ট্রাফিক সপ্তাহ বাড়ল ৩ দিন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  চলমান ট্রাফিক...

সামাদ আজাদ ও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মতো সিলেটের সুনাম ধরে রাখতে চাই

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব...