সিলেটের মানুষের জীবনযাত্রা লকডাউন

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

তাসলিমা খানম বীথি:
সিলেটের মানুষের জীবনযাত্রা লকডাউন হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল কিংবা রাত চারদিকে জনশূণ্যতা। যে শহরে রাজপথ অলিগলিতে থাকতো লোকে লোকারণ্য। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পাল্টে গেলো ব্যস্তময় জীবন যাত্রা লকডাউন হয়ে পড়েছে প্রাণের শহর। সিলেট নগরীর মানুষের জীবন ঘরবন্দি দৃশ্য কিছুদিন আগেও এরকম ছিলো না কিংবা পৃথিবীর কোন মানুষেরই কল্পনাও করিনি পুরো বিশ্ব থমকে যাবে একটি করোনা ভাইরাসের কাছে।
আজ শনিবার সকালটি ছিলো নিরব নিস্তব্ধ। মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে নিরবতা মধ্যে দু-একটি রিকশা, মোটরসাইকেল ছুটে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। জনশূন্য রাস্তা ফুটপাত, শপিংমহল আর রেস্তরা। করোনাভাইরাসের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রনে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে সরকারঘোষিত টানা ১০ দিনের ছুটির কারণে সিলেটবাসীর প্রাণের শহরটি আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। লোকজন কয়েকদিনেই ঘরবন্দি থাকতেই হাঁপিয়ে উঠেছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেই অনেকেই আতংকে থাকে। ঘর থেকে বের হলেই মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরে বের হন। সচেতন ও সতর্ক হয়ে ওঠেছে সিলেটের মানুষ।
সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী জানান, সরকারের পক্ষে থেকে পরাষ্টমন্ত্রী উদ্যোগে দারিদ্র দিনমজুর মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে সেই খাদ্য বিতরনে সাধারন অসহায় মানুষের মধ্যে পৌছানো নিশ্চিত করতে হবে।

চটপটি বিক্রেতা আবু বক্কর জানান, ব্যবসায় বের হতে না পারায় সংসার চালাচ্ছে অনেক কষ্ট করে। হাতে টাকা নেই কিভাবে বাজার করবে। তাই ঋন করে সংসার টেনে নিচ্ছে। রাস্তায় চটপটি ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হলেই সেনাবাহিনীরা দেখলেই বলেন বাবারে ঘরে চলে যাও।

এদিকে সিলেটে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা কমাতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হলেই তাকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। করোনা থেকে বাচঁতে ঘরে থাকার জন্য নগরীর প্রধান সড়কে সেনাবাহিনীর প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং করে সিলেটবাসীকে কোনো ধরণের গুজবে কান না দিয়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার এবং সচেতন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে করোনাভাইরাস আতংকময় দিনেও আশার বানী শুনা যাচ্ছে। মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত হয়নি। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৪ জন। এই নিয়ে কোভিড ১৯ সংক্রমিত মোট ১৫ জন সুস্থ হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা রয়েছে ৫ জন।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১২টা ১০ মিনিটে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
এদিকে সিলেটে প্রবাসী ও তাদের স্বজনসহ শনিবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১১৮৪ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টানে আছেন ৬৭ জন। তার মধ্যে সিলেটের ১জন।

আরও পড়ুন