সিলেটে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন এ অফিসের উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলায় সুপরিসর ঠিকানায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর আম্বরখানা দর্শনদেউড়িস্থ আর্কেডিয়া কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন এই কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে এক্সাম (পরীক্ষা) সেন্টার। স্থাপন করা হয়েছে একটি সমৃদ্ধ রিসোর্স সেন্টারও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা গ্রহণ, আইইএলটিএসসহ অন্যান্য পরীক্ষা পরিচালনা ব্রিটিশ কাউন্সিল এখন আরো সহজে শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা সহজতর করতে সক্ষম হবে।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল শুধু একাডেমিক বিষয়ে নয়, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমেও স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে। বিশ্বজনীন সংস্কৃতি মেধা ও জ্ঞানের সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিলেটে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিবছর ৭ হাজারের বেশি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা সেবা ছাড়াও গত ১৪ বছর ধরে ব্রিটিশ হাই কমিশন, ইউকেএইড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যৌথভাবে সিলেটে ব্রিটিশ কাউন্সিল নানা ধরণের সামাজিক সচেতনতামূলক প্রকল্প পরিচালনা করছে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের সিলেট সেন্টার ইনচার্জ কফিল হোসাইন চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও ব্রিটিশ কাউন্সিলের ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য জেমস ক্রোনিন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম, ডিরেক্টর এক্সামস সেবাস্তিয়ান পিয়ার্স বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে ব্রিটিশ কাউন্সিল নিজস্ব কার্যালয় চালু করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সকল ধরণের বিশ্বমানসম্পন্ন সুযোগ ও উন্নত সেবার মাধ্যমে আমার প্রত্যাশা সিলেটের মানুষ এখন আগের চেয়েও বেশি উপকৃত হবেন। আমি নিশ্চিত যে, সিলেটে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপস্থিতি সিলেটের মানুষ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, সিলেটের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের বিশেষত যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত সুনিবিড়। এ কারণে সিলেটে ব্রিটিশ কারিকুলামের শিক্ষা ব্যাপক জনপ্রিয়। ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করলে সিলেটের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য জেমস ক্রোনিন বলেন, বিশ্ব এখন আগের চেয়েও বেশি বৈশ্বিক হয়ে উঠছে এবং বেশ দ্রুতগতিতে একটি জায়গায় মিলিত হচ্ছে। পাশ্চাত্যের কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজে বসবাসের জন্য নিজেকে মানিয়ে নিতে সিলেটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যের শিক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো বেছে নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সিলেটের প্রবাসীদের কারণে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সিলেট এখন অন্যতম সমৃদ্ধ শহরগুলোর একটি। এর ফলে এখানকার মানুষ যুক্তরাজ্যের সনদের সর্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন। এক্ষেত্রে, আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সিকিউরড ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং (এসইএলটি)- এর জন্য বর্তমানে সিলেট বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এসইএলটি আবশ্যক বিষয়।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম বলেন, সিলেটের মানুষের জন্য আরও সমৃদ্ধ সেবা ও উন্নতমানের সব সুযোগ প্রদানই সিলেটে ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের উদ্দেশ্য। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে, দেশের অন্যান্য শহরেও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সেবার সম্প্রসারণ ঘটানো।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ব্রিটিশ হাই কমিশনের প্রতিনিধি, সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে কাজ করে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল। পৃথিবীর ১শ’টিরও বেশি দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল শিল্প, সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষা, শিক্ষা এবং সমাজ গঠনে কাজ করছে। অনলাইনে, ব্রডকাস্ট ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে গত বছর ব্রিটিশ কাউন্সিল সরাসরি ৬৫ মিলিয়ন এবং সর্বোচ্চ ৭শ’ ৩১ মিলিয়ন মানুষের কাছে সেবা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। যেসব দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল কাজ করে সে সব দেশে যুক্তরাজ্যের সাংস্কৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি, সম্পর্ক নির্মাণ ও আস্থা অর্জনে ব্রিটিশ কাউন্সিল জীবন পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিবাচক অবদান রাখছে। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ কাউন্সিল রয়্যাল চার্টার ও ইউকে পাবলিক বডি দ্বারা পরিচালিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা। এর কার্যক্রম পরিচালনায় ১৫ শতাংশ অনুদান সহায়তা প্রদান করে যুক্তরাজ্য সরকার।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : প্রবাসে গৌরবে সিলেটীরা

আরও পড়ুন

সাহিত্য চর্চা মানুষের মন ও মননের দোয়ার খুলে দেয়

         তাসলিমা খানম বীথি: সৃজনশীল সাহিত্য...

ব্লাড ব্যাংক ও আলো রক্তদান সংস্থার উদ্যোগে ব্লাড ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: গোলাপগঞ্জ থানা...

বড়লেখায় সাইদুলের বাড়ি থেকে মায়া হরিণের চামড়া উদ্ধার

         বড়লেখায় প্রশাসনের অভিযানে পলিথিন আটকের...