সিলেটে দেখার ও করার মতো অনেক কিছুই আছে – মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত : 23 October, 2019     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার বলেছেন রাতারগুলের মতো বাস্তুসংস্থানগুলো সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি রাষ্ট্রদূত বলেন, সিলেটে দেখার ও করার মতো অনেক কিছুই আছে।  রাতারগুলের মতো বিভিন্ন সংরক্ষিত প্রজাতির আবাসস্থল এবং মানুষকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার মতো পরিবেশগত সেবা দেয়। সিলেটে অবস্থানকালে আমার ‘রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র’ সংরক্ষণ এলাকা’ ঘুরে দেখারও সুযোগ হয়েছিল। আমি নৌকায় চড়ে এলাকাটি বেড়িয়েছি এবং জলাভূমির বনটির দারুণ উদ্ভিদ এবং প্রাণী বৈচিত্র দেখেছি।
বুধবার সকালে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সাংবাদিকের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় সফলতা অব্যাহত রাখা এবং প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয় ধরনের দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোর সুরক্ষায় নেতৃত্বদানকারী যৌথ পরিচালনা কমিটিগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। আমি এই অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, শেভরনের মতো আমেরিকান কোম্পানিগুলো কেবল যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা নয়, এ দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে একটি বড় নিয়োগকারী হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, শেভরন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য কাজ করছে। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে-এ সফরে তা দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন এবং অন্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখুক এবং এ দেশের অর্থনীতিতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করুক। এতে ক্রমেই আরও বেশিসংখ্যক লোকের সঙ্গে সমৃদ্ধি ভাগ করে নেওয়া যাবে এবং আমাদের উভয় দেশই উপকৃত হবে।’
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার সকালে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সিলেট অঞ্চলে মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম এবং অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলির বিরুদ্ধে গেল গ্রীষ্মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, মানবপাচার মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা এবং পাচার থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের বিভিন্ন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পাচারকারীরা যে মুনাফার লোভে অসহায় লোকদের শোষণ করা চালিয়ে যাচ্ছে তার সুযোগ বানচাল করে দিতে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আমি ও বিভাগীয় কমিশনার আলোচনা করেছি। এর মধ্যে ছিল ফৌজদারি আদালতে পাচারকারীদের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়।
তিনি বলেন, শেভরনের মতো করে এলাকায় নতুন চাকরি সৃষ্টির উপায় অনুসন্ধান করা, রাতারগুলের মতো বিশেষ অঞ্চলগুলো সংরক্ষণ করা বা মানবপাচার বন্ধ করা আমাদের অঙ্গীকার।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সিলেট ত্যাগের সময় আমার বার্তাটি হচ্ছে: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নতুন নতুন প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এমন একটি সময়ে কোম্পানিগুলোর জন্য উš§ুক্ত বিনিয়োগ এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেসব নীতি এবং মূল্যবোধ বাংলাদেশের লক্ষ্যণীয় প্রবৃদ্ধিকে সম্ভব করেছে সেগুলোকে জোরদার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশকে একত্রে কাজ করতে হবে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি জনগণের প্রতি আমাদের দূরকল্প ও অঙ্গীকার।”

আরও পড়ুন