সিলেটে দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ৪ মাস আগে  
  

সিলেটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্নার ইতিবাচক সাড়া ফেলছে। ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগে প্রায় দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে এই কর্নার তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশে পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইউনিয়নের বিদ্যালয়ে এই কর্নার তৈরির কাজ চলছে। এসকল কর্ণারে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের জন্মকথা, গৌরবের রক্তাক্ত ইতিহাস। অধিকাংশ কর্নার তৈরির করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুল।
২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে সিলেটে এই কাজ শুরু হয়। প্রতিটি উপজেলা পরিষদ এই কর্নার তৈরির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গত দুই বছরে জৈন্তাপুর, বালাগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক প্রাইমারি এবং হাইস্কুলে এই কর্নার হয়েছে। প্রত্যেক কর্ণারে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ পাল জানান, ‘সরকারের নির্দেশনা ছিলো প্রতিটি স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার করা। আমার উপজেলায় ১৩৬টি প্রাইমারি স্কুলে সরকারিভাবে এই কর্নার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার দুটি হাইস্কুলেও এই কর্নার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতের নাগালে সহজ উপায়ে জানতে পারছে বাংলাদেশকে, বঙ্গবন্ধুকে।’
প্রতিটি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের কর্ণারে স্থান পেয়েছে- প্রতিটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের আগুনঝরা দিন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৯ মাস বাঙালি জাতির প্রতিরোধের পর্ব, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মাহুতি, লক্ষ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম, ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ। আছে মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিব নারায়ণ দাশ এবং পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসানের নাম। আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পোস্টার, শহীদ বুদ্ধিজীবী, ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায় ১৫ আগস্ট, ঢাকার কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, আইয়ুব খানের পতনের দাবিতে মিছিল করার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আসাদ, সাত বীরশ্রেষ্ঠ, ভাষা শহীদ, মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ, অস্ত্র সমর্পণ ও ১৯৭১ সালের চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধ। উল্লেখিত প্রতিটি সময়, ঘটনার পেছনের গল্প লিখিত রয়েছে সেই কর্নারগুলোতে। গৌরবগাঁথা গল্পের সাথে আছে প্রতিটি ঘটনার ছবি।
বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসারের অবর্তমানে দায়িত্বে থাকা সহকারী ভূমি অফিসার সুমন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার উপজেলার ২টি স্কুলে এই কর্নার হয়েছে। যে কক্ষে কর্নার রয়েছে সেখানে একটি সাউন্ড বক্স রাখা আছে। শিক্ষার্থীরা যখন ওই কক্ষে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে ইতিহাস পড়ে তখন জাগরণের গান বেজে ওঠে। একই সাথে শরীরে শিহরণ জাগায় সাউন্ডে বেজে ওঠা ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। এতে নতুন প্রজন্মরা দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।’
সিলেটে যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্নার হয়েছে তার অধিকাংশ কাজ করেছে সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুল। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চিত্রশিল্পী হিমন বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে কিছুই জানে না। সরকার খুব সহজে তাদেরকে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি গোটা সিলেটে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কর্নার করার পরিকল্পনা চলছে। অচিরেই সেটি আলোর মুখ দেখবে।
পশ্চিম জাফলং হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ জানান, কর্নার নির্মাণের ফলে শিশুরা সহজে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারছে। কারণ বই পুস্তকে সীমাবদ্ধতা থাকায় সব ঘটনা তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই কর্নার থাকায় শিশুরা ছবিসহ মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় দিনগুলোর কথা জানতে পারছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই কর্নার প্রতিটি স্কুলে করা দরকার। এ প্রসঙ্গে কথা হলে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দির লস্কর বলেন, ‘এটি সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। জানার সব উপকরণ থাকলে অবশ্যই শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকশিত হবে এবং এ ব্যাপারে তারা সচেতন হবে। তবে একে ধরে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’

আরও পড়ুন



মাদক নির্মূল হোক, মানবাধিকার নয়

লুৎফুর রহমান তোফায়েল: আমাদের দেশে...

সিলেটের মানুষ আবারও বিপুল ভোটে আরিফুল হককে বিজয়ী করবে

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও...

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সংশোধন করুন

হজরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আওয়লীয়...