সিলেটে জন আকাঙ্খার নাগরিক সংলাপ

প্রকাশিত : 23 November, 2019     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে  
  

নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ, সিলেট এর উদ্যোগে শনিবার সকালে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নাগরিকদের নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। নগরির একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ এর প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম। সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক নাজমুল হুদা অপুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগরীর সমন্বয়ক অমর ফারুক। যুগ্ম-সমন্বয়ক এডভোকেট নাজমুল ইসলাম ও এডভোকেট হুসাইনুর রহমান লায়েছ এর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক নাছির উদ্দিন, সাংবাদিক এনামুল হক, প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানজিল হাসান ও রিপন আহমদ, জাহাঙ্গীর আহমদ, ব্যবসায়ী আম্বিয়া হুসাইন, মিলাদ আহমদ চৌধুরী, জয়া দাস।

গত সাত মাস ধরে আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ছুটে বেড়িয়েছি। নারী, পুরুষ, মেহনতী জনতা, সর্বস্তরের পেশাজীবি, জ্ঞানী, গুণীদের সাথে দেখা করেছি। তাদের কথা শুনেছি। আমরা উদারনৈতিক ধারা ও আদর্শিক ধারার সমন্বয়ে একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবছি। যেই দলে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। আমরা কোন মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে নাগরিকদের বিভক্ত হতে দেবনা। আমাদের দলের মূলনীতি হবে মানুষের অধিকারের জন্য  সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। দেশ এবং ধর্ম নিয়ে কোন বিভাজন আমরা চাইনা। দেশ এবং ধর্ম হবে সকল বিতর্কের উর্ধে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনাপত্রে উল্লিখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ এই  তিন অঙ্গীকার হবে বাংলাদেশ কে মেরামতের মূলনীতি। ধর্মেীয় মূল্যবোধ হবে আমাদের নৈতিক মনোবলের উৎস। আমাদের প্রতিটি কর্মীকে রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যবস্থা থাকবে। তাদের কে উদারতা, মানবতা, নৈতিকতা ও যুক্তিবোধের পাঠে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ার ব্যবস্থা থাকবে।

আমাদের দল ক্যাডার ভিত্তিক হবেনা। সর্বত্র নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে গণতান্ত্রিক ভাবে। আমরা মনেকরি আজ সবার আগে দরকার নিজেদের বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমরা যদি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা, দেশ ও ধর্ম নিয়ে কোন বিভেদ বিতর্কে লিপ্ত না হবার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারি তাহলেই কেবল জাতীয় ঐক্য সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিগত দিনে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শ্লোগান তুলে রাজনীতি করেছেন, তাদের হাতেই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার  সবচাইতে বেশী পদদলিত হয়েছে। আজও মানুষকে পেয়াজ আর লবনের জন্য হাহাকার করতে হয় কেন ? মতাদর্শিক দ্বন্ধ আর প্রতিহিংসা জাতীর অগ্রগতির অন্তরায় । তাই আমরা মতবাদ আর তত্বের রাজনীতির বাইরে একটি নবার জন্য উন্মুক্ত রাজনৈতিক প্লাট ফর্ম করতে চাই ।

আমরা জানি ধর্ম মানুষকে ন্যায়বান ও মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়। আমরা সবাই দাবী করি বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাহলে কেন আমাদের দেশের প্রতি পদে পদে দুর্নীতি ও অন্যায়? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরারের মত ছেলে বর্বরোচিত কায়দায় খুন হয় আর মাদ্রাসায় নুসরাতের মত মেয়েরা পুড়ে মরে? গলদ টা কোথায়? সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যদি রাজনীতি কে শুদ্ধ করার পদক্ষেপ না নিয়ে ঘরের দরজা আটকে বসে থাকি তাহলে সাগর-রুনির মত বেডরুম ও আমাদের জন্য নিরাপদ থাকবেনা।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, সকল রাজনৈতিক দল মিলে একটি বালুর ট্রাকও সরাতে পারেনি। কিন্তু এদেশের তরুণ কিশোররা রাষ্ট্রের মেরামত এবং কর্তাব্যক্তিদের গাড়ির লাইসেন্স চেক করতে গাড়ি আটকে দিয়েছিল। সুতরাং তরুণদের নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, এজন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ এই তিনটিই হবে আগামীর দেশ গড়ার হাতিয়ার।

আরও পড়ুন