সিলেটে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিয়েছেন

,
প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২১     আপডেট : ৬ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গণটিকাদান কর্মসূচির প্রথমদিনে শনিবার সিলেটে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়ার সময় সীমা থাকলেও দুপুর দেড়টার আগেই অনেক কেন্দ্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা শেষ হয়ে যায়। তবে, এই কর্মসূচি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার আওতায় আনতে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৪১৯টি কেন্দ্রে ১১৩৭টি বুথে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ৩টি করে মোট ৮১টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় নগরীর রেড ক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি।

ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সকাল থেকেই কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সিলেট নগরীর টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। নগরীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে সকাল ৮টা থেকেই মানুষের দীর্ঘ লাইন। জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে কেন্দ্রেই রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিচ্ছেন মানুষ। পুলিশের সাথে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্থানীয় ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছেন। অনেককেই স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, সহকর্মী ও পরিবারের স্বজনদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে হাজির হন। প্রবীণ, মধ্যবয়সী ও নারীরা বেশি টিকা নিতে আসতে দেখা গেছে । প্রত্যেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের এক কপি অনুলিপি সঙ্গে এনে টিকা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। শহর ছাড়াও গ্রাম এলাকার মানুষ প্রথমদিন গণটিকা নিয়েছেন।

সিলেট নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ে ছেলেকে সাথে নিয়ে গিয়ে টিকা দিয়েছেন ষাটোর্দ্ধ আছিয়া বেগম। তিনি জানান, জাতীয় পরিচয় পত্রের দুই কপি অনুলিপি সাথে করে নিয়ে কেন্দ্রে রেজিস্ট্রশন করেছেন। এরপর তাকে টিকা দিয়ে একটি কপি তারা রেখে দিয়ে একটি টিকার ফরম পূরণ করে দিয়েছে। আগামী ডোজ নেওয়ার তারিখ মোবাইলে এসএমএস করে জানাবে বলেছে। আছিয়া বেগম জানান, বাসার কাছেই টিকা কেন্দ্র তাই রেজিস্ট্রশনের ঝামেলা এবং দূরে যাওয়ার ঝামেলা হয়নি। সহজেই তিনি টিকা দিতে পেরেছেন।

তবে বয়সের কারণে প্রথম দিন কেন্দ্রে গিয়েও টিকা দিতে পারেননি অনেকে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় মুদি দোকানদার আজমল মিয়া জানান, তিনি টিকা কেন্দ্র থেকে ফিরে এসেছেন। তার বয়স ২৮ বছর। তাকে বলা হয়েছে প্রথম দিন বয়স্ক, নারী, পুরুষ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরে আরও দুইদিন দেওয়া হবে। তিনি তখন আসলে টিকা নিতে পারবেন।

নগরীর কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা মানুষের প্রচন্ড ভিড়। পুলিশ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলার কাজ করছেন। তবে টিকা নিতে আসা প্রত্যেকেরই মুখে মাস্ক দেখা গেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকার্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, সিটি কর্পোরেশনে গতকাল শনিবার থেকে শুরু করে তিনদিন ৮১টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৩শ’জন মানুষকে এই টিকা দেওয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা নিতে পারবেন। সময়ের আগে টিকা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীদিন আবার দেওয়া হবে। প্রথমদিন বয়স্ক নাগরিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী দুই দিন নির্দিষ্ট বয়সের সবাই পাবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, সিলেট বিভাগের প্রতিটি ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে বুথ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চার জেলায় মোট ২লাখ ৩৫ হাজার ৫শজন মানুষকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথমদিন গতকাল শনিবার ভালোভাবে ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়েছে। যারা দিতে পারেননি তাদেরকেও টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে, গতকাল শনিবার সিলেট নগরীর রেড ক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, বাংলাদেশে টিকার কোন সংকট নেই। দেশের সকল নাগরিকই কোভিড-১৯ টিকা পাবেন। এনিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। সরকারের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকার মজুদ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে টিকার ব্যবস্থা করছে। সামনে আরো প্রচুর টিকা দেশে আসবে। ‘জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’কে যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে টিকা নিতে হবে।

সিলেটে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ পিপিএম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্মসচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিসিক কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাট, সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূর আজিজুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায়, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, সিলেট রেডক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, সদস্য ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জব্বার, সোয়েব আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর অন্যান্য টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই কেন্দ্রে টিকা গ্রহণ করবেন। টিকা নিতে এসে যেন অসচেতনতাবসত করোনা সংক্রমণের কবলে কেউ না পড়েন।

সিসিক মেয়র বলেন, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে সিসিকের কর্মীদের পাশাপাশি কাউন্সিলরবৃন্দও ‘জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’ পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ক্যাম্পেইন সফল করতে নগরবাসির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিসিক সূত্র জানায়, প্রথম দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৩শ জন নাগরিককে দেয়া হয় টিকা। ৮ ও ৯ আগস্ট থেকে প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ২শ জন নাগরিককে টিকা দেয়া হবে। সিসিকের এই কার্যক্রমে ১৬২ জন কর্মী কাজ করছেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটে সংঘর্ষ, আহত ৫

        সিলেটে হেফাজতের ডাকে হরতাল চলাকালে...

পাঠানপাড়া সমাজ কল্যাণ যুব সংস্থার বিজয় দিবস পালন

        ২৭ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক...

আমিরাতে বাংলাদেশ সমিতি শারজাহের বিজয় দিবস পালন

        লুৎফুর রহমান, আরব আমিরাত: সংযুক্ত...