সিলেটের কৃতি সন্তান ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

জাহেদুর রহমান চৌধুরী: বাংলাদেশের গর্ব সিলেটের কৃতি সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.) ১৯৪৯ সালের ৯ মার্চ শনিবার জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা তজম্মুল আলী সিদ্দিকী, মাতা মরিয়মুন্নেছা চৌধুরী, স্ত্রী ইয়াসমিন জুবায়ের, পৈতৃক নিবাস: গ্রাম পাঁচপাড়া, ডাক ওসমানপুর, উপজেলা বালাগঞ্জ, জেলা-সিলেট। বর্তমান নিবাস ফোকাস ১৭৪, ব্লক এ, শান্তিবাগ, বালুচর, সিলেট। তিনি দি এইডেড হাইস্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে এসএসসি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এইচএসসি পাস করেন। তাছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে বিভাগীয় বিভিন্ন কোর্সের পাশাপাশি বাংলাদেশ কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি এবং চীন ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে এনডিইউ ডিগ্রি লাভ করেন। সুদীর্ঘ ৩২ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরী করার পর বর্তমানে স্কলার্স হোম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে কর্মরত আছেন। জাতিসংঘ মিশন এবং ব্যক্তিগতভাবে ফিলিপাইন, চীন, রোম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেপাল ও ভারত সফর করেন। তিনি বেশ কয়েকটি বই রচনা করেন-এর মধ্যে স্মৃতির অলিন্দে, কালের কথামালা, আমার জীবন আমার যুদ্ধ, সময় সংকট ও সম্ভাবনা তার লেখাগুলো সমসাময়িক বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকীর সাথে প্রথম পরিচয় ২০০৫ সালে একটি সাহিত্য সম্মেলনে। সেই সম্মেলনে দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার পরও সাহিত্যের প্রতি তার এই আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এরপর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে ২০০৮ সালে কার্যকরী কমিটির সদস্য থাকার সুবাদে বিভিন্ন উপ-কমিটিতে থাকায় তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি আমাদের চাইতে বয়সে অনেক বড় কিন্তু বয়সের অনেক ব্যবধান থাকার পরও তিনি মন খোলে কথা বলতেন, যে কোন বিষয়ে সুস্পষ্ট পরামর্শ দিতেন।
সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে রয়েছে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা। বিশেষ করে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ আন্দোলনে বিভিন্ন সেমিনার, আলোচনা সভা, পথসভা, গণস্বাক্ষর অভিযানে জুবায়ের সিদ্দিকীর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। টিপাইমুখে বাঁধ হলে সিলেটের যে ক্ষতি হবে সেটি তিনি বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরতেন। দেশের প্রতি, সিলেটের প্রতি তার ভালোবাসার কথা তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিভিন্ন সময়ে ন্যায্য দাবী-দাওয়ার আন্দোলনে তিনি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সিলেটের প্রতি তার ভালোবাসা সব সময় ছিল। সাধারণত: সেনা অফিসাররা কর্মজীবন শেষ করে ঢাকাতে অবস্থান করেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রম। কর্মজীবন শেষ করে ঢাকাতে না থেকে সিলেটে চলে আসেন এবং একটি বেসরকারী স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সব সময় সততাকে অগ্রাধিকার দেন, তাই তো দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনেও বিভিন্ন সময় ভূমিকা রাখেন।
যে কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে সহজেই রাজী হয়ে যান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি কি-না কোন প্রশ্ন না করে শুধু বলেন, আমাকে কি আসতে হবে, যখন বলি জ্বী আপনি আসলে সবাই খুশী হবেন। সাথে সাথে রাজী হয়ে যান এবং নির্দিষ্ট সময়ে এসে হাজির হন। তবে যথাসময়ে অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনেকেই বলে থাকেন তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র এবং অভিভাবকদের সাথে তিনি কঠোর মনোভাব দেখান। এটা হতে পারে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব থাকার কারণে। তবে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে তার এই কঠোরতা পরিলক্ষিত হয় না। তিনি কম কথা বলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তিনি সুস্থভাবে জীবন যাপন করুন এবং সত্যের পথে আজীবন কাজ করবেন এই দোয়া করি।

জাহেদুর রহমান চৌধুরী: সম্পাদক, ভিন্নধারা

 

আরও পড়ুন



জনসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সরকারি...

জয়তুন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

জয়তুন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে দক্ষিণ...

মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস্ সোসাইটির উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর...