সিলেটের ঈদ শপিং। চাই ঈদের আনন্দ,চাইনা শোকের মাতম

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২০     আপডেট : ২ সপ্তাহ আগে  
  

মুহিব রাহমান আমরা প্রায় পবিত্র মাহে রমজানের শেষের দিকে অবস্থান করছি।পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রায় আমাদের দোরগোড়ায়।আমাদের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় আনন্দ উৎসবের দিন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা।এর মধ্যে আবার ছোটো থেকে বড় সবার কাপড়চোপড় কেনার চাহিদা ঈদুল ফিতরের সময় থাকে শতভাগ।ঈদুল আজহায় গরু জবাইর কারনে কাপড়চোপড় কেনার মনমানসিকতা সবার থাকে না,তাই ঈদুল ফিতরকে কাপড় কেনার ঈদ বললেই চলে।আর শিশু কিশোরদের তো ঈদের জামা না কিনলেই নয়,ঈদটাই যেন কল্পনার বাহিরে ঈদের কাপড় ছাড়া।
আসলেই নতুন কাপড় ছাড়া ঈদটা বড্ড বেমানান,প্রায় আমাদের কল্পনার বাহিরে।কিন্তু কি আর করার?পরিস্থিতি যে আমাদের মতের বিরুদ্ধে!এবারের করোনার আঘাতটা এসে লেগেছে আমাদের ঈদেও,আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিনটাকেও এবার সাদামাটা রসকষহীন করে দিবে মহামারী করোনা ভাইরাস।
ইউরোপ আমেরিকার কিছু কিছু দেশে করোনা আক্রান্তের হার কমলেও আমাদের অসতর্কতার কারণে আমাদের বাংলাদেশে প্রতিদিন আশংকাজনক হারে বেঁড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের এবং মৃত্যুর সংখ্যা।
এরই মধ্যে সিলেট জেলার সবচেয়ে আতংকের খবর হচ্ছে সিলেট শহরের পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জে একই পরিবারের ১১ জন করোনা আক্রান্ত!গোলাপঞ্জের মেয়র মহোদয় ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আবার গোলাপগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন।অবশ্য যা হবার তা হয়ে গেছে,জানিনা ইতোমধ্যে কত-শত জন আক্রান্ত হয়ে গেছে?
হঠাৎ করেই লকডাউন শিথিল করার কারনে হাট বাজার,শপিং মল,ব্যাংক সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় জনসাধারণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।মানুষ আর মানছে না কোনো নিয়ম-কানুন। যে যার মত চলাফেরা করছে।যেন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে।
এমতাবস্থায় যদি শপিং সেন্টারগুলো ঈদ উপলক্ষে খোলে দেয়া হয়,আর চাপাচাপি করে অন্যবারের মত আমরা এবারও ঈদ শপিং করি তবে মনে রাখা উচিৎ আমাদের ঈদটা আনন্দের না হয়ে বিপদ অতবা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।ঈদের বাজার করতে গেলে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা কোনো ক্রমেই সম্ভব না,ধাক্কাধাক্কি হবেই হবে।বাজারে আসা বারো জায়গার বারো জন এর মধ্যে কে করোনার জীবানু বহন করছে তা আমাদের জানা নেই।
আল্লাহ না করুক যদি শপিং করতে যেয়ে অন্য কারো কাছ থেকে আমরা কেউ সংক্রমিত হয়ে যাই,তবে আমাদের ঈদের এই আনন্দ আর আনন্দ থাকবেনা নিমিষেই তা এক বিষাদে রুপান্তরিত হয়ে যাবে।
বাড়িতে ঈদের আনন্দ নয়,শোকের মাতম চলবে।
তাই সিলেটবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ অন্তত এইবারের ঈদটা না হয় চলুক একটু সাদামাটা।
আপনার বাচ্চাকে বুঝানোর দায়িত্বটা আপনার,দেশের ভয়াবহতা এবং করোনার সংক্রমণের ভয় আপনার বাচ্চাদের মনে ঢোকান।
সিলেটের ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ অনুরোধ,আমি জানি আপনারা খুবই কষ্টে আছেন তারপরও অন্তত এইবার আপনারা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানটা বন্ধ রাখেন।দেশের মানুষকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান।
ঈদের জামা না কিনলে আনন্দ হয়তোবা একটু কম হবে কিন্তু জিবনটাতো নিরাপদ থাকবে।আর ঈদের জন্য যে একেবারে নতুন জামা মার্কেট থেকে কিনতেই হবে এমন কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাদকতাও নেই,হ্যাঁ ধুয়ে রাখা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় হতে হবে।
সবাই ভালো থাকুন,বাড়িতে থাকুন নিরাপদে থাকুন।
———
কলাম লেখক,অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

আরও পড়ুন



মেজর জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরীকে সংবর্ধনা

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: দশগ্রাম উচ্চ...

সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে...

প্রতিদিন হৃদয়ে বসন্ত লালন করে আনন্দে কাটানো উচিত

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১০২৯তম...