সিলেটের অনেক জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তা নজরদারিতে

প্রকাশিত : 17 November, 2019     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে  
  

সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু এবং জেলা-উপজেলা পর্যন্ত দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, জুয়াসহ সামাজিক অপরাধের বিষয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর ঘোষণার পর থেকে সিলেটের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেকেই এখন জনসম্মুখে পারতপক্ষে আসেন না। বিশেষ করে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ বিত্তবৈভবের মালিকদের ঘুম হারাম। এছাড়া সরকারি আমলা, বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যাপক খোঁজ-খবর চলছে। কারো কারো সম্পর্কে তদন্ত শেষে ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোও হয়েছে। সূত্রমতে, ক্যাসিনো, ভূমি দখল, হাউজিং, পাথরের ব্যবসা, ঘুষসহ নানা অবৈধ ব্যবসার আয়ে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনেছেন কয়েক ডজন রাজনৈতিক বড়ো ও মাঝারি নেতা-কর্মী। দুদকের একটি সূত্র জানায়, শুধু জনপ্রতিনিধিই নন, বড়ো পদের সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন এই তালিকায়।

সূত্রমতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় ক্যাসিনো কান্ড, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ অর্থের মালিকেরা এখন বেশ সতর্ক চলাফেরা করছেন। তাদের দুশ্চিন্তা, কখন দুদকের চিঠি বা কোনো খড়্গ নেমে আসে!

এদিকে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করা নৌকা থেকে দৈনিক অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঐ এলাকার এক সংসদ সদস্য এই অর্থ আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি দলের ঐ সংসদ সদস্য নিজ গ্রামে ১০ কোটি টাকায় স্বর্ণমহল, দামি দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলাসবহুল বাড়ি এবং স্ত্রী ও স্বজনদের নামে পাহাড়সম সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, ক্যাসিনো কাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ভূমি দখল, লুটপাট, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এই সংসদ সদস্যের সম্পদের খোঁজে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশে চিঠি দিয়েছে দুদক। দুদকের পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ বলেন, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিটিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটা আরো আগে হওয়া দরকার ছিল। সিলেটের পবিত্র মাটিতে যেসব নেতাকর্মী, সংসদ সদস্য বা তাদের স্ত্রী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের আরো শক্ত হাতে ধরা প্রয়োজন। সিলেট বিভাগের লোকজনের এই অভিযানে সেনাপতির ভূমিকা পালন করা উচিত।সুত্র দৈনিক েইত্তেফাক 16.11.19

আরও পড়ুন



ইকোপার্ক

মোঃআরিফুর রহমান আরিফ: সে দিন...

মৌলভীবাজারে ইয়াবাসহ ৩ ব্যবসায়ী আটক

এইচ এম সামাদ,মৌলভীবাজার: বিশেষ অভিযান...