সিলেটেই আছে ইকোপার্ক ও চিড়িয়াখানা

,
প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ আব্দুল হক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর আমার বাংলাদেশ। ঋতু বৈচিত্রের এই দেশটিতে আছে মনোমুগ্ধকর অনেককিছু। আমাদের প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মনটাও নানান রঙে রঙিন হয়, চঞ্চল হয়, স্থীর থাকতে চায়না। হেমন্ত মানেই শরৎ শেষে নতুন আরেক অপরূপ সুন্দর প্রকৃতির আবির্ভাব। শহরের ব্যস্ততা এবং যান্ত্রীক জীবনের কোলাহলথেকে কেবলই ছুটে যেতে ইচ্ছে করে । কিন্তু কাজের চাপ, সামনে বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা। এ অবস্থায় শহর ছেড়ে দূরে কোনো বন- জঙ্গল ঘেরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে আদরের সন্তান ও পরিবারের অন্যদেরকে সহ নিজেকে নিয়ে যাবেন কিভাবে ভাবছেন। তাই না ? যদি তা ই হয় ; তবে আর ভাবনা নয়। আপনার ঘরের কাছেই , আপনার শহরেই আছে সবুজ বনানী পাহাড়ী প্রকৃতি । আমাদের এই সিলেটের চতুর্দিকে রয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া । তবে একই সাথে বন পাহাড় আর ছায়ার মাঝে নিজেকে নিতে হলে চলে যেতে পারেন টিলাগড় ইকোপার্কে । সেখানে এখন গড়ে তোলা হয়েছে চিড়িয়াখানা। নানা জাতের বন্যপ্রাণী দেখার আগ্রহে আর দূরের শহর রাজধানী ঢাকা যেতে হবেনা। এখন আমাদের সিলেট শহরেই দেখতে পাওয়া যায় জেব্রা, হরিন আরো হরেক রকম প্রাণী। কেবল যারা সিলেটে বসবাস করেন শুধু তারাই নয় , যারা নানান প্রয়োজনে দু’এক দিনের জন্যে সুনামগন্জ , হবিগন্জ , মৌলভীবাজার , কুমিল্লা, চট্টগ্রাম , ঢাকা কিংবা সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভাগীয় শহর হযরত শাহজালাল রঃ এর স্মৃতি ধন্য পূণ্যভূমি সিলেটে আসেন তারাও ঘুরে বেড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন ।

শরীর এবং মন দুটোই ভালো রাখতে স্হান পরিবর্তন করে সুস্হ পরিবেশে কিছু সময় কাটানোর কোনো বিকল্প হয়না । টিলাগড় ইকো পার্ক সিলেট মহানগরীর পূর্ব প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজের কাছেই এক প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর এলাকা । এখানেই আছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ইকো পার্কের তোরণ অর্থাৎ গেইট থেকেই আপনার ভালো লাগতে শুরু করবে । ভিতরে চলে যান ধীরে ধীরে হেঁটে হেঁটে । আপনি যাচ্ছেন পাকা সড়ক মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে । আপনার দুপাশে সবুজ বনের ঝোপ আর লম্বা সারি সারি গাছ আপনাকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিবে যন্ত্রের মতো খেটে খেটে অভ্যস্ত হয়ে উঠা যান্ত্রীক জীবনের যন্ত্রণার হাজার উপকরণ আর মনোবেদনার কথা। এখানে আপনি হয়েছেন এক অন্যরকম মানুষ । আপনার চোখ আপনার অজান্তেই চলে যাবে হয়তো কোনো দিন দেখা হয়নি এমন সব লম্বা লম্বা গাছের দিকে । ধীরে ধীরে ঘাড় বাঁকা হয়ে চোখ জোড়া উঠে যাবে গাছের শিখরে। আর এভাবেই আপনার ভাবনার জগত আপনাকে শিকড় থেকে শিখরে পৌঁছে দিবে। প্রিয় পাঠক এ পর্যন্ত পড়ে ভাবছেন এসবই বুঝি সাহিত্য এবং লেখার পান্ডিত্য । কিন্তু
বিশ্বাস করেন এবং মুক্ত মনে ঘুরে আসুন , দেখবেন ভালো লাগবে। আমরা অনেকেই বইয়ের পাতায় লেখা এমন সব গাছের নাম পড়েছি যা হয়তো কোনো দিন নিজেরা দেখিনি এবং সন্তানদেরকে দেখানোর সুযোগ হয়নি । আপনি সময় করে এখানে আসলে দেখতে পাবেন চাপালিশ, শাল, জারুল, গর্জন এমনি অনেক বৃক্ষের সারি। আপনি নিজে দেখুন , চিনে নিন এবং এ প্রজন্মের মানুষ গুলোকে এসব প্রতিবেশী গাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। আর এভাবেই আপনি আমি সকলেই হয়ে উঠতে পারি প্রকৃতি প্রেমিক । আমাদের প্রকৃতিকে ভালোবাসা যে কতটা জরুরী তা প্রতিনিয়ত ঘটে চলা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে আর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়না । বন্যা , খরা, পাহাড়ের ধ্বসে পড়া , জলবায়ুর পরিবর্তন এর সাথে সাথে বেড়ে চলছে রোগ ব্যাধি । হবেনা কেন ? মহান আল্লাহর দান এত সুন্দর প্রকৃতির উপর লোভী প্রকৃতি বিনাশী মানুষের নিষ্ঠুর যাচ্ছেতাই আচরণ এর প্রভাব হচ্ছে ওইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এখনও সময় আছে , বাঁচতে হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ কি এবং এর গুরুত্ব বুঝতে হবে । অন্যথায় সুন্দর সুন্দর অট্টালিকা নিয়ে সকলকেই ডুবতে হবে । আমরা যতই প্রকৃতির কাছে যাবো , ততই তার অফুরন্ত দান , জীবন বাঁচানোর অফুরন্ত প্রাণ শক্তি আমাদের এবং আগামী প্রজন্মের কাছে অতি প্রেমময় এবং ভালোবাসার হয়ে ধরা দিবে ।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন , হ্যাঁ যেতেই হবে । তাহলে আর দেরী কেন ? ছুটির দিনে সকালে যেতে পারেন । আবার এ সময়ে বেড়ানোর জন্যে বিকেল বেশ চমৎকার হয়। পার্কে প্রবেশের পরেই চোখে পড়বে বন বিভাগের সতর্ক বাণী : বন জীব বৈচিত্র্যের আধার , আসুন মানুষের প্রয়োজনে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করি _ সিলেট বন বিভাগ । এছাড়াও আপনার নিরাপত্তার জন্যেই উঁচু পথ বেঁয়ে উপরে না উঠাই ভালো । আর হ্যাঁ , অবশ্যই একেবারে একাকী যাবেন না। সাথে হালকা নাস্তা এবং এক বোতল পানি নিয়ে যাবেন । না নিলেও সমস্যা হবেনা । পার্কের ভিতরে জল খাবারের ব্যবস্হা রয়েছে । আরেকটা কথা যেকোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে একটা খাতা এবং একটা কলম অথবা টাইপ করে মনের অনুভূতির কথা লিখা যায় এমন স্মার্ট ফোন ইত্যাদি সাথে রাখতে ভুলবেন না। ঘুরবেন দেখবেন নতুন নাম এবং অনুভূতি নোট করে নিবেন। আসলে বেড়াতে গেলে যে আরও কত কিছু দেখতে পাবেন তা আমি লিখে বুঝাতে পারব না। শুধুই কি গাছ ? বুনো ফুল , প্রজাপতি , ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পানির নালা , পাখি , এমনকি কোনো গাছের ডালে বানরের দেখা মিলতে পারে। আর চিড়িয়াখানায় নিরাপত্তা বেষ্টনির ভিতরে কখনো দেখা হয়নি এমন প্রাণবৈচিত্র দেখে শিশুমন আনন্দে ভরে উঠবে। সবকিছু দেখে সূর্য ডুবার আগেই বাসায় ফিরতে হবে ।

পরিশেষে মহান সৃষ্টকর্তা আল্লাহ্ আমাদের জন্যে চতুর্দিকে এত সুন্দর দিয়েছেন , আসুন আমরা এসবের যত্ন নিই এবং প্রাণ ভরে কৃতজ্ঞ চিত্তে উপভোগ করি । মনে রাখতে হবে নিজেদের বিকাশের জন্যে অবশ্যই বেড়াতে যেতে হবে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, প্রকৃতির কোলে গিয়ে ধুমপান করা যাবেনা এবং পলিথিন, পানির বোতল ফেলে পরিবেশ ধ্বংস করা যাবেনা ॥
লেখক মোহাম্মদ আব্দুল হক
কলামিষ্ট, কবি ও প্রাবন্ধিক
01814093240


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন