সিলেটীরা আসামে থেকেও অহমিয়ার সাথে একাত্ম হয়নি

,
প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেলিম আউয়াল: মোগল আমলে সিলেট শহর ছিলো জাকালো এবং জনাকীর্ণ। ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেট শহরের লোকবল ছিলো ৭৫৩৮২ জন। ২৫ বছর পর ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে শহরের লোকসংখ্যা ৪০,০০০ কমে দাড়িয়েছিলো ৩৫৩৮২জনে। আবার ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে তা নেমে এলো ১৩৮৯৫ জনে। এত দ্রুত এত লোক শহর ছেড়ে চলে যাওয়া বিস্ময়কর ঠেকলেও অজানা কারনেই তাই ঘটেছিলো।
সিলেটী উপভাষা বাংলা ভাষারই আরেক রূপ, তাতে সন্দেহ নেই। উপভাষা পৃথিবীর সকল ভাষারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিলেটের উপভাষা বাংলা ভাষারই আঞ্চলিক রূপ। সিলেটীরা কোনদিন তাদের মাতৃভাষাকে ত্যাগ করেনি। ঢাকা গেলেও না, বিলাত গেলেও নাÑএমনকি মার্কিন মুল্লুকে গেলেও সিলেটীরা নিজেদের ভাষাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। সিলেটী ভাষা সিলেটের আত্ম পরিচয় ও স্বাতন্ত্রের পরিচয় বহন করে। সেজন্যেই সিলেটীরা আসামের পাশাপাশি থাকা সত্বেও অহমিয়ার সাথে একাত্ম হয়ে যায়নি। এমনকি কাছাড়ের কথার সাথেও সিলেটের কথার পার্থক্য সহজেই চোখে পড়ে।
বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেটের ভাষাও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ভৌগলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারনে সিলেট অঞ্চলের ভাষা চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, রংপুর, ময়মনসিংহ ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্যবহৃত বাংলার মতো নিজস্ব আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের রূপে রিদ্ধ। বৃহত্তর সিলেটের আয়তন দীর্ঘ বলে অন্তর্ভূক্ত অঞ্চলগুলোর ভাষা সমপ্রকৃতিসম্পন্ন নয়। তার কারন উপ-ভাষাতত্ত্বীয় নিয়মানুযায়ী এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের দূরত্ব পঁচিশ মাইলের বেশী হলে দুই অঞ্চলের ভাষাভঙ্গিও মধ্যে পার্থক্য দেখা দিতে থাকে। এই কারনে সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, জকিগঞ্জ এলাকার বাংলা ভাষা উচ্চারণ, স্বরভঙ্গি ও শব্দের গঠণগত দিক থেকে খানিকটা স্বতন্ত্র।
ভৌগলিক কারনে, অভিবাসনগত কারনে, সামাজিক-রাজনৈতিক কারনে সর্বোপরি নৃতাত্ত্বিক কারনে ভাষার মৌলিকত্ব রক্ষিত হতে পারে, শংকর ভাষিক সংগঠণ নির্মিত হতে পারে। সিলেটের ভাষা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এ সত্য প্রতীয়মান হয়। বৃহত্তর সিলেটের ভাষা সংগঠণ বৈচিত্রপূর্ণ হলেও এর একটি স্বকীয় ভঙ্গি রয়েছেÑÑযা শ্রুতি গোচর হওয়া মাত্রই উপলদ্ধি করা যায় যে, তা সিলেটের উপভাষা।
সিলেটের উপ ভাষা বহু বিস্তৃত, বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা ছাড়িয়ে এÑভাষিক রূপ বিস্তার লাভ করেছে ভারতের রাতাবাড়ি, পাথারকান্দি, বদরপুর, করিমগঞ্জ তথা কাছাড় জেলা, ত্রিপুরার উত্তরে কৈলাসহর জেলা শহর, আসামের কিছু অংশ এমন কি উত্তর ভারতের চম্পারন জেলার বেতিগায় খাস সিলেটী উচ্চারন শোনা যায়। তথাকথিত অনার্য ও দ্রাবিড় ভাষা, মধ্যভারতীয় আর্য ভাষা এবং আরবি, ফারসি, হিন্দি ও ইংরেজি প্রভৃতি ভাষার শব্দসমুহকে সিলেট অঞ্চলের অধিবাসীরা নিজস্ব পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে নিজেদের উপভাষায় স্থান দিয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

দেশের উন্নয়ন মানে সবার উন্নয়ন

         পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল...

কামরান-আরিফের বিরুদ্ধে জুবায়েরের অভিযোগ

         সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ...