সিটি নির্বাচন : নগরবাসীর প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

এম. আশরাফ আলী: সিলেট শহর এখন উৎসব মুখর। বহু কাংখিত সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ডে ছেয়ে গেছে শহরের অলি-গলি। তুমুল প্রচার প্রপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন সকল প্রার্থীরা। এবারই প্রথম দেখা যাচ্ছে যন্ত্র নির্ভর প্রচারণা। বিকাল ২টা থেকে শুরু হচ্ছে নগরবাসীর উপর শব্দ হামলা। প্রতি মিনিটেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাসা-বাড়ি পার হচ্ছে প্রচারক মাইক সমেত সিএনজি। শব্দের হাই ফ্রিকুয়েন্সি কাপিয়ে দিচ্ছে কানের পর্দা, বাড়িয়ে দিচ্ছে হার্টবিট। শব্দ দূষণ নির্বাচনী প্রচারের একটা প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শব্দের হাই ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে ভোট চাওয়া, দোয়া চাওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত এটা ভাবনার সময় এসেছে। এমন একটা ব্যবস্থা করা যায় না যার মাধ্যমে ভোট চাইলে ভোটারের কান ও হার্ট ভাল থাকে।
যাই হোক মাইক লাগিয়ে হৃদয় কাড়া গান গেয়ে মা-বোনদের ভোট-চাচা-চাচীর ভোট চাইলেও বাবাকে অনুরোধ করতে কেউ রাজী নয়। জানিনা ভোটের মালিক বাবারা ভোট দিবেন কি দেবেন না। নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ইদানিং বিএনপি সাইডে একটা মেরুকরণ হয়ে যাওয়ায় অর্থাৎ জনাব বদরুজ্জামান সেলিম (বাস মার্কা) ধানের শীষে নিরঙ্কুশ সমর্থন ঘোষণা করায় সিটি নির্বাচন জমে উঠেছে। এতদিন ধরে যে হিসেব-নিকেশ-কল্পনা চলছিল তা এই মুহূর্তে অচল হয়ে পড়েছে। নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সিটি নির্বাচন নিয়ে। সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাতজন থাকলেও মূলত মূল লড়াই এখন তিনজনের মধ্যেই হচ্ছে বলে জনগণের ধারণা। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ভোটাররা অভিমত ব্যক্ত করছেন।

এতদিন ধরে নৌকা মার্কার প্রার্থী যে ধারণা নিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন যে, বিপরীত পক্ষের ভোট তিনজন ভাগাভাগি করবে আর আমার বাক্সে মাইনরিটিসহ একচেটিয়া ভোট পড়বে এবং বিপুল ভোটে পাশ করে যাব-এই হিসাব-ওলট-পালট হয়ে গেছে। বিএনপি প্রার্থীর মেরুকরণের কারণে এখন নতুন করে নির্বাচনী স্ট্রাজেটি সাজাতে হচ্ছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে।
ব্যক্তিগতভাবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান অত্যন্ত সুপরিচিত ও বন্ধু বৎসল হওয়ায় সহজেই ভোটারের মন জয় করতে সক্ষম হন। এ গুণটি সচরাচর কারো মধ্যে দেখা যায় না। একেবারে অপরিচিতি লোককে যখন তিনি সম্বোধন করেন, তখন মনে হয় তার অতিপরিচিত প্রিয়পাত্র। কোন কিছুর জন্য তার কাছে গেলে তিনি না করতে পারেন না। অতি ব্যস্ততার মধ্যেও যত সম্ভব তাড়াতাড়ি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে তিনি উন্মুখ থাকেন। ফলে সুযোগ সন্ধানীরা তার এ সরলতার সুযোগ নিয়ে জেল খাটিয়েছিল। পরে অবশ্য জেলে থেকেও তিনি নির্বাচন করে বিপুল ভোটে পাশ করে সে যাত্রা রক্ষা পান। তবে নগর পরিকল্পনায় বা পরিচ্ছন্ন নগরী যাকে বলে-দীর্ঘসময় অর্থাৎ দুইবার পৌর চেয়ারম্যান দুইবার সিটি মেয়র থাকলেও সেটা বাস্তবায়নে পুরোপুরি সক্ষম হন নাই। হকার সহ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আসকারা পেয়ে সিটির সম্মুখের রাস্তা সহ সকল ফুটপাত সেই যে দখলে নিয়েছিল, আজও সেই জঞ্জাল সাফ করা কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থায় উপনীত হয়েছে। নগরবাসীর আশা-আকাংখার দিকে লক্ষ্য রেখে যদি নির্বাচনী ওয়াদা জনগণের আস্থা ফেরাতে পারেন তবে মেয়র হিসাবে তাকেই সিলেটবাসী নির্বাচিত করবে। তবে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল (যদিও প্রকাশ নয়) ভোটে হেরে যাওয়ার একটা নিয়ামক হিসাবে কাজ করতে পারে।

বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর (সদ্য সাবেক মেয়র) পুরো কার্যক্রম সিটিবাসীরা অবলোকন করতে পারেনি। কারণ প্রায় দুই বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। তবুও যেটুকু সময় তিনি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পেরেছেন তাতেই নগরবাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। তার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রে নিরন্তর প্রচেষ্টা সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একজন গণমানুষের নেতা হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে সবার শ্রদ্ধা ও সম্মান কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। তবে একই পার্টির দু’জন মেয়র পদে দাঁড়ালে নগরবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করে। ইতোমধ্যে বদরুজ্জামান সেলিম সাহেব ধানের শীষকে নিরঙ্কুশ সমর্থন করলে নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। নব উদ্যমে আরিফ সমর্থক ও বিএনপিপন্থী সকল ভোটাররা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন যে, তাদের প্রার্থী আরিফই পুনর্বার নির্বাচিত হবেন। তাই নব উদ্যমে ভোট যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ ভোটারের সমর্থন কুড়াতে মরিয়া তারা।
সর্বশেষে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শহরবাসীর কাছে একজন সৎ, সত্যবাদী, অন্যায়ের প্রতিবাদী ভদ্র, শিক্ষিত ও মার্জিত রুচির মানুষ হিসাবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি নাগরিকেরই প্রিয়পাত্র তিনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল ন্যায়-নিষ্ঠাবান কর্মচঞ্চল, নিরহঙ্কার ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। প্রতিটি পথসভায় তাকে এক নজর দেখার কৌতুহল লোকদের মধ্যে কাজ করছে। সচেতন নগরবাসী যদি একজন শিক্ষিত, মার্জিত উন্নত চরিত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মেয়র নির্বাচন করতে চায় তবে তার প্রতিই সমর্থন ঢেলে দিতে পারে। নতুন মুখগুলোর মধ্যে একমাত্র তিনিই নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছেন। তিনি একজন স্বনামধন্য আইনজীবীও বটে। ছাত্র-রাজনীতি হতে শুরু করে এই পর্যন্ত ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। একটা পরিবর্তনশীল সমাজ বিনির্মাণে তার বিকল্প অন্যকোন প্রার্থীর নেই। কাজেই এখন নগরবাসীর হিসাব নিকাশের সময়। কয়েকটি দিন পরেই নগর পিতা ও কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়ে যাবেন। শুধু নাম কামানোর জন্য নয়। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দ জনবান্ধব হবেন, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন, সাধারণ জনগণ ভোটের পরেও ওদের কাছে সমান গুরুত্ব পাবেন, দুষ্টুদের দমন ও ন্যায়নিষ্ঠদের পালন যেন তাদের ব্রত হয়। অন্যায়কারী যতই ক্ষমতাশালী হোক তাদের বিরুদ্ধে একজন জনপ্রতিনিধি অবস্থান নিবেন এটাই আগামি দিনের সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা।
লেখক : কলামিস্ট।

আরও পড়ুন

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ইফতার

সিলেট মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ...

সিলেটে জামায়াতের ঘাঁটি ভেঙে দিতে চায় বিএনপি

জামায়াত অধ্যুষিত সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে...

গোয়াইনঘাটে চোরাই ট্রাক উদ্ধার, আটক-১

গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ...